উদ্বাস্তু সংকট নিয়ে একযোগে কাজ করবে ইইউ-তুরস্ক

উদ্বাস্তু সংকট নিরসনে তুরস্কের সঙ্গে কাজ করবে ইইউ৷ ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত এক সভায় সংকট মোকাবেলায় তুরস্ককে সহায়তা করার সিদ্ধান্তও নিয়েছে ইইউ৷ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমেও তাই এখন ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ এ বৈঠকের খবর৷

সব খবরের শিরোনামেই এসেছে শরণার্থী সংকট নিরসনে ইইউ-তুরস্কের দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করতে সম্মত হওয়ার কথা৷

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টুস্ক জানিয়েছেন, ব্রাসেলসে গৃহীত সিদ্ধান্ত ইউরোপে অভিবাসী সংকট নিরসনে ভূমিকা রাখবে বলে তিনি ‘সতর্কভাবে আশাবাদী'৷

এ মুহূর্তে অন্তত ২০ লক্ষ শরণার্থী রয়েছে তুরস্কে৷ তাদের অনেকেই ইউরোপের আসার জন্য মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন৷ অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ঢল নামায় ইউরোপে ইতিমধ্যে সংকটের আভাস দেখা দিয়েছে৷ এ অবস্থায় তুর্কিদের জন্য ইউরোপে আসার ভিসা পাওয়া আরো সহজ করার পাশাপাশি সে দেশে অবস্থানরত শরণার্থীদের জন্য তিন বিলিয়ন ইউরো পর্যন্ত বরাদ্দ করতে পারে ইইউ, কূটনীতিকরা জানিয়েছেন৷ তবে ডোনাল্ড টুস্ক এ-ও বলেছেন, ‘‘শরণার্থীর স্রোত কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা গেলই কেবল তুরস্কের সঙ্গে চুক্তিকে অর্থবহ বলা যাবে৷''

এদিকে শরণার্থী সংকট মোকাবিলায় ইইউ-র এই পদক্ষেপের দিনেই বুলগেরিয়ার সীমান্তে সেনাবাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছেন তুরস্ক থেকে আসা এক অভিবাসন প্রত্যাশী৷ বিবিসির খবর অনুযায়ী, সেনাবাহিনীর গুলিতে অভিবাসনপ্রত্যাশীর নিহত হওয়ার এই সংবাদ শোনার পরই ব্রাসেলসের বৈঠকস্থল ত্যাগ করেন বুলগেরিয়ার প্রধানমন্ত্রী বোয়কো বরিসভ৷

অনেক শরণার্থী এসেছে জার্মানিতে৷ অথচ ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেশির ভাগ দেশ শরণার্থী নিতে নারাজ৷ এ অবস্থায় ইইউ-র সব সদস্য দেশকে কোটা অনুযায়ী শরণার্থী নিতে হবে – এমন দাবি জানিয়েছিল জার্মানি৷ মঙ্গলবারের বৈঠকে দাবি পূরণ হয়েছে৷ সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটে সিদ্ধান্ত হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার শরণার্থীকে ভাগ করে দেয়া হবে৷ জার্মানি নেবে ৩১ হাজার ৪৪৩ জন৷ বছর শেষে জার্মানিতে আগত মোট শরণার্থী ৮ লাখে হয়ে যেতে পারে৷

৫ লক্ষ ৬২ হাজার জনসংখ্যার দেশ লুক্সেমবুর্গও শরণার্থী নেবে৷ ছোট দেশ তাই মাত্র ৪৪০ জন নেবে তারা৷ তবে দেশটির সরকার মনে করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ঐক্য ধরে রাখতে সব সদস্য দেশের শরণার্থী নেয়াটা এখন কর্তব্যের পর্যায়ে পড়ে৷ এমনিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নে ছোট দেশটির এখন বড় ভূমিকা পালন করাই স্বাভাবিক, কেননা, এ মুহূর্তে ইইউর সভাপতি দেশও লুক্সেমবুর্গ৷

সব খবরের শিরোনামেই এসেছে শরণার্থী সংকট নিরসনে ইইউ-তুরস্কের দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করতে সম্মত হওয়ার কথা৷

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টুস্ক জানিয়েছেন, ব্রাসেলসে গৃহীত সিদ্ধান্ত ইউরোপে অভিবাসী সংকট নিরসনে ভূমিকা রাখবে বলে তিনি ‘সতর্কভাবে আশাবাদী'৷

এ মুহূর্তে অন্তত ২০ লক্ষ শরণার্থী রয়েছে তুরস্কে৷ তাদের অনেকেই ইউরোপের আসার জন্য মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন৷ অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ঢল নামায় ইউরোপে ইতিমধ্যে সংকটের আভাস দেখা দিয়েছে৷ এ অবস্থায় তুর্কিদের জন্য ইউরোপে আসার ভিসা পাওয়া আরো সহজ করার পাশাপাশি সে দেশে অবস্থানরত শরণার্থীদের জন্য তিন বিলিয়ন ইউরো পর্যন্ত বরাদ্দ করতে পারে ইইউ, কূটনীতিকরা জানিয়েছেন৷ তবে ডোনাল্ড টুস্ক এ-ও বলেছেন, ‘‘শরণার্থীর স্রোত কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা গেলই কেবল তুরস্কের সঙ্গে চুক্তিকে অর্থবহ বলা যাবে৷''

