উদ্বাস্তু সংকট নিয়ে চাপের মুখে ম্যার্কেল

‘‘হাসিমুখে'' উদ্বাস্তুদের স্বাগত জানানোর কথা বলেছিলেন যে চ্যান্সেলর, বলেছিলেন ‘‘আমরা পারব'', তিনি আজ নিজের দল, মিত্রদল ও জোট সহযোগীর তরফ থেকে সমালোচনার মুখে পড়েও পিছপা নন৷

‘‘হাসিমুখে'' উদ্বাস্তুদের স্বাগত জানানোর কথা বলেছিলেন যে চ্যান্সেলর, বলেছিলেন ‘‘আমরা পারব'', তিনি আজ নিজের দল, মিত্রদল ও জোট সহযোগীর তরফ থেকে সমালোচনার মুখে পড়েও পিছপা নন

আপনি কী ভাবছেন?

এখানে ক্লিক করুন ও আলোচনায় যোগ দিন

এ সপ্তাহেই ম্যার্কেলের নিজের দল খ্রিষ্টীয় গণতন্ত্রীদের দলীয় সম্মেলন৷ ম্যার্কেলের মুখপাত্র স্টেফেন সাইব্যার্ট সোমবার জানান যে, ম্যার্কেল তাঁর ভাষণে অভিবাসীদের সংখ্যা কমানোর জন্য ‘‘জাতীয় ও ইউরোপীয় কর্তব্য সম্পর্কে তাঁর স্পষ্ট কর্মসূচির পুনরাবৃত্তি করবেন''৷

উদ্বাস্তু বা শরণার্থী সমস্যার ক্ষেত্রে মঙ্গলবার জার্মান পত্র-পত্রিকা যার মন্তব্য নিয়ে ব্যস্ত, তিনি হলেন ম্যার্কেল মন্ত্রীসভায় পরিবহণ মন্ত্রী আলেক্সান্ডার ডোব্রিন্ট, সিডিইউ দলের বাভেরীয় অংশীদার সিএসইউ দলের রাজনীতিক৷

Deutschland Flüchtlinge in Passau

বাভারিয়ার সীমান্তে উদ্বাস্তুদের আসা কমেনি

ডোব্রিন্ট মিউনিখের একটি পত্রিকাকে বলেছেন, ‘‘শেষমেষ যে সীমান্ত বন্ধ করতে হতে পারে, সেই সম্ভাবনার জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে''৷ এর আগে, সপ্তাহান্তে সিএসইউ প্রধান হর্স্ট সেহোফার ‘ডেয়ার স্পিগেল' সংবাদ-সাপ্তাহিককে বলেছিলেন যে, তিনি আগামী দু'সপ্তাহের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারকে সীমান্তে ‘‘সুশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি'' দাবি করে একটি লিখিত আবেদন পাঠাবেন৷ সেই সঙ্গে যদি যোগ করা যায় যে, গোঁড়া রক্ষণশীল সাবেক সিএসইউ প্রধান এডমুন্ড স্টয়বার ম্যার্কেলকে আগামী মার্চ মাসের মধ্যে তাঁর অভিবাসন নীতি পরিবর্তন করার, নয়ত জোটের অভ্যন্তরে প্রকাশ্য বিদ্রোহের সম্মুখীন হওয়ার হুমকি দিয়েছেন – তাহলে বোঝা যায় যে, ম্যার্কেল কোণঠাসা না হলেও, বিব্রত৷

