ইন্টারনেট সেন্সরশিপের শিকার আরেকটি গণমাধ্যম

বাংলাদেশে পরিবর্তন ডটকম নামের একটি অনলাইন গণমাধ্যমের সাইট ব্লক করেছে সরকার৷ এটিকে মত প্রকাশের স্বাধীনতায় নতুন হস্তক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে৷

বাংলাদেশের প্রথম সারির অনলাইন গণমাধ্যমগুলোর একটি পরিবর্তন ডটকম-এর ওয়েবসাইট ব্লক করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে সরকারের বিরুদ্ধে৷ রোববার থেকে সাইটটিতে ঢুকতে পারছেন না দেশের ব্যবহারকারীরা৷  বিষয়টি এএফপিকে নিশ্চিত করেছেন সংবাদ মাধ্যমটির ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আবু সুফিয়ান৷

এই প্রতিবেদন লেখার সময় জার্মানি থেকে ওয়েবসাইটটিতে প্রবেশ করা যাচ্ছিল৷ বিদেশ থেকে সাইটটিতে ঢুকতে পারার কথা ফেসবুকে একটি পোস্টে জানিয়েছেন ডয়চে ভেলের পাঠকেরাও৷ তবে বাংলাদেশ থেকে পরিবর্তন ডটকমের সাইটে প্রবেশ করা যাচ্ছে না বলে নিশ্চিত করেছেন বেশিরভাগ পাঠক৷

সরকারের নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলো পরিবর্তন ডটকম বন্ধের বিষয়ে কিছু জানে না বলে এএফপির কাছে দাবি করেছে৷ তবে গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদ সংস্থাটি দাবি করছে,  জঙ্গিবাদবিরোধী সাম্প্রতিক একটি বিজ্ঞাপনের অর্থায়ন নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পরই নিরাপত্তা সংস্থা সাইটটি ব্লক করার নির্দেশনা দিয়েছে৷

সম্প্রতি ‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ' নামের একটি সংগঠন বিভিন্ন সংবাদপত্রে একটি বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে৷ এতে ইসলামী জঙ্গি শনাক্তকরণের ২৩ টি উপায় উল্লেখ করা হয়৷ সেগুলোর কয়েকটি নিযে ব্যাপক সমালোচনা হয়৷ ইসলামী সংগঠনগুলোও এর প্রতিবাদ জানিয়েছে৷ 

সমাজ-সংস্কৃতি | 18.06.2018

নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে গত কয়েক মাসে ৫৪ টি নিউজ পোর্টাল ও ওয়েবসাইট বন্ধ করে দিয়েছে সরকার৷ সরকারের উর্দ্ধতন কর্মকর্তার যোগসাজশে তিনজন ব্যক্তি গুম হওয়ার একটি খবর প্রকাশের পর গত মার্চে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আলজাজিরার সাইটটিতেও বাংলাদেশ থেকে প্রবেশ করা যাচ্ছিল না৷   

এদিকে গত কয়েক দিনে সরকার তিনজন অ্যাক্টিভিস্ট ও লেখককে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রপ্তার করেছে৷ কবি হেনরি স্বপন, মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার'-এর কর্মী আব্দুল কাইয়ুম এবং আইনজীবী ও লেখক ইমতিয়াজ মাহমুদকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় ঢাকায় প্রতিবাদ জানিয়েছে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন৷

গত বৃহস্পতিবার জামিনে মুক্তি পেয়েছেন স্বপ্নন এবং মাহমুদ, তবে এখনো গ্রেপ্তার রয়েছেন কাইয়ুম৷  এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,  তৃতীয়বারের মতো দেশের ক্ষমতায় আসা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ক্রমাগত কতৃত্ববাদী আচরণের অভিযোগ উঠছে৷ ভিন্নমত পোষণকারীদের দমনে সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন করেছে বলেও সমালোচনা রয়েছে৷

