ইউরোপের সমালোচনা, না নিম্ন রুচির পরিচয়?

আবার শিরোনামে শার্লি এব্দো৷ তবে এবারের বিষয় মৃত সিরীয় শিশু আয়লান কুর্দি৷ পত্রিকাটি শরণার্থী সংকটের প্রশ্নে ইউরোপীয় নীতির সমালোচনা করতে গিয়ে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েছে৷

আজকের চটজলদি খবরের জগতে বিষয়ের গভীরে যাবার বা গোটা প্রেক্ষাপট বুঝে তারপর সিদ্ধান্তে আসার তাগিদ সহজে চোখে পড়ে না৷ অনেকের কাছেই বিচ্ছিন্ন মন্তব্য, ছবি বা দৃশ্যই প্রতিক্রিয়া দেখানোর জন্য যথেষ্ট৷ ফলে প্রকৃত সত্য উন্মোচনের সম্ভাবনা প্রায়ই চাপা পড়ে যায়৷ ফ্রান্সের শার্লি এব্দো পত্রিকাকে ঘিরে আবার নতুন করে বিতর্কের ক্ষেত্রে এই বিষয়টিই অনেকের চোখে পড়ছে৷ সর্বশেষ সংখ্যায় প্রকাশিত দুটি ব্যঙ্গচিত্রে মৃত শিশু আয়লান কুর্দিকে দেখানো হয়েছে, যার মুখ থুবড়ে পড়ে থাকা নিথর দেহ গোটা বিশ্বের মানুষকে আবেগে উদ্বেলিত করেছিল৷ বলা বাহুল্য, এর ফলে তীব্র প্রতিক্রিয়াও দেখা যাচ্ছে৷

এর আগেও আয়লানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে অনেক কার্টুন প্রকাশিত হয়েছে৷ কিন্তু শার্লি এব্দো যেভাবে দুটি ব্যঙ্গচিত্র তুলে ধরেছে, বিচ্ছিন্নভাবে সেগুলি অনেকের কাছেই অত্যন্ত নিম্ন রুচির পরিচয় মাত্র৷ অথচ শার্লি এব্দো পত্রিকার সেই সংখ্যায় শরণার্থী সংকটের ক্ষেত্রে ইউরোপের প্রতিক্রিয়ার তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে৷ এমনকি ইউরোপের ‘খ্রিষ্টান' পরিচয়ও ব্যঙ্গাত্মক আক্রমণের হাত থেকে রক্ষা পায়নি – ফ্রান্সের উগ্র দক্ষিণপন্থি ন্যাশনাল ফ্রন্ট যাকে বার বার হাতিয়ার করে চলেছে৷ তাই করিন মনে করেন, সবার আগে এই কার্টুন ভালো করে পড়া উচিত৷

জ্যোকো-ও এ বিষয়ে একমত পোষণ করেন৷

ডেভিড আরও এক ধাপ এগিয়ে পাঠকদের বুদ্ধিমত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন৷

রেহান কুর্দির কোলে তাঁর ছোট ছেলে আয়লান৷ কোবানির একটি বাড়িতে এখনো আছে এই ছবি, তবে ছবির দু’জন মানুষ আর নেই৷ সিরিয়া থেকে তুরস্ক হয়ে গ্রিসে যাওয়ার পথেই ফুরিয়েছে তাদের জীবন চলার পথ৷ এ খবর সারা বিশ্বকে জানিয়েছিল অন্য একটি ছবি৷

দুই সন্তান আর স্ত্রী-কে হারিয়ে নিরাপদ জীবনের প্রতি আগ্রহহারিয়ে ফেলেন আয়লানের বাবা আব্দুল্লাহ কুর্দি৷ তাই গ্রিস হয়ে ইউরোপের উন্নত কোনো দেশে নতুন করে জীবন শুরু করার ইচ্ছে জলাঞ্জলি দিয়ে ফিরে যান সিরিয়ায়৷ তাঁর কোবানির বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় স্ত্রী ও দুই সন্তানের মৃতদেহ৷ জানাযা শেষে ওই শহরেই সমাধিস্থ করা হয় তাদের৷

