‘উদ্বাস্তু সংকট হলো শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ'

জার্মানিতে এত কম সময়ে এ পরিমাণ অভিবাসন এর আগে কখনো ঘটেনি৷ এর ফলে যেমন নবাগত, তেমনই স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেক কিছু করতে হবে, বলে মনে করেন ডয়চে ভেলের প্রধান সম্পাদক আলেক্সান্ডার কুডাশেফ৷

জার্মানিতে এ বছর দশ লক্ষ কিংবা তারও বেশি উদ্বাস্তু বা শরণার্থী এসেছেন৷ দশ লাখ মানুষ, যাঁরা আশ্রয়, নিরাপত্তা এবং নতুন জীবনের আশা নিয়ে এসেছেন এখানে৷ দশ লাখ মানুষ মানে একটা বড় শহর! দশ লাখ মানুষ যাঁদের এখনই আবাস চাই, কর্ম চাই – তার আগে জার্মান ভাষাশিক্ষার সুযোগ চাই: ছোটরা শিখবে কিন্ডারগার্টেন ও স্কুলে, বড়দের জন্য চাই আলাদা পাঠক্রম৷ এটা জার্মানদের পক্ষে একটা সুবিশাল কাজ, উদ্বাস্তুদের জন্য তো বটেই৷ এ কাজ সম্পন্ন করতে জার্মানদের সম্ভবত দুই প্রজন্ম লেগে যাবে৷

আপনি কী ভাবছেন?

এখানে ক্লিক করুন ও আলোচনায় যোগ দিন

মূল্যবোধের ফারাক

অধিকাংশ উদ্বাস্তু এসেছেন সিরিয়া, ইরাক, আফগানিস্তান ও ইরিট্রিয়া থেকে৷ তাঁরা যে সব সমাজ ও সংস্কৃতি থেকে এসেছেন, সেখানে ব্যক্তিস্বাধীনতা নেই, অধিকার নেই৷ তাঁরা যে সব সমাজব্যবস্থা থেকে এসেছেন,

Alexander Kudascheff DW Chefredakteur Kommentar Bild

আলেক্সান্ডার কুডাশেফ

সেখানে ধর্মীয় সংযোগসূত্রটা খুবই শক্তিশালী, সেখানে ব্যক্তির তুলনায় পরিবার বা সম্প্রদায়ের গুরুত্ব অনেক বেশি৷ তাঁরা আসছেন পিতৃতান্ত্রিক সমাজ থেকে, যেখানে দেশ স্বদেশ না হয়ে শত্রুর সমান৷

অথচ এই উদ্বাস্তুরা যে সমাজে এসে পড়ছেন, তা সম্পূর্ণ আলাদা৷ জার্মানিতে ব্যক্তির মূল্য সমষ্টির চেয়ে বেশি; পরিবার ভেঙে গেলে রাষ্ট্র সব ঝুঁকি, সব দুর্যোগের বিরুদ্ধে বীমা হিসেবে কাজ করে৷ নারী-পুরুষের সাম্যের ক্ষেত্রেও তা শর্তহীনভাবে প্রযোজ্য, যৌনতার ক্ষেত্রে ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের স্বাধীনতা ও অধিকার নিঃশর্ত৷ জার্মানি একটি মুক্ত সমাজ৷

সংঘাতের ক্ষেত্রে দু'পক্ষকেই বদলাতে হবে, পরস্পরের সঙ্গে মেলামেশা করা শিখতে হবে – অভিবাসীদের পক্ষে যা আরো শক্ত হবে৷ তাঁরা জার্মানিকে তাঁদের নতুন স্বদেশ হিসেবে বেছে নিয়েছেন; কাজেই তাঁদের এখানকার আচার-আচরণ ও ধ্যানধারণার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হবে৷ যে সব জিনিস তাঁদের কাছে কিম্ভুত এমনকি কদর্য বলে মনে হয়, সে সব জিনিসও তাঁদের মেনে চলতে হবে৷ তাঁদের এখানকার জীবনধারার অঙ্গ হয়ে উঠতে হবে – নিজেদের সাংস্কৃতিক ও ভাযাগত সত্তা বিসর্জন না দিয়ে৷ কিন্তু জার্মানি সিরিয়া কিংবা ইরিট্রিয়া নয় এবং এখানে সেই সব দেশের মতো থাকা সম্ভব নয়৷