এ বছর জার্মানির তিনটি রাজ্যে প্রাদেশিক নির্বাচন, যাদের মধ্যে প্রথমটি এই মার্চ মাসেই৷ এ সব নির্বাচনে যদি দেখা যায় যে, খ্রিষ্টীয় ইউনিয়ন দলগুলিকে ভালোরকম ভোট খোয়াতে হয়েছে – তাহলে হয়ত স্টয়বারের হুমকি ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবে কাজ করবে৷ ইতিমধ্যে ‘জার্মানি ক্ষুব্ধ; জার্মান মিডিয়ার একটা বড় অংশ ক্ষুব্ধ; দেশে দশ লাখের বেশি উদ্বাস্তু, ও তাদের নিয়ে ক্রমেই আরো বেশি সমস্যা', লিখেছেন ডয়চে ভেলের ক্রিস্টফ স্ট্রাক তাঁর সংবাদভাষ্যে৷

স্ট্রাক বলছেন, তিনি এ দেশের মানুষ অথবা মিডিয়াকে এ রকম কড়া ভাষায় তাদের মনোভাব ও মতামত প্রকাশ করতে দেখেননি৷ তার সাথে যেন কিছুটা ‘শাডেনফ্রয়েডে', অর্থাৎ অন্যের বিপাকে আনন্দের ব্যাপারটাও আছে৷ এবং ম্যার্কেল সেই সমালোচনা ও শাডেনফ্রয়েডের লক্ষ্য হয়ে উঠেছেন, কেননা তিনিই তো ‘‘মানবিক দায়ের'' কথা বলে উদ্বাস্তুদের জন্য জার্মানির সীমান্ত খুলে দিয়েছিলেন৷

ম্যার্কেল যতটা অনড়, তার দল ততটা নয়৷ তাই সিডিইউ দল সোমবার সিদ্ধান্ত নেয় যে, মরক্কো, আলজিরিয়া ও টিউনিশিয়া, উত্তর আফ্রিকার এই তিনটি দেশকে ‘নিরাপদ দেশ' হিসেবে ঘোষণা করা উচিত, যা-তে সেখান থেকে আসা উদ্বাস্তু বা অভিবাসন প্রত্যাশীদের রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন নামঞ্জুর করার, অথবা আবেদন নামঞ্জুর হওয়ার পর তাদের স্বদেশে ফেরৎ পাঠানো সহজ হয়৷

Oberhausen Kirche Flüchtlingsunterkunft Betten

জায়গার অভাবে গির্জাতেও উদ্বাস্তুদের থাকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে

জোট সহযোগী এসপিডি দল এখন তৃণমূলের মনোভাব আঁচ করে তাদের উদ্বাস্তু নীতি বদলাতে শুরু করেছে৷ স্ট্রাক যেমন লিখেছেন, এটা কড়া অভিমত ও কড়া ভাষায় সেই অভিমত প্রকাশের পরিস্থিতি; তাই এসপিডি প্রধান সিগমার গাব্রিয়েলকে আলজিরিয়া ও মরক্কো প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে বলেন যে, যে সব দেশ তাদের নাগরিকদের ফেরৎ নিতে অস্বীকার করবে, তাদের উন্নয়ন সাহায্য হ্রাস করার কথা ভাবা যেতে পারে৷

ম্যার্কেল কী করেছেন, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভবত তিনি কী করেননি৷ এক্ষেত্রে গ্রিসকে আর্থিক ত্রাণের অঙ্কটা যে কী হতে পারে, সে'বিষয়ে আগে থেকে কিছু না বলা; এবং একটি নতুন অভিবাসন আইন প্রণয়নের কাজ ক্রমাগত পিছিয়ে দেওয়া – ম্যার্কেলের এই দু'টি ‘ওমিশান' বা অসম্পন্ন কাজের কথা বলেছেন ক্রিস্টফ স্ট্রাক৷

পুনর্বাসন প্রচেষ্টা

নিরপেক্ষ স্বেচ্ছাসেবীরা ক্যালের ‘জঙ্গল মহলের’ বাসিন্দাদের তাদের ঝোপড়ি সরিয়ে নিতে সাহায্য করছেন, কেননা রিফিউজিদের ক্যাম্পের পাশ দিয়েই চলে গেছে ইউরোটানেল মুখী একটি হাইওয়ে৷ সেই হাইওয়ে আর ক্যাম্পের মধ্যে অন্তত ১০০ মিটার এলাকা ফাঁকা রাখতে চায় পুলিশ৷

