আয়লানের গ্রাফিটি নষ্ট করল বর্ণবাদীরা

ছোট্ট আয়লানের কথা মনে আছে? তুরস্কের উপকূলে যার মরদেহের ছবি পুরো বিশ্বকে কাঁদিয়েছিল? সেই আয়লানের বিশাল একটি গ্রাফিটি আঁকা হয়েছিল জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টে, মাইন নদীর ধারে৷ সেই গ্রাফিটি নষ্ট করে দিয়েছে কট্টরপন্থিরা৷

শরণার্থী ইস্যুতে সচেতনতা তৈরি করতেই এই গ্রাফিটি তৈরি করা হয়েছিল৷ ধারণা করা হচ্ছে ডানপন্থিরা এটি নষ্ট করেছে৷

গত বছর পরিবারের সঙ্গে সাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশের সময় নৌকা ডুবে মারা যায় আয়লান৷ সাগর পাড়ে নিথর পড়ে থাকা ছোট্ট এক শিশুর মরদেহের ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় সারা বিশ্বে নিন্দার ঝড় উঠেছিল, শরনার্থী ইস্যুতে ইউরোপের দৃষ্টভঙ্গির সমালোচনা হয়েছিল ব্যাপক৷

Deutschland Graffiti mit Abbildung von Alan Kurdi, ertrunkenes Flüchtlingskind

মাইন নদীর ধারে একটি দেয়ালে আয়লানের ছবি আঁকা

এ বছরের মার্চ মাসে জার্মান শিল্পী ওগুস শেন এবং ইয়ুসটুস বেকার সিদ্ধান্ত নেন ফ্রাঙ্কফুর্টে আয়লানের একটি ম্যুরাল বানাবেন৷ ডয়চে ভেলেকে তারা জানান, ‘‘আমরা সাধারণত রাজনৈতিক ছবি এঁকে থাকি৷ তাই সিদ্ধান্ত নিলাম মানুষের স্মৃতিতে আয়লান যাতে অম্লান থাকে সে জন্য আয়লানের ছবিই আঁকব৷'' অনেক আলোচনার পর মাইন নদীর ধারে একটি দেয়ালে আয়লানের ছবি আঁকার অনুমতি পান তারা৷ তারপরই দুই শিল্পীর পয়াসে ধীরে ধীরে দেয়ালে ফুটে ওঠে ২০ মিটার দীর্ঘ এবং ৬ মিটার প্রশস্থ গ্রাফিটি৷

কিন্তু দুঃখের কথা হলো, ছবিটা চরমপন্থিরা এটা নষ্ট করে দিয়েছে৷ প্রথমে পুরো ম্যুরালটি স্প্রে দিয়ে নষ্ট করার চেষ্টা চালায় তারা৷ কিন্তু ম্যুরালটি এতই বড় যে এতে কোনো কাজ হয়নি৷ কিন্তু কট্টরপন্থিরা সবচেয়ে ভয়ঙ্কর কাজটি করেছে এই সপ্তাহে৷ গ্রাফিটির উপর স্প্রে দিয়ে বড় বড় করে লিখেছে, ‘‘সীমান্ত প্রাণ রক্ষা করে৷'' এর পেছনে জড়িতদের খুঁজে বের করতে তদন্ত শুরু করেছে ফ্রাঙ্কফুর্ট পুলিশ৷

মা ও সন্তান

রেহান কুর্দির কোলে তাঁর ছোট ছেলে আয়লান৷ কোবানির একটি বাড়িতে এখনো আছে এই ছবি, তবে ছবির দু’জন মানুষ আর নেই৷ সিরিয়া থেকে তুরস্ক হয়ে গ্রিসে যাওয়ার পথেই ফুরিয়েছে তাদের জীবন চলার পথ৷ এ খবর সারা বিশ্বকে জানিয়েছিল অন্য একটি ছবি৷

এ ছবি এখনো কাঁদায়

একটি ছবি হঠাৎ বদলে দিলো ইউরোপে অভিবাসী হতে আগ্রহীদের ভাগ্য৷ আয়লান কুর্দির এই ছবি৷ তুরস্কের উপকুলে এভাবেই পড়ে ছিল ৩ বছরের শিশুটির নিথর দেহ৷ মা-বাবা আর ভাইয়ের সঙ্গে আয়লানও কোবানির বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল নিরাপদ জীবনের খোঁজে৷ এভাবে চিরবিদায় নিতে হয় তাকে!

