আশ্রয়ের আবেদন বাতিল হওয়া ত্রিশহাজার শরণার্থী ‘গায়েব’

জার্মানির একটি ট্যাবলয়েড দাবি করেছে অনেক শরণার্থী গায়েব হয়ে গেছেন৷ তবে জার্মান সরকার আশ্রয়ের আবেদন বাতিল হওয়া সবার খোঁজখবর সরকারের কাছে না থাকার কথা স্বীকার করলেও পত্রিকাতে প্রকাশিত সংবাদ সঠিক নয় বলে জানিয়েছে৷

জার্মানিতে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন বাতিল হওয়া ত্রিশহাজারের মতো শরণার্থী গায়েব হয়ে গিয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে লিখেছে জনপ্রিয় ট্যাবলয়েড বিল্ড৷ তবে এই সংখ্যা সঠিক নয় বলে জানিয়েছে সরকার এবং শরণার্থী সংস্থাগুলো৷

বিল্ড পত্রিকায় বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জার্মানির বিদেশি নাগরিকদের নিবন্ধন দপ্তর এজেডআর-এর দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালের শেষে জার্মানি ত্যাগ করা বাধ্যতামূলক এমন শরণার্থীর সংখ্যা ছিল ৫৪,০০০৷ কিন্তু সেসময় এই মানুষদের মধ্যে মাত্র ২৩,০০০ শরণার্থীদের জন্য প্রযোজ্য রাষ্ট্রীয় সুবিধা গ্রহণ করছিলেন৷

শরণার্থীদের পানিতে ফেলে দিল পাচারকারীরা!

মাত্র ২৪ ঘণ্টায় দু’টি অমানবিক ঘটনা

বুধবার ইয়েমের উপকূলে ১২০ জন শরণার্থীকে নৌকা থেকে পানিতে ফেলে দিয়েছিল মানব পাচারকারীরা৷ তাঁদের মধ্যে ৫০ জন প্রাণ হারিয়েছে বলে আইওএম-এর ধারণা৷ এই ঘটনার ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই আবারও ১৮০ জন শরণার্থীর সঙ্গে ঘটল একই ঘটনা৷ এই ঘটনায় ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, নিখোঁজ ৫০ জন৷

শরণার্থীদের পানিতে ফেলে দিল পাচারকারীরা!

আহতদের চিকিৎসা

লোহিত সাগরের তীরে ইয়েমেন সৈকতে আহত ২৫ জনকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে৷ এদের বেশিরভাগই সোমালিয়া ও ইথিওপিয়ার হলেও নিহতদের সবার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা৷

শরণার্থীদের পানিতে ফেলে দিল পাচারকারীরা!

১২০ জন এক নৌকায়

বুধবার ইয়েমেন উপকূলে ১২০ জন শরণার্থীকে একটি নৌকায় করে নিয়ে আসছিল পাচারকারীরা৷ যাদের বেশিরভাই কিশোর কিশোরী৷ নৌকা ভেড়ানোর আগেই নৌকা থেকে কয়েকজনকে পানিতে ফেলে দেয় তারা৷ ডুবে যাওয়ার পর ২৯ টি মরদেহ সেখানেই সমাহিত করেছে বেঁচে যাওয়া শরণার্থীরা৷ জানিয়েছে আরও ২২ জন এখনো নিখোঁজ৷

শরণার্থীদের পানিতে ফেলে দিল পাচারকারীরা!

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা

জাতিসংঘে ইয়েমেন মিশনের প্রধান জানিয়েছেন, যারা বেঁচে গেছে সেইসব শরণার্থী তাদের জানিয়েছে, উপকূলের কাছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মত কাউকে আসতে দেখে পানিতে ধাক্কা দিয়ে তাদের ফেলে দেয় পাচারকারীরা৷ তারা আরও জানিয়েছে, যেহেতু তাদের ব্যবসাই এটা৷ তাই আরও শরণার্থীদের আনতে তাদের ফেলে ঐ পাচারকারী সোমালিয়া ও ইথিওপিয়া রওনা হয়েছিল৷ বেঁচে যাওয়া ২৭ জনকে ত্রাণ দিচ্ছে আইওএম৷ বাকিরা নিজেদের গন্তব্যে রওনা দিয়েছে৷

শরণার্থীদের পানিতে ফেলে দিল পাচারকারীরা!

