উদ্বাস্তু: স্ব-ইচ্ছায় জার্মানি ছাড়ার উৎসাহ দিতে নতুন পোর্টাল

অভিবাসন ও উদ্বাস্তু দপ্তরের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, স্ব-ইচ্ছায় আশ্রয়প্রার্থীদের জার্মানি ত্যাগের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে৷ এক্ষেত্রে আরও ভালো বিকল্প তৈরি করতে চালু করা হয়েছে নতুন একটি অনলাইন পোর্টাল৷

রিটার্নিং ফ্রম জার্মানি ডট ডিইঠিকানার এই ওয়েবসাইটটি এখন ইংরেজি ও জার্মান ভাষায় থাকলেও কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আরবি, ফরাসিসহ আশ্রয় প্রার্থীদের অন্য ভাষাগুলোতেও পাওয়া যাবে৷

নানা কারণে আশ্রয় প্রার্থনার পরও অনেকে জার্মানি ত্যাগ করেন৷ তবে কেউ জার্মানি ত্যাগ করতে চাইলে যে অর্থনৈতিক প্রণোদনা দেয়া হয়, সেটাই একমাত্র কারণ নয়৷ কারণ অনেকই নিজ দেশে রেখে আসা অসুস্থ্য স্বজনের যত্ন নিতে বা পরিবারের নিখোঁজ সদস্যকে খুঁজতে দেশে ফিরতে চান৷

গত বৃহস্পতিবার উদ্বাস্তু উপদেষ্টা সানেলা সেলিম্যাজিক বার্লিনে বলেন, কারও কারও ক্ষেত্রে এই কারণটা ভাষা৷ অথবা তারা এখানকার সাথে কোন টান অনুভব করেন না৷

সেলিম্যাজিক গত ১০ বছর ধরে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) হয়ে আশ্রয়প্রত্যাশীদের উপদেষ্টার কাজ করছেন৷

আইওএম-এর মতে, ২০১৬ সালে ৫৪ হাজার ৯৬ জন আশ্রয়প্রার্থী বা অভিবাসনপ্রত্যাশী স্বইচ্ছায় জার্মানি ত্যাগ করেছে৷ আর ২০১৭ সালে এপ্রিল শেষ হওয়া পর্যন্ত ত্যাগ করেছে ১১ হাজার জন৷

অর্থ যোগান ও পুনঃসংযোগ

জার্মানি ত্যাগীদের সংখ্যা বাড়াতে দেশটির কেন্দ্রীয় অভিবাসন ও উদ্বাস্তু দপ্তর (বিএএমএফ) এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার যৌথ উদ্যোগে বৃহস্পতিবার নতুন অনলাইনটি উদ্বোধন করা হয়৷ এতে জার্মানি ত্যাগ করে স্বদেশে ফিরতে আগ্রহীদের সম্পর্কে নানা তথ্য দেওয়া হয়েছে৷

একইসঙ্গে নিজ দেশে স্বাস্থ্য সুবিধা, শ্রম বাজারের মতো সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টরগুলোও বলা আছে৷ সুনির্দিষ্ট জাতীয়তার ওই মানুষেরা জার্মানিতে থাকলে কী ধরনের সুবিধা পাবেন, দেশে তাদের পুনঃসংযোগ প্রকল্পে কী ধরনের অফার রয়েছে, এই ওয়েবসাইটে সে সম্পর্কে বিস্তারিত বলা হয়েছে৷

স্ব-ইচ্ছায় জার্মানি-ত্যাগীদের সংখ্যা কমছে

বৃহস্পতিবার পোর্টালটির উদ্বোধনের দিনে ঘটনাক্রমে বিএএমএফ-এর একটি প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়৷ যাতে দেখা যায়, ২০১৭ সালের প্রথম কোয়ার্টারে আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪০শতাংশ কম উদ্বাস্তু দেশ ছেড়েছে৷

প্রতিবেদন বলছে, গত বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ সময়ে মোট ১৩ হাজার ৮৪৮জন উদ্বাস্তু জার্মানি ছেড়েছে৷ এবার তা কমে দাঁড়িয়েছে, ৮ হাজার ৪৬৮জন৷ সংখ্যা কমার এই হারের কারণ খুঁজতে তদন্তে নেমেছে জার্মান সরকার৷

ভালো বিকল্প হিসাবে স্ব-ইচ্ছায় দেশত্যাগ

৩০ হাজারের বেশি প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থীকে যখন জার্মানি ছাড়তে হবে, সেই সময়ে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে থাকার আবেদন নিষ্পত্তি হওয়ার আগেই, আরও অনেকের স্ব-ইচ্ছায় দেশ ত্যাগে উদগ্রীব-উৎসাহ দিচ্ছে জার্মানি৷

দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টোমাস ডেমেজিয়ের বলেন,  যাদের জার্মানিতে অবস্থানের কোনো আশা নেই, তাদেরকে যথাসম্ভব দ্রুত চলে যেতে হবে৷

গত বছর ২৫ হাজার ৩৭৫ জন প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থীকে ফেরত পাঠানো হয়েছে, যা ২০১৫ সালের চেয়ে ২১ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি৷অভিবাসী ও উদ্বাস্তুদের দেশে (স্ব-ইচ্ছায়) প্রত্যাবর্তন তাদেরকে বিতাড়নের মতো ব্যয়বহুল প্রক্রিয়ার চেয়ে জার্মান সরকারের জন্য অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক৷

স্ব-ইচ্ছায় জার্মানি ত্যাগে সরকারের চেষ্টাকে সফল করতে, ‘‘যারা স্ব-ইচ্ছায় জার্মানি ছাড়তে চাইবে না, তাদের ধারাবাহিকভাবে অবশ্যই স্বদেশে ফেরত পাঠাতে হবে'', বলে মত প্রকাশ করেন জার্মানির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক উচ্চপদস্থ কর্মচারী ওলে শ্রোয়েডার৷ তাঁর কথায়, ‘‘সেক্ষেত্রেই কেবল স্ব-ইচ্ছায়ফিরে যাওয়া একটা ভালো বিকল্পহবে৷''

কেট ব্র্যাডি/এসএন 

জার্মানিতে আশ্রয়ের আবেদন বেড়েছে

২.৩ শতাংশ বৃদ্ধি

জার্মানির অভিবাসন ও শরণার্থী বিষয়ক কেন্দ্রীয় সংস্থা বিএএমএফ এর সবশেষ পরিসংখ্যান বলছে, এপ্রিল মাসে মোট ৫৯,৬৮০টি আবেদন পড়েছে৷ মার্চ মাসে সংখ্যাটি ছিল ৫৮,৩১৫, অর্থাৎ ১,৩৬৫টি কম৷

জার্মানিতে আশ্রয়ের আবেদন বেড়েছে

শীর্ষে সিরিয়া

সবচেয়ে বেশি আবেদন করেছেন সিরিয়ার নাগরিকরা৷ ২৫,৭৯১ জন৷ অবশ্য মার্চ মাসে সংখ্যাটি ছিল সাড়ে সাত শতাংশ বেশি৷ ২৭,৮৭৮ জন৷

জার্মানিতে আশ্রয়ের আবেদন বেড়েছে

প্রথম চার মাসেও শীর্ষে সিরিয়া

২০১৬ সালের প্রথম চার মাসে এক লক্ষ ১৬ হাজার ৮২৬ জন সিরীয় নাগরিক জার্মানিতে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন৷ আর সব দেশ মিলিয়ে আবেদনের সংখ্যা দুই লক্ষ ৪৬ হাজার ৩৯৩ জন৷

জার্মানিতে আশ্রয়ের আবেদন বেড়েছে

ইরাকিদের সংখ্যা বেড়েছে

মোট হিসেবে সিরিয়ার পরেই আছে ইরাক৷ তবে সিরিয়ার ক্ষেত্রে আবেদনের সংখ্যা এপ্রিলের চেয়ে মার্চে বেশি হলেও ইরাকের ক্ষেত্রে হয়েছে উল্টো৷ অর্থাৎ মার্চের চেয়ে এপ্রিলেই বেশি ইরাকি আবেদন করেছেন৷ ৯,৫০৫ জন৷ মার্চে ছিল ৮,৯৮২ জন৷

জার্মানিতে আশ্রয়ের আবেদন বেড়েছে

তৃতীয় স্থানে আফগানিস্থান

সিরিয়া ও ইরাকের পর তালিকায় তিন নম্বরে আছে আফগানিস্তান৷ এপ্রিলে ৮,৪৫৮ জন আফগান রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছেন৷ মার্চ মাসের চেয়ে সংখ্যাটি ১১.৮ শতাংশ বেশি৷

জার্মানিতে আশ্রয়ের আবেদন বেড়েছে

জাতীয়তা জানা নেই

জাতীয়তা ‘অস্পষ্ট’ এমন আবেদনের সংখ্যা এপ্রিলে ছিল ১,২৯৯ জন৷ সংখ্যাটি মার্চ মাসে ছিল আরও বেশি৷ ১,৮৬৯ জন৷

জার্মানিতে আশ্রয়ের আবেদন বেড়েছে

পাঁচ নম্বরে ইরান

১,৯৮১ আবেদন নিয়ে তালিকায় ইরানের নাম আছে পাঁচ নম্বরে৷ ছয়-এ আছে আলবেনিয়া (১,১৮৮ জন)৷ পাকিস্তানি আবেদনের সংখ্যা ১,০৩৮; আর ইরিত্রিয়ার ১,১৫২৷


আমাদের অনুসরণ করুন