আর অধিনায়ক হতে চান না ‘দুর্ভাগা’ মুশফিক

সম্ভবত ক্যারিয়ারের সেরা সময়ে এখন মুশফিকুর রহিম৷ দীর্ঘ এ কথোপকথনে নিজের ব্যাটিং, বিশ্বকাপ স্বপ্নসহ সব বিষয়েই তিনি স্বতস্ফূর্ত, সাবলীল৷ অধিনায়কত্ব ও সাবেক কোচ চন্দিকা হাতুরাসিংহেকে নিয়ে বলেছেন রীতিমতো বিস্ফোরক সব কথা৷

ডয়চে ভেলে: দুর্দান্ত এক বিপিএল কাটালেন৷ সেখানে ১৩ ম্যাচে করেছেন ৪২৬ রান৷নিউজিল্যান্ড সফরের প্রস্ততিটা নিশ্চয়ই দারুণ হলো?

মুশফিকুর রহিম: সেটা তো অবশ্যই৷ হয়তোবা ওখানকার কন্ডিশন একেবারে আলাদা৷ কিন্তু যখন খেলার মধ্যে থাকেন এবং রান করেন- সেটি যে কোনো সিরিজ বা টুর্নামেন্টের আগে আত্মবিশ্বাস দেয়৷ আর বিপিএল বিশ্বমানের টুর্নামেন্ট; এর মান এখন অনেক উঁচুতে৷ এখানে বিশ্বমানের ক্রিকেটাররা আসেন৷ গত বছর কিংবা আগের মৌসুমগুলোতে আসেননি এমন অনেক ক্রিকেটারও এসেছেন এবার৷ সব মিলিয়ে এবারের প্রতিযোগিতা তাই অনেক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ছিল৷ আর আমাদের দলের জন্যও কাজটি সহজ ছিল না৷ বিপিএলে আমি যে খুব ভালো দলে খেলার সুযোগ পাই, তা-ও না৷ এ নিয়ে ছয় আসরে কখনোই কাগজ-কলমে অন্তত চ্যাম্পিয়ন হবার মতো দলে খেলিনি৷ আমার জন্য এই বিপিএল অনেক চ্যালেঞ্জিং ছিল৷ আর এবার তো অনেক দিন পর অধিনায়কত্বও করলাম৷ সব মিলিয়ে মনে করি, টুর্নামেন্টটি ভালোই কেটেছে৷

বিপিএলে বেশ কয়েকটি ম্যাচ ব্যাটিংয়ে দলকে জিতিয়ে শেষ করে এসেছেন৷ ভবিষ্যতে জাতীয় দলের ক্ষেত্রে এটি বড় কিছুর বিশ্বাস জোগাবে?

আমার জন্য এটি অনেক বড় ইতিবাচক দিক৷ যে কোনো ম্যাচেই দলকে খারাপ পরিস্থিতি থেকে বের করে আনাটা দারুণ ব্যাপার৷ এবারের বিপিএলে ১৩ ম্যাচের মধ্যে চার-পাঁচটি খেলায় আমি তা করতে পেরেছি৷ এক-দুই ম্যাচে হলে হয়তো মনে হতো, এমনি হয়ে গেছে৷ যেহেতু ধারাবাহিকভাবে করতে পেরেছি, সেটি তাই আমার জন্য ইতিবাচক৷ আর এই ফরম্যাটে ধারাবাহিকতা রেখে খেলা খুব চ্যালেঞ্জিং৷ সেদিক থেকে একটু হলেও খুশি৷ গতবারের চেয়ে এবার ধারাবাহিক ছিলাম৷ সামনে যে কোনো ফরম্যাটে এ পারফর্ম্যান্স আমাকে সাহায্য করবে৷

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে গত বছর আপনি করেছেন ১৬৫৭ রান, এক পঞ্জিকাবর্ষে বাংলাদেশের  যে কোনো ক্রিকেটারের জন্য যা সর্বোচ্চ রান৷ ছাড়িয়ে গেছেন ২০১০ সালে তামিম ইকবালের করা ১৬৪৬ রানকে৷ সে বছর পেরিয়ে নতুন বছরের শুরুতেই বিপিএলে এমন পারফর্ম্যান্স৷ মুশফিকুর রহিম  কি এই মুহূর্তে  ক্যারিয়ারের সেরা ফর্মে আছেন?

(হাসি) বেশ কয়েক বছর ধরেই তো এমন ভালো করছি৷ আপনার কাছে প্রথম না, আরো অনেকের কাছেই অনেকবার শুনেছি যে, এটি আমার সেরা সময়৷ আমি মনে করি, আমার মতো এমন বয়সে যে কারোই প্রতিটি টুর্নামেন্ট, প্রতিটি বছর এভাবে খেলা উচিত৷ পারফর্ম করা উচিত৷ এটিকে তাই অতিমানবীয় বলব না৷ এত বছর ধরে যে জাতীয় দলে খেলছি, সে অভিজ্ঞতা বলুন, পরিণতিবোধ বলুন, এসব কিছুর প্রতিদান দেবার চেষ্টা করছি৷ আমার এখনকার ফর্ম সেটিরই পুরষ্কার বলতে পারেন৷

খেলাধুলা | 13.03.2018
এখন লাইভ
24:48 মিনিট
মিডিয়া সেন্টার | 11.02.2019

‘হাতুরাসিংহে খুব ভাগ্যবান, কিন্তু ওর সময়ে বাংলাদেশের ক্রিকেট ...

সামনেই তো নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ৷ গতবার ওখানে ওয়েলিংটন টেস্টে ১৫৯ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলেছেন৷ এবারের সফরে নিজের কাছে প্রত্যাশা কী?

