1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

ইইউ-র নতুন তুরস্কনীতি?

৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭

সম্পর্কের নানা বৈরিতার কারণে ১২ বছর আলোচনা চলার পরও জাতীয় নির্বাচনের সময়ে এসে তুরস্কের সাথে আনুষ্ঠানিক আলোচনার শেষ করতে চাইতে পারেন আঙ্গেলা ম্যার্কেল৷ তবে এটি একটি মুলতবি প্রস্তাব হতে পারে৷ ব্যার্ন্ড রিগার্ট-এর বিশ্লেষণ৷

https://p.dw.com/p/2jPTF
ছবি: picture-alliance/dpa/F. Rumpenhorst

তুরস্কের ব্যাপারে ইইউ-এর কিছু করার ক্ষমতা কার্যত শেষ৷ ২০০৫ সালে তাদের সাথে যে আলোচনা শুরু হয়েছিল তা তাড়াতাড়ি চুকে যাওয়ার ঘোষণা আসতে পারে৷ এ জন্য সরকার, বিশেষত রাষ্ট্রপতি রেচেপ তাইয়েপ এর্দোয়ানই দায়ী৷ তুরস্ক কখনোই ইইউ-এর শর্ত পূরণ করেনি, এমনকি তার ধারে কাছেও যায়নি৷ তার ওপর এপ্রিলের গণভোটের পর স্বৈরশাসন কার্যকর হওয়ায় ইইউ কমিউনিটিতে গণতান্ত্রিক দেশগুলোর যোগ দেয়ার সম্ভাবনা আর থাকল না৷ দীর্ঘদিন ধরে ইইউ নিয়ে প্রতিবেদন করতে করতে এই ধারণা এখন আমার কাছে স্পষ্ট হয়ে গেছে৷

জার্মান নীতি বদল

এক বছর আগের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই তুরস্কের শাসন ব্যবস্থা ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে৷ ফলে ইইউতে প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে জার্মানির সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটদের (এসপিডি) যা ঘটেছিল, তুরস্কের ক্ষেত্রে তার উলটোটা হয়েছে৷ যদিও তুরস্কের ইইউ-এর সদস্যপদের জন্য প্রার্থী  হতে পারার ব্যাপারে এপ্রিলে আশা প্রকাশ করেছিলেন জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিগমার গাব্রিয়েল৷

কিন্তু আঙ্কারার আগ্রাসী কর্মকাণ্ডে আগস্টে এসে সেই অবস্খান থেকে সরে আসেন তিনি৷ এসপিডি চ্যান্সেলর প্রার্থী মার্টিন শুলজ, যিনি দীর্ঘদিন ঘরে তুরস্কের সদস্যপদ পাওয়া নিয়ে কাজ করছিলেন, তিনিও আলোচনা শেষ করার আহ্বান জানিয়েছেন৷ ফলে এই মাসে এসে অবশ্যম্ভাবী ঘোষণাটি দিয়েছেন ম্যার্কেল৷ রবিবার টেলিভিশন বিতর্কের সময়, সুস্পষ্টভাবে তিনি বলেছেন, ‘‘ইইউতে আর তুরস্কের স্থান হবে না৷’’

আলোচনার প্রেক্ষাপট শেষ

জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের এই মন্তব্য নতুন কিছু নয়৷ কারণ, গত সপ্তাহেই ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি জঁ-ক্লোদ ইয়ুঙ্কার ব্রাসেলসে বলেছিলেন যে, তুরস্ক এরই মধ্যে সদস্যপদ পাওয়া প্রায় অসম্ভব করে ফেলেছে৷ ইয়ুঙ্কার আগেই সতর্ক করেছিলেন যে, এর্দোয়ান হয়ত ইইউকে ব্যর্থ বলার কারণ পেয়ে যাবে৷ তবে তাতে কোনো ক্ষতিবৃদ্ধি হবে না৷ আলোচনা মুলতুবির সাথে সাথে অর্থ সহায়তাও বন্ধ হয়ে যাবে৷

