ইইউ'র ‘দরিদ্র' রাষ্ট্রগুলোতে শরণার্থীদের পাঠাতে পারবে জার্মানি

আশ্রয়প্রার্থীদের জার্মানি থেকে  ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত অন্যান্য দেশে পাঠিয়ে দেয়ার অধিকার বার্লিনের রয়েছে৷ সেসব দেশে জীবনযাপনের মান যদি জার্মানির চেয়ে খারাপও হয় তারপরও তা করা যাবে৷ ইউরোপীয় আদালত এই রায় দিয়েছে৷

ইউরোপের বিচার আদালত (ইসিজে) মঙ্গলবার এক রায়ে বলেছে জার্মানি চাইলে  আশ্রয়প্রার্থীদের ইইউভুক্ত অন্যান্য দেশে ফেরত পাঠিয়ে দিতে পারবে৷ লুক্সেমবুর্গভিত্তিক আদালতটির বিচারকরা বলেছেন, শরণার্থীদের যে-দেশে ফেরত পাঠানো হবে, সে-দেশের সামাজিক সুযোগ-সুবিধা ব্যবস্থা এবং জীবনমান যদি জার্মানির চেয়ে খারাপও হয় তারপরও সেখানে তাদের বিতাড়ন করা যাবে৷

ইসিজি কী বলেছে?

ইইউভুক্ত কোনো দেশের সামাজিক সুযোগ-সুবিধাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা সেদেশে শরণার্থীদের ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে বিবেচনায় আনা হবে না৷

তবে কোনো দেশের অবস্থা যদি এতই খারাপ হয় যে সে-দেশে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় চাহিদা, যেমন খাবার, গোসল এবং আশ্রয়স্থল পাওয়ার মতোও নিশ্চয়তা নেই, সে-দেশে শরণার্থীদের বিতাড়ন করা যাবে না৷

জার্মানির মতো একই জীবনমানের নিশ্চয়তা নেই বলে অন্য দেশে যাওয়া যাবে না, এই যুক্তিতে শরণার্থীরা বিতাড়ন ঠেকাতে পারবেন না৷

বিচারকরা এটাও তুলে ধরেছেন যে, ইইউ আশ্রয় ব্যবস্থা পারস্পরিক বিশ্বাসের ভিত্তিতে তৈরি হয়েছে এবং এক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় ইইউ রাষ্ট্রগুলো মানবাধিকারের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবে৷

মা যখন শরণার্থী

এর্লি মার্সিয়াল ও আলভিন জুনিয়র

গর্ভবতী মা আর্লি মার্সিয়াল হন্ডুরাস থেকে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে পাড়ি জমান৷ পথিমধ্যে জন্ম হলো আলভিনের৷ নির্ধারিত সময়ের ছয় সপ্তাহ আগেই পৃথিবীর আলো দেখে আলভিন জুনিয়র৷

মা যখন শরণার্থী

হন্ডুরাস থেকে হেঁটে যুক্তরাষ্ট্রে?

তীব্র অর্থকষ্ট ও রাজনৈতিক সহিংসতা এড়াতে হন্ডুরাস থেকে হেঁটে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওয়ানা হন আর্লি মার্সিয়াল৷ এ সময় তিনি ছিলেন আট মাসের গর্ভবতী৷ সেই অবস্থায় মার্সিয়াল তার অন্য দুই সন্তানকেও ছোট ঠেলাগাড়িতে চড়িয়ে ধরে রেখেছেন শক্ত হাতে৷

মা যখন শরণার্থী

রাস্তায় বিশ্রাম

পথিমধ্যে ক্লান্ত হয়ে পড়লে বিশ্রাম নিতেন খোলা আকাশের নীচে, রাস্তার উপর৷ দুই সন্তানকে দুপাশে শুইয়ে দিয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করতেন মার্সিয়াল৷ অনিশ্চিত যাত্রা আর সেই সাথে অনাগত সন্তানকে নিরাপদ রাখার উদ্বেগ৷

মা যখন শরণার্থী

নদীতে গোসল

হন্ডুরাস থেকে মেক্সিকো হয়ে যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার এ লম্বা পথে সন্তান ও নিজের দায়িত্ব নিতে হয়েছে নিজেকেই৷ পথিমধ্যে যাত্রাবিরতি দিয়ে সেরে নিতেন দৈনন্দিন কর্যক্রম৷ ছবিতে দেখা যাচ্ছে দক্ষিণ মেক্সিকোর একটি নদীতে বাচ্চাদের গোসল করাচ্ছেন মার্সিয়াল৷

