উচ্ছ্বল শহরে নিরুত্তাপ এক নির্বাচন

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭৷ উচ্ছ্বল এক শহরে নিরুত্তাপ নির্বাচন দেখার অভিজ্ঞতা হলো৷ বলছি ইউরোপের কেন্দ্র জার্মানি ও তার রাজধানী বার্লিনের কথা৷ জার্মানি আর বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি যে দুই মেরুর স্বচক্ষে দেখে তার প্রমাণ মিললো৷

সে কারণেই জার্মানির জাতীয় নির্বাচন নয়, বরঞ্চ ভোটের দিনের পরিবেশ নিয়ে দু'কথা লেখার লোভ সামলাতে পারলাম না৷

আপনি কী ভাবছেন?

এখানে ক্লিক করুন ও আলোচনায় যোগ দিন

বাংলাদেশের মূল ধারার গণমাধ্যমে নির্বাচন কমিশন বিটে কাজ করার সুবাদে গত প্রায় দশ বছর ধরে দেশের জাতীয়, স্থানীয়, অর্থাৎ সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদসহ সব ধরনের নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহ, সরাসরি সম্প্রচার, সংবাদ পরিবেশনাসহ সব ধরনের অভিজ্ঞতাই হয়েছে৷ কিন্তু দশ বছর পর দেখা মিললো ব্যতিক্রমী এক নির্বাচন দেখার৷ সুযোগ হলো ডয়চে ভেলের কল্যাণে৷

শুরুতেই বাংলাদেশের নির্বাচনের কথা বলছিলাম, কারণ তাহলে জার্মানি কোন কোন জায়গায় তাদের চেয়ে আলাদা সেটা পরিষ্কার হবে৷ নির্বাচনের আগে, অর্থাৎ তফসিল ঘোষণার আগে থেকেই বাংলাদেশে ব্যানার, পোস্টারে আভাস পাওয়া যায় যে সেই এলাকায় এবার ভোটের প্রার্থীহচ্ছেন কে৷

এর মাধ্যমেই ভোটারদের জানান দেয়া হয় যে তিনি আসছেন মাঠে৷ দলীয় নির্বাচন হলে অনেকক্ষেত্রে আবার এ সব প্রচারের মাধ্যমে প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে দলের কাছেও নিজের আগ্রহ তুলে ধরা যায়৷ এ সব প্রচারে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই যদিও লেখা হয় ‘প্রচারে এলাকাবাসী'৷ যাই হোক জার্মানির মিউনিখ শহরে যেয়ে ভোটের মাত্র এক সপ্তাহ আগেও প্রার্থীদের পোস্টার খুঁজতে রীতিমতো হন্যে হয়ে ঘুরতে হয়েছে আমাকে৷ তফসিল ঘোষণা তো বহু আগের কথা৷

এরপর প্রচার শুরু হলো তো বাংলাদেশে সেই নির্বাচনি এলাকায় উৎসব শুরু হলো৷ প্রচারের কৌশলে ইদানীং আবার নানা ভিন্নতাও দেখা যাচ্ছে৷ সব শেষ ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে তো প্রার্থীর পক্ষে তারকাদেরও মাঠে নামতে দেখা গেছে৷ জার্মানির বড় শহরগুলোতে মিটিং বা শোভা হলেও অলিতে গলিতে ভোটের কোনো চিত্র চোখে পড়েনি৷ বড় জোর একটা পোস্টার৷ তবে একদিন নজরে পড়েছিল এক প্রার্থীর কর্মীরা ট্রাম স্টপে লিফলেট বিলি করছিলেন আর সাথে সবার হাতে একটি করে আপেল দিয়ে দিচ্ছিলেন৷ ভোটারদের সেই প্রার্থীকে ভোট দিতে আহ্বান নয় বরং বলছিলেন, ‘২৪ তারিখে ভোট কেন্দ্রে আসবেন৷'