এক নতুন জার্মানি

বিদেশি-বহিরাগতকে সমাজে অন্তর্ভুক্ত করা, সমাজের অংশ করে তোলাকে জার্মানে বলে ‘ইন্টেগ্রেশন’৷ এসিবি লিঙ্গুয়া ল্যাঙ্গুয়েজ স্কুল রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য একটি বিশেষ ইন্টেগ্রেশন কোর্স চালু করেছে৷ সেই কোর্স অনুযায়ী পড়ুয়াদের মাঝেমধ্যে ক্লাসরুম ছেড়ে পথে বেরিয়ে অচেনা পথচারী বা দোকানিদের জার্মানে প্রশ্ন করতে বলা হয়েছে: ‘আচ্ছা, এটা কী ফল? ঐ সবজিটার নাম কী?’

লুডভিশ ফান বেটোফেন সম্ভবত বন শহরের সবচেয়ে বিখ্যাত সন্তান৷ জন্মেছিলেন ১৭৭০ সালে, শহরের মূল চত্বরের কাছের একটি গলিতে বেটোফেনের জন্মের বাড়ি না দেখলে, বন-এ কিছুই দেখা হলো না৷ রাদওয়ান আয়ুজ ও তাঁর ছেলে আলি অতিকষ্টে বেটোফেনের জন্মের তারিখটা খুঁজে বার করেছেন৷

এরপরেও ডয়চে ভেলের রিপোর্টার যে দলটির সাথে ছিলেন, তাঁরা খুব ভালো ফলাফল করতে পারেনি – সম্ভবত রিপোর্টারের কচকচানি, তার ওপর আবার রিপোর্টারকে কোনো প্রশ্নের উত্তর জিগ্যেস করা চলবে না, এই কারণে৷

পাঠক ভাবনা | 02.12.2015

জার্মানিতে এ বছর দশ লক্ষ কিংবা তারও বেশি উদ্বাস্তু বা শরণার্থী এসেছেন৷ দশ লাখ মানুষ, যাঁরা আশ্রয়, নিরাপত্তা এবং নতুন জীবনের আশা নিয়ে এসেছেন এখানে৷ দশ লাখ মানুষ মানে একটা বড় শহর! দশ লাখ মানুষ যাঁদের এখনই আবাস চাই, কর্ম চাই – তার আগে জার্মান ভাষাশিক্ষার সুযোগ চাই: ছোটরা শিখবে কিন্ডারগার্টেন ও স্কুলে, বড়দের জন্য চাই আলাদা পাঠক্রম৷ এটা জার্মানদের পক্ষে একটা সুবিশাল কাজ, উদ্বাস্তুদের জন্য তো বটেই৷ এ কাজ সম্পন্ন করতে জার্মানদের সম্ভবত দুই প্রজন্ম লেগে যাবে৷

মূল্যবোধের ফারাক

অধিকাংশ উদ্বাস্তু এসেছেন সিরিয়া, ইরাক, আফগানিস্তান ও ইরিট্রিয়া থেকে৷ তাঁরা যে সব সমাজ ও সংস্কৃতি থেকে এসেছেন, সেখানে ব্যক্তিস্বাধীনতা নেই, অধিকার নেই৷ তাঁরা যে সব সমাজব্যবস্থা থেকে এসেছেন,

Alexander Kudascheff DW Chefredakteur Kommentar Bild

আলেক্সান্ডার কুডাশেফ

সেখানে ধর্মীয় সংযোগসূত্রটা খুবই শক্তিশালী, সেখানে ব্যক্তির তুলনায় পরিবার বা সম্প্রদায়ের গুরুত্ব অনেক বেশি৷ তাঁরা আসছেন পিতৃতান্ত্রিক সমাজ থেকে, যেখানে দেশ স্বদেশ না হয়ে শত্রুর সমান৷

অথচ এই উদ্বাস্তুরা যে সমাজে এসে পড়ছেন, তা সম্পূর্ণ আলাদা৷ জার্মানিতে ব্যক্তির মূল্য সমষ্টির চেয়ে বেশি; পরিবার ভেঙে গেলে রাষ্ট্র সব ঝুঁকি, সব দুর্যোগের বিরুদ্ধে বীমা হিসেবে কাজ করে৷ নারী-পুরুষের সাম্যের ক্ষেত্রেও তা শর্তহীনভাবে প্রযোজ্য, যৌনতার ক্ষেত্রে ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের স্বাধীনতা ও অধিকার নিঃশর্ত৷ জার্মানি একটি মুক্ত সমাজ৷