এদিকে শরণার্থী সংকট মোকাবিলায় ইইউ-র এই পদক্ষেপের দিনেই বুলগেরিয়ার সীমান্তে সেনাবাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছেন তুরস্ক থেকে আসা এক অভিবাসন প্রত্যাশী৷ বিবিসির খবর অনুযায়ী, সেনাবাহিনীর গুলিতে অভিবাসনপ্রত্যাশীর নিহত হওয়ার এই সংবাদ শোনার পরই ব্রাসেলসের বৈঠকস্থল ত্যাগ করেন বুলগেরিয়ার প্রধানমন্ত্রী বোয়কো বরিসভ৷

ইইউ-র বৈঠকে তুরস্ক থেকে ভিসা প্রাপ্তি সহজতর করার সিদ্ধান্তের দিনেই এক অভিবাসনপ্রত্যাশীর এভাবে নিহত হওয়ার ব্যাপারটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমেও আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে৷ কেউ কেউ মনে করছেন, এই ঘটনাই প্রমাণ করে ইইউ নিজেদের এলাকাকে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের যে খুব নিরাপদ বলে দাবি করে সেই দাবি হাস্যকর

জার্মানির স্বস্তি

অনেক শরণার্থী এসেছে জার্মানিতে৷ অথচ ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেশির ভাগ দেশ শরণার্থী নিতে নারাজ৷ এ অবস্থায় ইইউ-র সব সদস্য দেশকে কোটা অনুযায়ী শরণার্থী নিতে হবে – এমন দাবি জানিয়েছিল জার্মানি৷ মঙ্গলবারের বৈঠকে দাবি পূরণ হয়েছে৷ সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটে সিদ্ধান্ত হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার শরণার্থীকে ভাগ করে দেয়া হবে৷ জার্মানি নেবে ৩১ হাজার ৪৪৩ জন৷ বছর শেষে জার্মানিতে আগত মোট শরণার্থী ৮ লাখে হয়ে যেতে পারে৷

জার্মানির পরই ফ্রান্স

কোটা অনুযায়ী শরণার্থী বণ্টনের দাবিতে ফ্রান্সও ছিল জার্মানির সঙ্গে৷ মঙ্গলবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শরণার্থীর চাপটা তাদের ওপরও খুব কম পড়বে না৷ এই দফায় ২৪ হাজার ৩১ জন শরণার্থী নেবে ফ্রান্স৷ছবিতে হাঙ্গেরি সীমান্তের এক শরণার্থী শিশু৷

চারটি দেশের ঘোর আপত্তি

পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো শুরু থেকেই শরণার্থী নেয়ার বিপক্ষে৷ মঙ্গলবার হাঙ্গেরি, রোমানিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র ও স্লোভাকিয়া শরণার্থী নেয়ার বিপক্ষে ভোট দেয়৷ ভোটের পর চেক প্রজাতন্ত্রের প্রধানমন্ত্রী বহুস্লাভ সবটকা বলেন, ‘‘এটা খুবই খারাপ সিদ্ধান্ত৷’’ সরাসরি আপত্তি জানালেও এখন রোমানিয়া ৪ হাজার ৬৪৬ জন, চেক প্রজাতন্ত্র ২ হাজার ৯৭৮ জন এবং স্লোভাকিয়া ১ হাজার ৫০২ জন শরণার্থী নেবে৷

দায়িত্ব মনে করে শরণার্থী নেবে লুক্সেমবুর্গ

৫ লক্ষ ৬২ হাজার জনসংখ্যার দেশ লুক্সেমবুর্গও শরণার্থী নেবে৷ ছোট দেশ তাই মাত্র ৪৪০ জন নেবে তারা৷ তবে দেশটির সরকার মনে করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ঐক্য ধরে রাখতে সব সদস্য দেশের শরণার্থী নেয়াটা এখন কর্তব্যের পর্যায়ে পড়ে৷ এমনিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নে ছোট দেশটির এখন বড় ভূমিকা পালন করাই স্বাভাবিক, কেননা, এ মুহূর্তে ইইউর সভাপতি দেশও লুক্সেমবুর্গ৷

সবচেয়ে কম শরণার্থী নেবে মাল্টা

ইইউ অঞ্চলের আরেক ছোট দেশ মাল্টা৷ আয়তন মাত্র ৩১৬ বর্গ কিলোমিটার আর জনসংখ্যা ৪৪ হাজারের একটু বেশি৷ এমন ছোট দেশটিও ১৩৩ জন শরণার্থী নেবে৷

আর যেসব দেশ শরণার্থী নেবে

ইইউ-র আরো কয়েকটি দেশও শরণার্থী নেবে৷ স্পেন নেবে ১৪ হাজার ৯৩১ জন, পোল্যান্ড ৯ হাজার ২৮৭ জন, নেদারল্যান্ডস ৭ হাজার ২১৪ জন, বেলজিয়াম ৪ হাজার ৫৬৪ জন, সুইডেন ৪ হাজার ৪৬৮ জন, অস্ট্রিয়া ৩ হাজার ৬৪০ জন, পর্তুগাল ৩ হাজার ৭৪ জন, ফিনল্যান্ড ২ হাজার ৩৮৮ জন, বুলগেরিয়া ১৬০০ জন, ক্রোয়েশিয়া ১ হাজার ৬৪ জন, লিথুয়ানিয়া ৭৮০ জন, স্লোভেনিয়া ৬৩১ জন, লাটভিয়া ৫২৬ জন, এস্তোনিয়া ৩৭৩ এবং সাইপ্রাস নেবে ২৭৪ জন শরণার্থী৷

সংকলন: আশীষ চক্রবর্ত্তী

সম্পাদনা: অরুণ শঙ্কর চৌধুরী