আয়লান জাগিয়ে গেল

আয়লানের ওই ছবি নাড়িয়ে দেয় বিশ্ববিবেক৷ ইউরোপে আসার পথে যেখানে হাজারো মানুষ শত বাধার মুখে এক সময় হার মানতো, প্রাণ দিতো, সেখানে ধীরে ধীরে অনেকটাই খুলে গেল ইউরোপের দ্বার৷ অভিবাসন প্রত্যাশীরা অবাধে আসতে শুরু করল মধ্যপ্রাচ্য এবং আফ্রিকা থেকে৷

যেভাবে বিদায় জানালো জন্মভূমি

দুই সন্তান আর স্ত্রী-কে হারিয়ে নিরাপদ জীবনের প্রতি আগ্রহহারিয়ে ফেলেন আয়লানের বাবা আব্দুল্লাহ কুর্দি৷ তাই গ্রিস হয়ে ইউরোপের উন্নত কোনো দেশে নতুন করে জীবন শুরু করার ইচ্ছে জলাঞ্জলি দিয়ে ফিরে যান সিরিয়ায়৷ তাঁর কোবানির বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় স্ত্রী ও দুই সন্তানের মৃতদেহ৷ জানাযা শেষে ওই শহরেই সমাধিস্থ করা হয় তাদের৷

কান্না আর আহাজারি

আব্দুল্লাহ কুর্দি তাঁর পরিবারের সদস্যদের মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফিরলে কান্নার রোল উঠেছিল কোবানিতে৷ আয়লানদের জন্য কোবানি এখনো কাঁদে৷

আয়লান এখন প্রতিবাদের প্রতীক...

অভিবাসনপ্রত্যাশীদের কাছে আয়লান এখন প্রতিবাদের প্রতীক৷ ইউরোপে যেখানেই অভিবাসন প্রত্যাশীদের প্রতিবাদ, সেখানেই থাকে আয়লানের ছবি৷ অভিবাসন প্রত্যাশীদের প্রতিবাদ-বিক্ষোভের এই ছবিটি প্যারিসের৷

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদর দপ্তরেও আয়লান

ছবির এই নারী আয়লানের আত্মীয়া, নাম ফাতিমা কুর্দি৷ সোমবার ব্রাসেলসে জাতিসংঘের সদর দপ্তরের বাইরে এক প্রতিবাদ সমাবেশে ছিলেন তিনি৷ ইউরোপের দেশগুলোতে অভিবাসন আইনের সমন্বয়ের দাবিতে আয়োজিত সেই সমাবেশেও ছিল আয়লানের ছবি৷ তবে সেই ছবি নয়, সেই ছবির আদলে হাতে আঁকা একটি ছবি দেখা যায় দেয়ালে৷ সেই ছবির পাশেই দাঁড়িয়ে ফাতিমা কুর্দি৷

আয়লানের ওই ছবি নাড়িয়ে দেয় বিশ্ববিবেক৷ ইউরোপে আসার পথে যেখানে হাজারো মানুষ শত বাধার মুখে এক সময় হার মানতো, প্রাণ দিতো, সেখানে ধীরে ধীরে অনেকটাই খুলে গেল ইউরোপের দ্বার৷ অভিবাসন প্রত্যাশীরা অবাধে আসতে শুরু করল মধ্যপ্রাচ্য এবং আফ্রিকা থেকে৷

অভিবাসনপ্রত্যাশীদের কাছে আয়লান এখন প্রতিবাদের প্রতীক৷ ইউরোপে যেখানেই অভিবাসন প্রত্যাশীদের প্রতিবাদ, সেখানেই থাকে আয়লানের ছবি৷ অভিবাসন প্রত্যাশীদের প্রতিবাদ-বিক্ষোভের এই ছবিটি প্যারিসের৷

শরণার্থী ইস্যুতে সচেতনতা তৈরি করতেই এই গ্রাফিটি তৈরি করা হয়েছিল৷ ধারণা করা হচ্ছে ডানপন্থিরা এটি নষ্ট করেছে৷

