একসময় বাংলাদেশে ফুটবল-হকি-সাঁতার এ সব খেলাও হতো!

বাংলাদেশে ক্রকেট ছাড়া আর কোনো খেলায় দর্শকদের যেন কোনো আগ্রহ নেই৷ তাই নেই স্পন্সরও৷ এভাবে চললে, কয়েক বছর পর হয়ত বাংলাদেশে একটাই খেলা থাকবে৷ আর বাকিগুলোর? তাদের জায়গা হবে শুধুমাত্র ইতিহাসের পাতায়৷

১.

১৯৮৫-র এশিয়া কাপ হকির ফাইনাল দেখতে কত লোক এসেছিল?

- কত ঠিক বলতে পারব না৷ তবে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের গ্যালারি পুরো ভর্তি ছিল মনে আছে৷

হুঁ, আনুমানিক ৫০ হাজার৷ তখন গ্যালারির সেরকমই ধারণ ক্ষমতা ছিল৷

- আচ্ছা৷

আর এবারের ফাইনালের দর্শক কত হবে?

তখনো ফাইনাল শুরু হতে ঘণ্টাখানেক বাকি৷ পরিচিত এক সিনিয়র সাংবাদিকের সঙ্গে কথোপকথনের এই পর্যায়ে গ্যালারিটা একটু ভালো করে দেখি৷ মনে হয় সব মিলিয়ে হাজারখানেক দর্শক হবে৷ বললাম সংখ্যাটা৷ তিনি মানলেন না৷ তাঁর দাবি, সংখ্যাটা হলো ‘৫০'৷

হ্যাঁ,  ৫০৷ ১৯৮৫-তে ছিল ৫০ হাজার আর এবার ৫০ জন৷

- কীভাবে? এই ভিআইপি গ্যালারিতেই তো শ'পাঁচেক লোক আছে৷

বাংলাদেশের কম জনপ্রিয় খেলার তারকারা

জোবেরা রহমান লিনু

এক-দুইবার নয়, মোট ১৬ বার জাতীয় টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন লিনু৷ তাই ২০০৩ সালে গিনেস বুকে নাম ওঠে তাঁর৷

বাংলাদেশের কম জনপ্রিয় খেলার তারকারা

রানী হামিদ

তিনি দাবায় বাংলাদেশের প্রথম মহিলা আন্তর্জাতিক মাস্টার৷ জাতীয় মহিলা দাবায় ১৮ বার সেরা হয়েছেন ৭৩ বছর বয়সি রানী হামিদ৷ এখনও খেলছেন তিনি৷ ২০১৮ সালে মেয়েদের দাবা বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন রানী হামিদ৷ দাবার প্রসারেও ভূমিকা রেখেছেন তিনি৷ তাঁর লেখা ‘মজার খেলা দাবা’ বইটি জনপ্রিয়তা পেয়েছে৷ রানী হামিদের সন্তান কায়সার হামিদ আশির দশকের তারকা ফুটবলার৷

বাংলাদেশের কম জনপ্রিয় খেলার তারকারা

বিদ্যুৎ কুমার রায়

তাঁকে বাংলাদেশের কিংবদন্তি ভারোত্তোলক বলা যায়৷ কারণ, জাতীয় প্রতিযোগিতায় টানা ২৫ বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন ময়মনসিংহের এই ছেলে৷ ২০১৪ সালে তিনি অবসর নেন৷

বাংলাদেশের কম জনপ্রিয় খেলার তারকারা

মাবিয়া আক্তার সীমান্ত

২০১৬ সালের দক্ষিণ এশিয়ান গেমসে মেয়েদের ৬৩ কেজি ওজন শ্রেণির ভারোত্তলনে স্বর্ণ জয় করেন মাবিয়া৷ সেই সময় পুরস্কার গ্রহণ অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীত বাজার সময় তাঁর কান্না কাঁদিয়েছিল অনেককে৷

বাংলাদেশের কম জনপ্রিয় খেলার তারকারা

নিয়াজ মোরশেদ

১৯৮৭ সালে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দাবাড়ু হিসেবে মাত্র ২১ বছর বয়সে গ্র্যান্ডমাস্টার খেতাব অর্জন করেছিলেন বাংলাদেশের নিয়াজ মোরশেদ৷ মাত্র নয় বছর বয়সে জাতীয় দাবা প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি৷ মোট পাঁচবার তিনি জাতীয় দাবা চ্যাম্পিয়ন হন৷ আর ছয়বার দাবা অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন৷