গতবার আমি একটু দুর্ভাগাও ছিলাম৷ সফরের শুরুর দিকে প্রথম ওয়ানডেতে ইনজুরিতে পড়ে যাই৷ খুব খারাপ অবস্থা৷ দলও ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টিতে হেরে যায় সব ম্যাচ৷ এরপর প্রথম টেস্টে ফিরে আসা এবং অমন একটি ইনিংস খেলা আমার জন্য চ্যালেঞ্জিং ছিল৷ গতবার যা করেছি, এবার যেন তা ছাপিয়ে যেতে পারি সেই চেষ্টা থাকবে৷ দল হিসেবে ভালো করার সামর্থ্য ও বিশ্বাস আমাদের রয়েছে৷ কারণ, গতবারের অনেক ক্রিকেটারের সেটি প্রথম নিউজিল্যান্ড সফর ছিল৷ এবার তাঁরা একটু হলেও অভিজ্ঞ হয়ে যাচ্ছে৷ এই সফরটি আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ৷ এখানে যদি ভালো করি, তাহলে সামনের আয়ারল্যান্ড সফর কিংবা বিশ্বকাপেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে৷

জাতীয় ওয়ানডে  দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা বলছেন, ২০১৯ বিশ্বকাপ জয়ের সামর্থ্য এখনকার বাংলাদেশের রয়েছে৷ আপনিও কি তা বিশ্বাস করেন?

এটি অস্বাভাবিক কোনো লক্ষ্য না৷ খুবই সম্ভব এক স্বপ্ন, যা পূরণ করার ভালো সুযোগ এবার আমাদের৷ আর এ বিশ্বকাপে তো সবার সঙ্গে সবার খেলা হচ্ছে৷ সেখানে ভালো খেলতে পারলে সেরা চারে থাকা সম্ভব৷ সেটিই আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য হওয়া উচিত৷ এরপর ফাইনাল খেলা আর চূড়ান্ত লক্ষ্য চ্যাম্পিয়নশিপ৷ আমার মনে হয়, চ্যাম্পিয়ন হবার সামর্থ্য অবশ্যই আমাদের দলের আছে৷ পাঁচজন সিনিয়র ক্রিকেটার রয়েছি; সঙ্গে মুস্তাফিজ, মিরাজ, সৌম্য, লিটনরা সবাই মিলে যদি সমন্বিতভাবে পারফর্ম করতে পারি, তাহলে বিশ্বকাপ জয় অস্বাভাবিক কিছু না৷ সে লক্ষ্যের পথে অনেক বড় চ্যালেঞ্জিং হবে নিউজিল্যান্ড সফর৷ বিশ্বকাপ জয়ের বিশ্বাস যেন এ সফর থেকেই তৈরি করা শুরু করতে পারি৷

গত বছর ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্ট, এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠেও শিরোপা জিততে পারেনি বাংলাদেশ৷ এমন একটি ট্রফি জিতলে বিশ্বকাপ জয়ের আত্মবিশ্বাস তৈরিতে তা  কি সাহায্য করত না?

অবশ্যই৷ যে কোনো বাধা একবার টপকালে অমন পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে আবার গেলে মনে হয় যে, এভাবে আমরা আগের বাধা টপকেছিলাম৷ ট্রফি জিতলে তাই নিঃসন্দেহে আলাদা বিশ্বাস থাকত৷ আবার আমার কাছে মনে হয়, গত চার-পাঁচ বছরে আমরা যেমন দুর্ভাগা ছিলাম, চ্যাম্পিয়নশিপের দোরগোড়ায় গিয়েও যেভাবে পারিনি, তাতে বিশ্বকাপ ফাইনালে এমন পরিস্থিতিতে পড়লে হয়তো আমাদের ভাগ্যে জয় লেখা হয়ে থাকতেও পারে৷ বলা তো যায় না৷ সব আক্ষেপের শেষ তাই এবারের বিশ্বকাপ ফাইনালেই হতে পারে৷

‘সব আক্ষেপের শেষ তাই এবারের বিশ্বকাপ ফাইনালেই হতে পারে’

২০১৯ বিশ্বকাপ জয়ের বিশ্বাসের কথা বলছেন৷ চার বছর আগের ২০১৫ আসরে নিশ্চয়ই ওই লক্ষ্য নিয়ে খেলতে যায়নি বাংলাদেশ?

বিশ্বকাপের মতো এত বড় আসর, তার ওপর অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের মতো আমাদের জন্য কঠিন কন্ডিশনে৷ অনেকে ভাবতে পারেননি, ওই কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত যাবো৷ কিন্তু যখন টুর্নামেন্টটি ভালোভাবে শুরু করলাম এবং ভালো খেলতে লাগলাম, তখন নিজেদের মনে হয়েছে, আমরা অন্তত সেরা চারে যাবার মতো দল৷ সেবারের অভিজ্ঞতা এবারের বিশ্বকাপে কাজে দেবে৷ ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি অভিজ্ঞতাও; যেখানে আমরা সেমিফাইনাল পর্যন্ত খেলেছিলাম৷ এখন আমরা জানি, কোন কোন জায়গায় আরেকটু উন্নতি করতে হবে৷

গত বিশ্বকাপের ঠিক আগে আগে আপনার ওয়ানডে-টি টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব যায়৷ আগের টানা তিন বছরের বেশি সময় তিন ফরম্যাটেই বাংলাদেশের অধিনায়ক ছিলেন৷ ২০১৫ বিশ্বকাপের আগে জিম্বাবোয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজে নেতৃত্ব হারান৷ এটি মেনে নেওয়া কতটা কঠিন ছিল? আর বিশ্বকাপে দেশের অন্যতম সেরা পারফর্মার আপনি; ৬ ম্যাচে ২৯৮ রান করেন ৪৯ দশমিক ৬৬ গড়ে৷ অধিনায়কত্ব হারানো মেনে নিয়ে পারফর্ম করাও  কতটা কঠিন ছিল?

