‘আর্থিক লেনদেনে সঠিক পরিচর্যার ঘাটতি আছে'

বাংলাদেশে মোবাইল ফোন গ্রাহক ১২ কোটি, মোবাইল ব্যাংকিংয়ে অ্যাকাউন্ট আছে চার কোটি৷ ২০১৬ সালে এখানে লেনদেন হয়েছে আড়াই লাখ কোটি টাকা৷ তবে সুমন আহমেদ সাবির মনে করেন, পরিচর্যার অনেক ঘাটতি রয়ে গেছে, এখনো অনেক কাজ বাকি...

ডয়চে ভেলেকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনটিই বলেছেন তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির৷ ‘ফাইবার অ্যাট হোম' নামের একটি প্রতিষ্ঠানের চিফ স্ট্র্যাটেজি অফিসার তিনি৷ 

আপনি কী ভাবছেন?

এখানে ক্লিক করুন ও আলোচনায় যোগ দিন

ডয়চে ভেলে: মোবাইল ব্যাংকিংয়ে বাংলাদেশে চার কোটি অ্যাকাউন্ট আছে৷ সচল আছে এক কোটি ৫৮ লাখ৷ মোবাইল ফোন গ্রাহক ১২ কোটি৷ এই মার্কেট আর কত বড় হওয়ার সুযোগ আছে বলে আপনি মনে করেন?

সুমন আহমেদ সাবির: মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মার্কেট আসলে আরো বড় হওয়ার সুযোগ আছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই৷ এটা যে সব মানুষ ব্যবহার করছে, তা নয়৷ এটা অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং এটির ব্যবহার সহজ হওয়ায় অনেক মানুষ এটা ব্যবহার করছেন৷ তবে এটা ব্যবহারে ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি আছে, সেখান থেকে বের হয়ে আসতে হবে৷ যাঁরা সার্ভিস দিচ্ছেন, তাঁদের আরো ট্র্যান্সপারেন্ট ও ভালো সার্ভিস দিতে হবে৷ এর খরচটা যদি আর একটু কমানো যায় তাহলে এটি আরো জনপ্রিয়তা পাবে৷ ফোনের গ্রাহক এখন আর খুব একটা বাড়ছে না৷ এটি আসলে বাড়বে আমাদের অর্থনীতি বাড়ার উপরে৷ শহরে প্রত্যেকের হাতে একটি ফোন থাকলেও গ্রামে দেখা যায় একটি পরিবারে একটি বা দু'টি ফোন আছে৷ দেশের অর্থনীতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেখা যাবে এই সংখ্যাটা আরো বাড়বে৷ তবে যে গতিতে বাড়ছিল সেভাবে আর বাড়বে না৷ তবে ইন্টারনেট মার্কেট আরো অনেক বাড়ার সুযোগ আছে৷

২০১৬ সালে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে লেনদেন হয়েছে আড়াই লাখ কোটি টাকা, যা আমাদের বাজেটের সমান৷ এখন পর্যন্ত যে লেনদেন বা যে অ্যাকাউন্ট আছে সেটা  কি যথেষ্ট ?

যথেষ্ট কিনা সে প্রশ্ন আপেক্ষিক৷ মানুষ যখন প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে, তখনই সে সেটা ব্যবহার করে৷ আরেকটি হলো প্রচার৷ আমার মনে হয় প্রচারের জায়গা ইতিমধ্যে হয়ে গেছে৷ এখন মানুষ এ সম্পর্কে জানে৷ যার প্রয়োজন পড়ছে সে-ই ব্যবহার করছে৷ এখন যদি এটাকে আরো বহুমাত্রিকভাবে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করা যায়, তাহলে এটার ব্যবহার আরো বাড়বে৷

বিজ্ঞান

আওয়ামী লীগের ইশতেহার

নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার ‘দিন বদলের সনদ’-এর অংশ হিসেবে ‘২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ’-এর উদ্ভব৷ ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে সামনে রেখে ২০০৮ সালের ১২ ডিসেম্বর এ ঘোষণা দেয়া হয়৷