সংঘাতের ক্ষেত্রে দু'পক্ষকেই বদলাতে হবে, পরস্পরের সঙ্গে মেলামেশা করা শিখতে হবে – অভিবাসীদের পক্ষে যা আরো শক্ত হবে৷ তাঁরা জার্মানিকে তাঁদের নতুন স্বদেশ হিসেবে বেছে নিয়েছেন; কাজেই তাঁদের এখানকার আচার-আচরণ ও ধ্যানধারণার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হবে৷ যে সব জিনিস তাঁদের কাছে কিম্ভুত এমনকি কদর্য বলে মনে হয়, সে সব জিনিসও তাঁদের মেনে চলতে হবে৷ তাঁদের এখানকার জীবনধারার অঙ্গ হয়ে উঠতে হবে – নিজেদের সাংস্কৃতিক ও ভাযাগত সত্তা বিসর্জন না দিয়ে৷ কিন্তু জার্মানি সিরিয়া কিংবা ইরিট্রিয়া নয় এবং এখানে সেই সব দেশের মতো থাকা সম্ভব নয়৷

এক নতুন জার্মানি

উদ্বাস্তুদের জন্য ভাষাশিক্ষার পাঠক্রম

জার্মানিতে রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়া এক কথা, এখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করা আরেক কথা৷ কারণ তার জন্য প্রয়োজন জার্মান ভাষা শেখা৷ সেটা তো শুধু ক্লাসরুমের বেঞ্চিতে বসেই নয়, বাস্তব ও ব্যবহারিক জীবনেও জার্মান ভাষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে অনেক কিছু শেখা যায় – যেমন বন শহরের পথেঘাটে৷

‘ইন্টেগ্রেশন কোর্স’

বিদেশি-বহিরাগতকে সমাজে অন্তর্ভুক্ত করা, সমাজের অংশ করে তোলাকে জার্মানে বলে ‘ইন্টেগ্রেশন’৷ এসিবি লিঙ্গুয়া ল্যাঙ্গুয়েজ স্কুল রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য একটি বিশেষ ইন্টেগ্রেশন কোর্স চালু করেছে৷ সেই কোর্স অনুযায়ী পড়ুয়াদের মাঝেমধ্যে ক্লাসরুম ছেড়ে পথে বেরিয়ে অচেনা পথচারী বা দোকানিদের জার্মানে প্রশ্ন করতে বলা হয়েছে: ‘আচ্ছা, এটা কী ফল? ঐ সবজিটার নাম কী?’

আনারসের আর্বি যেন কী?

দেখলে চিনতে পারার কথা৷ দামটা না লিখলেও চলে, কিন্তু ভবিষ্যতে কাজে লাগতে পারে...৷

পরীক্ষায় নকল নয়, তবে শর্টকাট চলে

ছাত্রদের বলে দেওয়া হয়েছে মোবাইল ব্যবহার না করতে, বরং রাস্তা বা অন্যান্য খোঁজখবরের জন্য মানুষজনকে জার্মানে প্রশ্ন করতে৷ কিন্তু ধরুন যদি বাসাম-এর মতো কাউকে পাওয়া যায়, যে জার্মান আর আর্বি, দু’টো ভাষাই জানে, তাহলে তো পোয়াবারো!

বেটোফেন যেন কবে জন্মেছেন?

লুডভিশ ফান বেটোফেন সম্ভবত বন শহরের সবচেয়ে বিখ্যাত সন্তান৷ জন্মেছিলেন ১৭৭০ সালে, শহরের মূল চত্বরের কাছের একটি গলিতে বেটোফেনের জন্মের বাড়ি না দেখলে, বন-এ কিছুই দেখা হলো না৷ রাদওয়ান আয়ুজ ও তাঁর ছেলে আলি অতিকষ্টে বেটোফেনের জন্মের তারিখটা খুঁজে বার করেছেন৷