ছবির এই নারী আয়লানের আত্মীয়া, নাম ফাতিমা কুর্দি৷ সোমবার ব্রাসেলসে জাতিসংঘের সদর দপ্তরের বাইরে এক প্রতিবাদ সমাবেশে ছিলেন তিনি৷ ইউরোপের দেশগুলোতে অভিবাসন আইনের সমন্বয়ের দাবিতে আয়োজিত সেই সমাবেশেও ছিল আয়লানের ছবি৷ তবে সেই ছবি নয়, সেই ছবির আদলে হাতে আঁকা একটি ছবি দেখা যায় দেয়ালে৷ সেই ছবির পাশেই দাঁড়িয়ে ফাতিমা কুর্দি৷

আজকের চটজলদি খবরের জগতে বিষয়ের গভীরে যাবার বা গোটা প্রেক্ষাপট বুঝে তারপর সিদ্ধান্তে আসার তাগিদ সহজে চোখে পড়ে না৷ অনেকের কাছেই বিচ্ছিন্ন মন্তব্য, ছবি বা দৃশ্যই প্রতিক্রিয়া দেখানোর জন্য যথেষ্ট৷ ফলে প্রকৃত সত্য উন্মোচনের সম্ভাবনা প্রায়ই চাপা পড়ে যায়৷ ফ্রান্সের শার্লি এব্দো পত্রিকাকে ঘিরে আবার নতুন করে বিতর্কের ক্ষেত্রে এই বিষয়টিই অনেকের চোখে পড়ছে৷ সর্বশেষ সংখ্যায় প্রকাশিত দুটি ব্যঙ্গচিত্রে মৃত শিশু আয়লান কুর্দিকে দেখানো হয়েছে, যার মুখ থুবড়ে পড়ে থাকা নিথর দেহ গোটা বিশ্বের মানুষকে আবেগে উদ্বেলিত করেছিল৷ বলা বাহুল্য, এর ফলে তীব্র প্রতিক্রিয়াও দেখা যাচ্ছে৷

এর আগেও আয়লানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে অনেক কার্টুন প্রকাশিত হয়েছে৷ কিন্তু শার্লি এব্দো যেভাবে দুটি ব্যঙ্গচিত্র তুলে ধরেছে, বিচ্ছিন্নভাবে সেগুলি অনেকের কাছেই অত্যন্ত নিম্ন রুচির পরিচয় মাত্র৷ অথচ শার্লি এব্দো পত্রিকার সেই সংখ্যায় শরণার্থী সংকটের ক্ষেত্রে ইউরোপের প্রতিক্রিয়ার তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে৷ এমনকি ইউরোপের ‘খ্রিষ্টান' পরিচয়ও ব্যঙ্গাত্মক আক্রমণের হাত থেকে রক্ষা পায়নি – ফ্রান্সের উগ্র দক্ষিণপন্থি ন্যাশনাল ফ্রন্ট যাকে বার বার হাতিয়ার করে চলেছে৷ তাই করিন মনে করেন, সবার আগে এই কার্টুন ভালো করে পড়া উচিত৷

জ্যোকো-ও এ বিষয়ে একমত পোষণ করেন৷

ডেভিড আরও এক ধাপ এগিয়ে পাঠকদের বুদ্ধিমত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন৷

শার্লি এব্দো পত্রিকার উদ্দেশ্য যাই হোক না কেন, অনেকের কাছেই ছবিগুলি অত্যন্ত নিম্ন রুচির প্রতিফলন৷ তাই চরম বিরক্তি প্রকাশ করেছেন অনেক টুইটার ব্যবহারকারী৷

