ইউরোপে খাবার হিসেবে শৈবালকে জনপ্রিয় করার চেষ্টা

এশিয়া, বিশেষ করে চীন, জাপান ও কোরিয়ায় খাবার হিসেবে সিউইড তথা সামুদ্রিক শৈবালের ব্যবহার অনেক দিনের৷ এবার ইউরোপীয়দের কাছে এই খাবার জনপ্রিয় করার চেষ্টা করছে আয়ারল্যান্ডের একটি জেলে পরিবার৷

তাদের বাস রাথলিন দ্বীপে৷ উদ্যোক্তার নাম কেট বার্নস৷ তাঁর কোম্পানি ‘ওশান ভেজ আয়ারল্যান্ড' শৈবাল থেকে নুডুলস তৈরি করে৷ এরপর তা বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে বিক্রি করা হয়৷ তিনি বলেন, ‘‘অতীতে শৈবালের বহু ব্যবহার ছিল৷ তবে এখন আমি যেটা করছি সেটা একটু ভিন্ন, কারণ আমি এর চাষ করছি, যেটা আরও বেশি ‘সাস্টেনেবল'৷ এর আরেকটি মানে হচ্ছে, আমরা কোন ধরনের শেওলার চাষ করতে চাই সেটা আমরাই নির্ধারণ করতে পারি৷ আমরা এর জন্মানোর সময়টাও ঠিক করে নিতে পারি৷

কেট আর তাঁর দল কৃত্রিম উপায়ে শেওলা জন্মানোর একটি পদ্ধতি বের করেছেন৷ শেওলা জন্মানোর প্রক্রিয়া শুরু হয় নার্সারির ট্যাঙ্কে৷ নার্সারি ম্যানেজার সারাহ ব্যারি বলেন, ‘‘পানিতে থাকলে শেওলার বীজগুটি পাথরের মতো অমসৃণ কিছু খোঁজে৷ নিজের ছোট্ট লেজের সাহায্যে সাঁতার কেটে তারা সেই পাথরের কাছে গিয়ে থিতু হয়৷ সাগরের মতো সেরকম পরিবেশ তৈরি করতে আমরা ট্যাংকে কুন্ডলীর মতো অমসৃণ সারফেস তৈরি করেছি, যেন বীজগুটি সেখানে গিয়ে থাকতে পারে৷''

নয় সপ্তাহের মধ্যে বীজানুগুলোতে ছোট অঙ্কুর জন্ম নেয়৷ ট্যাঙ্কে শেওলা জন্মানোর সুবিধা হলো, এর ফলে ইকোসিস্টেমের কোনো ক্ষতি হয় না৷ তবে কিছু সমস্যা আছে৷ ব্যারি বলেন, ‘‘ট্যাঙ্কে শৈবালের চাষ করতে গিয়ে প্রথমদিকে একটি সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিলাম আমরা৷ পানি বেশি অ্যাসিডমিশ্রিত হওয়ায় এবং সেখানে ব্যাকটেরিয়া জন্ম নেয়ায় সমস্যা দেখা দিয়েছিল৷ তবে আমরা সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে জেনেছি কীভাবে পানিতে ক্ষারীয় বৈশিষ্ট্য আনা যায়, আর পানি ব্যাকটেরিয়ামুক্ত রাখা যায়৷''

ট্যাঙ্কে জন্মানোর পর বীজানুগুলোকে দড়ি সহ সাগরে নামিয়ে দেয়া হয়৷ এর কয়েকমাস পর সেগুলো পানি থেকে তুলে আনা হয়৷

‘ওশান ভেজ আয়ারল্যান্ড' শৈবাল চাষের জন্য সাগরের ৩০ একর পরিমাণ জায়গার লাইসেন্স পেয়েছে৷

কেট ও তাঁর ছেলেরা ২০১৩ সালে কোম্পানিটি শুরু করেন৷ তাঁরা এই দ্বীপেই বেড়ে উঠেছেন এবং তাঁরাই দ্বীপের শেষ জেলে পরিবার৷ শৈবালের চাষ জেলেদের আয়ের অন্যতম একটি উৎস হয়ে উঠেছে৷

‘ওশান ভেজ আয়ারল্যান্ড' এবার ২৫ টন শেওলা পাবে বলে আশা করছে৷ চাহিদা মেটাতে ভবিষ্যতে উৎপাদন দ্বিগুন করার পরিকল্পনা করছে তারা৷

পরিবেশ

ক্ষুদ্র বিস্ময়

অরণ্যের মাটির দিকে ভালোভাবে তাকালে, গাছের গুড়িতে বা স্যাঁতস্যাঁতে দেয়ালে এদের দেখা পাবেন৷ এদের সর্বত্রই দেখা যায়৷ এদের উজ্জ্বল বর্ণ যে কাউকে আকৃষ্ট করবে – এরা সত্যিই ভীষণ সু্ন্দর৷