২৪ ঘণ্টা পুলিশ পাহারা

নীচে ক্যাম্প, ওপরে হাইওয়ে৷ হাইওয়ে ধরে ইউরোটানেল অভিমুখে যাওয়া ট্রাকগুলোয় ওঠার চেষ্টা করে ক্যাম্পের অধিবাসীরা, যাদের একমাত্র স্বপ্ন হলো কোনোমতে ব্রিটেনে পৌঁছনো৷ চতুর্দিকে পুলিশ, অনেকে ধরাও পড়ে, তা সত্ত্বেও তারা নাছোড়বান্দা৷ ২১ বছর বয়সি সিরীয় মোহাম্মেদ শাখ বলেন, ‘হয় ট্রাকে করে ইংল্যান্ডে যাব; নয়ত ট্রেনে করে ইংল্যান্ড যাব; নয় বোটে করে ইংল্যান্ড যাব৷’

যে করে হোক

বাফার জোন যে ঠিক কবে তৈরি হবে, তা জানা নেই৷ ইতিমধ্যেই একাধিক নোটিশ পার হয়ে গিয়েছে৷ স্বেচ্ছাসেবীরা যে কোনো উপায়ে ঝোপড়িগুলোকে খুলে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন – নয়ত নাকি বুলডোজার দিয়ে সেগুলোকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হবে!

ঝোপেঝাড়ে

কেয়ারফরক্যালে স্বেচছাসেবক গোষ্ঠীর সদস্যরা ঝোপঝাড়, আবর্জনা, এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে মলমূত্র পরিষ্কার করে উদ্বাস্তুদের জন্য নতুন বসতি তৈরি করার চেষ্টা করছেন৷ ফরাসি মহিলা রুথ বলেন, ‘‘আমি যখন আফগানিস্তানে ছিলাম, তখন আমি ওদের কাছ থেকে যতটা আতিথেয়তা পেয়েছি, আজ আমি ঠিক সেইরকম সম্মান ও আতিথেয়তা ফিরিয়ে দিতে চাই৷’’

হাল ছেড়ো না

যে এলাকাটা খালি করা হবে, কিছু কিছু উদ্বাস্তু এখনও সেখানে বাস করছেন৷ নতুন বাফার জোন তৈরি হলে দেড় হাজার থেকে সাড়ে চার হাজার উদ্বাস্তু উৎখাত হবেন৷ সাইফুল্লা বারাতি গত চার মাস ধরে ক্যালেতে আছেন৷ তিনি বলেন, ‘‘আমি নড়ছি না৷ পুলিশ যদি বাড়ি ভেঙে দেয় তা দিক৷ আমি তাদের সঙ্গে লড়ব না৷’’

কনটেইনার ক্যাম্প

ফরাসি সরকার আপাতত ক্যালের কাছে একটি ক্যাম্প তৈরি করছেন৷ এই ক্যাম্পে প্রায় দু’হাজার মানুষ থাকতে পারবে৷ কিন্তু বহু উদ্বাস্তুরা বলেছেন যে তারা সেখানে যাবেন না, কেননা সেখানে যেতে হলে কর্তৃপক্ষের কাছে আঙুলের ছাপ দিতে হবে – যার ফলে তাদের ফ্রান্সে থাকতে হবে ও ব্রিটেনে যাবার আশা নাকচ হবে৷

‘দেখা যাক, ফ্রান্স কি করে’

মোহাম্মেদ শাখ তাঁর ঝোপড়ির ভিতর থেকে বলছেন, ‘‘ওরা ভাবছে আমরা বোকা, নতুন ক্যাম্পে থাকার জন্য আমাদের আঙুলের ছাপ দেবো৷ ওটা তো একটা জেলের মতো৷ একবার ঢুকলে আর বেরোতে দেবে না; আর আমি তো এ দেশে থাকতে চাই না৷’’

