উন্নয়নের ফাঁক-ফোকরে কেউ যেন হত্যার ‘অধিকার’ না পায়

উন্নয়নের বয়ানে সরকারসংশ্লিষ্টদের মুখে প্রায়ই ফ্লাইওভার নির্মাণের কথা শুনে আসছি৷ কিছু লোকের কারণে সেই ফ্লাইওভার যেন বধ্যভূমিতে পরিণত না হয়৷ মালিবাগে গার্ডার পড়ে একজন নিহত হওয়ার পর এমন কামনাই সমীচিন মনে হচ্ছে৷

রাজধানীর মালিবাগে নির্মাণাধীন উড়ালসড়কের (ফ্লাইওভার) গার্ডার পড়ে একজন নিহত ও দু'জন আহত হয়েছেন৷ রোববার গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে৷ ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন ইতিমধ্যে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের খবর জানিয়ে দায়ীদের শাস্তির আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছেন

ঘটনার অব্যবহিত পরে দায়িত্বশীলদের এমন আশ্বাস নতুন কিছু নয়৷ কত আশ্বাসই তো গালভরা বুলি হয়ে ভুক্তিভোগীদের অনিঃশেষ ক্রন্দন আর সমালোচকদের হাসির খোরাক হয়েছে৷ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সাগর-রুনির হত্যাকারীদের পাকড়াও করার আশ্বাস তো এখন দেশের রাজনীতির অঙ্গনে ‘ক্লাসিক জোক'! ফ্লাইওভার বিষয়ক আশ্বাসও যেন সেরকম না হয়৷ জনমনে সেরকম আশঙ্কা কিন্তু ইতিমধ্যে উঁকিঝুঁকি মারতে শুরু করেছে৷

বিশেষ করে মালিবাগ ফ্লাইওভার যে স্বস্তির বদলে ভোগান্তি হতে চলেছে, এমন আশঙ্কার কথা তো অনেকদিন ধরেই শুনছিলাম৷ গণমাধ্যম কতভাবেই তো সেকথা জানিয়েছে৷ কিন্তু সংশ্লিষ্টরা কি তা এতকাল শুনেছেন?

Deutsche Welle DW Ashish Chakraborty

আশীষ চক্রবর্ত্তী, ডয়চে ভেলে

৮ দশমিক ৭০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই উড়ালসড়কের নকশাতেই রয়েছে বড় রকমের ভুল৷ বিদেশি প্রকৌশলী নকশা করেছেন গাড়ির বাঁ দিকে স্টিয়ারিংয়ের কথা মাথায় রেখে৷ অথচ বাংলাদেশের সব গাড়িতেই স্টিয়ারিং থাকে ডান দিকে৷

স্বাভাবিক কারণেই দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেশি ছিল৷ বেশ কিছু দুর্ঘটনা ঘটেছেও৷ গত সপ্তাহেই কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে কয়েদি নিয়ে গাজীপুরের কাশিমপুরে যাওয়ার সময় উল্টে যায় পুলিশের প্রিজন ভ্যান৷অবশেষে একজনের প্রাণ কেড়ে নিলো সেই উড়ালসড়ক৷

তারপরও কি সড়ক যোগাযোগে উন্নতির প্রয়োজন মেটাতে গিয়ে কিছু লোককে জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার সুযোগ দেয়া বন্ধ হবে? দল-মত নির্বিশেষে সবার কামনা, তা-ই যেন হয়৷

অথচ চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক সময়েই নেয়া হয়েছে জনজীবনকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেয়ার মতো সিদ্ধান্ত৷ র‌্যাম্প এবং লুপ ছাড়াই আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভার উদ্বোধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ৷ কর্তৃপক্ষ বলছে, এটা নাকি পরীক্ষামূলক পদক্ষেপ৷ মানুষের জীবন নিয়ে যেখানে সামান্যতম ঝুঁকির শঙ্কা রয়েছে, সেখানে যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলতে পারে না এটা তাদের কে বোঝাবে!

অথচ পাঁচ বছর আগে চট্রগ্রামের বহদ্দারহাটেই ফ্লাইওভারের গার্ডার ভেঙে মারা গিয়েছিল ১৫ জন৷ ২৩ জন মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করেছিল৷দায়ীরা কিন্তু এখনো শাস্তি পায়নি৷

এমন দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করে দায়ীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে শাস্তির আওতায় আনা খুব জরুরি৷ ফ্লাইওভার নির্মাণের নামে হত্যার অধিকার যেন কেউ না পায়৷