বাংলাদেশের কম জনপ্রিয় খেলার তারকারা

জিয়াউর রহমান

বাংলাদেশের দ্বিতীয় গ্র্যান্ডমাস্টার তিনি৷ ২০০২ সালে এই খেতাব পান৷ ছেলে ১২ বছর বয়সি তাহসিন তাজওয়ার জিয়াও প্রতিযোগিতামূলক দাবা খেলছে৷ গত বছর প্রিমিয়ার দাবা লিগে বাবার মুখোমুখি হয়েছিল সে৷

বাংলাদেশের কম জনপ্রিয় খেলার তারকারা

সাবরিনা সুলতানা

১৯৯৭ সালে কমনওয়েলথ গেমসের শ্যুটিংয়ে সোনা জেতেন সাবরিনা৷ এছাড়া সাফ গেমসে তিনটি ও সাফ শ্যুটিংয়ে দুটি সোনা জেতেন বাংলাদেশের শ্যুটিংয়ের এই অন্যতম তারকা৷ তাঁর স্বামী সাইফুল আলম রিংকিও সাফ গেমসে ব্যক্তিগত ও দলীয় মিলে পাঁচটি আর সাফ শ্যুাটিংয়ে ছয়টি সোনার পদক জেতেন৷

বাংলাদেশের কম জনপ্রিয় খেলার তারকারা

কামরুন নাহার ডানা

জাতীয় ব্যাডমিন্টনে তিন বার সেরা হন তিনি৷ ব্যাডমিন্টন খেলা ছাড়ার পর থেকে ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন৷ ২০০৪ সালে মৌলবাদীদের আন্দোলনের ভয়ে যখন কেউ মহিলাদের ফুটবল মাঠে নামানোর সাহস পাচ্ছিলেন না, মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদিকার দায়িত্বে থাকা ডানা তখনই মেয়েদের প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল চালু করেন৷

বাংলাদেশের কম জনপ্রিয় খেলার তারকারা

ঈসা মিয়া

বড় ভাই মুসা মিয়াকে নিয়ে একসময় হকিতে ঢাকার মাঠ কাঁপিয়েছেন ঈসা মিয়া৷

তা আছে, কিন্তু এরা সবাই হকির সঙ্গে কোনো-না-কোনোভাবে সম্পৃক্ত৷ কোনো সাব-কমিটির সদস্য বা খেলোয়াড়দের পরিবার-পরিজন৷ শুধু খেলার টানে এসেছে সাধারণ দর্শক – এই যদি হয় বিবেচনা, তাহলে সংখ্যাটা পঞ্চাশের বেশি না৷

ভালো করে তাকালাম৷ সত্যি, যাঁদের দেখছি তাঁরা হকির চেনামুখই৷ এর বাইরে কিছু যে খেলোয়াড় বা কর্তাদের পরিবার-পরিজন সেটা বোঝা যায়৷ বাদ দিয়ে খেলার টানে আসা নিছক দর্শকের সংখ্যা হয়ত ৫০ নয়, কিন্তু এমন কিছু বেশিও নয়৷

ঘটনাটা বলছি এ কারণে যে, একটা আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট, যেটা বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় খেলার একটা মহাদেশীয় আসর, সেটার প্রতি এই হলো দর্শকের আগ্রহ৷ আর এই আগ্রহ বা অনাগ্রহই জানিয়ে দেয় ক্রিকেট বাদ দিলে বাংলাদেশের বাকি খেলাগুলোর কী হাল!

দর্শক দেখে না৷ ফলে আগ্রহ নেই৷ নেই বলে স্পন্সরের আগ্রহ নেই৷ ফলে নেই টাকা-পয়সা৷ তাই ভুগছে এবং ডুবছে৷ এভাবে চললে, কে জানে কয়েক বছর পর হয়ত বাংলাদেশে একটাই খেলা থাকবে – ক্রিকেট৷ আর বাকিগুলোর জায়গা হবে ইতিহাসের পাতায়৷ পরের প্রজন্ম জানবে, বাংলাদেশে একসময় ফুটবল-হকি-টেনিস এ সব খেলাও হতো!

২.