এই আহ্বানে সাড়া দেয়া অবশ্য সব ভোটারের পক্ষে সম্ভব হয় না এখানে৷ রবিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হলেও যাঁদের সেদিন ছুটি থাকে না, তাঁদের বেশিরভাগই আগেই পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়ে ফেলেন৷ এমনকি ভোটের দিনও অনেকে ভোটকেন্দ্রে না যেয়ে একইভাবে ভোট দিয়ে ফেলেন৷

ভোটের দিনের সকালেই খাই প্রথম ধাক্কা৷ এইদিন বার্লিন শহরে ছিল ম্যারাথন প্রতিযোগিতা৷ এই উপলক্ষ্যে প্রায় ৪৫ হাজার মানুষ এসেছে এই শহরে৷ হোটেল থেকে নীচে নামতেই দেখি বিশাল আয়োজন চারপাশে৷ বেশিরভাগ রাস্তাই ফিতা দিয়ে আটকে রাখা৷ উৎসাহ আর উদ্দীপনার সাথে দর্শক ভিড় করেছে সড়কের পাশে৷ বিশাল সাউন্ড সিস্টেমে গানও বাজছে৷ ভাবলাম, বেশ৷ ভোট কেন্দ্রেও তাহলে বেশ সাজগোজ থাকবে নিশ্চয়৷

আমার আশায় গুঁড়ে বালি৷ ভোট কেন্দ্রের সামনে যেয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট লাগল আমার এটা বুঝতে যে এটি আসলে ভোটকেন্দ্র৷ কেন্দ্রের বাইরে টেবিল, চেয়ার পেতে প্রার্থীর পক্ষে কেউ ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন না৷ ভোট কক্ষের নম্বর বলে দেবার ছলে বলছেন না, ‘ভাই অমুককে ভোটটা দিয়েন'৷

সমাজ-সংস্কৃতি

একেবারে সবুজ

গ্রিন পার্টি বা সবুজ দল জার্মানির পরিবেশবাদী দল হিসেবে পরিচিত৷ সুতরাং পরিবেশভিত্তিক কাজ করবেন এই দলের প্রার্থীরা, এটাই স্বাভাবিক৷ কিন্তু তাই বলে নির্বাচনের প্রার্থীরা সাইকেলে চড়ে প্রচারণা চালাবেন! এমন ঘটনাই ঘটেছে ওস্টেরড শহরে৷ ২৪ হাজার বাসিন্দার এ শহরটিতে দলের প্রার্থী ফিওলা ফন ক্রামন একটি পরিবেশবান্ধব ই-বাইকে চড়ে চেষ্টা করছেন ভোটারদের আকৃষ্ট করার৷

সমাজ-সংস্কৃতি

ফ্রি খাবার

অনেক দেশে ভোটারদের ফ্রি খাবার দিয়ে আকৃষ্ট করায় বিধিনিষেধ থাকলেও জার্মানিতে এমন নিষেধাজ্ঞা নেই৷ অবশ্যই খাবারের বিনিময় হিসেবে ভোট চাওয়া যাবে না৷ কোলনের কোরভাইলার এলাকার ৭৫ শতাংশ ভোটারই অভিবাসী পরিবারের৷ সেখানে বাম দল আয়োজন করেছে ক্যাম্পেইন পিকনিকের৷ বারবিকিউ, নানা রকমের পানীয়, টেবিল সকার এবং শিশুদের জন্য বেলুনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে৷ উদ্দেশ্য একটাই– কেউ এসে বসলে তার সাথে রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করা৷

সমাজ-সংস্কৃতি

বিয়ার নয়, ক্লাবহাউজ

জার্মানরা বিয়ার বিশেষভাবে পছন্দ করে৷ তাই বিয়ারগার্ডেনেই সাধারণত আয়োজন হয় নানা অনুষ্ঠানের৷ কিন্তু বাভেরিয়ার কুল্মবাখ শহরে খ্রিষ্টীয় গণতন্ত্রী দল সিডিইয়ের সহযোগী দল খ্রিষ্টীয় সামাজিক ইউনিয়ন -সিএসইউ বেছে নিয়েছে নতুন আইডিয়া৷ দলের প্রার্থী এমি সয়েলনার এবং সিডিইউয়ের বক্তা ভ্যোলফগাং বসবাখ আলোচনার আয়োজন করেছেন এক সকার ক্লাব হাউসে৷