পরিবেশ

পাথরের শ্যাওলা

এদের বলা হয় ‘রাইজোকার্পন জিওগ্রাফিকুম’ বা মানচিত্র শেবাল৷ নরওয়ের একটি পাথরের উপর থেকে এই শৈবালের ছবিটি তোলা হয়েছে৷

পরিবেশ

সহাবস্থান

ফাঙ্গাস আর অ্যালগি থেকে শৈবালের জন্ম৷ এখানে ফাঙ্গাস (বাদামি) অ্যালগি কোষের (সবুজ) সঙ্গে মিশেছে৷ সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে অ্যালগি কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি থেকে চিনি উৎপাদন করে এবং ফাঙ্গাস সেই খাদ্য খেয়ে বাঁচে৷

পরিবেশ

রেইন ডিয়ার বা বল্গা হরিণ

স্ক্যান্ডিনেভিয়ান রেইনডিয়ার নামের এই শৈবালকে নিশ্চয়ই কোথাও না কোথাও দেখেছেন? বিভিন্ন গাছে বা ঝোপঝাড়ে ফুলের মতো দেখতে এই শৈবালদের দেখা যায়৷

পরিবেশ

ক্রোম ইয়েলো

সব শৈবালই পুষ্টিকর খাবার নয়৷ এই সুন্দর রঙের ‘নেকড়ে শৈবাল’ বিষাক্ত শৈবালগুলোর মধ্যে অন্যতম৷ নেকড়ে ও খেঁকশিয়ালরা এর বিষের শিকার হয়৷

পরিবেশ

স্পর্শকাতর শৈবাল

শৈবাল দূষিত বাতাসের সংস্পর্শে টিকতে পারে না৷ এই শৈবালগুলোর ছবি নরওয়ের একটি বন থেকে তোলা৷ জার্মানিতেও এদের দেখা পাওয়া যায়৷ তবে এরা এখন বিলুপ্তির পথে৷

পরিবেশ

অদম্য শক্তি

কেবলমাত্র স্পর্শকাতর নয় এমন কিছু শৈবাল আছে, যারা শত ঝড়ঝাপ্টাতেও টিকে থাকে৷ অ্যান্টার্কটিকা হোক বা মরুভূমি, তারা ঠিকই বেঁচে থাকে৷ গালাপাগোসের সৈকতে একটা প্লাস্টিকের বোতলে দেখা যাচ্ছে এমন এক ধরনের শৈবাল৷

পরিবেশ

আরোগ্য শক্তি

পাতার মতো দেখতে এই শৈবালের নাম ‘আইসল্যান্ড মস’৷ কয়েক ধরনের চা বা ট্যাবলেটে এটি ব্যবহৃত হয়৷

পরিবেশ

অদ্ভুত ধরন

এটা দেখে মনেই হয় না শৈবাল৷ মনে হয় যেন কোনো শক্ত পাথর৷ ‘আগ্নেয়গিরি শৈবাল’-এর দেখা পাওয়া যায় গালাপাগোসে এবং এরা অন্যদের থেকে একেবারেই ভিন্ন৷

পরিবেশ

বাদামি টুপি

ফাঙ্গাল স্পোর থেকে শৈবালের পুনরুৎপাদন হয়৷ এদের বলা হয় ‘বাদামি টুপি’ শৈবাল৷ ইউরোপ, উত্তর অ্যামেরিকা এবং এশিয়ায় এদের দেখা মেলে৷

পরিবেশ

নতুন বিশ্ব

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, বিশ্বে ২০ হাজার প্রজাতির শৈবাল রয়েছে৷ প্রতিদিনই নতুন নতুন প্রজাতির খোঁজ মিলছে৷ সম্প্রতি এই বিশেষ শৈবালটির খোঁজ পেয়েছেন রুয়ান্ডাতে৷

খাবার হিসেবে ইউরোপীয়দের কাছে শৈবালকে পরিচিত করাতে চেষ্টা করছেন কেট৷ তিনি বলেন, ‘‘শৈবাল চাষের একটি বড় সমস্যা হচ্ছে, এর জন্য সাগরের নির্দিষ্ট অংশের লাইসেন্স নিতে হয়৷ আমার মনে হয়, ভবিষ্যতে সমুদ্রের যে অংশে উইন্ডমিল বসানো আছে, তার আশেপাশের জায়গাগুলোর লাইসেন্স শেওলা উৎপাদনকারীদের দেয়া যেতে পারে৷ এর ফলে সাগরের অবকাঠামোর নানবিধ ব্যবহার হবে৷''

শৈবাল চাষের সাফল্য অনেকটা নির্ভর করে আবহাওয়ার উপর৷ তাই এই কাজে কিছুটা অনিশ্চয়তা আছে৷

প্রতিবেদন: লুইস অসবোর্ন/জেডএইচ

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ

আরো প্রতিবেদন...