তুরস্কের চেষ্টার ঘাটতি

তুরস্ক-ইইউ সম্পর্ক খুব একটা খারাপ হয়ত হবে না৷ তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রতিনিধিদের মধ্যকার জুলাইয়ের এক বৈঠকে দেখানো হয়েছে, নতুন প্রজন্মের ক্ষেত্রেও আর নতুন কোনো সম্ভাবনা নেই৷ বাস্তবতা হলো, ডিসেম্বরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাউন্সিল আলোচনা প্রক্রিয়ার পরের ধাপ প্রত্যাখ্যান করায় আলোচনায় বরফ জমতে শুরু করে৷

তুরস্ক বারবার ইইউতে সাইপ্রাসের সদস্যপদকে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করায় ১২ বছর ধরে এই আলোচনা কোনোভাবেই অগ্রসর হয়নি৷গত বছর তুরস্কের স্বৈরশাসনের নাটকীয় পটপরিবর্তন হলেও, তুরস্ক কখনোই ইইউ সদস্যপদের বিষয়ে খুব আগ্রহী ছিল না৷

তুরস্কের সদস্যপদের ব্যাপারে সামাজিক গণতন্ত্রীরা ২০০৫ সালে খুব আশাবাদী ছিল৷ সংসদে সে সময়ের  বিরোধীদলীয় নেতা আঙ্গেলা ম্যার্কেল এই সদস্যপদ নিয়ে বক্তব্য রেখেছিলেন৷ তুরস্ক ‘সুবিধাবাদী’ অংশীদারিত্বের হলেও তার রক্ষণশীলরা তাতে সন্তুষ্ট ছিল৷ তবে তিনি চ্যান্সেলর হয়ে যাওয়ার পরও সদস্যপদের প্রতি তাঁর এই বাধা অব্যাহত রেখেছিলেন৷

ব্যার্ন্ড রিগার্ট
ব্যার্ন্ড রিগার্ট, ডিডাব্লিউর ইউরোপ প্রতিনিধি

চূড়ান্ত শেষ নয়

রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিকভাবে তুরস্ক-ইইউ ঘনিষ্ঠতা থাকায় সদস্যপদের এই আলোচনা শেষ হলেও তাদের সম্পর্কে ছেদ পড়বে না৷ তবে ইইউ চাইবে তুর্কিরা যেন উদ্বাস্তু চুক্তি শেষ পর্যন্ত ধরে রাখে৷ অন্যদিকে, তুর্কি জেলখানায় ৫০ জার্মান নাগরিক থাকায় জার্মান সরকারের উচিত হবে আঙ্কারার সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা৷ ন্যাটো সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা ইস্যু ও তথাকথিত ‘ইসলামিক স্টেট’-এর সঙ্গে লড়াইয়ে ইইউ-তুরস্কের আরও একজোট থাকা দরকার৷

কিন্তু হঠাৎ করে পশ্চিম থেকে ঘুরে যাওয়া আর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুটিনের সাথে এর্দোয়ানের সুসম্পর্কের ভয়াবহতা কী হতে পারে? যদিও তিনি তুরস্কের ন্যাটোর সদস্যপদের জন্য এর্দোয়ানকে হুমকি দেননি, তবে ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে সম্পর্কের বিষয়টি তীব্র ছিল৷

ইইউতে প্রবেশ নিয়ে আলোচনা শেষ হওয়াটা বেদনাদায়ক হবে হয়ত, তবে তুরস্কের সঙ্গে সব সম্পর্ক শেষ হচ্ছে না৷ যা-ই হোক, এটা স্পষ্ট যে, লিসবন চুক্তির আর্টিকেল ৪৯ অনুযায়ী তুরস্ক ইউরোপীয় রাষ্ট্র নয়৷ তুরস্কের পা আগুনে ঝুলিয়ে অন্য সদস্য প্রার্থীদের জন্য একটি শিক্ষা হতে পারে৷

ব্যার্ন্ড রিগার্ট/এএম