সমাজ-সংস্কৃতি

ঘণ্টা আর বাঁশি

সামাজিক গণতন্ত্রী দল এসপিডির তরুণরা বাঁশি ও ঘণ্টা নিয়ে নেমেছেন মাঠে৷ হইহুল্লোড়ে দলের চ্যান্সেলর প্রার্থী মার্টিন শুলৎসকে স্বাগত জানানোই লক্ষ্য৷ একই সাথে দলের উপস্থিতি যতটা সশব্দে জানান দেয়া যায়৷ ও হ্যাঁ, সবার হাতে হাতে সাবানের বুদবুদও ছিল৷

সমাজ-সংস্কৃতি

শিশা বারে নির্বাচনি প্রচারণা

এত কিছু থাকতে শিশা বার! এমন অদ্ভুত ভেন্যু বেছে নিয়েছে বিদ্রুপাত্মক দল ‘দি পার্টি’৷ ফ্রাংকফুর্টের এক শিশা বা হুক্কা বারে রীতিমতো আনুষ্ঠানিক পোশাকে দলের ব্যানার হাতে ভোটারদের স্বাগত জানান নেতারা৷ দেখে বোঝার উপায় নেই, এটা সত্যিকারের নির্বাচন প্রচারণা না৷

সমাজ-সংস্কৃতি

সবার জন্য সর্বনিম্ন বুদ্ধি

অনেক দলই মাথা ঘামাচ্ছে সর্বনিম্ন মজুরি নিয়ে৷ তবে দি পার্টির মূল চিন্তা মানুষের সর্বনিম্ন বুদ্ধি নিয়ে৷ মানুষ হওয়ার জন্য একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ বুদ্ধি অবশ্যই থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন দলের নেতারা৷ কিছু দল পরিচয় দিচ্ছে কট্টর বাম, কেউ আবার চরম ডান, কিন্তু দি পার্টি নিজের পরিচয় দেয় কট্টর মধ্যপন্থি হিসেবে৷ প্রহসন, মজা আর কৌতুকই আসল, নিজেদের কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক অংশের সাথে যুক্ত করতে চান না তাঁরা৷

একজন দু'জন করে ভোটাররা এখানে নিজেদের মতো আসছেন৷ সব মিলিয়ে মাত্র দু'মিনিটের খরচায় ভোট দিয়ে চলে যাচ্ছেন৷ ফলে কেন্দ্রের বাইরে দীর্ঘ লাইনের কোনো সুযোগই তৈরি হয় না এখানে৷ বলে রাখা ভালো, এত কম সময় হলেও ভোট কিন্তু ব্যালটেই হয় এখানে৷

সকাল সকাল মনে হচ্ছিল ভোটার বোধহয় একেবারেই আসবেন না৷ কিন্তু না, ভোটার একজন দু'জন করে ঠিকই আসছিলেন৷ সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত টেম্পলহফের একটি কেন্দ্রে দেখলাম অন্তত ৫০ জন ভোটার ভোট দিলেন৷ ভেতরে তিনটি বুথে ভোট নেয়া হচ্ছিল৷ অর্থাৎ প্রতি বুথে ঘণ্টায় ১৬ জনের বেশি ভোটার ভোট দিয়েছেন৷

এই ভোটারদের মধ্যে ইয়েলিজ নামের ২১ বছরের এক তরুণীর সাথে কথা হলো৷ মেকআপের স্পেশাল ইফেক্ট নিয়ে পড়াশুনা করছেন তিনি৷ বললেন, ডানপন্থিদের কোনোভাবেই শক্তিশালী দেখতে চান না তিনি৷ এমনকি সংসদের সংখ্যা বাড়া ঠেকাতেই ভোট দিলেন তিনি৷

লিওনার্দো ও জুলিয়া নামের এক দম্পতি জানালেন যে, জার্মানির উজ্জ্বল ভবিষ্যত দেখতে চান তাঁরা৷ তাই ভোট দেয়াকে দায়িত্ব মনে করেন৷