বিজ্ঞান

কম পরিশ্রমে, স্বল্প ব্যয়ে মানুষের দোরগোড়ায় সেবা

ডিজিটাল বাংলাদেশ হলো তথ্যপ্রযুক্তিসমৃদ্ধ বাংলাদেশ যেখানে আধুনিক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সকল সুবিধা ব্যবহার করে অল্প সময়ে, কম পরিশ্রমে, স্বল্প ব্যয়ে, মানুষের দোরগোড়ায় তথ্য ও সেবা পৌঁছানোর নিশ্চয়তা দান৷

বিজ্ঞান

কৃষিক্ষেত্রে সুবিধা

কৃষিক্ষেত্রেও লেগেছে তথ্যপ্রযুক্তির ছোঁয়া৷ সারাদেশে স্থাপিত প্রায় ২৪৫ কৃষি তথ্য যোগাযোগ কেন্দ্রে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের কৃষি সেবা প্রদান করা হচ্ছে৷

বিজ্ঞান

উন্নত স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র

দশ আঙুলের ছাপ ও চোখের কনীনিকার (আইরিশ) প্রতিচ্ছবি সংগ্রহ করে নিবন্ধিত নাগরিকদের ‘স্মার্ট’ জাতীয় পরিচয়পত্রের পরীক্ষামূলক বিতরণ শুরু হয়েছে বাংলাদেশে৷ যাদের জাতীয় পরিচয়পত্র আছে বা যারা ভোটার হওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন, তারা এই ‘স্মার্ট’ এই পরিচয়পত্র পাবেন৷ (এখানে পুরানো পরিচয়পত্রের ছবি)

বিজ্ঞান

মোবাইল ব্যাংকিং চালু

মোবাইল ব্যাংকিংয়ে সব ধরণের জরুরি সেবাই পাওয়া যায়৷ এ সবের মধ্যে রয়েছে – টাকা জমা, টাকা তোলা ও পাঠানো, বিভিন্ন ধরণের বিল প্রদান (বিদ্যুৎ বিল,গ্যাস বিল,পানি বিল ), কেনাকাটা করা, বেতন ভাতা প্রদান ও গ্রহণ, মোবাইল ফোন টপ আপ ইত্যাদি৷

বিজ্ঞান

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সেবা

২০ হাজারের বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম নির্মাণ ও ল্যাপটপসহ ইন্টারনেট সংযোগ প্রদান করা হয়েছে৷ ডিজিটাল কন্টেন্ট শেয়ার করার জন্য ‘শিক্ষক বাতায়ন’ নামে একটি ওয়েবপোর্টাল চালু করেছে সরকার৷

বিজ্ঞান

২২টি কর্মপন্থা

ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় ২২ কর্মপস্থা নির্ধারণ করে তা বাস্তবায়নে জোর দেয়া হচ্ছে৷ এগুলো হচ্ছে – সরকারি অফিস আদালতে ই-সেবা চালু করা, ই-গভর্নেন্স চালুর মাধ্যমে সরকারি কর্মকাণ্ডের গতি বাড়ানো, ভূমি রেকর্ড ডিজিটাইজেশন, সরকারি সেবাসমূহ ইউনিয়ন অফিস থেকেই প্রদানের ব্যবস্থা, তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়ন, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপনের মাধ্যমে শিক্ষার গুণগতমান বৃদ্ধি৷

বিজ্ঞান

ঘরে বসে অর্থ উপার্জন

আইসিটি খাতে উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গেই ঘরে বসে অর্থ উপার্জনের ধারণা বাংলাদেশের মানুষের কাছে পৌঁছাতে শুরু করেছে৷ বর্তমানে দেশে তরুণ ফ্রিল্যান্সার একটি গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে৷ তথ্যমতে, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ ফ্রিল্যান্সার রয়েছে৷ লাখো তরুণ বিভিন্ন পর্যায়ে আউটসোর্সিংয়ের কাজ করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে নিজে সাবলম্বী হয়ে দেশের উন্নয়নে অবদান রেখে চলেছেন৷