গত বছর পরিবারের সঙ্গে সাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশের সময় নৌকা ডুবে মারা যায় আয়লান৷ সাগর পাড়ে নিথর পড়ে থাকা ছোট্ট এক শিশুর মরদেহের ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় সারা বিশ্বে নিন্দার ঝড় উঠেছিল, শরনার্থী ইস্যুতে ইউরোপের দৃষ্টভঙ্গির সমালোচনা হয়েছিল ব্যাপক৷

Deutschland Graffiti mit Abbildung von Alan Kurdi, ertrunkenes Flüchtlingskind

মাইন নদীর ধারে একটি দেয়ালে আয়লানের ছবি আঁকা

এ বছরের মার্চ মাসে জার্মান শিল্পী ওগুস শেন এবং ইয়ুসটুস বেকার সিদ্ধান্ত নেন ফ্রাঙ্কফুর্টে আয়লানের একটি ম্যুরাল বানাবেন৷ ডয়চে ভেলেকে তারা জানান, ‘‘আমরা সাধারণত রাজনৈতিক ছবি এঁকে থাকি৷ তাই সিদ্ধান্ত নিলাম মানুষের স্মৃতিতে আয়লান যাতে অম্লান থাকে সে জন্য আয়লানের ছবিই আঁকব৷'' অনেক আলোচনার পর মাইন নদীর ধারে একটি দেয়ালে আয়লানের ছবি আঁকার অনুমতি পান তারা৷ তারপরই দুই শিল্পীর পয়াসে ধীরে ধীরে দেয়ালে ফুটে ওঠে ২০ মিটার দীর্ঘ এবং ৬ মিটার প্রশস্থ গ্রাফিটি৷

কিন্তু দুঃখের কথা হলো, ছবিটা চরমপন্থিরা এটা নষ্ট করে দিয়েছে৷ প্রথমে পুরো ম্যুরালটি স্প্রে দিয়ে নষ্ট করার চেষ্টা চালায় তারা৷ কিন্তু ম্যুরালটি এতই বড় যে এতে কোনো কাজ হয়নি৷ কিন্তু কট্টরপন্থিরা সবচেয়ে ভয়ঙ্কর কাজটি করেছে এই সপ্তাহে৷ গ্রাফিটির উপর স্প্রে দিয়ে বড় বড় করে লিখেছে, ‘‘সীমান্ত প্রাণ রক্ষা করে৷'' এর পেছনে জড়িতদের খুঁজে বের করতে তদন্ত শুরু করেছে ফ্রাঙ্কফুর্ট পুলিশ৷

মা ও সন্তান

রেহান কুর্দির কোলে তাঁর ছোট ছেলে আয়লান৷ কোবানির একটি বাড়িতে এখনো আছে এই ছবি, তবে ছবির দু’জন মানুষ আর নেই৷ সিরিয়া থেকে তুরস্ক হয়ে গ্রিসে যাওয়ার পথেই ফুরিয়েছে তাদের জীবন চলার পথ৷ এ খবর সারা বিশ্বকে জানিয়েছিল অন্য একটি ছবি৷

এ ছবি এখনো কাঁদায়

একটি ছবি হঠাৎ বদলে দিলো ইউরোপে অভিবাসী হতে আগ্রহীদের ভাগ্য৷ আয়লান কুর্দির এই ছবি৷ তুরস্কের উপকুলে এভাবেই পড়ে ছিল ৩ বছরের শিশুটির নিথর দেহ৷ মা-বাবা আর ভাইয়ের সঙ্গে আয়লানও কোবানির বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল নিরাপদ জীবনের খোঁজে৷ এভাবে চিরবিদায় নিতে হয় তাকে!