অবশ্যই ভাই, এটি আমার জন্য অনেক চ্যালেঞ্জিং ছিল৷ সবসময় বিশ্বাস আছে, সৃষ্টিকর্তা যা করেন, ভালোর জন্য করেন৷ খেয়াল করে দেখুন, ২০১৪ সালেও আমি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান করেছিলাম৷ নিজের চেষ্টার দিক থেকে কোনো কমতি রাখিনি৷ আসলে আমার কাছে তখন এখনকার মতো দলে যথেষ্ট ভালো বোলার-ব্যাটসম্যান ছিল না, যাদের দিয়ে ভালো ফল বের করে আনবো৷ হয়তো ব্যক্তিগতভাবে ভালো খেলা কিছু ক্রিকেটার ছিল৷ কিন্তু একটা টুর্নামেন্ট জয় বা সিরিজ জয়ের জন্য যথেষ্ট ভালো দল ছিল না৷ এদিক থেকে আমি অধিনায়ক হিসেবে দুর্ভাগা৷ নেতৃত্ব চলে যাবার পর পরিবার থেকে খুব সমর্থন পাই৷ ওই সময় আমার নানা ছিলেন সবচেয়ে অনুপ্রেরণাদায়ী৷ উনি বলেছিলেন, ‘‘ভাই, তুমি কখনো মন খারাপ কোরো না৷ আল্লাহ যে সম্মান তোমাকে দিয়েছেন, সেটি যদি আবার নিয়ে নেন, তাতে তোমার কোনো হাত নেই৷ সে-ই নিয়ে নিলে ভালোর জন্যই কিছু হবে৷ আমার বিশ্বাস, অধিনায়কত্ব চলে যাবার পর তুমি আগের চেয়ে ভালো খেলতে পারবে৷'' নানার এই কথা আমার ভেতরে অন্যরকম কাজ করেছে৷ উনি আমার খুব কাছের মানুষ, কিন্তু ক্রিকেট ততটা বোঝেন না৷ তারপরও তাঁর বিশ্বাস রয়েছে, আমি আগের চেয়ে ভালো করতে পারবো৷ এটি আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে৷ তাই চেয়েছি, যেভাবে এতদিন পারফর্ম করেছি, তার ধারাবাহিকতা যেন থাকে৷ অধিনায়কত্ব চলে যাবার কোনো প্রভাব যেন না পড়ে৷

অধিনায়কত্ব পাওয়া, কিংবা যাওয়া – কোনো কিছুতে আপনার পারফর্ম্যান্সে প্রভাব পড়েছে বলে দেখিনি৷ পরিসংখ্যানও তাই বলছে৷ প্রথম যখন জাতীয় দলের অধিনায়ক হন, সেই ২০১১ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম খেলাতেই ম্যান অব দ্য ম্যাচ৷ আবার ওয়ানডে অধিনায়কত্ব চলে যাবার পর ২০১৪ সালে জিম্বাবোয়ের বিপক্ষে প্রথম সিরিজেই আপনি ম্যান অব দ্য সিরিজ৷ টেস্ট অধিনায়কত্ব যাবার পর প্রথম ইনিংসে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চট্টগ্রামে করেন ৯২ রান৷ এটি কিভাবে সম্ভব? এত সব ওলট-পালটের মধ্যেও ব্যাটসম্যান মুশফিককে আলাদা করে রাখেন কিভাবে?

দেখুন, আমি সব সময় পরিস্থিতি মেনে নেবার চেষ্টা করি৷ আর সত্যি বলতে কী, অধিনায়কত্ব যাবার পেছনে কেবল আমার একার দায় ছিল, তা কিন্তু নয়৷ যদি একাই খারাপ করে তা হতো, তাহলে সেটি অনেক বেশি ভাবাতো৷ হয়তো মনে হতো, আমার জন্যই এত কিছু হয়ে গেল৷ আমি মনে করি, আমি এমন কোনো ভুল, এমন চরম কোনো ভুল করিনি যে কারণে দল এত খারাপ করবে কিংবা অধিনায়কত্ব চলে যাবে৷ আমার পরিপার্শ্বের কিছু ক্রিকেটার ওই সময় হয়তো ভালো পারফর্ম করতে পারেনি, যে কারণে দলের ফলও ভালো হয়নি৷ এখানে অবশ্যই অধিনায়কের দায় রয়েছে৷

‘একটা টুর্নামেন্ট বা সিরিজ জয়ের জন্য যথেষ্ট ভালো দল ছিল না, এদিক থেকে আমি অধিনায়ক হিসেবে দুর্ভাগা’

তবে সব দোষই তার, এমন নয়৷ আমি সেভাবেই ভাবার চেষ্টা করেছি৷ আর মনের ভেতর থেকে একটা চ্যালেঞ্জ নেবার চেষ্টা করেছি৷ অধিনায়ক থাকি বা না থাকি, একজন খেলোয়াড় হিসেবে আমার মূল কাজ পারফর্ম করা৷ দলে থাকতে হলে পারফর্ম করে থাকতে হবে, সেটি ব্যাটসম্যান হিসেবে হোক কিংবা উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে৷

‘ব্যাটসম্যান হিসেবে হোক কিংবা উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে' কথাটা উল্লেখ করলেন৷ এ জায়গায় নিজেকে খানিকটা দুর্ভাগা মনে হয় কিনা? আপনাকে একটি পরিসংখ্যান জানাই৷ আপনার প্রথম ৫০ টেস্টে তিন সেঞ্চুরি৷ ৫১ ও ৫২তম টেস্টে নিউজিল্যান্ড ও ভারতের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেন৷ দুটোই প্রতিপক্ষের মাঠে, দুটোই উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে৷ তবু শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৫৩তম টেস্ট খেলতে নামার সময় আপনার কিপিং গ্লাভস কেড়ে নেয়া হয়; যদিও তখনো আপনি টেস্ট দলের অধিনায়ক৷ কতটা উথাল-পাথাল সময় গিয়েছে তখন?

