ইউরোটানেল টার্মিনালে আবার উদ্বাস্তুর মৃত্যু

মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত ফ্রান্সের ক্যালে শহরে অবস্থানকারী উদ্বাস্তুরা ইউরোটানেল টার্মিনালে ঢোকার অন্তত দেড় হাজার প্রচেষ্টা চালিয়েছেন৷ পরে এক উদ্বাস্তুর লাশ পাওয়া যায়৷

নিহতের বয়স ২৫ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে৷ চ্যানেল পারাপারের ফেরি থেকে ট্রাক নামার সময় দৃশ্যত একটি ট্রাকের ধাক্কায় তিনি প্রাণ হারান৷ গত জুন মাসের গোড়া থেকে এভাবে চ্যানেল টানেল টার্মিনাল প্রাঙ্গণে ন’জন মরিয়া উদ্বাস্তু প্রাণ হারিয়েছেন৷

ক্যালে-তে উদ্বাস্তুরা যেভাবে বাস করছেন

সোমবার রাতে উদ্বাস্তুরা টার্মিনালে ঢোকার হাজার দু’য়েক প্রচেষ্টা চালান, যা কিনা একটা রেকর্ড৷ ক্যালের চারপাশে এখন প্রায় তিন থেকে পাঁচ হাজার উদ্বাস্তু ব্রিটেন যাবার আশায় অপেক্ষারত: এঁদের অধিকাংশ ইথিওপিয়া, ইরিট্রিয়া, সুদান ও আফগানিস্তান থেকে৷ বুধবার সকালেও নাকি তাঁদের মধ্যে ৫০০ থেকে হাজার জন টানেল সাইটের কাছাকাছি ছিলেন৷

উদ্বাস্তুরা গোড়ায় ফেরিগামী ট্রাকগুলোয় ওঠার চেষ্টা করতেন৷ জুনের মাঝামাঝি নিরাপত্তা বৃদ্ধির পর তাঁরা ইউরোটানেলের দিকে নজর দিয়েছেন৷ কিন্তু গত সেমবার যাবৎ ক্যালেতে যা ঘটছে, তা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনকেও বলতে বাধ্য করেছে: ‘‘এটা খুবই উদ্বেগজনক৷’’ ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টেরেসা মে আরো ৭০ লাখ পাউন্ড – প্রায় এক কোটি ইউরো – সাহায্য দেবার কথা ঘোষণা করেছেন: এই অর্থে ইউরোটানেলের ফরাসি তরফে নিরাপত্তা আরো জোরদার করা হবে৷

জার্মানিতে উদ্বাস্তুদের সাময়িকভাবে বসবাসের ব্যবস্থা করা হচ্ছে তাঁবুতেও

প্যারিস সরকারও আরো অর্থ বরাদ্দ করছেন৷ ব্রিটেনমুখী লরী ও ট্রাকগুলির জন্য একটি ‘নিরাপত্তা এলাকা’ সৃষ্টি করার কথা আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল৷ এ জন্য ক্যালের কাছে ককেল-এর রেল স্টেশনের কাছে একটি অতিরিক্ত কাঁটাতারের বেড়া তৈরি করা হবে – কেননা উদ্বাস্তুদের প্রচেষ্টা হলো, অপেক্ষারত ট্রাক, কিংবা খোদ টানেল ট্রেনগুলোতে চড়ে বসা৷

বিশ্ব | 26.06.2015

জার্মানিতে...

এ দেশে এই বছর প্রায় পাঁচ লাখ উদ্বাস্তু রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করবেন, বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে৷ বর্তমানেই এই উদ্বাস্তুদের প্রাথমিকভাবে কোথায় রাখা হবে – এবং সে খরচ কে দেবে, রাজ্য না কেন্দ্রীয় সরকার – তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়ে গেছে৷ অনেক ক্ষেত্রেই পৌর প্রশাসন সাময়িকভাবে উদ্বাস্তুদের তাঁবুতে রাখার ব্যবস্থা করতে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের রোষে পড়ছেন৷ সেই সুযোগে চরম দক্ষিণপন্থিরা পরিস্থিতি আরো বিষাক্ত করছে৷

প্রাণের মায়া না করে ইউরোপে আসার প্রচেষ্টা

প্রাণে বাঁচা

২০শে এপ্রিল, ২০১৫: একটি ছোট পালের নৌকা গ্রিসের রোডোস দ্বীপের কাছে চড়ায় আটকালে সীমান্তরক্ষী আর স্থানীয় মানুষেরা বেশ কিছু উদ্বাস্তুকে উদ্ধার করেন৷ তা সত্ত্বেও এই দুর্ঘটনায় তিনজন উদ্বাস্তু জলে ডুবে মারা যান৷

