একটিও সংবাদ সম্মেলন না করা প্রথম প্রধানমন্ত্রী মোদী

স্বাধীনতার পর গণতান্ত্রিক ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন নরেন্দ্র মোদী, যিনি সরকারের মেয়াদকালে একটিও সংবাদ সম্মেলন করেননি৷ এদিকে, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে পুরনো প্রকল্প নতুন করে উদ্বোধন করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে৷

মোদীর সরকারের অবশিষ্ট মেয়াদকাল আর মাত্র আড়াই মাস৷ এরমধ্যে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিতে সামনে আসবেন বলে মনে করছেন না রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা৷

শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টির নেতাদের সঙ্গে সাংবাদিকদের সখ্যতা সেই শুরু থেকেই৷ কিন্তু, ওসবের ধার ধারেন না মোদী৷ সরকারের শীর্ষে থেকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হওয়া ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ধাতে নেই৷ বরং তা এড়িয়েই চলেন তিনি৷ গত ৫ বছরে একটিও সাংবাদিক সম্মেলন করেননি তিনি৷ তবে, মাঝেমধ্যে পছন্দের সংবাদপত্র বা টেলিভিশন চ্যানেলে ‘‌সাজানো'‌ প্রশ্নের জবাব দিতে দেখা গেছে তাঁকে৷

মৌন মোদী

গত পাঁচ বছরে কর্মসংস্থান, কৃষক দুর্দশা, গো-‌রক্ষা, দলিত নিপীড়ন, গণপিটুনির মতো বিষয়গুলিতে মুখে কুলুপ এঁটে থেকেছেন মোদী৷ নোটবন্দি, পণ্য ও পরিসেবা কর, হালের সীমান্তে উত্তেজনার ইস্যুতেও সংসাদমাধ্যমকে এড়িয়ে চলেছেন মোদী৷ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোকে কার্যত দেউলিয়া করে পগার পার হওয়া মেহুল চোকসি, বিজয় মালিয়া ও নীরব মোদীদের নিয়েও ‘নীরব’ থেকেছেন তিনি৷ এজন্য তাঁকে ‘‌‌মৌন মোদী’ আখ্যা দিয়েছে বিরোধী শিবির৷ অথচ, সরকারি হোক বা দলীয়, জনসভায় বরাবরই গলা চড়াতে পছন্দ করেন নরেন্দ্র মোদী৷

২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর আজ অবধি একটিও সাংবাদিক সম্মেলন করেননি মোদী৷ কয়েক বছর আগেও যাঁকে ‘‌মৌন ‌মোহন সিং'‌‌ বলে কটাক্ষ করা হত, সেই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বছরে অন্তত দু-‌বার সাংবাদিক সম্মেলন করতেন৷ এমনকি তাঁর বিদেশ সফরে সঙ্গী হতেন সাংবাদিকরা৷ বিমানে সংবাদমাধ্যমকে নিয়মিত সাক্ষাৎকার দিতেন তিনি৷

এ পর্যন্ত ৪০ বার বিদেশ সফর করেছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷ কিন্তু সঙ্গে নেননি বেসরকারি সংবাদমাধ্যমকে৷ প্রথা ছিল, প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী সাংবাদিকদের বিমান মাশুল দিত সরকার৷ কিন্তু, বিদেশে সাংবাদিকদের থাকা-‌খাওয়ার বন্দোবস্ত করতে হত নিজেদের খরচে৷ মোদী ক্ষমতায় এসে সে সব বন্ধ করেছেন৷ যদিও এই বিষয়ে সরকারের বক্তব্য, ‘‌‘‌জনগণের করের অর্থ অপচয় রুখতেই এমনটা করা হয়েছে৷’’

এখন লাইভ
04:31 মিনিট
বিষয় | 13.03.2019

মিডিয়ায় মোদীর সমালোচনা শোনা যায় কিন্তু বিরোধী নেতাদের দুর্নীত...

কিন্তু, নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে, প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী গুটিকতক সাংবাদিক সরকারের কর্মকাণ্ড নিজের চোখে দেখে সংবাদ পরিবেশন করতেন৷ অনেক ক্ষেত্রে সরকারের সমালোচনাও করতেন৷ সরকারের মন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ আমলাদের সঙ্গে কথোপকথনের সুযোগ মেলার ফলে বহু অজানা তথ্য প্রকাশ পেত৷ ‘‌ব্যয় কমানো’র অজুহাতে সেসব বন্ধ করা ঠিক কতটা যুক্তিগ্রাহ্য?‌ একি সাংবাদিকদের এড়িয়ে চলা নয়?‌ প্রশ্নের মুখোমুখি হতে ভয় পাওয়া নয়?‌‌

বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর এই অনভিপ্রেত নীরবতা নিয়ে মুখ খুলেছেন মনমোহনও৷ ‌বলেছেন, ‘‌‘‌আমি কখনও ‌সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে ভয় পেতাম না৷ মুখ খোলার জন্য উনি (‌মোদী)‌ আমাকে যে উপদেশ দিতেন, এখন সেটা ওঁর নিজের ওপর প্রয়োগ করে দেখানো উচিত৷'‌'‌‌ সম্প্রতি নিজের লেখা ‘‌চেঞ্জিং ইন্ডিয়া’ বইয়ে লিখেওছেন সেকথা৷

রাজনৈতিক বিশ্লেষক সুগত হাজরা ডয়চে ভেলেকে বলেছেন, ‘‌‘‌মিডিয়ার এই দশার জন্য দায়ী ভারতীয় মিডিয়াই৷ কারণ, রাহুল গান্ধী বা বিরোধী নেতাদের পেছনে ফেলে দিয়ে একতরফাভাবে মোদীর সমালোচনা শোনা যায়৷ অথচ বিরোধী নেতা-‌নেত্রীদের দুর্নীতি, কেলেঙ্কারি নিয়ে চুপ থাকে মিডিয়া৷ সরকারি খরচে সাংবাদিকরা বিদেশে গিয়ে কোনো চাঞ্চল্যকর সংবাদ পরিবেশন করেছেন, এমনটা শোনা যায় না৷ তাই প্রথা অনুযায়ী জনগণের করের টাকায় সাংবাদিকদের বেড়াতে নিয়ে গেলেও কোনো রাজকার্য সিদ্ধ হত ‌না৷’’

কয়েক দশক ধরে সাংবাদিকতা করছেন, এমন প্রবীণ সাংবাদিকদের মতে, ‌নরেন্দ্র মোদী আসলে মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ করেছেন অত্যন্ত সুকৌশলে৷ জাতীয় সংবাদমাধ্যম তাঁকে সরাসরি প্রশ্ন করার সুযোগ পায় না৷ অন্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরাও সাংবাদিকদের প্রশ্ন এড়িয়ে যেতে পছন্দ করেন৷‌

অভিযোগ, দেশে ‘‌প্রেস ইনফর্মেশন ব্যুরো’ স্বীকৃত সাংবাদিকরা যে-কোনো মন্ত্রণালয়ে অবাধ যাতায়াত করতে পারতেন৷ এখন তা-‌ও নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে৷ আগাম জানাতে হয়, কোন আধিকারিকের সঙ্গে দেখা করতে চান৷ ফলে, স্বভাবতই সাংবাদিকদের এড়িয়ে চলছেন আমলারাও৷ সমূলে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে সাংবাদিককূলের চিরপরিচিত ‘‌সোর্স’৷

একাধিক প্রবীণ সাংবাদিক জানিয়েছেন, ‌ মোদীর আগে সব প্রধানমন্ত্রী (‌অটলবিহারী বাজপেয়ীও)‌ একজন ‘‌মিডিয়া উপদেষ্টা’ নিয়োগ করতেন৷ ‌এখন তা-‌ও নেই৷ সংসদের সেন্ট্রাল হলে, যেখানে সাংবাদিকরা মন্ত্রী ও সাংসদদের সঙ্গে খোলাখুলি কথা বলতেন, সেখানেও একজন নিরাপত্তা আধিকারিক নিয়োগ করা হয়েছে৷ তাঁর কাজ হলো, সাংবাদিকদের সঙ্গে কে কে কথা বলছেন, তার তালিকা তৈরি করা৷ এমতাবস্থায় সরকার যা জানাবে তাই জানতে হবে, সরকার যা চাইবে, তাই সংবাদ হিসেবে পরিবেশন করতে হবে - এমন একটি পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলেছে৷ আসলে মোদী স্বতন্ত্র সাংবাদিকতকায় বিশ্বাস করেন না৷

এই প্রসঙ্গে দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় দিল্লিতে কর্মরত জাতীয় সংবাদপত্রের প্রবীণ সাংবাদিক শরদ গুপ্তা ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‌‘‌প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের প্রশ্ন পছন্দ করেন না, যা সাংবাদিকতার স্বাধীনতার জন্য মোটেই ভালো নয়৷ তবে, যে-কোনো বিষয়ে মোটেই মৌন থাকেননি মোদী৷ তিনি কোথায়, কখন বলবেন সেটা নিজেই বেছে নিয়েছেন৷’’