একটু হলেও খারাপ লেগেছে৷ এটাই তো স্বাভাবিক৷ তবে আমি সবসময় চেষ্টা করি, দলের ভালোর জন্য অবদান রাখতে৷ আমাকে একাদশ থেকে বাদ দিলে দল প্রতি ম্যাচে জিতে যাবে, এ নিশ্চয়তা পেলে তা করতেও রাজি৷ আমার কাছে সবসময়ই দল আছে৷ টিম ম্যানেজম্যান্ট তখন বলেছিল, শুধু ব্যাটিংয়ে মনোযোগ দিলে দলে আরো বেশি অবদান রাখতে পারব৷ আমার চেয়ে আরো ভালো কেউ রয়েছেন, যে উইকেটরক্ষক হিসেবে ভালো করতে পারবে৷ তা আমি সহজেই মেনে নিয়েছি৷ তাঁরা তো বলেননি যে, ‘তুমি ভালো খেললে তোমার জন্য ভালো'; বলেছেন ‘দলের জন্য ভালো'৷ অমনভাবে বললে তা মেনে নেওয়া সব খেলোয়াড়েরই কর্তব্য বলে মনে করি৷ সেটি আমি অধিনায়ক থাকি বা না থাকি৷

কিন্তু মুশফিক, পর র দুই টেস্টে উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে সেঞ্চুরি করার পর আপনি আর কত ভালো করবেন? এমন পারফর্ম্যান্সের পরও আপনার পছন্দের উইকেটকিপিং কেড়ে নেয়ায় তা মেনে নেওয়া কঠিন ছিল না?

কঠিন তো অবশ্যই৷ তারপরও যা বললাম, এটি নিয়ে বসে থেকে আমার খুব বেশি লাভ নেই৷ আমি তো কোনো ভুল করিনি৷ কেন আমার কাছ থেকে তা কেড়ে নিলো– এমনটা ভাবতে থাকলে নিজেকে বোঝাতে কষ্ট হতো৷

২০১৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে অধিনায়কত্ব করার সময় কি বুঝতে পারছিলেন, আপনি মরা কাঠের উপর দিয়ে হাঁটছেন? জাতীয় দলের ওই সফরে আমিও ছিলাম দক্ষিণ আফ্রিকায়৷ দল খারাপ করছিল, আপনাকে বাউন্ডারি লাইনে ফিল্ডিংয়ের জন্য পাঠানো হলো, কারণ, দল ফিল্ডার হিসেবে আপনার ওপর আস্থা পাচ্ছিল না৷ এসব আমাদের সামনে এসে সংবাদ সম্মেলনে বলে গেছেন৷ তখন কি মনে হচ্ছিল, টেস্ট অধিনায়কত্ব বোধহয় চলেই যাবে?

একটা সিরিজে দল যদি সামর্থ্য অনুযায়ী পারফর্ম করতে না পারে, তাহলে এর দায় স্বাভাবিকভাবে অধিনায়ক-কোচের উপর পড়বেই৷ তবে আমার একার কারণে সব খারাপ হচ্ছে, সেভাবে ভাবিনি৷ ওই সফরে আমাদের কোনো ক্রিকেটার দুর্দান্ত পারফর্ম করেনি৷ একশ', দেড়শ' রান করেনি, পাঁচ উইকেটও নেয়নি৷ আর দক্ষিণ আফ্রিকায় খুব কম সফরকারী দলই ভালো করে৷ সেদিক থেকে আমি অবশ্যই দুর্ভাগা৷ কারণ, যে সময়টায় বাইরের সমর্থন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল, সেই সময় কোনো সমর্থনই পাইনি৷ বিশেষত কোচের কাছ থেকে তো কখনোই পাইনি৷ টিম ম্যানেজমেন্টে যাঁরা ছিলেন, তাঁদের কাছ থেকেও পাইনি৷ শুধু আমার যাঁরা ঘনিষ্ট ক্রিকেটার, তাঁদের কাছ থেকে সমর্থন পেয়েছি৷ তামিম ও রিয়াদ ভাই– এ দুজনের কাছ থেকে পেয়েছি সমর্থন; সাকিব তো টেস্টে ছিল না৷ আমি মনে করি, ওই সময়টায় সবার সমর্থন আরো বেশি প্রয়োজন ছিল৷ আমি অধিনায়ক থাকি বা না থাকি, সমর্থন পেলে দল হিসেবে বাংলাদেশ আরো ভালো করতে পারতো৷ প্রথম টেস্টের পর সেটি হলে দ্বিতীয় টেস্টে হয়তো আরেকটু ভালো করতে পারতাম৷ তবে এটি বাংলাদেশের ক্রিকেট সংস্কৃতি– মেনে নিতেই হবে৷ আমিও অস্বাভাবিকভাবে নিইনি৷ খারাপ সময়ে মানুষ কিছু না হলেও অনেক কিছু ভাবে৷ আবার অনেক সময় ঘটনা না শুনেই অনেক কিছু বলে দেয়৷ তবে হ্যাঁ, আমি মনে করি, আমার কিছু কথাবার্তাও হয়তো ভুল ছিল৷ খোলামেলা অনেক কিছু বলে দিয়েছি, যা বলা উচিত হয়নি৷ সত্যি বলতে কী, তখন অভিনয় করলে হয়তো নিজের অধিনায়কত্ব বাঁচাতে পারতাম৷

জাতীয় দলের তখনকার কোচ চন্দিকা হাতুরাসিংহের সঙ্গে আপনার সম্পর্ক কখনোই ভালো ছিল না৷ অধিনায়কের সঙ্গে কোচের সম্পর্ক ভালো না হলে দলের ওপর খারাপ প্রভাব পড়তে বাধ্য৷ আপনার কি মনে হয় না যে, শুধু ব্যক্তি মুশফিক না, দল হিসেবে বাংলাদেশও এর ভুক্তভোগী?

