ইইউ’র তালিকায় কর ফাঁকি দেওয়ার ‘স্বর্গ’ ১৭টি দেশ

ইউরোপীয় ইউনিয়ন সবচেয়ে বেশি কর ফাঁকি দেওয়া হয় এমন ১৭টি দেশের তালিকা প্রকাশ করেছে৷ তবে তালিকায় ইইউ’র কোনো সদস্যদেশ সমালোচনাও হচ্ছে৷

বেশ কয়েক মাস ধরে টানাপোড়েন ও বিভিন্ন দেশের শেষ মুহূর্তে কর প্রণালী বদলে ইইউ-এর ‘কালো খাতায়’ নাম ওঠা বন্ধ করার প্রচেষ্টার পর ইইউ'র অর্থমন্ত্রীরা মঙ্গলবার তালিকাটি অনুমোদন করেন৷

মার্কিন সামোয়া, বাহরাইন, বার্বাডোস, গ্রেনাডা, গুয়াম, দক্ষিণ কোরিয়া, ম্যাকাও, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ, মঙ্গোলিয়া, নামিবিয়া, পালাউ, পানামা, সেন্ট লুসিয়া, সামোয়া, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো, টিউনিশিয়া এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানের অনুপযোগী বলে গণ্য করা হয়েছে৷

যেসব দেশ ইইউ’র নিয়মাবলী সঠিকভাবে মেনে চলে না, কিন্তু তাদের কর প্রণালী পরিবর্তন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সে ধরণের ৪৭টি দেশকে ‘গ্রে লিস্টে’ রাখা হয়েছে৷

সমাজ

বোনো

ইউটু খ্যাত বোনোর নাম আছে প্যারাডাইস পেপার্সে৷ তিনি নুড এস্টেটস নামে মাল্টার এক কোম্পানিতে বিনিয়োগ করেছিলেন৷ কোম্পানিটি লিথুয়ানিয়ার একটি শপিং মল নিয়ে হওয়া সন্দেহজনক চুক্তির সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে৷ মাল্টা উদার কর নীতির জন্য পরিচিত৷ বোনোর মুখপাত্র অবশ্য কোনো অপরাধের কথা অস্বীকার করেছে৷

সমাজ

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী

রুশ গ্যাস কোম্পানি সিবুর-এ উইলবার রসের বিনিয়োগ রয়েছে৷ তবে মার্কিন প্রশাসনে তাঁর দায়িত্ব নিশ্চিতকরণের শুনানিতে তিনি রাশিয়ার সঙ্গে তাঁর জড়িত থাকার বিষয়টি প্রকাশ করেননি বলে অভিযোগ উঠেছে৷ তবে রস বলছেন, রুশ ঐ কোম্পানিটির উপর যেহেতু মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নেই তাই তিনি সেই তথ্য জানাননি৷

সমাজ

রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ

প্যারাডাইস পেপার্স বলছে, বারমুডা ও কেম্যান দ্বীপের কয়েকটি ‘অফশোর অ্যাকাউন্ট’-এ ১০ মিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগ করেছে ব্রিটিশ রানির ব্যক্তিগত এস্টেট ‘দ্য ডাচি অফ ল্যাংকাস্টার’৷ তবে এস্টেট বলছে, এই বিনিয়োগ বৈধ৷

সমাজ

লুইস হ্যামিল্টন

ফর্মুলা ওয়ান চ্যাম্পিয়ন হ্যামিল্টন তাঁর ব্যক্তিগত জেট কেনার সময় কর ফাঁকি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে প্যারাডাইস পেপার্স৷ ২০১৩ সালে ব্রিটিশ ‘আইল অফ ম্যান’-এ একটি জেট আমদানি করার মাধ্যমে ৩ দশমিক ৩ মিলিয়ন পাউন্ড ট্যাক্স রিফান্ড পেয়েছিলেন তিনি৷

সমাজ

গেয়ারহার্ড শ্র্যোডার

২০০৯ সালে সাবেক এই জার্মান চ্যান্সেলর রুশ-ব্রিটিশ জ্বালানি কোম্পানি টিএনকে-বিপি’তে একটি দায়িত্বে ছিলেন৷ কোম্পানিটি ট্যাক্স হ্যাভেনখ্যাত ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডে নিবন্ধিত৷ রুশ এনার্জি জায়ান্ট রোসনেফ্ট ২০১৩ সালে টিএনকে-বিপি কিনে নেয়৷ শ্র্যোডার এখন ঐ কোম্পানির একজন ইন্ডিপেন্ডেন্ট পরিচালক৷