আয়লান জাগিয়ে গেল

আয়লানের ওই ছবি নাড়িয়ে দেয় বিশ্ববিবেক৷ ইউরোপে আসার পথে যেখানে হাজারো মানুষ শত বাধার মুখে এক সময় হার মানতো, প্রাণ দিতো, সেখানে ধীরে ধীরে অনেকটাই খুলে গেল ইউরোপের দ্বার৷ অভিবাসন প্রত্যাশীরা অবাধে আসতে শুরু করল মধ্যপ্রাচ্য এবং আফ্রিকা থেকে৷

যেভাবে বিদায় জানালো জন্মভূমি

দুই সন্তান আর স্ত্রী-কে হারিয়ে নিরাপদ জীবনের প্রতি আগ্রহহারিয়ে ফেলেন আয়লানের বাবা আব্দুল্লাহ কুর্দি৷ তাই গ্রিস হয়ে ইউরোপের উন্নত কোনো দেশে নতুন করে জীবন শুরু করার ইচ্ছে জলাঞ্জলি দিয়ে ফিরে যান সিরিয়ায়৷ তাঁর কোবানির বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় স্ত্রী ও দুই সন্তানের মৃতদেহ৷ জানাযা শেষে ওই শহরেই সমাধিস্থ করা হয় তাদের৷

কান্না আর আহাজারি

আব্দুল্লাহ কুর্দি তাঁর পরিবারের সদস্যদের মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফিরলে কান্নার রোল উঠেছিল কোবানিতে৷ আয়লানদের জন্য কোবানি এখনো কাঁদে৷

আয়লান এখন প্রতিবাদের প্রতীক...

অভিবাসনপ্রত্যাশীদের কাছে আয়লান এখন প্রতিবাদের প্রতীক৷ ইউরোপে যেখানেই অভিবাসন প্রত্যাশীদের প্রতিবাদ, সেখানেই থাকে আয়লানের ছবি৷ অভিবাসন প্রত্যাশীদের প্রতিবাদ-বিক্ষোভের এই ছবিটি প্যারিসের৷

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদর দপ্তরেও আয়লান

ছবির এই নারী আয়লানের আত্মীয়া, নাম ফাতিমা কুর্দি৷ সোমবার ব্রাসেলসে জাতিসংঘের সদর দপ্তরের বাইরে এক প্রতিবাদ সমাবেশে ছিলেন তিনি৷ ইউরোপের দেশগুলোতে অভিবাসন আইনের সমন্বয়ের দাবিতে আয়োজিত সেই সমাবেশেও ছিল আয়লানের ছবি৷ তবে সেই ছবি নয়, সেই ছবির আদলে হাতে আঁকা একটি ছবি দেখা যায় দেয়ালে৷ সেই ছবির পাশেই দাঁড়িয়ে ফাতিমা কুর্দি৷

এদিকে এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পক্ষে-বিপক্ষে মন্তব্য লিখছেন অনেকেই৷ রবার্ট ফিৎসকে টুইটারে লিখেছেন, ‘‘বর্ণবাদীরা একজন মৃত মানুষকেও ছাড় দেয় না৷ এটা ভীষণ লজ্জার৷''

তবে এমন মানুষেরও অভাব নেই, যারা লিখেছে, ‘‘অবশেষে কেউ একজন এই প্রচারে বাধা দিল৷''

ইইউ কমিশনের প্রেসিডেন্ট জঁ ক্লোদ ইয়ুংকারও অবশেষে ব্রিটেন, পোল্যান্ডসহ কিছু দেশের বিষয়ে মুখ খুলেছেন৷ শুক্রবার লুক্সেমবুর্গে ইইউ পররাষ্টমন্ত্রীরা শরণার্থী সংকট নিরসনের আশু করণীয় স্থির করার জন্য বৈঠকে বসছেন৷ তার আগে ইয়ুংকার জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহেই তিনি গ্রিস, হাঙ্গেরি এবং ইটালিতে চলে আসা ১ লাখ ২০ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশীকে নিয়ম অনুযায়ী ইইউভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ভাগ করে দেবেন৷

শরণার্থী ইস্যুতে সচেতনতা তৈরি করতেই এই গ্রাফিটি তৈরি করা হয়েছিল৷ ধারণা করা হচ্ছে ডানপন্থিরা এটি নষ্ট করেছে৷