ভোটের মুখে প্রকল্পের ছড়াছড়ি

ভারতে লোকসভা নির্বাচন ঘোষণা হওয়ার আগে মাত্র ৩০ দিনে মোট ১৫৭টি প্রকল্পের ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷ প্রতিদিন গড়ে ৫টি৷ যার মধ্যে রয়েছে জাতীয় সড়ক, মেডিকেল কলেজ, স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, গ্যাসের পাইপলাইন, বিমানবন্দর, বিদ্যুৎ এবং নিকাশি-‌সহ বহু প্রকল্প৷ এসবের বেশিরভাগই পুরনো, অর্থাৎ, হয় চালু হয়েছে, নয়তো চালু হওয়ার পথে বা আগেই শিলান্যাস হয়েছে৷

যেমন উত্তরপ্রদেশের আমেঠিতে (‌কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর নির্বাচনি কেন্দ্র)‌ রাশিয়ার সহায়তায় অত্যাধুনিক এ কে-২০৩ রাইফেল তৈরির কারখানার উদ্বোধন করেছেন মোদী৷ কিন্তু এই প্রকল্পের উদ্বোধন হয়েছিল ২০০৭ সালে৷ ২০১০ সাল থেকে সেখানে কার্বাইন, রাইফেল এবং ইনসাস মেশিনগান তৈরি শুরু হয়েছে৷

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিহারের করমালিচকে একটি নিকাশি প্রকল্পের শিলান্যাস করেন প্রধানমন্ত্রী৷ সেটিও নতুন প্রকল্প নয়৷ ২০১৭-র অক্টোবরেই সেই একই প্রকল্পের অঙ্গ হিসাবে কারমালিচক নিকাশি প্রকল্পের শিলান্যাস করেছিলেন তিনি৷ অথচ, ২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার আগে এইভাবে গুচ্ছ গুচ্ছ প্রকল্প ঘোষণা করেননি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং৷

পুরনো প্রকল্প পুনরায় উদ্বোধন করা ছাড়াও, এমন অনেক প্রকল্পের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদীর নাম জড়িয়েছে, যা তাঁর পদমর্যাদার সঙ্গে খাপ খায় না৷ কী কী সেগুলি? প্রায় ১৪০টির কাছাকাছি এমন প্রকল্প উদ্বোধন করেছেন, যা প্রধানমন্ত্রীর পদমর্যাদার কোনো ব্যক্তিত্ব উদ্বোধন করছেন, এমনটা ভাবা যায় না৷ সেগুলির মধ্যে রয়েছে চেন্নাই মেট্রোর এক অংশে যাত্রী পরিসেবা চালু৷ কর্ণাটকের চিকজজুর-মায়াকোন্ডা রেললাইনের ডাবলিং৷ তামিলনাড়ুতে ৪ নম্বর জাতীয় সড়কে ছয় লেনের সম্প্রসারণ৷ কিছু প্রকল্পতো স্থানীয় কোনো নেতা উদ্বোধন করার উপযুক্ত৷ উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদ পুরসভায় একটি গোশালা সংস্কারের শিলান্যাস, নিকাশি নালার উদ্বোধন, ইত্যাদি৷

রাজনৈতিক বিশ্লেষক সুগত হাজরা এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘‌মোদী সব জায়গায় যাচ্ছেন, প্রকল্প উদ্বোধন করছেন৷ শুধুই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করছেন, এমনটা নয়৷ পুরনো প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন মোদীর আগে অনেকেই করেছেন৷’’

আর প্রবীণ সাংবাদিক ‌শরদ গুপ্তা বলছেন, ‘‌‘‌গত ৫ বছরে মোদী অনেক বড় বড় ঘোষণা করেছেন৷ খুব ভালো কাজ হয়েছে বলা যাবে না৷ আবার সড়ক, রেল, বিমান পরিসেবা, আয়ুষ্মান যোজনায় কাজ করেছেন৷ বেশিরভাগ কাজ হয়েছে গত এক বছরে৷ এটা সত্যি যে অনেক প্রকল্পের ঘোষণা করেছেন৷ এইসব প্রকল্প কোন সরকার বাস্তবায়ন করবে, তা কারও জানা নেই৷’’

ভারতের লোকসভা নির্বাচনের খুঁটিনাটি

আসনসংখ্যা

সাধারণ নির্বাচন মানে ভারতের লোকসভা সদস্যদের নির্বাচন করার পদ্ধতি৷ লোকসভায় মোট আসন সংখ্যা ৫৪৫ হলেও নির্বাচন হয় ৫৪৩টি আসনে৷ বাকি দুটি আসন ভারতের অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান সম্প্রদায়ের জন্য সংরক্ষিত৷ তাদের দুই প্রতিনিধি কে হবেন, তা ঠিক করেন ভারতের রাষ্ট্রপতি৷

ভারতের লোকসভা নির্বাচনের খুঁটিনাটি

ভোটার সংখ্যা

২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে মোট ভোটার ছিল ৮৩ কোটিরও বেশি, যা বর্তমান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার দ্বিগুণেরও বেশি! বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের নির্বাচনে বাড়বে এই সংখ্যা৷ নতুন ভোটারের সংখ্যা এবছর প্রায় সাড়ে চার কোটি হতে চলেছে৷

ভারতের লোকসভা নির্বাচনের খুঁটিনাটি

কয়টি দল?