চরম দুর্ভিক্ষ ও জরুরি অবস্থা

সোমালিয়ায় চরম দুর্ভিক্ষ এবং সংঘাতের কারণে অনেক মানুষ দেশ ছাড়ছে৷ ইথিওপিয়ায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভের কারণের জরুরি অবস্থা চলছে ১০ মাস ধরে৷ তাই ত্রাণ পৌঁছাচ্ছে না অনেক এলাকায়৷ আর এ কারণে দেশ ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে ঐ দেশের মানুষ৷

শরণার্থীদের পানিতে ফেলে দিল পাচারকারীরা!

ধনী দেশের উদ্দেশে দেশ ছাড়া

আইওএম-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অন্তত ৫৫ হাজার মানুষ সোমালিয়া ও ইথিওপিয়া থেকে ইয়েমেন হয়ে মধ্যপ্রাচ্যের ধনী দেশগুলোর পথে যাত্রা করেছে৷ যাদের বেশিরভাগই কিশোর-কিশোরী৷

শরণার্থীদের পানিতে ফেলে দিল পাচারকারীরা!

ট্রানজিট ইয়েমেন

গত বছর ইয়েমেন উপকূলে পৌঁছেছে ১ লাখ সাড়ে ১১ হাজার মানুষ৷ ইয়েমেনে চলমান গৃহযুদ্ধে এ পর্যন্ত ৮ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে৷ তাই উন্নত দেশগুলোতে পাড়ি দিতে এটিকেই ট্রানজিট হিসেবে বেছে নিয়েছে পাচারকারীরা৷

জার্মানির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র এই বিষয়ে বিল্ডকে বলেছেন যে, ‘‘এজেডআর-এ থাকা তালিকার কেউ কেউ জার্মানি ছেড়ে চলে যাওয়া বা কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে গায়েব হয়ে যাওয়ার বিষয়টি উড়িয়ে দেয়া যায় না৷''

তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরেক মুখপাত্র ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন যে, বিল্ড পত্রিকায় প্রকাশিত সংখ্যা কয়েকটি মিথ্যা ধারণার উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে৷ তিনি ইমেলে জানান, শুধুমাত্র যাদের রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন বাতিল হয়েছে তারা নয়, যাদের বৈধ ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে তাদেরও জার্মানি ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশনা রয়েছে৷ এজেডআর-এর হিসেবে তাই শরণার্থীর পাশাপাশি অন্যরাও রয়েছেন যা বিল্ড পত্রিকার প্রতিবেদনে পরিষ্কার হয়নি৷

তাছাড়া, যাদের আশ্রয়ের আবেদন বাতিল হয়েছে কিংবা ভিসা শেষ হয়ে গেছে, তারা আর রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধার জন্য উপযুক্ত নন বলেও জানিয়েছেন সেই মুখপাত্র৷ ফলে বিল্ডে প্রকাশিত ত্রিশ হাজার গায়েব হওয়ার প্রতিবেদনটি সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে নয় বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র৷

উল্লেখ্য, সম্প্রতি জার্মানির আরেকটি পত্রিকা জানিয়েছে যে, শরণার্থীদের আশ্রয়ের আবেদন বিবেচনার জন্য আগের চেয়ে অনেক বেশি সময় নিচ্ছে জার্মান কর্তৃপক্ষ৷ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের লোকবল কমিয়ে ফেলায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলেও মনে করছে পত্রিকাটি৷ 

আমাদের অনুসরণ করুন