গত বছর পরিবারের সঙ্গে সাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশের সময় নৌকা ডুবে মারা যায় আয়লান৷ সাগর পাড়ে নিথর পড়ে থাকা ছোট্ট এক শিশুর মরদেহের ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় সারা বিশ্বে নিন্দার ঝড় উঠেছিল, শরনার্থী ইস্যুতে ইউরোপের দৃষ্টভঙ্গির সমালোচনা হয়েছিল ব্যাপক৷

Deutschland Graffiti mit Abbildung von Alan Kurdi, ertrunkenes Flüchtlingskind

মাইন নদীর ধারে একটি দেয়ালে আয়লানের ছবি আঁকা

এ বছরের মার্চ মাসে জার্মান শিল্পী ওগুস শেন এবং ইয়ুসটুস বেকার সিদ্ধান্ত নেন ফ্রাঙ্কফুর্টে আয়লানের একটি ম্যুরাল বানাবেন৷ ডয়চে ভেলেকে তারা জানান, ‘‘আমরা সাধারণত রাজনৈতিক ছবি এঁকে থাকি৷ তাই সিদ্ধান্ত নিলাম মানুষের স্মৃতিতে আয়লান যাতে অম্লান থাকে সে জন্য আয়লানের ছবিই আঁকব৷'' অনেক আলোচনার পর মাইন নদীর ধারে একটি দেয়ালে আয়লানের ছবি আঁকার অনুমতি পান তারা৷ তারপরই দুই শিল্পীর পয়াসে ধীরে ধীরে দেয়ালে ফুটে ওঠে ২০ মিটার দীর্ঘ এবং ৬ মিটার প্রশস্থ গ্রাফিটি৷

কিন্তু দুঃখের কথা হলো, ছবিটা চরমপন্থিরা এটা নষ্ট করে দিয়েছে৷ প্রথমে পুরো ম্যুরালটি স্প্রে দিয়ে নষ্ট করার চেষ্টা চালায় তারা৷ কিন্তু ম্যুরালটি এতই বড় যে এতে কোনো কাজ হয়নি৷ কিন্তু কট্টরপন্থিরা সবচেয়ে ভয়ঙ্কর কাজটি করেছে এই সপ্তাহে৷ গ্রাফিটির উপর স্প্রে দিয়ে বড় বড় করে লিখেছে, ‘‘সীমান্ত প্রাণ রক্ষা করে৷'' এর পেছনে জড়িতদের খুঁজে বের করতে তদন্ত শুরু করেছে ফ্রাঙ্কফুর্ট পুলিশ৷

মা ও সন্তান

রেহান কুর্দির কোলে তাঁর ছোট ছেলে আয়লান৷ কোবানির একটি বাড়িতে এখনো আছে এই ছবি, তবে ছবির দু’জন মানুষ আর নেই৷ সিরিয়া থেকে তুরস্ক হয়ে গ্রিসে যাওয়ার পথেই ফুরিয়েছে তাদের জীবন চলার পথ৷ এ খবর সারা বিশ্বকে জানিয়েছিল অন্য একটি ছবি৷

এ ছবি এখনো কাঁদায়

একটি ছবি হঠাৎ বদলে দিলো ইউরোপে অভিবাসী হতে আগ্রহীদের ভাগ্য৷ আয়লান কুর্দির এই ছবি৷ তুরস্কের উপকুলে এভাবেই পড়ে ছিল ৩ বছরের শিশুটির নিথর দেহ৷ মা-বাবা আর ভাইয়ের সঙ্গে আয়লানও কোবানির বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল নিরাপদ জীবনের খোঁজে৷ এভাবে চিরবিদায় নিতে হয় তাকে!

আয়লান জাগিয়ে গেল

আয়লানের ওই ছবি নাড়িয়ে দেয় বিশ্ববিবেক৷ ইউরোপে আসার পথে যেখানে হাজারো মানুষ শত বাধার মুখে এক সময় হার মানতো, প্রাণ দিতো, সেখানে ধীরে ধীরে অনেকটাই খুলে গেল ইউরোপের দ্বার৷ অভিবাসন প্রত্যাশীরা অবাধে আসতে শুরু করল মধ্যপ্রাচ্য এবং আফ্রিকা থেকে৷