মা ও সন্তান

রেহান কুর্দির কোলে তাঁর ছোট ছেলে আয়লান৷ কোবানির একটি বাড়িতে এখনো আছে এই ছবি, তবে ছবির দু’জন মানুষ আর নেই৷ সিরিয়া থেকে তুরস্ক হয়ে গ্রিসে যাওয়ার পথেই ফুরিয়েছে তাদের জীবন চলার পথ৷ এ খবর সারা বিশ্বকে জানিয়েছিল অন্য একটি ছবি৷

এ ছবি এখনো কাঁদায়

একটি ছবি হঠাৎ বদলে দিলো ইউরোপে অভিবাসী হতে আগ্রহীদের ভাগ্য৷ আয়লান কুর্দির এই ছবি৷ তুরস্কের উপকুলে এভাবেই পড়ে ছিল ৩ বছরের শিশুটির নিথর দেহ৷ মা-বাবা আর ভাইয়ের সঙ্গে আয়লানও কোবানির বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল নিরাপদ জীবনের খোঁজে৷ এভাবে চিরবিদায় নিতে হয় তাকে!

আয়লান জাগিয়ে গেল

আয়লানের ওই ছবি নাড়িয়ে দেয় বিশ্ববিবেক৷ ইউরোপে আসার পথে যেখানে হাজারো মানুষ শত বাধার মুখে এক সময় হার মানতো, প্রাণ দিতো, সেখানে ধীরে ধীরে অনেকটাই খুলে গেল ইউরোপের দ্বার৷ অভিবাসন প্রত্যাশীরা অবাধে আসতে শুরু করল মধ্যপ্রাচ্য এবং আফ্রিকা থেকে৷

যেভাবে বিদায় জানালো জন্মভূমি

দুই সন্তান আর স্ত্রী-কে হারিয়ে নিরাপদ জীবনের প্রতি আগ্রহহারিয়ে ফেলেন আয়লানের বাবা আব্দুল্লাহ কুর্দি৷ তাই গ্রিস হয়ে ইউরোপের উন্নত কোনো দেশে নতুন করে জীবন শুরু করার ইচ্ছে জলাঞ্জলি দিয়ে ফিরে যান সিরিয়ায়৷ তাঁর কোবানির বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় স্ত্রী ও দুই সন্তানের মৃতদেহ৷ জানাযা শেষে ওই শহরেই সমাধিস্থ করা হয় তাদের৷

কান্না আর আহাজারি

আব্দুল্লাহ কুর্দি তাঁর পরিবারের সদস্যদের মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফিরলে কান্নার রোল উঠেছিল কোবানিতে৷ আয়লানদের জন্য কোবানি এখনো কাঁদে৷

আয়লান এখন প্রতিবাদের প্রতীক...

অভিবাসনপ্রত্যাশীদের কাছে আয়লান এখন প্রতিবাদের প্রতীক৷ ইউরোপে যেখানেই অভিবাসন প্রত্যাশীদের প্রতিবাদ, সেখানেই থাকে আয়লানের ছবি৷ অভিবাসন প্রত্যাশীদের প্রতিবাদ-বিক্ষোভের এই ছবিটি প্যারিসের৷

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদর দপ্তরেও আয়লান

ছবির এই নারী আয়লানের আত্মীয়া, নাম ফাতিমা কুর্দি৷ সোমবার ব্রাসেলসে জাতিসংঘের সদর দপ্তরের বাইরে এক প্রতিবাদ সমাবেশে ছিলেন তিনি৷ ইউরোপের দেশগুলোতে অভিবাসন আইনের সমন্বয়ের দাবিতে আয়োজিত সেই সমাবেশেও ছিল আয়লানের ছবি৷ তবে সেই ছবি নয়, সেই ছবির আদলে হাতে আঁকা একটি ছবি দেখা যায় দেয়ালে৷ সেই ছবির পাশেই দাঁড়িয়ে ফাতিমা কুর্দি৷

সংকলন: সঞ্জীব বর্মন

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