রাস্তাঘাট চেনা

টিমকে হয়ত বলে দেওয়া হয়েছে, ‘ফ্রিডেন্সপ্লাৎস’, মানে শান্তির চত্বরে যাও৷ অথবা ৬০৮ নম্বর বাস কোথায় যাচ্ছে? পরের বাসটা আসবে কখন? বাসটা আবার থামে একটি উদ্বাস্তু আবাসের কাছে, যেখানে দলের অনেকের বাস৷

বন থেকে চিঠি

কোথাও বসে পোস্টকার্ড লেখা হলো ক্লাসের নতুন কাজ৷ তার জন্যে পোস্ট অফিসে গিয়ে স্ট্যাম্প কিনে, পোস্টকার্ডে সেঁটে পোস্ট করতে হবে৷ স্ট্যাম্পের ‘রিসিট’ রেখে দিতে হবে৷

পয়েন্ট মানেই ‘প্রাইজ’

এরপরেও ডয়চে ভেলের রিপোর্টার যে দলটির সাথে ছিলেন, তাঁরা খুব ভালো ফলাফল করতে পারেনি – সম্ভবত রিপোর্টারের কচকচানি, তার ওপর আবার রিপোর্টারকে কোনো প্রশ্নের উত্তর জিগ্যেস করা চলবে না, এই কারণে৷

জার্মানিকেও বদলাতে হবে৷ চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল বলেছেন যে, ২৫ বছর পরে এই দেশ আরো উন্মুক্ত, আরো কৌতূহলী, আরো রোমাঞ্চকর ও আরো সহিষ্ণু হয়ে দাঁড়াবে৷ অপরদিকে বলা যেতে পারে, জার্মানি তো অনেকদিন ধরেই এইরকম ছিল৷ তা সত্ত্বেও জার্মানি বদলাবে৷ জার্মানি তার আধুনিক সত্তাকে আরো বেশি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উপস্থাপনা করবে, যুগপৎ বাকি বিশ্বের সম্বন্ধে আরো বেশি আগ্রহী হবে৷

ইসলামি সংস্কৃতি তো শুধু শরিয়া আইন নয়, নারী অধিকার দমন নয়, বোরখা ধারণ নয় – দৈনন্দিন জীবনে সে সবই থাকতে পারে৷ কিন্তু যে সুপ্রাচীন গ্রিক সংস্কৃতি মধ্যযুগে ইউরোপ থেকে বিলুপ্ত হয়েছিল, তাকে বাঁচিয়ে রেখেছিল ইসলাম৷ ইসলাম মানে নানা ধরনের ঐশ্বর্য, স্থাপত্য, সাহিত্য ও দর্শন৷ মহাকবি ভল্ফগাং ফন গ্যোটে তাঁর বিভিন্ন কবিতায় ইসলামি সংস্কৃতির যে নিঃসংকোচ ও সমালোচনামূলক চিত্রটি তুলে ধরেছেন, আমাদের সেই সংস্কৃতির সঙ্গে আবার পরিচিত হতে হবে৷

স্বপ্ন হতে বিদায়

উদ্বাস্তু নীতি দু'টি ভ্রান্তিতে ভুগছে৷ প্রথমটি হলো, ‘জার্মানি অভিবাসনের দেশ নয়', এ কথা বলা৷ কথাটা আগেও সত্যি ছিল না, এখন তো নয়ই৷ দেশ হিসেবে জার্মানি খুবই আকর্ষণীয়, সেই জন্যই মানুষজন এখানে আসতে চান৷ দ্বিতীয় ভ্রান্তি: উদ্বাস্তু নীতি ও রাজনৈতিক আশ্রয়প্রদানের নীতি হলো বস্তুত অভিবাসন নীতি৷ রাজনৈতিক বিচারে এর কোনো অর্থ দাঁড়ায় না, কেননা অভিবাসীদের নেওয়া হয় সংখ্যার ভিত্তিতে – উদ্বাস্তুরা কোনো সংখ্যা বা পরিসংখ্যানের তোয়াক্কা না করেই আসেন৷

তা সত্ত্বেও উদ্বাস্তুদের শীঘ্র জার্মান সমাজে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, ভাষাগত এবং পেশাগত ভাবে৷ মানসিক দিক দিয়েও: তাঁরা জার্মানিকে তাঁদের আশাপূরণের দেশ হিসেবে বেছে নিয়েছেন৷ এবার তাঁদের এই মুক্ত সমাজকে তাঁদের নিজেদের সমাজ করে তুলতে হবে৷