উত্তেজনা বাড়ছে

‘জঙ্গল মহল’ পরিত্যাগ করতে বলার নোটিশ আর পুলিশি নজরদারি বাড়ার ফলে ক্যাম্পের ভেতরে সহিংসতা বেড়েছে, বলে জানিয়েছেন ডক্টর্স উইদাউট বর্ডার্স-এর মদ ল্য ক্যাঁত্রেক৷ খোসপাঁচড়ার পরেই নাকি রিফিউজিরা নিজেদের মধ্যে মারামারি আর পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের কারণে বিভিন্ন চোট নিয়ে ডাক্তারের কাছে আসে৷

সমস্যা ছড়াচ্ছে

‘‘লোকজন বুঝতে শুরু করেছে যে, সরকার ক্যালের ‘জঙ্গলের’ আকার ছোট করে ফেলতে পারেন৷ তাই তারা অন্যত্র ‘জঙ্গল’ তৈরি করতে শুরু করেছে’’, বলেন ল্য ক্যাঁত্রেক৷ ক্যালের ১২০ জন বাসিন্দা নাকি সম্প্রতি বেলজিয়ামে একটি নতুন ক্যাম্পে গিয়ে বাসা গেড়েছেন৷ ‘‘মোট কথা, কিছু মানুষ ক্যালে ছেড়ে চলে যাচ্ছেন৷ কাজেই সমস্যা অন্যান্য এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে৷’’

বাফার জোন যে ঠিক কবে তৈরি হবে, তা জানা নেই৷ ইতিমধ্যেই একাধিক নোটিশ পার হয়ে গিয়েছে৷ স্বেচ্ছাসেবীরা যে কোনো উপায়ে ঝোপড়িগুলোকে খুলে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন – নয়ত নাকি বুলডোজার দিয়ে সেগুলোকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হবে!

ফরাসি সরকার আপাতত ক্যালের কাছে একটি ক্যাম্প তৈরি করছেন৷ এই ক্যাম্পে প্রায় দু’হাজার মানুষ থাকতে পারবে৷ কিন্তু বহু উদ্বাস্তুরা বলেছেন যে তারা সেখানে যাবেন না, কেননা সেখানে যেতে হলে কর্তৃপক্ষের কাছে আঙুলের ছাপ দিতে হবে – যার ফলে তাদের ফ্রান্সে থাকতে হবে ও ব্রিটেনে যাবার আশা নাকচ হবে৷

‘‘হাসিমুখে'' উদ্বাস্তুদের স্বাগত জানানোর কথা বলেছিলেন যে চ্যান্সেলর, বলেছিলেন ‘‘আমরা পারব'', তিনি আজ নিজের দল, মিত্রদল ও জোট সহযোগীর তরফ থেকে সমালোচনার মুখে পড়েও পিছপা নন

এ সপ্তাহেই ম্যার্কেলের নিজের দল খ্রিষ্টীয় গণতন্ত্রীদের দলীয় সম্মেলন৷ ম্যার্কেলের মুখপাত্র স্টেফেন সাইব্যার্ট সোমবার জানান যে, ম্যার্কেল তাঁর ভাষণে অভিবাসীদের সংখ্যা কমানোর জন্য ‘‘জাতীয় ও ইউরোপীয় কর্তব্য সম্পর্কে তাঁর স্পষ্ট কর্মসূচির পুনরাবৃত্তি করবেন''৷

উদ্বাস্তু বা শরণার্থী সমস্যার ক্ষেত্রে মঙ্গলবার জার্মান পত্র-পত্রিকা যার মন্তব্য নিয়ে ব্যস্ত, তিনি হলেন ম্যার্কেল মন্ত্রীসভায় পরিবহণ মন্ত্রী আলেক্সান্ডার ডোব্রিন্ট, সিডিইউ দলের বাভেরীয় অংশীদার সিএসইউ দলের রাজনীতিক৷

