একঘরে হয়ে পড়ছেন ম্যার্কেল?

কিছুকাল আগে পর্যন্ত জনমত সমীক্ষায় শীর্ষে বিচরণ করতেন জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল৷ অথচ এখন জার্মানির দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ তাঁকে চতুর্থ বারের মতো চ্যান্সেলর হিসেবে দেখতে চান না৷

বহুকাল ধরে সাফল্য ও জনপ্রিয়তার মানদণ্ডে ম্যার্কেলের অবস্থান যে কোনো নেতার মনে ঈর্ষা জাগানোর জন্য যথেষ্ট ছিল৷ গভীর সংকটের সময়েও জার্মানি ও ইউরোপের রাশ দৃঢ়ভাবে ধরে রেখে তিনি মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন৷ কিন্তু ইউরোপের শরণার্থী সংকট তাঁর সেই অবস্থানকে নাড়িয়ে দিয়েছে৷ এমনকি নিজের রাজনৈতিক শিবিরের মধ্যও সমর্থন হারাচ্ছেন তিনি৷ এমনকি বাভেরিয়ার খ্রিষ্টীয় সামাজিক ইউনিয়ন সিএসইউ দল আগামী নির্বাচনে আলাদা প্রচার অভিযানের বিষয়ে ভাবনাচিন্তা করছে৷

জার্মানির জনসাধারণের মনেও ম্যার্কেলের উপর আস্থা এই মুহূর্তে নাটকীয় মাত্রায় কমে গেছে বলে দাবি করছে একটি জনমত সমীক্ষা৷ তবে শুধু ম্যার্কেল একা নন, তাঁর জোট সরকারের দুই শরিক দলের প্রতি সমর্থনও অনেক কমে গেছে৷ সেই জরিপ অনুযায়ী ২০১৭ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ তাঁকে চ্যান্সেলর হিসেবে দেখতে চান না৷

শরণার্থী সংকট ইউরোপের রাজনৈতিক মানচিত্রের উপর গভীর প্রভাব ফেলছে, এ বিষয়ে সন্দেহ নেই৷ চলতি সপ্তাহেই অস্ট্রিয়ার চ্যান্সেলর ভ্যার্নার ফাইমান-এর পদত্যাগ পরিস্থিতির গুরুত্ব আরও স্পষ্ট করে তুলেছে৷

বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর নারীর ব্যক্তিগত জীবন

ম্যার্কেলের নাপিত উডো ভালৎস

২০১৫ সালে ফোর্বস ম্যাগাজিনের বিবেচনায় বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর নারী আঙ্গেলা ম্যার্কেল৷ উডো ভালৎস (ছবিতে মাঝখানে) গত দশ বছর ধরে ম্যার্কেলের চুল কাটেন৷ তাঁর কথায়, ‘‘চ্যান্সেলার হওয়ার আগেও তিনি যেমন সেলুনে অন্যদের সাথে বসতেন, এখনও তাই করেন৷ তাঁকে কোনো বিশেষ ছাড় দেওয়া হয় না৷ অর্থাৎ তিনিও অন্যদের মতো ৬৫ ইউরো দেন৷ একদম আগের মতো আছেন তিনি৷’’

বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর নারীর ব্যক্তিগত জীবন

নিজেদের বাড়িতেই থাকেন

বার্লিনের ‘মিউজিয়াম আইল্যান্ড’-এর একটি জাদুঘরের কাছে নিজস্ব, কিন্তু পুরানো একটা ফ্ল্যাটে থাকেন আঙ্গেলা ম্যার্কেল ও তাঁর স্বামী ইওয়াখিম সাউয়ার৷ শুধু নিরাপত্তার জন্য দু’জন পুলিশ বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকে৷ এছাড়া কিন্তু সব কিছু আগের মতো আছে৷ এই যেমন, ছুটি পেলে আজও কাছের উকারমার্ক নামের ছোট্ট শহরে চলে যান দু’জনে৷ সেখানেই তিনি বড় হয়েছেন!

বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর নারীর ব্যক্তিগত জীবন

নিজেই বাজার করেন

চ্যান্সেলার ম্যার্কেল সাধারণ সুপার মার্কেটেই বাজার করতে যান, বিশেষ করে যেগুলো একটু বেশি সময় খোলা থাকে৷ বাজার করা সম্পর্কে আঙ্গেলা ম্যার্কেল একবার এক দোকানিকে বলেছিলেন, ‘‘আমার এই অল্প অবসর সময়ে বাজার করার মতো সব কাজই করার চেষ্টা করি, যেমনটা আগে করতাম৷ অবশ্য যখন নিজে পারি না, তখন বাজারের লিস্ট তৈরি করে স্বামীর হাতে তুলে দেই৷’’

বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর নারীর ব্যক্তিগত জীবন

তিনিই ‘চ্যান্সেলার’

দোকানের একজন নারী কর্মী জানান, ‘‘চ্যান্সেলার ম্যার্কেল অন্যান্য ক্রেতার মতোই কিছু খুঁজে না পেলে কোথায় কী রাখা আছে, তা সাধারণ গৃহিনীদের মতোই জানতে চান৷ তাঁর নিরাপত্তার জন্য দেহরক্ষী সাথে না থাকলে কেউ হয়ত বুঝবেই না যে তিনিই আমাদের ‘অ্যাঞ্জি’৷’’ কর্মীটি আরো জানান, ‘‘শত ব্যস্ততার মধ্যেও কিন্তু চ্যান্সেলারের মুখে হাসিটুকু লেগে থাকে, যা ভীষণ ভালো লাগে৷’’

বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর নারীর ব্যক্তিগত জীবন

চ্যান্সেলারের পছন্দ ফ্রেঞ্চ চিজ

জার্মান চ্যান্সেলার আঙ্গেলা ম্যার্কেলের ভীষণ পছন্দ ফ্রেঞ্চ চিজ বা পনির, যা তিনি নিজেই কিনতে ভালোবাসেন৷ আর সে’কথাই গর্ব করে জানান ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের একজন কর্মী৷

বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর নারীর ব্যক্তিগত জীবন

ভোজন রসিক ম্যার্কেল

হাতে দামি ব্যাগ নেওয়ার চেয়ে ভালো খাওয়া-দাওয়া ম্যার্কেলের কাছে বেশি গুরত্বপূর্ণ৷ যখন তিনি রান্না করার সময় পান না, তখন স্বামী ইওয়াখিম সাউয়ারকে নিয়ে বার্লিনের ‘কাসামবালিস’ নামের একটি রেস্তোরাঁয় খেতে যান৷ দামি খাবারের চেয়ে অবশ্য ‘গ্রিক মিটবল’-এর মতো সাধারণ খাবারই বেশি পছন্দ বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর এই নারীর৷

বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর নারীর ব্যক্তিগত জীবন

বিলাসিতা পছন্দ নয়

অন্যান্য রাজনীতিকদের মতো বিলাসিতা আঙ্গেলা ম্যার্কেলের তেমন পছন্দ নয়৷ বরং সাধারণ জীবনযাপনই তাঁর বেশি ভালো লাগে৷ তাই তিনি যতটা সম্ভব সেভাবেই চলার চেষ্টা করেন স্বামীকে নিয়ে৷

বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর নারীর ব্যক্তিগত জীবন

চাই মুক্ত হাওয়া আর হাঁটা-চলা

আঙ্গেলা ম্যার্কেল সময় সুযোগ পেলে স্বামীকে সাথে নিয়ে হাঁটতে বের হন৷ শারীরিক এবং মানসিকভাবে ‘ফিট’ থাকতে মুক্ত বাতাসে হাঁটা-চলা যে ভীষণ জরুরি – সেটা তিনি যেন সকলে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন৷ এই না হলে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর নারী!

এসবি/ডিজি (ডিপিএ, এএফপি)

আমাদের অনুসরণ করুন