ইরানেও গ্রাম আছে, আছে পাঠশালা

সমাজ

কাত করা ব্ল্যাকবোর্ড

সবুজ রঙের ব্ল্যাকবোর্ডটি টেবিলের ওপর কাত করে, দেয়ালে ঠেস দিয়ে খাড়া করা আছে৷ এক শিক্ষার্থী টেবিলের ওপর চড়ে চক দিয়ে তাতে কি যেন লিখছে৷ শিক্ষার্থীর অভাব নেই৷ ইরানের জনগণের গড় বয়স ৩০, তাদের এক-তৃতীয়াংশের বয়স ১৮-র নীচে৷

সমাজ

‘যত বেশি শিশু, ততই মঙ্গল’

তবুও ইরান সরকার আরো বেশি সন্তান চায়৷ ‘পনেরো কোটি নাগরিকের দেশ হবে ইরান’ অথবা ‘যত বেশি শিশু, ততই মঙ্গল’, এ ধরনের স্লোগান দিয়ে সরকার দম্পতিদের আরো বেশি সন্তানের জন্ম দিতে উদ্বুদ্ধ করতে চাইছেন৷ কিন্তু এখনই সারা দেশে ৫২,০০০ শিশুর স্কুলে স্থান অকুলান৷ শিক্ষাক্ষেত্রে জিডিপির তিন শতাংশের বেশি ব্যয় করে না ইরান৷

সমাজ

ছেলে-মেয়ের আলাদা শ্রেণিকক্ষ

ইরানে ছেলে আর মেয়েদের আলাদা আলাদা শ্রেণিকক্ষে পড়ানো হয়৷ রাজধানী তেহরানে স্কুলঘর বা ক্লাসের চেয়ারটেবিলের অবস্থা স্বভাবতই মফস্বলের চেয়ে অনেক ভালো৷ শিক্ষকরাও রাজধানীর স্কুলে চাকরি পেতে চান৷

সমাজ

নীল আকাশের নীচে

শিক্ষার্থীরা রোজ তাদের ব্ল্যাকবোর্ড আর অঙ্কের হোমওয়ার্ক বাড়িতে নিয়ে যায়৷ পরের দিন আবার ঘাড়ে করে ব্ল্যাকবোর্ড আনতে হয় এই জঙ্গলে, শিক্ষকও যেখানে আসেন৷ স্কুলঘর তৈরির টাকার অর্ধেক আসে সরকারি বাজেট থেকে, বাকি অর্ধেক বিভিন্ন নিধি থেকে৷

সমাজ

গরুর গোয়াল...

গরুর গোয়াল বলে পড়ুয়াদের অপমান করা হচ্ছে না৷ স্কুলবাড়িটা আসলে একটা মুরগির খাঁচা৷ কচিকাঁচাদের পড়াশুনার জন্য এর চাইতে ভালো কিছু জোটেনি এই প্রত্যন্ত প্রদেশে৷

সমাজ

বরফে কিছু আসে যায় না

বরফ পড়লে স্কুলে যাওয়াটাই একটা অ্যাডভেঞ্চার হয়ে দাঁড়াতে পারে৷ বহু ছাত্রছাত্রীর পায়ে হেঁটে স্কুলে যেতে আর ফিরতে বেশ কয়েক ঘণ্টা সময় লেগে যায়৷ তারপর আবার অনেককে ক্ষেতে বা বাড়ির কাজে হাত লাগাতে হয়৷

সমাজ

শিক্ষকই ফেরি

আলোকচিত্রী মোহাম্মদ গোলচিন তাঁর ছবিতে এসব অসমসাহসী ছাত্র আর শিক্ষকদের কাহিনী শুনিয়েছেন৷ দরকার হলে শিক্ষক নিজে গিয়ে ছাত্রদের ঝর্না পার করে দিয়ে আসেন৷

সমাজ

মরুভূমি পার হয়ে...

মরুভূমি পার হয়ে স্কুলের পথে৷ দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের যে অংশটি পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্তের কাছে, সেই হতদরিদ্র সিস্তান ও বেলুচিস্তানে শুধু যে নতুন স্কুল নেই, তা-ই নয়, অন্তত ৬,০০০ ক্লাসঘর ভেঙে নতুন করে তৈরি করতে হবে৷ এছাড়া আরো ৮,০০০ শিক্ষকের প্রয়োজন পড়বে৷

সমাজ

শিক্ষা ও অন্ন দুইয়েরই অভাব

সিস্তান ও বেলুচিস্তানের বহু পরিবার এতই গরীব যে, তারা তাদের ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠান না৷ ওদিকে এই অঞ্চলে একটানা খরা চলেছে৷ বিশ শতাংশ শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে৷

সমাজ

‘পড়িয়ে কী হবে? বিয়ে দাও!’

আইন অনুযায়ী ইরানে স্কুলের পড়া নিখর্চায়৷ তা সত্ত্বেও প্রায় সব স্কুলই ‘স্বেচ্ছাপ্রদত্ত’ ফি দাবি করে থাকে৷ ফি দিতে না পারলে শিক্ষার সেখানেই ইতি - বিশেষ করে মেয়েদের৷

সমাজ

মেয়েরা এগিয়ে আসছে

অথচ ইরানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পরীক্ষায় কিন্তু মেয়েরাই বেশি ভালো ফল করে থাকে৷ বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীর সংখ্যা ৫০ শতাংশের চেয়ে বেশি৷ তবে বহু স্নাতকই শেষমেষ বিদেশে চলে যান৷

ইরানের মানুষজন তাদের ছেলেমেয়েদের জন্য আরো ভালো স্কুল চান৷ শহরে ভালো স্কুলের অভাব না থাকলেও, গ্রামাঞ্চলে সে ঘাটতি আছে৷ দূর গাঁয়ের কচিকাঁচারা অনেক সময় স্কুলেই যায় না অথবা যেতে পারে না৷

প্রতিবেদন: শবনম ফন হাইন/এসি
সম্পাদনা: আশীষ চক্রবর্ত্তী