Deutschland Flüchtlinge in Passau

বাভারিয়ার সীমান্তে উদ্বাস্তুদের আসা কমেনি

ডোব্রিন্ট মিউনিখের একটি পত্রিকাকে বলেছেন, ‘‘শেষমেষ যে সীমান্ত বন্ধ করতে হতে পারে, সেই সম্ভাবনার জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে''৷ এর আগে, সপ্তাহান্তে সিএসইউ প্রধান হর্স্ট সেহোফার ‘ডেয়ার স্পিগেল' সংবাদ-সাপ্তাহিককে বলেছিলেন যে, তিনি আগামী দু'সপ্তাহের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারকে সীমান্তে ‘‘সুশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি'' দাবি করে একটি লিখিত আবেদন পাঠাবেন৷ সেই সঙ্গে যদি যোগ করা যায় যে, গোঁড়া রক্ষণশীল সাবেক সিএসইউ প্রধান এডমুন্ড স্টয়বার ম্যার্কেলকে আগামী মার্চ মাসের মধ্যে তাঁর অভিবাসন নীতি পরিবর্তন করার, নয়ত জোটের অভ্যন্তরে প্রকাশ্য বিদ্রোহের সম্মুখীন হওয়ার হুমকি দিয়েছেন – তাহলে বোঝা যায় যে, ম্যার্কেল কোণঠাসা না হলেও, বিব্রত৷

এ বছর জার্মানির তিনটি রাজ্যে প্রাদেশিক নির্বাচন, যাদের মধ্যে প্রথমটি এই মার্চ মাসেই৷ এ সব নির্বাচনে যদি দেখা যায় যে, খ্রিষ্টীয় ইউনিয়ন দলগুলিকে ভালোরকম ভোট খোয়াতে হয়েছে – তাহলে হয়ত স্টয়বারের হুমকি ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবে কাজ করবে৷ ইতিমধ্যে ‘জার্মানি ক্ষুব্ধ; জার্মান মিডিয়ার একটা বড় অংশ ক্ষুব্ধ; দেশে দশ লাখের বেশি উদ্বাস্তু, ও তাদের নিয়ে ক্রমেই আরো বেশি সমস্যা', লিখেছেন ডয়চে ভেলের ক্রিস্টফ স্ট্রাক তাঁর সংবাদভাষ্যে৷

স্ট্রাক বলছেন, তিনি এ দেশের মানুষ অথবা মিডিয়াকে এ রকম কড়া ভাষায় তাদের মনোভাব ও মতামত প্রকাশ করতে দেখেননি৷ তার সাথে যেন কিছুটা ‘শাডেনফ্রয়েডে', অর্থাৎ অন্যের বিপাকে আনন্দের ব্যাপারটাও আছে৷ এবং ম্যার্কেল সেই সমালোচনা ও শাডেনফ্রয়েডের লক্ষ্য হয়ে উঠেছেন, কেননা তিনিই তো ‘‘মানবিক দায়ের'' কথা বলে উদ্বাস্তুদের জন্য জার্মানির সীমান্ত খুলে দিয়েছিলেন৷

ম্যার্কেল যতটা অনড়, তার দল ততটা নয়৷ তাই সিডিইউ দল সোমবার সিদ্ধান্ত নেয় যে, মরক্কো, আলজিরিয়া ও টিউনিশিয়া, উত্তর আফ্রিকার এই তিনটি দেশকে ‘নিরাপদ দেশ' হিসেবে ঘোষণা করা উচিত, যা-তে সেখান থেকে আসা উদ্বাস্তু বা অভিবাসন প্রত্যাশীদের রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন নামঞ্জুর করার, অথবা আবেদন নামঞ্জুর হওয়ার পর তাদের স্বদেশে ফেরৎ পাঠানো সহজ হয়৷