তবে ‘জার্মানিতে পরিবর্তন আসবে' এই আশাতে ভোট দেয়ার কথা জানান এক ভোটার৷ বলে রাখা দরকার, এবারের নির্বাচনে ডানপন্থি একটি দলের নির্বাচনি স্লোগানই ছিল, ‘জার্মানির পরিবর্তন'৷

৯১ বছর বয়সি এফার সাথে কথা হলো৷ কথায় কথায় তিনি বললেন, ‘‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ দেখেছি৷ কাজেই যুদ্ধ যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে৷ আমি তা জানি৷ আর চাই না৷ কট্টর ডানপন্থিরা সেদিকে এগোতে পারে৷ তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে৷ সেকারণেই ভোট দিতে এলাম৷''

Deutschland Bundestagswahlen deutsch-bangladeschische Wähler

ডয়চে ভেলের হয়ে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জার্মান ভোটারদের প্রশ্ন করছেন আসমা মিতা

যাই হোক, এখানে ভোট কেন্দ্রের বাইরে চৌহদ্দি তো দূরের কথা কোনো সীমানাতেই একজন পুলিশেরও দেখা মিললো না৷ ‘সেনাবাহিনী চাওয়ার দাবি নিয়ে রাজনীতি' তো বহু দূরের কথা৷ শহরের ভেতরে ভোটকে ঘিরে কোনো সাজ সাজ রব নেই৷ বরং ম্যারাথনের জন্য মূল সব সড়কের দু'পাশ ব্যারিকেড দিয়ে দর্শকদের জন্য আলাদা করা হয়৷ তবে হ্যাঁ, গণমাধ্যমের প্রস্তুতির কোনো ঘাটতি দেখা যায়নি৷ ভোটের আগের দিনই দেখেছি ম্যার্কেলের দলসিডিইউ-এর পার্টি অফিসের সামনে সরাসরি সম্প্রচারের জন্য অন্তত ২৫টি ওবি ভ্যান রাখা৷ ব্রান্ডেনবুর্গ তোরণ, সংসদ ভবনসহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ সব খানেই টেলিভিশন ক্যামেরা আর সংবাদকর্মীদের আনাগোনা৷

তবে সন্ধ্যা ৬টায় ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার দুই মিনিটের মধ্যেই ‘এক্সিট পুল' বা জরিপ সংস্থাগুলো ভোটের প্রাথমিক ফলাফল জানিয়ে দেয়, যা পরে নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক ফলাফলের সাথে খুব একটা হেরফের হয় না৷ তাই এই ঘোষণাতেই সবাই বুঝে যায় কী ঘটেছে৷ সেই ফলাফল দেখার এক ঘণ্টার মধ্যেই দেখলাম, খোলা আকাশের নীচ থেকে প্রায় সব গণমাধ্যম তাঁবু গুটিয়ে নিচ্ছে৷ সবাই তখন বসে যান স্টুডিওতে কোয়ালিশন নিয়ে আলাপচারিতায়৷ অন্যদিকে, শহর তৈরি হতে থাকে পরের দিনের কর্মযঞ্জের জন্য প্রস্তুত হতে৷ কোথাও কোনো শোরগোল নেই, আনন্দ মিছিল নেই, এমনকি ক্ষোভও প্রকাশ করছে না কেউ ‘কেন কম ভোট পেলেন' এই ভেবে৷ ভোটে কারচুপির অভিযোগের তো প্রশ্নেই আসে না৷ সবার অপেক্ষা তখন কাদের নিয়ে ম্যার্কেল কোয়ালিশন করেন, সেটা দেখার৷

ভোটের দিনের এমনই এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা নিয়ে রাতে আমি ফিরলাম হোটেলে৷


লেখাটি কেমন লাগলো? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

রাজনীতি

জার্মানিতে বিদেশি পতাকার রং

জার্মানির সংসদ নির্বাচনে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে আবারো নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করেছে সিডিইউ বা খ্রিষ্টীয় গণতন্ত্রীরা৷ অর্থাৎ চতুর্থবারের মতো জার্মানির চ্যান্সেলর হতে চলেছেন আঙ্গেলা ম্যার্কেল৷ কিন্তু সরকার গঠনের ক্ষেত্রে চিরাচরিত কালো-হলুদ নয়, দেখা দিতে পারে জামাইকা, কেনিয়া বা ট্র্যাফিক লাইটের মতো কোয়ালিশন৷

রাজনীতি

কালো-লালের দিন শেষ?