মা যখন শরণার্থী

শরণার্থী দলের সাথে ট্রাকে

দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে গিয়ে মার্সিয়াল তাঁর সন্তানদের নিয়ে মিশে গেলেন একটি শরণার্থী দলের সাথে৷ লম্বা এ পথের কিছুটা অংশ একটি ট্রাকে করে পাড়ি দেয় শরণার্থী দলটি৷

মা যখন শরণার্থী

রেড ক্রসের সঙ্গে

মেক্সিকোর পুয়েব্লা এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় একটি রেড ক্রস দলের সন্ধান পান মার্সিয়াল৷ রেড ক্রসের এ দলটি শরণার্থীদের স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে থাকে৷ অনাগত সন্তানের বিষয়ে কিছুটা শঙ্কামুক্ত হন তিনি৷

মা যখন শরণার্থী

অবশেষে শুভক্ষণ

রেড ক্রসের কর্মীরা মার্সিয়াকে নিয়ে যান হাসপাতালে৷ সেখানেই জন্ম হয় আলভিন জুনিয়রের৷ সন্তানকে কোলে নিয়েই মার্সিয়া ভুলে যান লম্বা পথ পাড়ি দেয়ার কষ্ট৷

মা যখন শরণার্থী

যদি মন গলে ট্রাম্পের

মেক্সিকো সীমান্তের বেড়া থামিয়ে দিলো এ পরিবারটিসহ অন্য শরণার্থীদের যুক্তরাষ্ট্র যাত্রা৷ কিন্তু মা মার্সিয়াল বিশ্বাস করেন আলভিনের জন্ম তাঁর জন্য শুভ আর এতেই মন গলতে পারে ডোনাল্ড ট্রাম্পের৷ ট্রাম্প হয়তো শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় দেবেন তাঁদের৷

একটি ইইউভুক্ত দেশে নিরাপত্তা পাওয়ার পরও যদি একজন শরণার্থী অন্য দেশে আশ্রয়ের আবেদন করেন, তাহলে সে আবেদন বাতিল করা যাবে৷

ইইউ'র আশ্রয় ব্যবস্থা নিয়মগুলো কী?

ইইউ'র ডাবলিন প্রবিধান অনুযায়ী, একজন আশ্রয়প্রার্থী ইইউ'র যে-দেশে প্রথম পা রেখেছেন, সে-দেশেই আশ্রয়ের আবেদন করতে হবে৷ সেই দেশ আশ্রয়প্রার্থীর দেখভালের এবং তার আবেদন যাচাই-বাছাইয়ে দায়বদ্ধ৷ একজন অভিবাসনপ্রত্যাশী যদি সে-দেশ ছেড়ে অবৈধভাবে অন্য দেশে গিয়ে আশ্রয়ের আবেদন করেন, তাহলে তাকে আবারো আগের দেশে বিতাড়ন করা যাবে৷ তবে, এই বিতাড়ন প্রথম ছয় মাসের মধ্যে করতে হবে৷

এখন কী হবে?

ইসিজে এই রায় দেয়ার পর এখন ইইউ'র বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় আদালতের আশ্রয়ের বিষয়ে জমা পড়া মামলাগুলোর রায় দিতে হবে৷ তাই সুনির্দিষ্ট মামলাগুলোতে শরণার্থীদের কী হবে তা আসলে জার্মানির আদালতই চূড়ান্ত করবে৷ আর ইসিজি'র এই সিদ্ধান্তের কেমন প্রতিক্রিয়া হাঙ্গেরি, ইটালি এবং পোল্যান্ড দেখাবে তা এখনো নিশ্চিত নয়৷

উল্লেখ্য, গত বছর আট হাজার আশ্রয়প্রার্থীকে ইইউভুক্ত কয়েকটি দেশে বিতাড়ন করেছিল জার্মানি৷ এর মধ্যে অধিকাংশই ইটালিতে ফেরত গেছেন৷ আর অল্পকিছু গ্রিসে গেলেও হাঙ্গেরি কাউকে গ্রহণ করেনি৷

এআই/এসিবি (এএফপি, ডিপিএ)

আমাদের অনুসরণ করুন