বিজ্ঞান

ডট বাংলা ডোমেইন

ইন্টারনেট জগতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ডোমেইন (ইন্টারন্যাশনালাইজড ডোমেইন নেম-আইডিএন) ডট বাংলা (.বাংলা) ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ পেয়েছে বাংলাদেশ৷ ইন্টারনেটে একটি রাষ্ট্রের জাতীয় পরিচয়ের স্বীকৃতি হিসেবে কাজ করে এই ডোমেইন৷

বিজ্ঞান

তথ্য আদান-প্রদান

দেশে বর্তমানে নানা ধরনের সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম রয়েছে৷ স্বল্প খরচে এ সব মাধ্যম ব্যবহার করে অনায়াসেই এক স্থান থেকে আরেক স্থানে তথ্য আদান প্রদান ও ভাবের বিনিময় হচ্ছে৷ ভিডিওতে কথা বলার জন্য রয়েছে একাধিক সফটওয়্যার৷ স্কাইপ, ইমো, ফেসবুক, গুগুল ছাড়াও যে কোনো মোবাইল অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করে থ্রি জি প্রযুক্তির সংযোজনের ফলে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে সব ধরনের তথ্য ও ভাবের আদান প্রদান করা যায়৷

বিজ্ঞান

অনলাইনে আয়কর রিটার্ন, ড্রাইভিং লাইসেন্স

এখন আয়কর রিটার্ন ফরম অনলাইনে পূরণ করা যায়৷ অনলাইনে ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা যায়৷

বিজ্ঞান

রেলওয়ে ও বাস টিকেট

অনলাইনে অনেক সহজে টিকেট কাটা ও সিট বুকিং করা যায়৷ এসএমএস-এর মাধ্যমে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃক যাত্রীদের জন্য তথ্যসেবা প্রদান করা হয়৷ এছাড়া বাসের টিকেট কাটা যায় অনলাইনেই৷

বিজ্ঞান

সব ইউনিয়নে ইন্টারনেট সংযোগ

২০২০ সালের মধ্যে দেশের সকল ইউনিয়নে ইন্টারনেট সংযোগ প্রদান করার প্রচেষ্টা আছে সরকারের৷ এছাড়া ২০১৮ সালের মধ্যে ব্রডব্যান্ডের সম্প্রসারণ ৪০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে৷

আমাদের মোবাইল ব্যাংকিংটা ‘বিকাশ' এবং ডাচ বাংলা ব্যাংকের ‘রকেট' এই দু' প্রতিষ্ঠানের মাধ্যেই আটকে আছে৷ অন্যরা এর মধ্যে আসার সুযোগ পাচ্ছে না৷ আমরা জানি , মোবাইল ফোন অপারেটররা এর মধ্যে আসতে চায়, তাদের আসার সুযোগ দেয়া হচ্ছে না৷ এক্ষেত্রে সরকারের পলিসির কোনো পরিবর্তন দরকার ?

বিজ্ঞান পরিবেশ | 04.07.2012

একটা জিনিস হলো, সব ব্যবসা সবাইকে করতে হবে, এমন কোনো কথা নেই৷ মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোর প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেই তো এটা হচ্ছে৷ এখন নতুন কোনো আইডিয়া নিয়ে অন্য কেউ এই ব্যবসায় আসুক৷ সেই সুযোগ কিন্তু আছে৷ দু'টি কোম্পানি সফল হয়েছে৷ আরো অনেকেই চেষ্টা করে হয়ত সফল হতে পারেনি৷ এখন অনেকেই চেষ্টা করছেন, ভিন্নভাবে, ভিন্ন আঙ্গিকে মোবাইল ব্যাংকিং সেবাটাকে নিয়ে আসার৷ আমার মনে হয়, কেউ যদি ভালো সেবা নিয়ে আসে তাহলে এই মার্কেটে জনপ্রিয় হওয়ার সুযোগ আছে৷

আর্থিক ডিজিটালাইজেশনের পথে কত দূর এগোলাম আমরা?