সমাজ

হুয়ান মানুয়েল সান্টোস

বার্বাডোজের দু’টি অফশোর কোম্পানির পরিচালক হিসেবে নাম এসেছে কলম্বিয়ার এই নোবেলজয়ী প্রেসিডেন্টের৷ ২০০০ সালে অর্থমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি ঐ দুই কোম্পানির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন বলে জানিয়েছিলেন৷

সমাজ

ম্যাডোনা

মেডিকেল পণ্য সরবরাহকারী এক প্রতিষ্ঠানে ম্যাডোনার সন্দেহজনক বিনিয়োগের প্রমাণ পেয়েছে প্যারাডাইস পেপার্স৷

সমাজ

অমিতাভ বচ্চন

প্যারাডাইস পেপার্সে অমিতাভসহ ৭১৪ জন ভারতীয়ের নাম রয়েছে৷ কর ফাঁকি দেয়ার জন্য তাঁরা বিদেশে লগ্নি করেছেন বলে অভিযোগ৷ এ প্রসঙ্গে নিজের এক ব্লগে ‘বিগ বি’ লিখেছেন, ‘‘এই বয়সে আমি শুধু শান্তি চাই৷’’

বিভিন্ন সংস্থা ও ব্যক্তিবর্গ তাদের করের বোঝা কমানোর জন্য যেসব পন্থা অবলম্বন করে থাকে, তার সঙ্গে জড়িত নানা কেলেংকারি ইত্যাদির পরিপ্রেক্ষিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন কর এড়ানোর বিরুদ্ধে আরো সক্রিয় হবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ ইইউ বলেছে যে, জোট হিসেবে সমন্বয়কৃত পদক্ষেপের মাধ্যমে যেসব দেশ ও সরকার কর প্রসঙ্গে ন্যায্য আচরণ করতে অস্বীকার করবে, তাদের ক্ষেত্রে ‘আরো জোরালো’ ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে৷

ডিজিটাল বিশ্ব | 06.11.2017

তবে ইউরোপীয় কমিশনের একাধিক সদস্যের মতে, কর ফাঁকি দেওয়ার ‘স্বর্গের’ তালিকাটি প্রকাশ করাই যথেষ্ট নয়, যেসব দেশ বা সরকার ইইউ-এর নিয়মাবলী মানছে না, তাদের বিরুদ্ধে বাস্তব শাস্তিমূলক ব্যবস্থার উপযোগ রাখা হয়নি৷ ফলে এই ‘ব্ল্যাক লিস্ট' বাস্তবিক কোনো পরিবর্তন আনতে পারবে না বলেই সমালোচকদের ধারণা৷ কাজেই ইইউ’র কর কমিশনার পিয়ের মস্কোভিচি ব্ল্যাক লিস্টটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রণী পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করলেও, যুগপৎ তাকে ‘বিশ্বব্যাপী কর ফাঁকি দেওয়ার মাত্রার তুলনায় অপর্যাপ্ত প্রতিক্রিয়া’ বলে বর্ণনা করেছেন৷

অক্সফাম ত্রাণ সংস্থা আরো এক ধাপ এগিয়ে ইইউকে তাদের কোনো সদস্যদেশের নাম এই তালিকায় না রাখার কারণে সমালোচনা করেছে৷ মঙ্গলবারের ঘোষণার আগেই অক্সফাম ‘ব্ল্যাকলিস্ট নাকি হোয়াইটওয়াশ’, এই শিরোনাম দিয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে৷ ইইউ-এর নিজের শর্তাবলী অনুযায়ী, লুক্সেমবুর্গ, মাল্টা, নেদারল্যান্ডস ও আয়ারল্যান্ড, এই চারটি দেশের নাম ঐ ব্ল্যাকলিস্টে থাকা উচিত ছিল বলে অক্সফামের রিপোর্টে মত প্রকাশ করা হয়েছে৷

অসাম্য ও কর প্রসঙ্গে ইইউ’র নীতি সম্পর্কে অক্সফামের উপদেষ্টা অরোর শার্দোনে ডয়চে ভেলেকে বলেছেন, ‘‘এই চূড়ান্ত ইইউ ব্ল্যাকলিস্ট কিছুটা হতাশাজনক৷ তালিকায় মাত্র ১৭টি দেশকে রাখা হয়েছে ও তাদের অধিকাংশ ছোট ছোট দেশ, এমনকি উন্নয়নশীল দেশ৷’’