আপনি কি আলেক্সান্ডার কুডাশেফের সঙ্গে একমত? জানান নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

উদ্বাস্তু শিবিরে দাঙ্গা

হামবুর্গ শহরের ভিলহেল্মসবুর্গ এলাকায় শরণার্থীদের প্রাথমিক আশ্রয়কেন্দ্রটি ভরে যাওয়ায় আগন্তুকদের তাঁবুতে থাকার ব্যবস্থা করা হয়৷ মঙ্গলবার (৬ই অক্টোবর) সেখানে আফগানিস্তান ও আলবেনিয়া থেকে আগত উদ্বাস্তুদের মধ্যে ব্যাপক দাঙ্গা বাঁধে৷ লোয়ার স্যাক্সনি-র ব্রাউনশোয়াইগ-এও অনুরূপভাবে আলজিরীয় ও সিরীয় উদ্বাস্তুদের মধ্যে দাঙ্গা বাঁধে একটি চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে৷

ইসলাম বিরোধীরা আবার মাথা চাড়া দিয়েছে

ড্রেসডেনে ইসলাম বিরোধী পেগিডা গোষ্ঠীর বিক্ষোভ সমাবেশে গত সোমবার প্রায় ন’হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেন৷ বিক্ষোভকারীরা মূলত চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল-কেই বর্তমান উদ্বাস্তু সংকটের জন্য দায়ী করছেন৷

ম্যার্কেল লাগাম টানলেন

চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল দৃশ্যত তাঁর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টোমাস ডেমেজিয়ের-এর গুরুত্ব কিছুটা খর্ব করে চ্যান্সেলরের দপ্তরের প্রধান পেটার আল্টমায়ার-কে শরণার্থী সংক্রান্ত কর্মকাণ্ড সমন্বয়ের দায়িত্ব দিয়েছেন৷

উদ্বাস্তুর লাশ

টুরিঙ্গিয়া রাজ্যের সালফেল্ড-এ অবস্থিত একটি রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী আবাসে সোমবার একটি অগ্নিকাণ্ডের পর ২৯ বছর বয়সি এক ইরিট্রিয়ান উদ্বাস্তুর লাশ পাওয়া যায়৷ কিভাবে এই শরণার্থী প্রাণ হারিয়েছেন, তা এখনও অজ্ঞাত৷ তবে আবাসটিতে ইচ্ছাকৃতভাবে অগ্নিসংযোগের কোনো হদিশ পুলিশ এখনও পায়নি৷

যে কোনো পন্থায়

টুরিঙ্গিয়ায় এর আগেও উদ্বাস্তু আবাস হিসেবে চিহ্নিত বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে শরণার্থীদের আসা বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে৷ যেমন বিশহাগেন-এর এই বাড়িটির ছাদ পুরোপুরি পুড়ে গিয়েছে৷ গত সোমবার এখানে প্রথম উদ্বাস্তুদের আসার কথা ছিল৷

ঘরে বাইরে

শরণার্থী সংকট এখন জার্মানির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও টান ধরাচ্ছে৷ চ্যান্সেলর ম্যার্কেলের সিডিইউ দলের জোড়োয়া দল বাভারিয়ার সিএসইউ৷ তাদের প্রধান হর্স্ট জেহোফার সেপ্টেম্বর মাসের শেষে একটি দলীয় সম্মেলনে বক্তা হিসেব আমন্ত্রণ জানান হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অর্বান-কে, যিনি সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে উদ্বাস্তুর স্রোত আটকানোর চেষ্টা করেছেন৷

হাওয়া যদি বদলায়

বাভারিয়ার অর্থমন্ত্রী মার্কুস জ্যোডার ইতিপূর্বেও বলেছেন: ‘‘আমরা (অর্থাৎ জার্মানি) বিশ্বকে বাঁচাতে পারি না৷’’ এমনকি তিনি অস্ট্রিয়া সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কথাও চিন্তা করেছেন৷ তবে জ্যোডার যখন সম্প্রতি রাজনৈতিক আশ্রয় প্রাপ্তির সাংবিধানিক অধিকার সীমিত করার কথা বলেন, তখন জেহোফার স্বয়ং সাথে সাথে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন৷