একটু হলেও তো ভুক্তভোগী৷ সাম্প্রতিক সময়ে দেখতে পাচ্ছেন, শ্রীলঙ্কার কোচ হিসেবে তাঁর সঙ্গে ক্রিকেটার ও টিম ম্যানেজমেন্টের সম্পর্কের কী অবস্থা৷ আমারই শুধু সমস্যা ছিল, সেটি তো না৷ ওই মানুষটারও নিশ্চয়ই সমস্যা ছিল, যা এখন অন্য জায়গায় গিয়ে প্রকাশ পাচ্ছে৷ বাংলাদেশ তাই একটু হলেও এর খারাপ ফল ভোগ করেছে৷ আর সত্যি বলতে, হাতুরাসিংহের সময় বাংলাদেশ হয়তো অনেক ভালো কিছু ফল পেয়েছে, কিন্তু আমি তো এমন কোনো ক্রিকেটার দেখি না, যাঁরা কিনা ওঁর সময় উঠে এসেছে৷ একজন কোচের শুধু ফল নিয়ে ভাবলে হয় না৷ তাঁকে এমন এক কাঠামো তৈরি করে দিয়ে যেতে হয়, যাতে বাংলাদেশ ক্রিকেট যেন আরো পাঁচ-দশ বছর পরের প্রজন্মের ভালো ক্রিকেটারদের হাতে থাকে৷ এ জায়গায় আমরা অনেক ধুঁকেছি৷ হয়তোবা জাতীয় দলের ফল বিবেচনায় হাতুরাসিংহে সফল কোচ, কারণ, ওই সময় আমাদের সেরা পাঁচ-ছয় ক্রিকেটার ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফর্ম করেছে৷ আবার আমরা এদিক দিয়েও ভাগ্যবান যে, মুস্তাফিজ, সৌম্যর মতো তরুণ ক্রিকেটাররাও অসাধারণ পারফর্ম করেছে৷ তরুণদের কাছ থেকে যা সবসময় প্রত্যাশা করা যায় না৷ সব মিলিয়ে আমি তাই মনে করি, বাংলাদেশের কোচ হিসেবে হাতুরাসিংহে খুব ভাগ্যবান৷ ক্রিকেটারদের পারফর্ম্যান্সের কারণে তাঁর রেকর্ড হয়তো ভালো৷ কিন্তু সামগ্রিকভাবে যদি বাস্তবতা বিবেচনা করেন, তাহলে ওর সময়ে বাংলাদেশের ক্রিকেট অনেক নীচের দিকে নেমেছে৷ তখনকার অনেক তরুণ ক্রিকেটারকে ঠিকমতো পরিচর্যা করলে এখন এই প্রয়োজনের সময় আরো অনেক খেলোয়াড় পেতাম৷ এটি আমার ব্যক্তিগত মত৷

‘যে সময়টায় বাইরের সমর্থন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল, সেই সময় কোনো সমর্থনই পাইনি’

সাক্ষাত্‍কারের শেষ পর্যায়ে আপনার ব্যক্তিগত পারফর্ম্যান্সে আবার একটু আলো ফেলতে চাই৷ টেস্টে বাংলাদেশের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিয়ান আপনি৷ গত বছর করেন আরেকটি ডাবল সেঞ্চুরি৷ কোনটি বেশি তৃপ্তিদায়ক?

প্রথমটি অনেক তৃপ্তিদায়ক ছিল; পরেরটি অনেক চ্যালেঞ্জিং৷ জিম্বাবোয়ের বিপক্ষে দলের পরিস্থিতিও বেশ খারাপ ছিল৷ সেখান থেকে এমন এক ইনিংস খেলা! দুই ডাবল সেঞ্চুরির মধ্যে পরেরটিই বেশি আনন্দ দিয়েছে বলতে পারেন৷

জিম্বাবোয়ের বিপক্ষে করা ওই ডাবল সেঞ্চুরিতে নিজেকে কি ব্রায়ান লারা মনে হয়েছে? তুলনাটি এজন্য করছি, টেস্টে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস ৩৭৫ রানের যে বিশ্বরেকর্ড ওই ক্যারিবিয়ান করেন, তা প্রায় ৯ বছর পর ভেঙে দেন ম্যাথু হেডেন৷ ছয় মাসের মাথায় ৪০০ রানের ইনিংসে তা আবার নিজের করে নেন লারা৷ আপনি তো ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের ভীষণ ভক্ত বলে জানি৷ দেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ড গড়েছেন, সেটি হাতছাড়া হবার পর পুনরুদ্ধার করেছেন- এদিক থেকে জানতে চাইছিলাম, নিজেকে লারার মতো মনে হয়েছে কিনা...

কাকতালীয়ভাবে আমার আদর্শ ক্রিকেটার কিন্তু ব্রায়ান চার্লস লারা৷ অত্যন্ত প্রিয় ক্রিকেটার, অন্য রকম ভালো লাগার একজন৷ তাঁর মতো তো জীবনেও হতে পারব না৷ তবে অন্তত লারা যেমন সর্বোচ্চ রানের বিশ্বরেকর্ড নিজে করে পরে আবার পুনরুদ্ধার করেছেন, আমি তো একটুখানি হলেও তাঁর মতো দেশের সর্বোচ্চ রানের ইনিংসটির বেলায় করেছি– এটি অনেক ভালো লাগার বিষয়৷ আমার জন্য অনেক বড় ব্যাপার৷

হাতুরাসিংহে কোচ থাকার সময় আপনার উইকেটকিপিং নিয়ে অনেক কথাবার্তা হয়েছে৷ কিন্তু আপনিই ক্রিকেট ইতিহাসের একমাত্র খেলোয়াড়, যিনি উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলে করেছেন দুটো ডাবল সেঞ্চুরি৷ কিপিং করেও যে ব্যাটিং করতে পারেন, এর পক্ষে এই রেকর্ডটি কি বড় এক বিবৃতি নয়?

তা তো অবশ্যই৷ কাজটি খুব সহজ ছিল না৷ এই রেকর্ডটি করতে পেরে আমি আনন্দিত৷ তবে এখানেই শেষ নয়৷ সামনে যদি সুযোগ পাই, তাহলে চেষ্টা করব যেন আরো বেশ কয়েকটি ডাবল সেঞ্চুরি করতে পারি৷ এই চ্যালেঞ্জ নেবার ইচ্ছে রয়েছে৷

ট্রিপল সেঞ্চুরি?