গত নির্বাচনে মোট ৮,২৫১ জন প্রার্থী নির্বাচনে লড়েছিলেন৷ সেবার মোট ৪৬০টি রাজনৈতিক দল ভোটের ময়দানে নেমেছিল৷ ভারতের জাতীয় নির্বাচন কমিশনই জানাচ্ছে এই তথ্য৷

ভারতের লোকসভা নির্বাচনের খুঁটিনাটি

মোট প্রার্থী

জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে, প্রতিটি আসনে গড়ে ১৪ জন প্রার্থী থাকে ভারতে৷ এখন পর্যন্ত একটি আসনে সর্বোচ্চ ৪২ জন প্রার্থী হয়েছেন!

ভারতের লোকসভা নির্বাচনের খুঁটিনাটি

ভোটকেন্দ্র কতগুলি?

২০১৪ সালের নির্বাচনে মোট ভোটকেন্দ্র ছিল ৯,২৭,৫৫৩টি৷ কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি বুথে গড়ে ৯০০ জন ভোটার ভোট দেন৷ উল্লেখ্য, ভারতের নির্বাচনি আইন বলে, যে-কোনো ভোটারের বাসস্থানের দুই কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে অন্তত একটি ভোটকেন্দ্র থাকতে হবে৷

ভারতের লোকসভা নির্বাচনের খুঁটিনাটি

নির্বাচনি দায়িত্ব পালন

ভারতের সাধারণ নির্বাচন যাতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, তার দায়িত্ব পড়ে সরকারী কর্মচারীদের ওপর৷ গত নির্বাচনে এই দায়িত্ব পান প্রায় ৫০ লক্ষ আধিকারিক ও নিরাপত্তাকর্মী৷ শুধু তাই নয়, এই কর্মীরা পায়ে হেঁটে, বাসে-ট্রামে-ট্রেনে-নৌকায়, এমনকি হাতির পিঠে চড়েও ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে পৌঁছেছেন বলে জানাচ্ছে নির্বাচন কমিশন৷

ভারতের লোকসভা নির্বাচনের খুঁটিনাটি

একজন ভোটারের জন্যও রয়েছে বুথ!

২০০৯ সালের নির্বাচনের সময় গুজরাটের গির অঞ্চলের জঙ্গলেও ছিল ভোটগ্রহণ কেন্দ্র৷ এই ভোটকেন্দ্রের আওতায় যদিও ছিলেন মাত্র একজন ভোটার৷ তবুও বুথ চালু রাখা হয় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে৷ (প্রতীকী ছবি)

ভারতের লোকসভা নির্বাচনের খুঁটিনাটি

ভোটের পর...

২০১৯ সালের নির্বাচন মোট সাতটি পর্যায়ে সম্পন্ন হবে৷ এই প্রক্রিয়া শেষ হতে সময় লেগে যাবে একমাসেরও বেশি৷ ২০১৯ সালের নির্বাচন হবে ১১ এপ্রিল থেকে ১৯ মে পর্যন্ত৷ আগে যদিও ব্যালট পেপারে ভোট হবার ফলে ফলপ্রকাশ হতে কয়েকদিন লেগে যেত, আজকাল ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম আসার ফলে ফলাফল বেরোতে সময় লাগে মাত্র একদিন৷

ভারতের লোকসভা নির্বাচনের খুঁটিনাটি

কত খরচ?

ভারতের মতো বিশালাকারের দেশের নির্বাচন যে খরচসাপেক্ষ হবে, তা বলাই বাহুল্য৷ নির্বাচন কমিশন প্রকাশিত তথ্য বলছে, ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে খরচ হয় প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি মার্কিন ডলার সমান অর্থ, ভারতীয় মুদ্রায় যা দাঁড়ায় ৩,৮৭০ কোটি রুপির কাছাকাছি৷

ভারতের লোকসভা নির্বাচনের খুঁটিনাটি

কতগুলি ইভিএম?

২০১৪ সালের নির্বাচনে আনুমানিক ১৮ লক্ষ ইভিএম ব্যবহৃত হয়েছিল৷ ইভিএম আসায় নির্বাচনের কাজ দ্রুত শেষ করা গেলেও অনেক রাজনৈতিক দল মনে করে যে এখানেও কারচুপি সম্ভব৷ বিভিন্ন মহল থেকে ব্যালট পেপার ফিরিয়ে আনার দাবি থাকলেও আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে তা হবার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ৷

আমাদের অনুসরণ করুন