ইউরোপে পাড়ি দিতে গিয়ে যৌন নিপীড়নের শিকার অভিবাসীরা

ইউরোপে পাড়ি জমাতে গিয়ে লিবিয়ায় যৌন নিপীড়নের শিকার হন অভিবাসীরা৷ নারীদের পাশাপাশি এমনকি রেহাই পাননা পুরুষরাও৷ এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে৷

ইউরোপে পাড়ি জমানো অভিবাসীদের নিয়ে নতুন এক গবেষণা প্রকাশ করেছে উইমেন্স রিফিউজি কমিশন৷ যারা লিবিয়া হয়ে ইউরোপে পাড়ি জমায় তাদের পরিস্থিতি অনুসন্ধান করাই ছিল গবেষণার মূল লক্ষ্য৷ বর্তমানে এই পথ ধরে আসা অভিবাসীদের ঠেকাতে নতুন নীতি বাস্তবায়ন করছে ইউরোপ৷ তাদের অর্থায়নে লিবিয়ার কোস্ট গার্ড সদস্যরা অভিবাসীদের ভূমধ্যসাগর থেকে উদ্ধার করে দেশটির সরকার পরিচালিত আটক কেন্দ্রে পাঠিয়ে দিচ্ছে৷ সেখানেও যৌন নিপীড়নের শিকার হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেছে

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ে পাচারকারীরা অভিবাসীদের নির্যাতন করে এবং সেই দৃশ্য ধারণ করে রাখে৷ এর আগের আরেক গবেণায় দেখা যায়, উত্তর আফ্রিকা হয়ে আসা অভিবাসী নারীদের প্রায় সবাই তাদের যাত্রাপথে যৌন নীপিড়নের শিকার হয়৷ নতুন গবেষণায় দেখা গেছে পুরুষরাও সেখান থেকে রেহাই পায় না৷

গাদ্দাফির পর কেমন চলছে লিবিয়া?

অক্টোবর, ২০১১

ঐ বছর উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে ‘আরব বসন্তের’ ঢেউ উঠেছিল৷ লিবিয়াতেও সেই ছোঁয়া লেগেছিল৷ এরই এক পর্যায়ে ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে লিবিয়া শাসন করা গাদ্দাফি পালিয়ে যান৷ পরে অক্টোবরে তিনি ধরা পড়েন এবং তাঁকে হত্যা করা হয়৷ অদ্ভুত আচরণের জন্য পরিচিত ছিলেন তিনি৷ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গেও তাঁর সরকারের সম্পর্ক ছিল৷

গাদ্দাফির পর কেমন চলছে লিবিয়া?

শান্তি প্রত্যাশা

গাদ্দাফির পতনের পর লিবিয়ায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হবে বলে আশা করা হয়েছিল৷ সেই লক্ষ্যে ২০১২ সালের জুনে সংসদ নির্বাচনেরও আয়োজন করা হয়৷ কিন্তু তারপর রাজনীতিবিদরা একটি কার্যকর সরকার গঠন করতে ব্যর্থ হন৷

গাদ্দাফির পর কেমন চলছে লিবিয়া?

জঙ্গিবাদের প্রসার

দেশটিতে কার্যকর সরকার না থাকায় জঙ্গিবাদের প্রসার হতে থাকে৷ গাদ্দাফিকে সরাতে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী নিজেদের মধ্যে একতা গড়ে তুলতে পারলেও তাঁর মৃত্যুর পর নিজেরা একসঙ্গে থাকতে পারেনি৷ ফলে লিবিয়ায় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সংখ্যাও বাড়ছে৷ তাদেরই একটি অংশ ২০১২ সালে বেনগাজিতে মার্কিন মিশনে হামলা চালায়৷

গাদ্দাফির পর কেমন চলছে লিবিয়া?

রাজনৈতিক বিভক্তি

লিবিয়ার বর্তমান জাতিসংঘ সমর্থিত ‘গভর্নমেন্ট অফ ন্যাশনাল অ্যাকর্ড’ বা জিএনএ সরকার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত৷ কিন্তু এর বাইরেও আরও কয়েকটি গোষ্ঠী লিবিয়ার ক্ষমতা তাদের হাতে বলে দাবি করে৷ এই সুযোগে তথাকথিত ইসলামিক স্টেট বা আইএস লিবিয়ায় নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করছে৷

গাদ্দাফির পর কেমন চলছে লিবিয়া?

সহায়তা কামনা

লিবিয়ার জিএনএ ও স্বঘোষিত ‘লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মি’ বা এলএনএ সম্প্রতি দেশটিতে শান্তি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে ন্যাটোর সহায়তা চেয়েছে৷ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট দূর করার আহ্বান জানিয়েছে জিএনএ ও এলএনএ৷

  

এই পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ তা অনুমান করাও কষ্টকর৷ একজন মানসিক স্বাস্থ্যকর্মী বলেছেন, সেখানকার গণকবরগুলোতে যত পুরুষ রয়েছে তাদের প্রত্যেকের জননেন্দ্রিয় কাটা ছিল৷ একই বর্ণনা দিয়েছেন এমন পরিস্থিতি থেকে বেঁচে ফিরে আসাদের একজনও৷ গবেষকদের কাছে অভিবাসীরা ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের বিভিন্ন বর্ণনা দিয়েছেন৷

গুপ্ত কারাগারের জন্য লিবিয়ার বানি ওয়ালিদের কুখ্যাতি রয়েছে৷ সেখানে মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছর ধরে সূর্যের আলো পৌঁছেনা এমন স্থানে বন্দিদের অর্থের জন্য আটকে রাখা হয়৷ গত বছরের মে মাসে এমন এক বন্দিশালা থেকে শতাধিক অভিবাসী ও শরণার্থী পালানোর চেষ্টা করে৷ অপহরণকারীদের গুলিতে এসময় কমপক্ষে ১৫ জন মারা যায়৷ ৪০ জন শেষ পর্যন্ত পালাতে সক্ষম হয় বলে জানিয়েছে সাহায্যকারী সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডার৷ তাদেরকে পরে আবার লিবিয়ার সরকারের একটি আটক কেন্দ্রে পাঠানো হয়৷

কঠোর নীতির কারণে সমুদ্র পথে আসা শরণার্থীদের ভূমধ্যসাগর দিয়ে এখন ইউরোপে ঢুকতে দেয়া হয় না৷ এজন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০১৪ সাল থেকে লিবিয়াকে ৩৮ কোটি ডলারের বেশি দিয়েছে৷ যার বড় একটি অংশ খরচ হয়েছে দেশটির কোস্ট গার্ডকে শক্তিশালী করা ও আটক কেন্দ্রেগুলোর পেছনে৷

গবেষণা প্রধান সারাজ চিনোয়েথ বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, জাতিসংঘ ও সাহায্যকারী সংস্থাগুলো এসব আটক কেন্দ্রে তেমন একটা যেতে পারে না৷ বন্দিরা চাইলেও তাদের অভিযোগ বলার সুযোগ পায় না৷ একটি সরকারি আটক কেন্দ্রে ১৯ বছরের একজন নাইজেরিয়ার বন্দি নারী এক স্বাস্থ্যকর্মীকে জানান, নারীরা সেখানে সব সময় ধর্ষণের হুমকিতে থাকে৷ পুরুষরাও বাদ যায় না৷ ঘুষ দিয়ে অনেক সময় অভিবাসীরা এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পায়৷

এফএস/জেডএইচ (এপি)

আমাদের অনুসরণ করুন