আমরা এগিয়েছি, এতে কোনো সন্দেহ নেই৷ গত ৫ বছরে আমরা অনেক দূর এগিয়েছি৷ এখানে আরো অনেক অনেক দূর যাওয়ার সুযোগ রয়েছে৷ এখন মোবাইল ব্যাংকিংয়ে আমরা শুধু টাকার লেনদেন করতে পারছি৷ কিন্তু ই-কমার্স বা অন্যান্য আর্থিক লেনদেন করতে পারছি না৷ এখান থেকে আমরা অনেক দূরে রয়েছি৷ আমাদের অনেক দূর যেতে হবে৷

লাখ লাখ কোটি টাকা লেনদেন হচ্ছে৷ নিরাপত্তার বিষয়ে সরকার কতটুকু গুরুত্ব দিয়েছে?

আসলে সরকারের দিক দিয়ে গত এক দুই বছরে আর্থিক খাতে যে ঘটনাগুলো ঘটেছে, তাতে সবাই বেশ সতর্ক৷ এই জায়গাতে আমাদের সঠিক পরিচর্যার অনেক ঘাটতি রয়ে গেছে৷ সেখান থেকেই এই জাতীয় ঘটনা ঘটার সুযোগ তৈরি হচ্ছে৷ এই জায়গায় আমাদের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরো অনেক বেশি সতর্ক হতে হবে৷ এখন কোনো ঘটনা ঘটলে আমরা তৎপরতা দেখাচ্ছি, কিছুদিন পর সেটা ভুলে যাচ্ছি৷ দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে, সুষ্ঠু ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে এটা করতে হবে৷ এর মধ্যে জেনেছি, বাংলাদেশ ব্যাংক একটা পরিকল্পনা নিচ্ছে যে, প্রতি বছর আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আইটি অডিট করতে হবে৷ এগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন৷ সরকারের দিক থেকে বা বাংলাদেশ ব্যাংকের দিক থেকে সব ব্যাংক এগুলো মেনটেন করছে কিনা সেটা মনিটরিং করতে হবে৷ তা না হলে এই ধরনের ঘটনা আরো ঘটবে, এবং আমরা আরো বেশি বিপদের সম্মুখীন হবো৷

অডিও শুনুন 09:52
এখন লাইভ
09:52 মিনিট
বিষয় | 26.01.2017

‘কেউ যদি ভালো সেবা নিয়ে আসে তাহলে এই মার্কেটে জনপ্রিয় হওয়ার স...

সরকারের সমস্ত লেনদেন চলে গেছে ডিজিটাল বা অনলাইন পদ্ধতিতে৷ প্রাইভেট সেক্টরের লেনদেন কেন ডিজিটাইজ হচ্ছে না? দুর্বলতা কী?

প্রাইভেট সেক্টরের একই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে লেনদেনগুলো কিন্তু অনলাইনের মাধ্যমেই হচ্ছে৷ সবার বেতন নিজস্ব অ্যাকাউন্টে চলে যায়৷ এখন কিন্তু কেউ হাতে ক্যাশ টাকায় বেতন দেয় না৷ তবে একটা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আরেকটা প্রতিষ্ঠানের লেনদেন সেভাবে অনলাইনে হয়নি৷ এক্ষেত্রে একটা অভ্যস্ততার বিষয় আছে বা এই সেবাগুলো নিয়ে আমাদের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সেভাবে এগিয়ে আসেনি৷ এখানে আরেকটু এগুনোর সুযোগ আছে৷  

আর্থিক লেনদেনে আমরা  কিছু সমস্যা হতে দেখছি৷ বিকাশ থেকে রকেটে টাকা পাঠানো যায় না৷ আবার রকেট থেকে বিকাশে পাঠানো যায় না৷ এক্ষেত্রে কোনো পরামর্শ আছে ?