একদিনের ক্রিকেটে বাংলাদেশের সেরা একাদশ

তামিম ইকবাল

ডয়চে ভেলের অনুরোধে ২০১৬ সালের এপ্রিলে এই একাদশ নির্বাচন করেন আকরাম খান৷ তিনি সেরা একাদশ নির্বাচন করায় উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে নিজের ভাতিজা তামিমকে নিয়েছেন বলে যাঁরা ভাবছেন তাঁরা একবার তামিমের পরিসংখ্যানের দিকে নজর দিন৷ বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে একদিনের ক্রিকেটে ব্যক্তিগত মোট রানের সংখ্যা ৫,০০০ রান পেরিয়েছেন তিনি৷ এ জন্য তাঁকে ১৫৯টি ম্যাচ খেলতে হয়েছে৷

একদিনের ক্রিকেটে বাংলাদেশের সেরা একাদশ

শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুৎ

টেস্ট খেলুড়ে কোনো দেশের বিরুদ্ধে একদিনের ম্যাচে বাংলাদেশের প্রথম জয়টি আসে ১৯৯৯ বিশ্বকাপে, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে৷ সেই ম্যাচে ওয়াকার, ওয়াসিম, শোয়ের আখতারের মতো বোলারদের বিপক্ষে প্রথম ব্যাট করতে নেমে ৩৯ রান করেছিলেন বিদ্যুৎ৷ দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এই রান টাইগারদের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিল৷

একদিনের ক্রিকেটে বাংলাদেশের সেরা একাদশ

সাকিব

অনেকে হয়ত তাঁকে বাংলাদেশের ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড় বলবেন৷ বিশ্ব ব়্যাংকিংয়ে কয়েকবার শীর্ষে উঠে বাংলাদেশের ক্রিকেটের সেরা বিজ্ঞাপন হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন এই অলরাউন্ডার৷ ২৩ ডিসেম্বর, ২০১৬ পর্যন্ত ১৬৩টি একদিনের ম্যাচ খেলে রান করেছেন ৪,৫৬৬, উইকেট নিয়েছেন ২১৫টি, সেঞ্চুরি আছে ৬টি৷ সাকিবের চেয়ে উইকেট বেশি আছে শুধু মাশরাফির৷

একদিনের ক্রিকেটে বাংলাদেশের সেরা একাদশ

মুশফিকুর রহিম

এই উইকেট-রক্ষক কাম ব্যাটসম্যানের ওডিআই ডেব্যু হয়েছিল ২০০৬ সালে৷ সেই থেকে ১৬৪টি ম্যাচ খেলে রান করেছেন ৪,০৭৬টি, আছে ৪ সেঞ্চুরি (২৩ ডিসেম্বর, ২০১৬ পর্যন্ত)৷ প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি করার রেকর্ডটিও তাঁর৷

একদিনের ক্রিকেটে বাংলাদেশের সেরা একাদশ

মিনহাজুল আবেদীন নান্নু

বাংলাদেশের প্রথম একদিনের ম্যাচ খেলেছিলেন নান্নু৷ সেই সময় তাঁর বয়স ছিল মাত্র ২০৷ সেটি ১৯৮৬ সালের কথা৷ এরপর মোট ২৭টি ওয়ানডে খেলেছেন৷ ১৯৯৯ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জয়ে নান্নুর করা সাত ওভার (২৯ রান দিয়েছিলেন) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল৷

একদিনের ক্রিকেটে বাংলাদেশের সেরা একাদশ

পাইলট

শুধু ভালো উইকেট-রক্ষকও ছিলেন না, শেষদিকে ব্যাট করতে নেমে দলকে জেতাতে না পারলেও বেশ কয়েকবারই একটা সম্মানজনক পর্যায়ে নিয়ে যেতে পেরেছিলেন৷ ১৯৯৫ সালে ওডিআই খেলা শুরু করার পর ১২৬ ম্যাচে ১,৮১৮ রান করেছিলেন৷

একদিনের ক্রিকেটে বাংলাদেশের সেরা একাদশ

রফিকুল আলম

আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের জন্য পরিচিত ছিলেন এই অলরাউন্ডার৷ ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশের হয়ে দু’টি একদিনের ম্যাচ খেলেছেন৷ তবে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম খেলেন ১৯৮০ সালে৷ ১৯৮২ ও ১৯৮৬-র আইসিসি ট্রফিতেও খেলেছেন রফিকুল আলম৷

একদিনের ক্রিকেটে বাংলাদেশের সেরা একাদশ

রফিক

প্রধান পরিচয় বাঁ-হাতি স্পিনার হলেও মারকুটে ব্যাটসম্যান হিসেবেও পরিচিত ছিলেন৷ ১৯৯৫ সালে শারজায় অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপে ভারতের বিপক্ষে তাঁর ওডিআই অভিষেক হয়েছিল৷ প্রথম উইকেটটাই পেয়েছিলেন টেন্ডুলকারকে আউট করে৷ বোলিং ফিগার ছিল ৫-০-১৫-১৷ এরপর ১২৫টি একদিনের ম্যাচ খেলে সমান সংখ্যক উইকেট পেয়েছিলেন৷

একদিনের ক্রিকেটে বাংলাদেশের সেরা একাদশ

মাশরাফি (অধিনায়ক)

সেরা একাদশের অধিনায়ক হিসেবে মাশরাফিকে বেছে নেয়ার সিদ্ধান্তটি আকরামের জন্য সহজই ছিল বলা যায়৷ দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বোলার হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অন্যদের কাছ থেকে সেরাটা বের করে নিতে বেশ কয়েকবারই পারদর্শিতা দেখিয়েছেন তিনি৷

