উপকূলে সিরীয় শিশুর নিথর দেহ, স্তব্ধ ইউরোপ

সাগর পাড়ে নিথর পড়ে আছে তিন বছরের ছোট্ট এক শিশু৷ সামাজিক মাধ্যমে এই ছবি ছড়িয়ে পড়ায় ইউরোপ সহ সারা বিশ্বের মানুষ ফেসবুক, টুইটারে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন৷

লাল টি-শার্ট আর নীল প্যান্ট পরা শিশুটির নাম আয়লান কুর্দি৷ তুরস্কের এক উপকূলে তার মরদেহ পাওয়া গেছে৷ সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ থেকে বাঁচতে সেদেশের হাজার হাজার মানুষ দেশ ছেড়ে এখন ইউরোপের দিকে ছুটছেন৷ এক্ষেত্রে তারা প্রথমে নৌকা করে সাগর পাড়ি দিয়ে তুরস্ক, কিংবা ইটালি ও গ্রিসে পৌঁছচ্ছেন৷ এমনই এক নৌকা গ্রিস ও তুরস্কের মাঝামাঝি সাগরে ডুবে গেলে ১২ জন সিরীয় নাগরিক নিহত হন৷ ছোট্ট শিশুটি তাদেরই একজন বলে মনে করা হচ্ছে৷

সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীরা #KiyiyaVuranInsanlik ব্যবহার করে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন৷ কেউ কেউ চলমান শরণার্থী সংকট সামলাতে ইউরোপের পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন৷

জগৎসেরা হাসি

বাবা-মা-এর কাছে পাসপোর্ট নেই বলে জার্মান পুলিশ তাদের আটকে রেখেছে৷ ফুটফুটে শিশু দুটোর তো তা বোঝার সাধ্য নেই, তাই মিউনিখের কেন্দ্রীয় রেল স্টেশনে দিব্যি খেলে বেড়াচ্ছে ওরা৷

তবু যেতে হয়....

বুদাপেস্ট রেল স্টেশন থেকে সবাইকে বেরিয়ে যেতে বলেছে পুলিশ৷ অন্যদের সঙ্গে এই মেয়েটিও চেয়েছিল ট্রেনে চড়ে জার্মানি বা অস্ট্রিয়ায় যেতে৷ যাওয়া হলো না৷ মন খারাপ করে ফিরে যাচ্ছে মেয়েটি৷

উল্লাসে বেঁচে থাকা

হাঙ্গেরিতে ঢোকাও খুব কঠিন৷ সিরিয়ার এই পরিবারটিও অনেক কষ্টের পথ পাড়ি দিয়ে, অনেক বাধা পেরিয়ে এই মাত্র এসেছে হাঙ্গেরির সীমান্তে৷ বাবা-মায়ের আগে কাঁটাতার ডিঙ্গিয়ে ঢুকেছে মেয়েটি, চোখে-মুখে দেহভঙ্গিতে সেই আনন্দ৷

অসহায় শিশু, অসহায় কান্না

গ্রিসের সীমান্ত৷ হঠাৎ বৃষ্টি নেমেছে৷ ভয়ে কাঁদতে শুরু করেছে এক শিশু৷

মা-মেয়ে

মেসিডোনিয়ার পুলিশের পাশ দিয়ে যেতে ভয় করছিল তাদের৷ কোথায় মা অভয় দেবে মেয়েকে, তা নয়, মায়ের কান্না দেখে মেয়েই সামলাচ্ছে তাঁকে৷

হাতিয়ার

বুদাপেস্ট রেল স্টেশন থেকে ওদেরও বের করে দেয়া হয়েছে৷ ট্রেনের টিকেট দেখিয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছে অনেকে৷ অনেকে আবার শিশুকে তুলে ধরে জানাচ্ছেন প্রতিবাদ৷

দরদি পুলিশ

ছোট্ট একটি মেয়ে অন্যদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলতে পারছিলনা৷ মেসিডোনিয়ার এক মহিলা পুলিশ কোলে তুলে নিলো তাকে৷

ভয়

গ্রিসের কস দ্বীপে নাম, পরিচয় নথিভুক্ত করানোর সময় বাবার সঙ্গে কী নিয়ে যেন ঝগড়া লেগেছে পুলিশের৷ হৈ-চৈ শুনে ভয়ে কাঁদতে শুরু করেছে সিরীয় পরিবারটির শিশু সন্তান৷

তুমি অজেয়

গ্রিসে ওর পরিবারের জীবনযুদ্ধ সবে শুরু হয়েছে৷ জয়-পরাজয় তো অনেক পরের কথা৷ কিন্তু কার কাছ থেকে যেন ‘বিজয় চিহ্ন’ দেখাতে শেখা মেয়েটি যখন-তখন যাকে-তাকে দু আঙুল তুলে দেখিয়ে দিচ্ছে ‘ভি’৷ এমন শিশুকে কেইবা হারাতে চায়!

তুরস্কের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘‘অভিবাসীদের আগমন বিষয়ে ইউরোপ যে মনোভাব দেখাচ্ছে সেটা দুঃখজনক৷ বিষয়টি সাধারণ মানবাধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার সময় এসে গেছে৷''

ব্রিটেনের দৈনিক ইন্ডিপেন্ডেন্ট একটি প্রশ্ন তুলেছে, ‘‘সিরিয়ার ছোট্ট শিশুর মরদেহের এই শক্তিশালী ছবিটি যদি চলমান সংকট নিয়ে ইউরোপের মনোভাবে পরিবর্তন না আনে, তাহলে আর কীসে কী হবে?''

ব্রিটেনের অনাগ্রহ

ইউরোপে যত শরণার্থী আসছে তার বেশিরভাগই আসছে জার্মানিতে৷ জার্মানিও এসব শরণার্থীদের একটি বড় অংশকে আশ্রয় দিচ্ছে৷ কিন্তু সেই তুলনায় ব্রিটেন শরণার্থীদের নিতে আগ্রহী হচ্ছে না৷ পরিসংখ্যান বলছে, জনসংখ্যার অনুপাতে ব্রিটেন খুব কম সংখ্যক শরণার্থীদের আশ্রয় দিচ্ছে৷ তাই ফ্রান্স, জার্মানি ও ইটালি শরণার্থী নীতিতে পরিবর্তন আনার প্রস্তাব করেছে যেন ইইউর দেশগুলো জনসংখ্যার অনুপাতে সমান সংখ্যক শরণার্থী নেয়৷

জেডএইচ/এসবি (এএফপি, রয়টার্স)

লাল টি-শার্ট আর নীল প্যান্ট পরা শিশুটির নাম আয়লান কুর্দি৷ তুরস্কের এক উপকূলে তার মরদেহ পাওয়া গেছে৷ সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ থেকে বাঁচতে সেদেশের হাজার হাজার মানুষ দেশ ছেড়ে এখন ইউরোপের দিকে ছুটছেন৷ এক্ষেত্রে তারা প্রথমে নৌকা করে সাগর পাড়ি দিয়ে তুরস্ক, কিংবা ইটালি ও গ্রিসে পৌঁছচ্ছেন৷ এমনই এক নৌকা গ্রিস ও তুরস্কের মাঝামাঝি সাগরে ডুবে গেলে ১২ জন সিরীয় নাগরিক নিহত হন৷ ছোট্ট শিশুটি তাদেরই একজন বলে মনে করা হচ্ছে৷