এবার এশিয়া কাপ নিয়ে মিডিয়ার একটা অংশের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ছিল৷ মানুষের মনে টুর্নামেন্টটাকে পৌঁছাতে প্রচার-প্রচারণাও কম হয়নি৷ বাংলাদেশ-পাকিস্তান প্রথম ম্যাচটার পটভূমিতে ১৯৮৫ সালের কীর্তি টেনে রং দেওয়ার যথেষ্ট চেষ্টা করা হয়েছিল৷ তাতে একটু কৌতূহল নিয়ে অপেক্ষা করছিলাম৷ মানুষ মাঠমুখী হয় কিনা...৷ প্রথম ম্যাচে হাজার পাঁচেক দর্শক হয়েছিল৷ কিন্তু বাংলাদেশের বড় হারে সেই যে মানুষের বিমুখ হওয়া, সেখান থেকে ভারত-পাকিস্তানের তারকারাও আর তাদের ফেরাতে পারেননি৷ একজন ব্যাখ্যায় বললেন, ‘‘বাংলাদেশ ভালো না করলে মানুষ আসবে কেন? নিজের দল যখন পারে না...৷''

এটা হয়ত একটা কারণ৷ কিন্তু এই কারণ বা মনস্তত্ত্বটাই আসলে তৈরি করছে একটা ঘোর বিভ্রান্তি৷ খেলা মানেই যেন বাংলাদেশ এবং খেলা মানেই সাফল্য৷ দু'টোই ভুল৷ অবশ্যই বাংলাদেশি হিসেবে বাংলাদেশের সাফল্য আমরা আর দশটা ক্ষেত্রের মতো খেলাতেও চাইব, কিন্তু খেলাকে পুরো জাতীয়তাবাদের মোড়কে ঢেকে ফেলাই ভুল৷ ‘‘বাংলাদেশ পারলে খেলা দেখব, নইলে নয়'', ‘‘এই খেলা খেলে বা দেখে কী হবে যাতে বাংলাদেশের সম্ভাবনা নেই'' – এই ভুল ভাবনার ঘোরেই আসলে তলিয়ে যেতে বসেছে দেশের সব খেলা৷ ক্রিকেটের সাফল্য যেখানে গৌরবের ব্যাপার, সেখানে এটাই ব্যবহৃত হচ্ছে অন্য খেলাগুলোকে ডুবিয়ে দিতে৷ সব কিছুতে উদাহরণ ক্রিকেট৷ ক্রিকেট আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পারছে, কাজেই অন্যদেরও তাদের মতো পারতে হবে, যেহেতু পারছে না, কাজেই সেগুলো বাদ৷ এভাবে সব বাদ দিয়ে দিয়ে বাকি খেলাগুলোকে আমরা নিয়ে যাচ্ছি প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের দিকে আর বঞ্চিত হচ্ছি নিখাদ ক্রীড়ানন্দ থেকে৷

যে ১৩টি টেস্ট জিতেছে বাংলাদেশ

নভেম্বর ৩০-ডিসেম্বর ২, প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ

মিরপুর টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ইনিংস ও ১৮৪ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ৷ এই প্রথম প্রতিপক্ষকে ফলো অন করানো ও ইনিংস ব্যবধানে জয়ের অনির্বচনীয় দুটি স্বাদ দল পেল একদিনেই৷ দুই ম্যাচের সিরিজে ২-০তে জয়৷ ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ের নায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ৷ ১১৭ রানে ১২ উইকেট, বাংলাদেশের হয়ে এক ম্যাচে সেরা বোলিংয়ের কীর্তি৷ ম্যান অব দা ম্যাচ মেহেদী হাসান মিরাজ৷ ম্যান অব দা সিরিজ সাকিব আল হাসান৷

যে ১৩টি টেস্ট জিতেছে বাংলাদেশ

নভেম্বর ২২-২৪, ২০১৮ প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ

প্রতিপক্ষকে দুই ইনিংস মিলিয়ে সবচেয়ে কম বলে দুবার অলআউট করে জেতা ম্যাচের নতুন রেকর্ড গড়ে বাংলাদেশ৷ আড়াই দিনে টেস্ট জিতেছিল টাইগাররা৷ সাড়ে সাত সেশনের মতো খেলা হয়েছে এই টেস্টে৷ এটিই টেস্টে বাংলাদেশের দ্রুততম জয়৷ নাঈম হাসান প্রথম ইনিংসে পেয়েছেন ৫ উইকেট৷ দ্বিতীয় ইনিংসে তাইজুল পেয়েছেন ৬ উইকেট৷ মুমিনুল হক পেয়েছেন ম্যাচসেরার পুরস্কার৷