চার বছর আগে, সিডিইউ-সিএসইউ আর সামাজিক গণতন্ত্রী, মানে এসপিডি দল একত্রে জোট সরকার গঠন করেছিল৷ অর্থাৎ বৃহৎ কোয়ালিশনের রং ছিল কালো-লাল৷ কিন্তু ২০১৭ সালের সংসদীয় নির্বাচনের পর এসপিডি দলের চ্যান্সেলর পদপ্রার্থী মার্টিন শুলৎস বেশ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে এবার আর মহাজোটের সম্ভাবনা নেই৷ বরং বিরোধী দল হিসেবেই সংসদে বসবে এসপিডি৷

রাজনীতি

তৃতীয় বৃহত্তম দল এএফডি

জার্মানির সংসদীয় নির্বাচনের ফলাফলে দেশের তৃতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এসেছে অলটারনেটিভ ফর জার্মানি বা জার্মানির জন্য বিকল্প দল (এএফডি)৷ এই দলটি প্রতিষ্ঠিত হয় ২০১৩ সালের এপ্রিল মাসে৷ তুলনামূলকভাবে জার্মানির রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন দল হলেও, প্রতিষ্ঠার পাঁচ মাস পরের নির্বাচনেই প্রায় পাঁচ শতাংশের কাছাকাছি ভোট পেয়ে সাড়া ফেলে দেয় এই দল৷ আর এবার, সেই এএফডি-ই তৃতীয় বৃহত্তম দল৷

রাজনীতি

জামাইকা কোয়ালিশন

নির্বাচনি প্রচারণা চলাকালেই এএফডি-র সঙ্গে জোট বাঁধতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল সিডিইউ-সিএসইউ, এসপিডি, মুক্ত গণতন্ত্রী (এফডিপি), সবুজ দল এবং বামদলের মতো বড় দলগুলি৷ নির্বাচনের পরেও তারা সেই অবস্থানেই রয়েছে৷ তাই এএফডি যদি জোটের বাইরে থেকে যায়, তবে সরকার গঠন করতে সিডিইউ-সিএসইউ দলের হাত ধরতে পারে এফডিপি আর সবুজ দল৷

রাজনীতি

কেনিয়া কোয়ালিশন

ভোটের অঙ্ক অনুযায়ী অবশ্য আরো একটি কোয়ালিশনের সুযোগ আছে৷ আর সেটা হচ্ছে সিডিইউ-সিএসইউ, এসপিডি এবং সবুজ দলের, যদিও প্রথম দুটি দলেরই সম্মিলিত সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকছে৷ অর্থাৎ কেনিয়ার ফ্ল্যাগের রঙে কালো-লাল-সবুজের৷ অধিকাংশ রাজনীতিবিদ এ সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দিলেও গত বছর স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যেও কিন্তু জোট গঠন করেছিল এই দলগুলি৷

রাজনীতি

লাল-লাল-সবুজ

এসপিডি আর বামদলের সঙ্গে সবুজ দলের জোট হলে তা হতে পারতো লাল-লাল-সবুজের জোট৷ তবে সংসদীয় নির্বাচনের ফলাফলে এসপিডি দলের ভরাডুবির ফলে সে সম্ভাবনা আর নেই৷

রাজনীতি

ট্র্যাফিক লাইট কোয়ালিশন

যথেষ্ট আসনসংখ্যা না থাকার কারণে লাল-হলুদ-সবুজ বা এসপিডি-এএফডি আর সবুজ দলেরও আর জোট গড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই৷

সংশ্লিষ্ট বিষয়

জার্মানি ইউরোপ | 21.11.2017

জার্মান রাজনীতিতে উদ্বেগ

জার্মান নির্বাচন | 31.07.2017

এমন নেতা যদি সবাই পেত!