এখানে দু'টো জিনিস, একটা হলো, অনেক জায়গায় তৃতীয় কোনো প্রতিষ্ঠান এই দায়িত্ব নেয়৷ তারা এই ধরনের ইন্টার অপারেটিভিলিটির সুযোগ করে দেয়৷ আমার ধারণা, এই ধরনের উদ্যোগ নিয়ে কেউ কেউ কাজ করছেন৷ ভালো হয় যদি নিয়ন্ত্রক সংস্থার মাধ্যমে কোনো স্ট্যান্ডার্ড নির্ধারণ করা যায়৷ আমরা এক ব্যাংক থেকে আরেক ব্যাংকে টাকা পাঠাতে পারি৷ সেখানে মোবাইল ব্যাংকিংয়েও এটা সম্ভব৷ প্রযুক্তিগতভাবে খুব বেশি যে বাধা আছে তা নয়, সেভাবে নিয়ন্ত্রিত কোনো ব্যবস্থা যদি চালু করা যায়, তাহলে সেটাও হবে৷ এখন দু'টি প্রতিষ্ঠান বলে হয়ত হচ্ছে না, আরো দু-একটি প্রতিষ্ঠান যদি ভালোভাবে মার্কেট পায়, তাহলে দেখবেন এটা সমাধানের ব্যবস্থা হবে৷

সরকার বলছে, আর্থিক ডিজিটাইজেশনের কারণে রেমিটেন্স কমে যাচ্ছে৷ মানুষকে ভুল বুঝিয়ে ,বিদেশ থেকে হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠানো হচ্ছে৷ এ কারণে কি এই ইন্ড্রাস্ট্রিতে কোনো প্রভাব পড়তে পারে?  

আমার মনে হয়, এটা একটু একতরফা বক্তব্য হলো৷ হুন্ডির মাধ্যমে মানুষ তখনই টাকা পাঠায়, যখন দেশে মুদ্রার মানের একটা তারতম্য লক্ষ্য করা যায়৷ এখন দেখবেন, ব্যাংকে ডলারের যে দাম, বাইরে তার চেয়ে দাম অনেক বেশি৷ মানুষ যখন দেখে বাইরের মাধ্যমে টাকা পাঠালে সে আর্থিকভাবে বেশি লাভবান হচ্ছে, তখন সে ওই মুখো হয়ে যায়৷ এখানে যদি একটা সাম্যতা রক্ষা করা যায়, তাহলে দেখবেন যে রেমিটেন্স কমবে না৷ কারণ, মানুষ নিরাপদ পদ্ধতিতে আর্থিক লেনদেন করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে৷

বিজ্ঞান

ঘাড়ে ব্যথা

সর্বশেষ খবর, ই-মেল কিংবা স্যোশাল মিডিয়ায় যোগাযোগ রাখার জন্য অনেকেই দিনের কয়েকটা ঘণ্টা সময় ব্যয় করেন মোবাইল বা স্মার্টফোনে৷ নীচের দিকে তাকিয়ে এত দীর্ঘ সময় কথা বলার কারণে ঘাড়ে চাপ পরে এবং ব্যথা হয়, যা প্রথমদিকে সেভাবে বোঝা না গেলেও ধীরে ধীরে জটিল হয়ে স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে৷

বিজ্ঞান

মনোযোগ এবং উৎপাদনশীলতা কমে যায়

যে ব্যক্তি দিনে দুই ঘণ্টা বা তার বেশি সময় স্মার্টফোন ব্যবহার করে তার অন্যদিকে মনোযোগ এবং ‘প্রোডাক্টিভিটি’ কমে যায়৷ শুধু তাই নয়, কোনো এক সময় এ অবস্থা থেকে ‘বার্নআউট’-ও শুরু হতে পারে৷ অনেকে ছুটিতে গেলেও মোবাইল ও ল্যাপটপ হাতছাড়া করতে চাননা, উত্তর দিয়ে থাকেন অ-দরকারি ই-মেলেরও৷ যদি তাই হয় তাহলে আর টাকা খরচ করে ছুটিতে না গিয়ে বাড়িতে থাকাই শ্রেয়৷ এমনটাই জানান বিশেষজ্ঞ৷

বিজ্ঞান

কীভাবে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব?