যে ১৩টি টেস্ট জিতেছে বাংলাদেশ

নভেম্বর ১১-১৫, ২০১৮ প্রতিপক্ষ জিম্বাবোয়ে

জিম্বাবোয়ের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে ২১৮ রানের জয় পেয়েছে বাংলাদেশ৷ সিরিজ ১-১ ড্র৷ ৪৪৩ রানের লক্ষ্য তাড়ায় দ্বিতীয় সেশনে জিম্বাবুয়ে থামে ২২৪ রানে৷ ৩৮ রানে ৫ উইকেট নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের সফলতম বোলার মেহেদী হাসান মিরাজ৷ দ্বিশত হাঁকিয়ে ম্যাচ সেরা মুশফিকুর রহিম৷ সিরিজ সেরা হয়েছেন তাইজুল ইসলাম৷

যে ১৩টি টেস্ট জিতেছে বাংলাদেশ

জানুয়ারি ৬-১০, ২০০৫, প্রতিপক্ষ জিম্বাবোয়ে: বাংলাদেশ ২২৬ রানে জয়ী

টাইগাররা প্রথমবারের মতো টেস্ট জয়ের স্বাদ পায় চট্টগ্রামে৷ ২০০৫ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে প্রথম ইনিংসে ৪৮৮ রান তোলে স্বাগতিকরা৷ আর দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে ৯ উইকেটে ২০৪ রান করে৷ প্রথম ইনিংসে জিম্বাবোয়ের স্কোর ছিল ৩১২ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ১৫৪ রান৷

যে ১৩টি টেস্ট জিতেছে বাংলাদেশ

জুলাই ৯-১৩, ২০০৯, প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ: বাংলাদেশ ৯৫ রানে জয়ী

দেশের বাইরে বাংলাদেশ প্রথম টেস্ট জয়ের দেখা পায় ২০০৯ সালের ১৩ জুলাই৷ কিংসটাউনে সেই টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৯৫ রানে হারায় টাইগাররা৷

যে ১৩টি টেস্ট জিতেছে বাংলাদেশ

জুলাই ১৭-২০, ২০০৯, প্রতিপক্ষ ওয়েস্টইন্ডিজ: বাংলাদেশ চার উইকেটে জয়ী

সেবার ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর ছিল সাফল্যে ঠাসা৷ দ্বিতীয় টেস্টে সেন্ট জর্জেসে স্বাগতিকদের হারায় টাইগাররা, সেবার জিতেছিল চার উইকেটে৷

যে ১৩টি টেস্ট জিতেছে বাংলাদেশ

এপ্রিল ২৫-২৯, ২০১৩, প্রতিপক্ষ জিম্বাবোয়ে: বাংলাদেশ ১৪৩ রানে জয়ী

জিম্বাবোয়ের হারারেতে স্বাগতিকদের আবার ‘বধ’ করে টাইগাররা৷ প্রথম ইনিংসে ৩৯১ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৯ উইকেটে ২৯১ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ৷ জবাবে প্রথম ইনিংসে ২৮২ আর দ্বিতীয় ইনিংসে ২৫৭ রানেই গুটিয়ে যায় জিম্বাবোয়ে৷

যে ১৩টি টেস্ট জিতেছে বাংলাদেশ

অক্টোবর ২৫-২৭, ২০১৪, প্রতিপক্ষ জিম্বাবোয়ে: বাংলাদেশ তিন উইকেটে জয়ী

ঢাকায় বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়৷ তিন দিনে শেষ হওয়া সেই টেস্টে শুরুতে ব্যাট করতে গিয়ে প্রথম ইনিংসে ২৪০ রান করে জিম্বাবোয়ে৷ আর দ্বিতীয় ইনিংসে তাদের সংগ্রহ ছিল ১১৪৷ অন্যদিকে, প্রথম ইনিংসে ২৫৪ আর দ্বিতীয় ইনংসে ৭ উইকেটে ১০৭ রান তুলে জিতে যায় স্বাগতিকরা৷

যে ১৩টি টেস্ট জিতেছে বাংলাদেশ

নভেম্বর ৩-৭, ২০১৪, প্রতিপক্ষ জিম্বাবোয়ে: বাংলাদেশ ১৬২ রানে জয়ী

খুলনায় জিম্বাবোয়েকে হারায় বাংলাদেশ৷ সেই টেস্ট পাঁচ দিন পর্যন্ত গড়ালেও শেষমেশ তেমন একটা সুবিধা করতে পারেনি জিম্বাবোয়ে৷ ফলাফল স্বাগতিকদের ১৬২ রানের জয়৷