যেভাবে বিদায় জানালো জন্মভূমি

দুই সন্তান আর স্ত্রী-কে হারিয়ে নিরাপদ জীবনের প্রতি আগ্রহহারিয়ে ফেলেন আয়লানের বাবা আব্দুল্লাহ কুর্দি৷ তাই গ্রিস হয়ে ইউরোপের উন্নত কোনো দেশে নতুন করে জীবন শুরু করার ইচ্ছে জলাঞ্জলি দিয়ে ফিরে যান সিরিয়ায়৷ তাঁর কোবানির বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় স্ত্রী ও দুই সন্তানের মৃতদেহ৷ জানাযা শেষে ওই শহরেই সমাধিস্থ করা হয় তাদের৷

কান্না আর আহাজারি

আব্দুল্লাহ কুর্দি তাঁর পরিবারের সদস্যদের মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফিরলে কান্নার রোল উঠেছিল কোবানিতে৷ আয়লানদের জন্য কোবানি এখনো কাঁদে৷

আয়লান এখন প্রতিবাদের প্রতীক...

অভিবাসনপ্রত্যাশীদের কাছে আয়লান এখন প্রতিবাদের প্রতীক৷ ইউরোপে যেখানেই অভিবাসন প্রত্যাশীদের প্রতিবাদ, সেখানেই থাকে আয়লানের ছবি৷ অভিবাসন প্রত্যাশীদের প্রতিবাদ-বিক্ষোভের এই ছবিটি প্যারিসের৷

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদর দপ্তরেও আয়লান

ছবির এই নারী আয়লানের আত্মীয়া, নাম ফাতিমা কুর্দি৷ সোমবার ব্রাসেলসে জাতিসংঘের সদর দপ্তরের বাইরে এক প্রতিবাদ সমাবেশে ছিলেন তিনি৷ ইউরোপের দেশগুলোতে অভিবাসন আইনের সমন্বয়ের দাবিতে আয়োজিত সেই সমাবেশেও ছিল আয়লানের ছবি৷ তবে সেই ছবি নয়, সেই ছবির আদলে হাতে আঁকা একটি ছবি দেখা যায় দেয়ালে৷ সেই ছবির পাশেই দাঁড়িয়ে ফাতিমা কুর্দি৷

এদিকে এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পক্ষে-বিপক্ষে মন্তব্য লিখছেন অনেকেই৷ রবার্ট ফিৎসকে টুইটারে লিখেছেন, ‘‘বর্ণবাদীরা একজন মৃত মানুষকেও ছাড় দেয় না৷ এটা ভীষণ লজ্জার৷''

তবে এমন মানুষেরও অভাব নেই, যারা লিখেছে, ‘‘অবশেষে কেউ একজন এই প্রচারে বাধা দিল৷''

তবে আয়লানের ম্যুরাল সৃষ্টিকারী শিল্পীরা হতাশ হলেও তারা আবার অর্থ যোগাড়ে নেমে পড়েছেন, যাতে নতুন করে এই শিল্পকর্মটি তৈরি করতে পারেন৷ নতুন করে এটি তৈরিতে ৫০০ ইউরো প্রয়োজন৷ আয়লানের স্মৃতি ধরে রাখতে এই সামান্য অর্থ কি যোগাড় হবে না!

জার্মানি এবং ফ্রান্সের চাপ

অভিবাসী গ্রহণে এতদিন অনীহাই প্রকাশ করেছে ব্রিটেন৷ কিছু পূর্ব ইউরোপীয় দেশও বলছে, মুসলিম অভিবাসীদের গ্রহণ করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়৷ এর ফলে সিংহভাগ চাপ পড়ছে জার্মানি, অস্ট্রিয়া, ফ্রান্সের মতো দেশগুলোর ওপর৷ বৃহস্পতিবার জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রঁসোয়া ওলঁদ আবার বলেছেন, ইইউ-র সব সদস্য দেশের এখন থেকে ‘কোটা’ অনুযায়ী শরণার্থী গ্রহণ শুরু করা উচিত৷

ইয়ুংকারের মৃদু ‘হুঙ্কার’