Oberhausen Kirche Flüchtlingsunterkunft Betten

জায়গার অভাবে গির্জাতেও উদ্বাস্তুদের থাকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে

জোট সহযোগী এসপিডি দল এখন তৃণমূলের মনোভাব আঁচ করে তাদের উদ্বাস্তু নীতি বদলাতে শুরু করেছে৷ স্ট্রাক যেমন লিখেছেন, এটা কড়া অভিমত ও কড়া ভাষায় সেই অভিমত প্রকাশের পরিস্থিতি; তাই এসপিডি প্রধান সিগমার গাব্রিয়েলকে আলজিরিয়া ও মরক্কো প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে বলেন যে, যে সব দেশ তাদের নাগরিকদের ফেরৎ নিতে অস্বীকার করবে, তাদের উন্নয়ন সাহায্য হ্রাস করার কথা ভাবা যেতে পারে৷

ম্যার্কেল কী করেছেন, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভবত তিনি কী করেননি৷ এক্ষেত্রে গ্রিসকে আর্থিক ত্রাণের অঙ্কটা যে কী হতে পারে, সে'বিষয়ে আগে থেকে কিছু না বলা; এবং একটি নতুন অভিবাসন আইন প্রণয়নের কাজ ক্রমাগত পিছিয়ে দেওয়া – ম্যার্কেলের এই দু'টি ‘ওমিশান' বা অসম্পন্ন কাজের কথা বলেছেন ক্রিস্টফ স্ট্রাক৷

পুনর্বাসন প্রচেষ্টা

নিরপেক্ষ স্বেচ্ছাসেবীরা ক্যালের ‘জঙ্গল মহলের’ বাসিন্দাদের তাদের ঝোপড়ি সরিয়ে নিতে সাহায্য করছেন, কেননা রিফিউজিদের ক্যাম্পের পাশ দিয়েই চলে গেছে ইউরোটানেল মুখী একটি হাইওয়ে৷ সেই হাইওয়ে আর ক্যাম্পের মধ্যে অন্তত ১০০ মিটার এলাকা ফাঁকা রাখতে চায় পুলিশ৷

২৪ ঘণ্টা পুলিশ পাহারা

নীচে ক্যাম্প, ওপরে হাইওয়ে৷ হাইওয়ে ধরে ইউরোটানেল অভিমুখে যাওয়া ট্রাকগুলোয় ওঠার চেষ্টা করে ক্যাম্পের অধিবাসীরা, যাদের একমাত্র স্বপ্ন হলো কোনোমতে ব্রিটেনে পৌঁছনো৷ চতুর্দিকে পুলিশ, অনেকে ধরাও পড়ে, তা সত্ত্বেও তারা নাছোড়বান্দা৷ ২১ বছর বয়সি সিরীয় মোহাম্মেদ শাখ বলেন, ‘হয় ট্রাকে করে ইংল্যান্ডে যাব; নয়ত ট্রেনে করে ইংল্যান্ড যাব; নয় বোটে করে ইংল্যান্ড যাব৷’

যে করে হোক

বাফার জোন যে ঠিক কবে তৈরি হবে, তা জানা নেই৷ ইতিমধ্যেই একাধিক নোটিশ পার হয়ে গিয়েছে৷ স্বেচ্ছাসেবীরা যে কোনো উপায়ে ঝোপড়িগুলোকে খুলে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন – নয়ত নাকি বুলডোজার দিয়ে সেগুলোকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হবে!