শার্লট চেলসম-পিল/এসি

সমাজ

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ফাঁকের কারণে মূল আসামীরা প্রায় সবসময়ই ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়৷ এ আইনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আলামত জব্দ করা৷ অর্থাৎ কার দখলে কিংবা কোন জায়গা থেকে মাদক জব্দ করা হয়েছে সেটাই প্রধান বিবেচ্য৷ তাই এ ধরনের মামলায় মাদক দ্রব্যের বাহক, অর্থাৎ চুনোপুটিরা ধরা পড়লেও আসল হোতারা থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে৷

সমাজ

যৌতুক নিরোধ আইন

যৌতুক নিরোধ আইনে নানান ফাঁকের কারণেও অনেকক্ষেত্রেই পার পেয়ে যায় অপরাধী৷ ১৯৮০ সালের যৌতুক নিরোধ আইনের ২ ধারায় বলা হয়েছে, বিষয়বস্তু বা প্রসঙ্গে পরিপন্থি না হলে এ আইনে যৌতুক বলতে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে প্রদত্ত যে কোনো সম্পত্তি বা মূল্যবান জামানতকে বোঝাবে৷ তবে কোনো উপঢৌকন যৌতুক হিসেবে গণ্য হয় না এ আইনে৷ ফলে হালে সমাজে উপঢৌকন বা উপহারের নামেও যৌতুক দেয়া-নেয়া চলছে৷

সমাজ

নারী ও শিশু নির্যাতন আইন

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ করার কথা বলা হয়েছে৷ কিন্তু এ সময়ের মধ্যে বিচার শেষ না হলে কী হবে, তা বলা নেই৷ তবে এরপর মামলার বিচারকাজ ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী চলার কথা৷ তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিচারকাজ বা তদন্ত শেষ করতে না পারলে আসামিরা জামিন পেতে পারে – উচ্চ আদালতের এমন সিদ্ধান্তও রয়েছে৷ এ সিদ্ধান্তের কারণেও এ আইনে তৈরি হয় ‘ফাঁক’ আর সেই ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে যায় আসামীরা৷

সমাজ

অর্থঋণ আইন

অর্থঋণ আইনেরও সমালোচনা রয়েছে৷ আইনে ফাঁক থাকায় ঋণখেলাপিরা ব্যাংক থেকে মোটা অঙ্কের ঋণ নিয়েও তা পরিশোধ করেন না বা করতে চান না৷ বাংলাদেশে আইনের ফাঁক গলে ঋণখেলাপিদের পার পেয়ে যাওয়ার নজির অনেক৷ উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালের অর্থঋণ আইনে ঋণখেলাপির কোনো সংজ্ঞাই নেই৷

সমাজ

অস্ত্র আইন

বাংলাদেশে যে অস্ত্র আইন প্রচলিত আছে, তা ১৮৭৮ সালে প্রণীত৷ বিভিন্ন ধারায় সরকারি অনুমোদন ছাড়া অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার, প্রদর্শন, ক্রয়-বিক্রয়, আমদানি-রপ্তানি নিষিদ্ধ করা এ আইনের ১৯এ আর ১৯এফ ধারায়ই সাধারণত অবৈধ অস্ত্র দখলদারের বিরুদ্ধে মামলা হয়৷ তবে যারা অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ করে, তাদের আইনের আওতায় আনা যায় না৷

সমাজ

নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু নিবারণ আইন

পুলিশ হেফাজতে আসামির মৃত্যু নিবারণের উদ্দেশ্যে ২০১৩ সালে প্রণয়ন করা হয় ‘নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু নিবারণ আইন’৷ এ আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড৷ তবে এ আইনের ১৫ ধারায় বলা হয়েছে, কারাদণ্ড অথবা জরিমানা করতে পারবেন আদালত৷ ফলে হেফাজতে নির্যাতন করে মৃত্যু ঘটিয়েও শুধু জরিমানা দিয়েই মুক্তি পেতে পারবে অপরাধী৷

সংশ্লিষ্ট বিষয়

সংশ্লিষ্ট বিষয়