যে কোনো ডায়েটিংয়ের মতো ডিজিটাল ডায়েটও খুব কঠিন৷ বিশেষ করে এই নিয়ন্ত্রণ পুরোটাই নিজের ওপর নির্ভর করে৷ নিজেকেই ঠিক করতে হবে, কোন ই-মেল বা মেসেজের উত্তর আপনি দিতে চান আর কোনটা চান না৷ ঠিক যেমন, ওজন কমাতে চাইলে কিছু খাবার থেকে নিজেকে দূরে থাকতে হয়, সেরকম ‘ডিজিটাল ডায়েটের’ ক্ষেত্রেও মোবাইলের মতো কিছু জিনিস বাদ দিতে হয়৷

বিজ্ঞান

দিনে ৫৩ বার!

মোবাইল অ্যাপের জন্য ৬০ হাজার মোবাইল ব্যবহারকারী নিয়ে বন বিশ্ববিদ্যালয়ের করা এক গবেষণা থেকে বেরিয়ে এসেছে যে মোবাইল ব্যবহারকারীরা গড়ে প্রতি ১৮মিনিট অন্তর দিনে ৫৩ বার স্মার্টফোন ব্যবহার করেন৷

বিজ্ঞান

সবাইকে জানিয়ে দিন

জার্মান প্রযুক্তিবিদ আলেকজান্ডার মার্কোভিৎস জানান, ‘‘যারা সত্যিই ডিজিটাল ডায়েটিং করতে চান তারা সপ্তাহে একদিন মোবাইলটি বাড়িতে রেখে যান৷ আর হ্যাঁ, সে কথা আগে থেকেই বন্ধু আর পরিচিতদের জানিয়ে দিন, যাতে কিছু হারাবার কোনো ভয় বা আতঙ্ক না থাকে৷’’

ডিজিটাল হওয়ার কারণে আমাদের কী কী পরিবর্তন এসেছে বলে আপনি মনে করেন?

এটা তো একেক জনের ক্ষেত্রে একেক রকম৷ তবে সার্বিকভাবে যদি বলি, আমাদের জীবনযাত্রায় একটা বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে৷ যদি শিশুদের কথা বলি, ইন্টারনেটের ফলে শিশুদের ভিডিও, গেইমিং অনেক বেড়ে গেছে৷ এটা একদিক দিয়ে ভালো যে তারা বাসায় সময় কাটাচ্ছে৷ আবার এর ফলে তার লেখাপড়া বা মেধার বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে৷ এই জায়গাগুলোতে আমাদের সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে৷ আমাদের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক দিকগুলো যেন আমরা নেই এবং নেতিবাচক দিকগুলো থেকে যেন আমরা দূরে থাকি৷ যাতায়াতের ক্ষেত্রে বলি, উবার বা এই ধরনের সেবা বাংলাদেশে এসেছে৷ এতে যোগাযোগ ব্যবস্থার একটা আমূল পরিবর্তন হয়েছে৷ ই-কমার্সে অর্ডার দেয়া অনেক বেড়ে গেছে৷ টেলিফোনে অর্ডারের পরিমানও অনেক বেড়ে গেছে৷ সামগ্রিকভাবে জীবনযাত্রায় একটা বড় পরিবর্তন এসেছে৷ এই জায়গায় সচেতনতার একটা বড় প্রয়োজন বলে আমার মনে হয়৷ 

ডিজিটাইজেশনের ক্ষেত্রে সরকারের প্রতি আপনার পরামর্শ ...

ডিজিটাইজেশনের ক্ষেত্রে সরকার যে সেবার উদ্যোগ নিয়েছে, কিছু কিছু জায়গায় খুবই ভালো৷ আবার কিছু জায়গায় দায়সারা গোছের করা হয়েছে৷ এটা হতে পারে যারা করেছেন, তাদের হয়ত সঠিকভাবে করার যে দক্ষতা, সেটা ছিল না৷ সেই জায়গাতে নতুন করে ভাবা যে করলে মানুষের আরো কাছে পৌঁছানো যায়৷ এটা করা গেলে সরকারও মানুষের অনেক কাছাকাছি যেতে পারছে, মানুষের মতামতগুলো তারা জানাতে পারছে এবং এটাকে সঠিকভাবে প্রয়োগ করা গেলে আমাদের গভর্ননেন্সের জায়গায় একটা বড় উন্নতির সম্ভাবনা আছে৷

আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