ঝোপেঝাড়ে

কেয়ারফরক্যালে স্বেচছাসেবক গোষ্ঠীর সদস্যরা ঝোপঝাড়, আবর্জনা, এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে মলমূত্র পরিষ্কার করে উদ্বাস্তুদের জন্য নতুন বসতি তৈরি করার চেষ্টা করছেন৷ ফরাসি মহিলা রুথ বলেন, ‘‘আমি যখন আফগানিস্তানে ছিলাম, তখন আমি ওদের কাছ থেকে যতটা আতিথেয়তা পেয়েছি, আজ আমি ঠিক সেইরকম সম্মান ও আতিথেয়তা ফিরিয়ে দিতে চাই৷’’

হাল ছেড়ো না

যে এলাকাটা খালি করা হবে, কিছু কিছু উদ্বাস্তু এখনও সেখানে বাস করছেন৷ নতুন বাফার জোন তৈরি হলে দেড় হাজার থেকে সাড়ে চার হাজার উদ্বাস্তু উৎখাত হবেন৷ সাইফুল্লা বারাতি গত চার মাস ধরে ক্যালেতে আছেন৷ তিনি বলেন, ‘‘আমি নড়ছি না৷ পুলিশ যদি বাড়ি ভেঙে দেয় তা দিক৷ আমি তাদের সঙ্গে লড়ব না৷’’

কনটেইনার ক্যাম্প

ফরাসি সরকার আপাতত ক্যালের কাছে একটি ক্যাম্প তৈরি করছেন৷ এই ক্যাম্পে প্রায় দু’হাজার মানুষ থাকতে পারবে৷ কিন্তু বহু উদ্বাস্তুরা বলেছেন যে তারা সেখানে যাবেন না, কেননা সেখানে যেতে হলে কর্তৃপক্ষের কাছে আঙুলের ছাপ দিতে হবে – যার ফলে তাদের ফ্রান্সে থাকতে হবে ও ব্রিটেনে যাবার আশা নাকচ হবে৷

‘দেখা যাক, ফ্রান্স কি করে’

মোহাম্মেদ শাখ তাঁর ঝোপড়ির ভিতর থেকে বলছেন, ‘‘ওরা ভাবছে আমরা বোকা, নতুন ক্যাম্পে থাকার জন্য আমাদের আঙুলের ছাপ দেবো৷ ওটা তো একটা জেলের মতো৷ একবার ঢুকলে আর বেরোতে দেবে না; আর আমি তো এ দেশে থাকতে চাই না৷’’

উত্তেজনা বাড়ছে

‘জঙ্গল মহল’ পরিত্যাগ করতে বলার নোটিশ আর পুলিশি নজরদারি বাড়ার ফলে ক্যাম্পের ভেতরে সহিংসতা বেড়েছে, বলে জানিয়েছেন ডক্টর্স উইদাউট বর্ডার্স-এর মদ ল্য ক্যাঁত্রেক৷ খোসপাঁচড়ার পরেই নাকি রিফিউজিরা নিজেদের মধ্যে মারামারি আর পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের কারণে বিভিন্ন চোট নিয়ে ডাক্তারের কাছে আসে৷

সমস্যা ছড়াচ্ছে

‘‘লোকজন বুঝতে শুরু করেছে যে, সরকার ক্যালের ‘জঙ্গলের’ আকার ছোট করে ফেলতে পারেন৷ তাই তারা অন্যত্র ‘জঙ্গল’ তৈরি করতে শুরু করেছে’’, বলেন ল্য ক্যাঁত্রেক৷ ক্যালের ১২০ জন বাসিন্দা নাকি সম্প্রতি বেলজিয়ামে একটি নতুন ক্যাম্পে গিয়ে বাসা গেড়েছেন৷ ‘‘মোট কথা, কিছু মানুষ ক্যালে ছেড়ে চলে যাচ্ছেন৷ কাজেই সমস্যা অন্যান্য এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে৷’’

এসি/ডিজি (রয়টার্স, ডিপিএ)


চলতি বছরে ম্যার্কেলের রাজনৈতিক ভাগ্যে কী আছে বলে আপনি মনে করেন? লিখুন মন্তব্যের ঘরে৷