সুইডেনভিত্তিক গবেষক ও লেখক তাসনিম খলিল বার্তা সংস্থাটিকে বলেন, বাংলাদেশে চলতি বছর থেকে শুরু হওয়া ইন্টারনেট সেন্সরশিপ ব্যবস্থার সবশেষ শিকার হয়েছে পরিবর্তন ডটকম৷ ‘‘সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা নাখোশ হয়েছে এমন একটি প্রতিবেদনের কারণেই পরিবর্তন ডটকম বন্ধ করা হয়েছে বলে আমাকে নিরাপত্তা সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে'' বলেন ২০০৭ সাল থেকে নির্বাসিত এই সাবেক সংবাদকর্মী৷

যে দেশের গণমাধ্যমের কোনো স্বাধীনতা নেই

ইরিত্রিয়া

রিপোটার্স উইদাউট বর্ডার্সের প্রকাশিত ২০১৬ প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্স অনুযায়ী, যে দেশটিতে গণমাধ্যমের কোনোই স্বাধীনতা নেই, সেটি হচ্ছে ইরিত্রিয়া৷ গত ২০ বছরের বেশি সময় ধরে স্বৈরশাসকের কবলে থাকে দেশটির কমপক্ষে ১৫ সাংবাদিক এই মুহূর্তে জেলে আছেন৷ প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্সে ১৮০টি দেশের মধ্যে সবার নীচে আছে ইরিত্রিয়া৷

যে দেশের গণমাধ্যমের কোনো স্বাধীনতা নেই

উত্তর কোরিয়া

ইরিত্রিয়ার পরই নীচের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে উত্তর কোরিয়া৷ কিম জুন-উনের নেতৃত্বাধীন দেশটি গত ১৫ বছর ধরেই প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্সের একেবারে নীচের দিকে অবস্থান করছে৷ দেশটিতে বিদেশি সাংবাদিকদের ভিসা তেমন দেয়া হয় না, যদিও বা কেউ ভিসা পান, তাঁকে রাখা হয় কড়া নজরদারিতে৷

যে দেশের গণমাধ্যমের কোনো স্বাধীনতা নেই

তুর্কমেনিস্তান

এই দেশটিকে বলা হয় পৃথিবীর অন্যতম তথ্য কৃষ্ণ গহ্বর৷ স্বাধীনভাবে কোনো সাংবাদিক কাজ করতে চাইলে তাঁর জন্য মোটামুটি কারাভোগ এবং নির্যাতন নিশ্চিত দেশটিতে৷ ইনডেক্সে তাদের অবস্থান নীচের দিক থেকে তৃতীয়৷

যে দেশের গণমাধ্যমের কোনো স্বাধীনতা নেই

ফিনল্যান্ড

এবার যাওয়া যাক, তালিকার উপরের দিকের অবস্থা৷ গত পাঁচবছর ধরেই প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্সের শীর্ষে অবস্থান করছে ফিনল্যান্ড৷ দেশটির গণমাধ্যম সবচেয়ে বেশি স্বাধীনতা উপভোগ করে৷ তবে সেদেশের অধিকাংশ পত্রিকা দু’টি মিডিয়া গ্রুপের মালিকানায় রয়েছে৷

যে দেশের গণমাধ্যমের কোনো স্বাধীনতা নেই

নেদারল্যান্ডস

প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্সে গত একবছরে দু’ধাপ এগিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে চলে এসেছে নেদারল্যান্ডস৷ দেশটির গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আইনিভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে৷

যে দেশের গণমাধ্যমের কোনো স্বাধীনতা নেই

বাংলাদেশ

বাংলাদেশে গতবছর চারজন ব্লগার এবং প্রকাশক খুন হওয়ার পরও প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্সে কিঞ্চিৎ উন্নতি ঘটেছে৷ আগের বছরের তুলনায় দুই ধাপ এগিয়ে দেশটির অবস্থান এখন ১৪৪তম, তবে গ্লোবাল স্কোর কমেছে মাইনাস ২ দশমিক ৯৯ শতাংশ৷

এফএস/এসিবি (এএফপি)

আমাদের অনুসরণ করুন