ইইউ কমিশনের প্রেসিডেন্ট জঁ ক্লোদ ইয়ুংকারও অবশেষে ব্রিটেন, পোল্যান্ডসহ কিছু দেশের বিষয়ে মুখ খুলেছেন৷ শুক্রবার লুক্সেমবুর্গে ইইউ পররাষ্টমন্ত্রীরা শরণার্থী সংকট নিরসনের আশু করণীয় স্থির করার জন্য বৈঠকে বসছেন৷ তার আগে ইয়ুংকার জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহেই তিনি গ্রিস, হাঙ্গেরি এবং ইটালিতে চলে আসা ১ লাখ ২০ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশীকে নিয়ম অনুযায়ী ইইউভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ভাগ করে দেবেন৷

ক্যামেরনের নতুন সুর

সিরীয় কিশোর আয়লান কুর্দি’র মর্মান্তিক মৃত্যুর পর অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নিতে আপত্তি জানানো দেশগুলোর বিরুদ্ধে সমালোচনার তীব্রতা অনেক বেড়েছে৷ ব্রিটেনের সমালোচনাই হচ্ছে বেশি৷ তবে এতদিনে মাত্র ২১৬ জন সিরীয় শরণার্থী গ্রহণ করলেও, ডেভিড ক্যামেরন অবশেষে আশ্বাস দিয়েছেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তাঁর দেশ আরো বেশি শরণার্থী নিয়ে ‘মানবিক দায়িত্ব’ পালন করতে রাজি৷

আয়লান ‘হত্যায়’ দায়ী সন্দেহে তুরস্কে দুজন গ্রেপ্তার

উপকূলে শিশুর উপুড় হয়ে থাকা লাশ নিয়ে তোলপাড় এখনো চলছে৷ তিন বছর বয়সি আয়লান কুর্দি’র করুণ মৃত্যুতে তুরস্ক সরকারও নড়েচড়ে বসেছে৷ সংবাদ মাধ্যমে শুধু আয়লানের মৃত্যুর খবর নিয়ে তোলপাড় হলেও এখন একই ঘটনায় আরো মৃত্যুর খবরও বেরিয়ে আসছে৷ একই ঘটনায় ১২ জন সিরীয় মারা যায়৷ তুর্কি মানবপাচারকারীদের যে দলটি ওই সিরীয়দের ইউরোপে পাচার করার দায়িত্ব নিয়েছিল সেই দলের দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে তুরস্কের পুলিশ৷

আয়লানের পরিবারের দাবি, ক্যানাডার অস্বীকার

আয়লানের বড় ভাই আর মা-ও মারা গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে৷ শুধু তার বাবা আব্দুল্লাহ প্রাণে বেঁচেছেন৷ আব্দুল্লাহর আত্মীয়রা জানিয়েছেন, পরিবারটি ক্যানাডায় অভিবাসী হতে চেয়েছিল৷ ক্যানাডা সরকার অভিবাসনের আবেদন প্রত্যাখ্যান করার কারণেই নাকি আব্দুল্লাহ সপরিবারে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ইউরোপে প্রবেশ করতে চেয়েছিলেন৷ ক্যানাডা সরকার অবশ্য আব্দুল্লাহর পরিবারের কোনো অভিবাসনের আবেদনপত্র প্রাপ্তির বিষয়টিই অস্বীকার করেছে৷

পাচারকারীদের কবলে পড়ছে মানুষ, দীর্ঘ হচ্ছে মিছিল

এদিকে সিরিয়ার পাশাপাশি পাকিস্তান, আফগানিস্তান এবং আফ্রিকার কিছু দেশ থেকেও এখন অনেক বেশি হারে মানুষ ইউরোপে আসার চেষ্টা করছেন৷ এই সুযোগ লুফে নিচ্ছে মাদকপাচারকারীরা৷ কয়েকদিন আগে অস্ট্রিয়ায় যে ট্রাকে আবদ্ধ অবস্থায় ৭১ জনের গলিত লাশ পাওয়া গিয়েছিল তাঁরা মাদকপাচারকারীদের মাধ্যমেই ভাগ্য পরিবর্তন করতে গিয়ে মৃত্যু ডেকে এনেছেন বলে অস্ট্রীয় পুলিশের ধারণা৷ সবকিছুর পরও ইউরোপ অভিমুখে মানুষের মিছিল বড়ই হচ্ছে৷