ইউরোপে নির্বাচনের ঠিক আগে বেকায়দায় চরম দক্ষিণপন্থিরা?

ইইউ পার্লামেন্ট নির্বাচনের ঠিক আগে এক কেলেঙ্কারির কারণে অস্ট্রিয়ায় চরম দক্ষিণপন্থি দল ঘোর সংকটে পড়েছে৷ ইউরোপের ভোটারদের মনে সার্বিকভাবে চরমপন্থিদের ভাবমূর্তি নিয়ে জল্পনাকল্পনা চলছে৷

গত কয়েক বছরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অনেক দেশেই চরম দক্ষিণপন্থিদের ক্ষমতা বেড়ে চলেছে৷ ইটালি ও অস্ট্রিয়ার মতো দেশে তারা সরকারের শরিক হয়ে দেশ শাসন করেছে৷ জার্মানিতে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে তারা সংসদে এসেছে৷ আসন্ন ইইউ পার্লামেন্ট নির্বাচনে এই শিবির জোরালো সমর্থন পেতে পারে বলে বিভিন্ন জনমত সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে৷ অথচ একই সঙ্গে ইউরোপের এমন সব দল নানা অভ্যন্তরীণ কারণে সংকটের মুখে পড়ছে৷ যেমন, জার্মানির এএফডি দল চাঁদা কেলেঙ্কারির কারণে কিছুটা বেকায়দায় পড়েছে৷ এবার অস্ট্রিয়ার চরম দক্ষিণপন্থি দল বিশাল কেলেঙ্কারির জের ধরে আরো বড় আকারের সংকটের মুখে পড়লো৷

গত সপ্তাহান্তে জার্মানির ‘ডেয়ার স্পিগেল'-সহ সংবাদ মাধ্যমের একাংশে একটি ভিডিও প্রকাশিত হবার পর গোটা ঘটনার সূত্রপাত ঘটে৷ তাতে অস্ট্রিয়ার জোট সরকারের শরিক চরম দক্ষিণপন্থি এফপিও দলের নেতা ও ভাইস চ্যান্সেলর হাইনৎস-ক্রিস্টিয়ান স্ট্রাকে-কে দেখা যাচ্ছে৷ স্পেনের ইবিসা দ্বীপে ২০১৭ সালে তোলা এই ভিডিওতে স্ট্রাকে ক্ষমতায় এলে রাশিয়ার এক শিল্পপতির জন্য রাষ্ট্রীয় প্রকল্পের বরাত দেবার অঙ্গীকার করেছেন৷ অস্ট্রিয়ায় রাজনৈতিক দলের চাঁদা সংক্রান্ত নিয়ম ফাঁকি দেবার কথাও বলেছেন তিনি৷

এই কেলেঙ্কারির জের ধরে অস্ট্রিয়ার চ্যান্সেলর সেবাস্টিয়ান কুয়র্ৎস প্রথমে স্ট্রাকে-র পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন এবং তারপর আগাম নির্বাচন ডাকার সিদ্ধান্ত নেন৷ স্ট্রাকে নিজেকে নির্দোষ হিসেবে তুলে ধরে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করেছেন৷ সোমবার চ্যান্সেলর এফপিও দলের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বরখাস্ত করার পর সেই দলের বাকি মন্ত্রীরাও পদত্যাগ করেন৷ আগামী সেপ্টেম্বর মাসে নির্বাচনের আগে পর্যন্ত মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাসহ বিশেষজ্ঞরা সেই সব দায়িত্ব পালন করবেন বলে চ্যান্সেলর কুয়র্ৎস জানিয়েছেন৷

ইউরোপের বুকে খোলাখুলি দূর্নীতির এমন অভিযোগ বেশ বিরল ঘটনা৷ তার উপর চরম দক্ষিণপন্থি দলের নেতার এমন ভূমিকার কারণে বিষয়টি আন্তর্জাতিক স্তরেও যথেষ্ট আগ্রহ সৃষ্টি করছে৷ ইইউ পার্লামেন্ট নির্বাচনের ঠিক আগে এমন কেলেঙ্কারির প্রভাব নিয়েও জল্পনাকল্পনা শুরু হয়েছে৷ বর্তমান পরিস্থিতিতে অস্ট্রিয়ায় এফপিও দল ভোটারদের সামনে কী বলে সমর্থন চাইবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে৷ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুটিনের ইউনাইটেড রাশিয়া পার্টির সঙ্গে এফপিও দলের আনুষ্ঠানিক সহযোগিতা চুক্তির প্রেক্ষাপটে ইউরোপের নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের বিষয়টি আবার চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে৷ ইইউ ও অভিবাসন-বিরোধী একাধিক ইউরোপীয় রাজনৈতিক দলের সঙ্গে রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ নিয়ে এর আগেও প্রশ্ন উঠেছে৷ ফ্রান্সের চরম দক্ষিণপন্থি ন্যাশানাল ফ্রন্টের মতো কিছু দল প্রকাশ্যেই পুটিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রেখে চলে৷

এসবি/এসিবি (ডিপিএ, রয়টার্স, এএফপি)

আমাদের অনুসরণ করুন