একদিনের ক্রিকেটে বাংলাদেশের সেরা একাদশ

মুস্তাফিজুর রহমান

আইসিসি ২০১৫ সালে ওয়ানডে একাদশের যে নাম ঘোষণা করেছিল তাতে প্রথম বাংলাদেশি হিসাবে স্থান পেয়েছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান৷ ঐ বছর জুনে ভারতের বিরুদ্ধে তাঁর অভিষেক ঘটে৷ প্রথম দুই ওয়ানডেতে তিনি ১১ উইকেট নিয়ে ক্রিকেট বিশ্বে সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন৷

একদিনের ক্রিকেটে বাংলাদেশের সেরা একাদশ

রুবেল হোসেন

ডানহাতি এই ফাস্ট বোলারের ওয়ানডে অভিষেকটা স্মরণীয় হয়েছিল৷ ২০০৯ সালে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ঐ ম্যাচে ৩৩ রানে ৪ উইকেট নিয়ে টাইগারদের জয়ে ভূমিকা রেখেছিলেন৷

একদিনের ক্রিকেটে বাংলাদেশের সেরা একাদশ

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (দ্বাদশ খেলোয়াড়)

সাকিব-তামিম-মুশিফক-মাশরাফিদের ভিড়ে তাঁর নাম চাপা পড়ে গেলেও দলের প্রয়োজনে মাঝেমধ্যেই তাঁকে ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হতে দেখা যায়৷ ২০১৫ বিশ্বকাপের পরপর দুই ম্যাচে তিনি সেঞ্চুরি করেছিলেন৷ তাঁর অফস্পিনও সময় সময় বেশ কাজে লাগে৷

একদিনের ক্রিকেটে বাংলাদেশের সেরা একাদশ

অমায়িক আকরাম

সেরা একাদশে নিজের নাম না রাখা প্রসঙ্গে আকরাম খান বলেন, ‘‘তালিকা আমি করেছি, সেখানে তো আমার নাম রাখতে পারি না৷’’ তবে ইএসপিএনক্রিকইনফো ডটকম ওয়েবসাইটে আকরামকে বাংলাদেশ ক্রিকেটের ‘প্রথম আসল নায়ক’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে৷

দেখা যাক৷ অসম্ভব তো কিছু না৷ চেষ্টা থাকবে আরো অন্তত কয়েকটি ডাবল সেঞ্চুরি করার৷

ছোট্ট করে কিছু বিষয় জানতে চাই৷ আপনার কাছে নিজের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস কোনটি?

বেশ কয়েকটি আছে৷ গত বছরের ডাবল সেঞ্চুরির কথা বলা যায়৷ আসলে গত বছর আমার জন্য দারুণ ছিল৷ যেমন কন্ডিশনে ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলেছি, সেটি নিজের জন্য অন্য রকম পাওয়া৷ আমি যে সব ফরম্যাটে কিছু অসাধারণ ইনিংস খেলতে পারি এবং ম্যাচ জেতাতে পারি, সেটি দেখিয়েছি৷ নিদহাস ট্রফির ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অপরাজিত ছিলাম (৭২ রান), ওয়ানডেতে এশিয়া কাপের ১৪৪, টেস্টে জিম্বাবোয়ের বিপক্ষে অপরাজিত ২১৯– আমার খেলা তিন ফরম্যাটের তিনটি সেরা ইনিংস৷

তিন ফরম্যাটে ক্যারিয়ারের সেরা তিনটি ইনিংসই গত বছরের!

হ্যাঁ৷

তাহলে শুরুতে যে জানতে চাইছিলাম, এটি আপনার ক্যারিয়ারের সেরা সময় কিনা তা তো এখন বলাই যায়৷ সামনে নিশ্চয়ই আরো ভালো হবে৷ যা-ই হোক, একটু যদি বলেন, আপনার মুখোমুখি হওয়া সেরা বোলার কে?

অনেকের বল খেলাই তো কঠিন৷ তবে অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফের কথা বলতে পারি৷ যদিও সেটি আমার ক্যারিয়ারের একেবারের শুরুর দিকের, কিন্তু ওর বল খেলা খুব কঠিন মনে হয়েছে৷ আর স্পিনারদের মধ্যে মুত্তিয়া মুরালিধরনের বিপক্ষে ব্যাটিং করা ভীষণ কঠিন৷

প্রতিপক্ষের কোনো ব্যাটসম্যানকে দেখে মনে হয়েছে, ইস্, যদি এমন ব্যাটিং করতে পারতাম?

মনে না হওয়ার কারণ নেই৷ বিরাট কোহলির ব্যাটিং দেখে মনে হয়, কিছুটা হলেও যদি ওর মতো খেলতে পারতাম!

জাতীয় দলের হয়ে সবচেয়ে হতাশাজনক হার কোনটি?

বাংলাদেশের ক্রিকেট রেকর্ড

সেরা ব্যাটসম্যান

ওয়ানডে, টেস্ট ও টিটোয়েন্টি তিন ফরম্যাটেই বাংলাদেশের সেরা ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল৷ তিনি এরই মধ্যে টেস্টে চার হাজার, ওয়ানডেতে ৬ হাজার ও টিটোয়েন্টিতে দেড় হাজার রানের মাইলফলক পেরিয়েছেন৷

বাংলাদেশের ক্রিকেট রেকর্ড

সেরা বোলার

টেস্ট ও টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের সেরা বোলার সাকিব আল হাসান৷ টেস্টে ২০০ উইকেটের মাইলফলক এরই মধ্যে পেরিয়েছেন৷ তবে ওয়ানডেতে এখনো মাশরাফিই সেরা৷ অবশ্য মাশরাফি ক্রিকেট ছেড়ে দিলে সাকিব যে কোনো সময়ই টপকে যেতে পারেন তাঁকে৷

বাংলাদেশের ক্রিকেট রেকর্ড

সেরা অলরাউন্ডার

সাকিব আল হাসান বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার৷ তাই বিনাবাক্যে বাংলাদেশেরও সেরা অলরাউন্ডার তিনি৷