প্রাণের মায়া না করে ইউরোপে আসার প্রচেষ্টা

সীমান্তরক্ষীদের ডিঙিতে

১৩ই এপ্রিল, ২০১৫: উদ্বাস্তুরা কোস্ট গার্ডের ইনফ্ল্যাটেবল বোটে চড়ে সিসিলি-র একটি বন্দরে পৌঁছচ্ছে৷ সীমান্তরক্ষীরা লিবিয়ার উপকূলে একটি ডোবা নৌকা দেখতে পেয়ে ১৪৪ জন উদ্বাস্তুকে উদ্ধার করেন – এবং যুগপৎ ন’টি মৃতদেহকে সাগরের জলে ভাসতে দেখেন৷ আবহাওয়া ভালো থাকায় এপ্রিলের শুরু থেকে উদ্বাস্তুরা আরো বেশি সংখ্যায় আফ্রিকা থেকে ভূমধ্যসাগর পার হয়ে ইউরোপে আসার চেষ্টা করছে৷

প্রাণের মায়া না করে ইউরোপে আসার প্রচেষ্টা

বাহন

১২ই এপ্রিল, ২০১৫: ওপিয়েলক অফশোর ক্যারিয়ার কোম্পানির ‘জাগুয়ার’ নামধারী মালবাহী জাহাজের অতি কাছে ডুবে যায় একটি উদ্বাস্তু বোট৷ এই কোম্পানির জাহাজগুলি গত ডিসেম্বর মাস যাবৎ দেড় হাজারের বেশি উদ্বাস্তুকে সমুদ্রবক্ষ থেকে উদ্ধার করেছে৷

প্রাণের মায়া না করে ইউরোপে আসার প্রচেষ্টা

হাঁটাপথে

২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৫: পশ্চিম আফ্রিকা থেকে আসা উদ্বাস্তুরা ম্যাসিডোনিয়া সীমান্তের দিকে হেঁটে চলেছেন৷ আশা, এইভাবে ‘খিড়কির দরজা’ দিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রবেশ – যদিও সে প্রচেষ্টা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ব্যর্থ হয়৷

প্রাণের মায়া না করে ইউরোপে আসার প্রচেষ্টা

ব্রিটেন যাওয়ার শেষ পন্থা

১৭ই ডিসেম্বর, ২০১৪: ফ্রান্সের ক্যালে বন্দর-শহরের কাছের হাইওয়েতে ব্রিটেনগামী লরিতে ওঠার সুযোগের অপেক্ষায় উদ্বাস্তুরা৷ সে আমলে ক্যালে-র পাঁচ-পাঁচটি বেআইনি ক্যাম্পে প্লাস্টিকের ঝুপড়িতে বাস করছিল তিন থেকে পাঁচ হাজার উদ্বাস্তু, শুধুমাত্র ইংল্যান্ড যাবার আশায়৷

প্রাণের মায়া না করে ইউরোপে আসার প্রচেষ্টা

‘সেভ আওয়ার সোলস’

২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০১৪: ভূমধ্যসাগরে সাইপ্রাসের কাছে একটি শরণার্থী নৌকা বিপদ সঙ্কেত পাঠানোর পর সাগরে ভাসতে থাকে – ৩০০ উদ্বাস্তু নিয়ে৷

প্রাণের মায়া না করে ইউরোপে আসার প্রচেষ্টা

যারা কোনো বাধা মানে না

১৭ই মে, ২০১৪: আফ্রিকান উদ্বাস্তুরা মরক্কোর উপকূলে স্পেনের এক্সক্লেভ মেলিলা-র চারপাশের উঁচু তারের বেড়া পার হওয়ার চেষ্টা করছে৷ প্রায় ৫০০ মানুষ সীমান্ত পার হবার চেষ্টা করে, তাদের মধ্যে জনা ত্রিশেক সফলও হয়, কিন্তু পরে তাদের আবার মরক্কোয় ফেরৎ পাঠিয়ে দেওয়া হয়৷

কাজেই ফেডারাল অভিবাসন কার্যালয়ের প্রধান মানফ্রেড স্মিট বুধবার মন্তব্য করেছেন যে, আলবেনিয়া কিংবা কোসোভোর মতো দেশগুলিকে রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থনা বা – প্রাপ্তির দৃষ্টিকোণ থেকে ‘নিরাপদ দেশ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হবে কিনা, তা বিবেচনা করার সময় এসেছে৷ বলকান অঞ্চল থেকে যে সব মানুষ জার্মানিতে এসে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেন, তাদের প্রায় ৯৯ শতাংশ আবেদন নাকচ হয়, তবুও তারা আসেন প্রধানত রুজি-রোজগারের, সহজতর জীবনের আশায়৷

সেই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে, যে সব উদ্বাস্তু জার্মানিতে বছরের পর বছর বাস করছেন, অনেক সময় রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন পর্যন্ত না করে, তাদের অন্তত কাজ করতে দেওয়ার অনুমতি প্রদান সঙ্গত হবে কিনা – পৌর প্রশাসনগুলি পুরোপুরি যার সপক্ষে৷

এসি/ডিজি (এএফপি, ডিপিএ)

সংশ্লিষ্ট বিষয়

আমাদের অনুসরণ করুন