বাংলাদেশের ক্রিকেট রেকর্ড

সেরা উইকেটরক্ষক

তিন ফরম্যাটেই বাংলাদেশের সেরা উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহিম৷ মিস্টার ডিপেন্ডেবল ব্যাট হাতেই শুধু দলের হাল ধরেন না, সব ফরম্যাটেই সবচেয়ে বেশি ডিসমিসালের মালিক তিনি৷

বাংলাদেশের ক্রিকেট রেকর্ড

সবচেয়ে বড় ইনিংস

টেস্টে ২০১৮ সালের নভেম্বরে মুশফিকের ২১৯ রানের অপরাজিত ইনিংসটিই বাংলাদেশের সেরা৷ ওয়ানডেতে ২০০৯ সালে বুলাওয়েতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তামিমের ১৫৪ এবং ২০১৬ সালে বিশ্ব টি-টোয়েন্টির বাছাই পর্বে ওমানের বিপক্ষে তাঁর অপরাজিত ১০৩ রান এই ফর্মেটে বাংলাদেশের কোনো খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ ইনিংস৷

বাংলাদেশের ক্রিকেট রেকর্ড

সেরা বোলিং

এক টেস্টে ১২ উইকেট নেবার অভিজ্ঞতা দু’বার হয়েছে মেহেদী হাসান মিরাজের৷ এনামুল হক জুনিয়রেরও আছে একটি৷ তবে ইকোনমিতে মিরাজই সেরা৷ ওয়ানডেতে মাশরাফি, রুবেল ও মুস্তাফিজ তিনজনেরই এক ম্যাচে ৬ উইকেট নেয়ার অভিজ্ঞতা আছে৷ তবে ইকোনমি রেটের কারণে কেনিয়ার বিপক্ষে ২০০৬ সালে নাইরোবিতে মাশরাফির ২৬ রানে ৬ উইকেটের বোলিংটিই এগিয়ে৷ টি-টোয়েন্টিতে ইলিয়াস সানি ও মুস্তাফিজের ৫ উইকেট নেবার অভিজ্ঞতা হয়েছে৷

বাংলাদেশের ক্রিকেট রেকর্ড

সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান

টেস্টে সবচেয়ে কম বয়সে সেঞ্চুরি করার রেকর্ড এখনো বাংলাদেশের মোহাম্মদ আশরাফুলের৷ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২০০১ সালে কলম্বোয় ১৭ বছর ৬১ দিন বয়সে সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি৷ বাংলাদেশের হয়েও তিনি সব ফরম্যাটে সবচেয়ে কনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান৷

বাংলাদেশের ক্রিকেট রেকর্ড

সর্বকনিষ্ঠ ৫ উইকেট শিকারি

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে অভিষেকেই পাঁচ উইকেট নিয়েছেন বাংলাদেশের তরুণ স্পিনার নাঈম হাসান৷ ১৭ বছর বয়সে তিনি এই মাইলফলক অর্জনের মাধ্যমে গড়েছেন বিশ্বরেকর্ড৷

অবশ্যই প্রথমেই আসবে ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের কাছে হারটি৷ জয়ের খুব কাছাকাছি গিয়েও ছোটখাট ভুলে হারি৷ আমিও সেদিন ভুল করেছিলাম৷ এটি ক্রিকেটার হিসেবের খুব হতাশার ছিল৷ আর নিদহাস ট্রফির ফাইনালটি৷ ভারতের কাছে এ দুটো হারই সবচেয়ে হতাশার৷

আবার জাতীয় দলের অধিনায়ক হবার ইচ্ছে আছে, যদি কখনো সুযোগ পান?

না ভাই, আর ইচ্ছে নেই৷ অধিনায়ক হিসেবে আমার যা দেবার, সেটি দিয়ে ফেলেছি বলে মনে হয়৷ অধিনায়ক হিসেবে আর কিছু দেবার নেই৷

আর ক্রিকেটার হিসেবে এই মুহূর্তের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন কি বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরা?

তা তো অবশ্যই৷ উঁচিয়ে ধরা বলতে, আমার তো আর প্রথম ট্রফি ধরার সুযোগ হবে না৷ অধিনায়কের হাত ধরেই যেন আমরা বিশ্বকাপ ট্রফি পাই৷

একেবারে শেষ প্রশ্ন৷ ২০০৫ সালে লর্ডসে আপনার অভিষেক৷ প্রায় ১৪ বছর ধরে খেলছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট৷ ৬৬ টেস্টে ৪০০৬ রান; গড় ৩৫ দশমিক ১৪; সেঞ্চুরি ৬টি৷ ১৯৮ ওয়ানডেতে ৩৪ দশমিক ৯৪ গড়ে ৫৩৪৬ রান; ৬ সেঞ্চুরি৷ এ রেকর্ডে আপনি সন্তুষ্ট? নাকি মনে হয় রান আরেকটু বেশি হতে পারতো, গড় আরেকটু বেশি হতে পারতো, আরো কিছু সেঞ্চুরি হতে পারতো?

তা তো অবশ্যই৷ দেখুন, ভালোর কোনো শেষ নেই৷ আমি না, যে কাউকে জিজ্ঞেস করলেই তা বলবে৷ যাঁর গড় ৫০, সে-ও বলবে যদি ৫৫ কিংবা ৬০-এর কাছাকাছি গড় নিয়ে যেতে পারতাম! কিন্তু যেভাবে আমি শুরু করেছিলাম, ২০-২২ গড় থেকে এখন যে জায়গায় এসেছি, সেটি অনেক বড় পদক্ষেপ৷ সেটি গত পাঁচ-সাত বছরের পরিশ্রমের ফল৷ পরের পাঁচ-সাত বছর যদি এ ধারাবাহিকতা রাখতে পারি, তাহলে আমি খুব আনন্দিত হবো৷ তাহলে মনে হয় অবসরের সময় আমার পরিসংখ্যান খুব একটা খারাপ হবে না৷

আমাদের অনুসরণ করুন