যে ১৩টি টেস্ট জিতেছে বাংলাদেশ

নভেম্বর ১২-১৬, ২০১৪, প্রতিপক্ষ জিম্বাবোয়ে: বাংলাদেশ ১৮৬ রানে জয়ী

আবারো চট্টগ্রামে জিম্বাবোয়েকে হারায় টাইগাররা৷ সেবার ব্যবধান ছিল ১৮৬ রানের৷

যে ১৩টি টেস্ট জিতেছে বাংলাদেশ

অক্টোবর ২৮-৩০, ২০১৬, প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড: বাংলাদেশ ১০৮ রানে জয়ী

এখন পর্যন্ত বড় কোনো ক্রিকেট শক্তির বিরুদ্ধে বাংলাদেশের একমাত্র টেস্ট জয় এটি৷ ঢাকায় ইংল্যান্ডকে নাস্তানাবুদ করে টাইগাররা৷

যে ১৩টি টেস্ট জিতেছে বাংলাদেশ

মার্চ ১৫-১৯, ২০১৭, প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা: বাংলাদেশ ৪ উইকেটে জয়ী

একদিকে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের শততম ম্যাচে জয়, অন্যদিকে প্রথমবারের মত শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে জয়-দুই দিক দিয়েই ঐতিহাসিক বাংলাদেশের এই টেস্ট ম্যাচটি৷ পঞ্চম দিনে ৪ উইকেটে জয় নিশ্চিত করে টাইগাররা৷ ম্যাচ সেরা হয়েছেন তামিম ইকবাল৷

যে ১৩টি টেস্ট জিতেছে বাংলাদেশ

আগস্ট ২৭-৩০, ২০১৭, প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া: বাংলাদেশ ২০ রানে জয়ী

প্রথমবারের মত অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বাংলাদেশ ইতিহাস গড়ে৷ এটা ছিল সাকিব ও তামিমের ৫০তম টেস্ট। সাকিব মোট ১০ উইকেট নিয়ে এবং তামিম দুই ইনিংসেই অর্ধশত করে স্মরণীয় করে রাখলেন এই টেস্টকে৷ ম্যাচ সেরা সাকিব আল হাসান৷ দ্রষ্টব্য: ইএসপিএন ক্রিকইনফো থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ছবিঘরটি তৈরি করা হয়েছে৷

জাতীয়তা বা দেশের সাফল্য ক্রীড়া অনুসরণে একটা বিবেচনা হতে পারে, কোনোভাবেই একমাত্র নয়৷ ইংল্যান্ড আন্তর্জাতিক ফুটবলে এমন কিছু সাফল্য পায় না, তাই বলে তাদের মানুষরা ফুটবল থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়নি৷ আজও তাদের ক্লাব ফুটবল প্রতি সপ্তাহে জুগিয়ে চলেছে অনন্ত বিনোদন৷ বাংলাদেশেও তো বিষয়টা এই সেদিনও এরকমই ছিল৷ বছর ত্রিশেক আগের কথা মনে করুন৷ ফুটবল এক নম্বর খেলা, সবাই তাতে মেতে থাকতো৷ কিন্তু ক্রিকেট বা হকি মাঠেও কি মানুষ যেতো না? কিংবা ধরুন টেবিল টেনিস, টেনিস, কুস্তি?

স্মৃতিচারণ করুন, দেখবেন টিটি তারকা কচি, রচি, সাদী, কিসলু; টেনিসের শোভন জামালী, সরদার ইফতেখার; কুস্তির টাইগার জলিল, ব্যাডমিন্টনের ডানা-মরিয়ম এঁদের কথা মনে পড়বে৷ কিন্তু চেষ্টা করেও মনে করতে পারবেন না গত বছরের টেনিসের জাতীয় চ্যাম্পিয়নের নাম৷ কুস্তি এখন কারা খেলে তা কি আপনি জানেন? জানেন না এবং এই নিয়ে কোনো গ্লানিবোধও আপনার নেই৷ মনে করেন, এসব তুচ্ছদের চিনতে হবে কেন? আর এভাবে ওদের তুচ্ছ বানিয়ে, ছোট খেলাগুলোকে ‘ছোটলোকের খেলায়' পরিণত করে কোন স্বর্গে যে যাচ্ছি আমরা, আসলে হয়ে যাচ্ছি একটা ক্রীড়াবিমুখ জাতি৷ খেলার মধ্যে দেশ-রাজনীতি-সাফল্যক্ষুধা ঢুকিয়ে আমরা আসলে সত্যিকারের ক্রীড়াপ্রেমী জাতি একটুও নই৷ আমরা আসলে অদ্ভুত রকমের জাতীয়তাবাদী, যারা আসলে খেলাকে বানিয়ে নিয়েছি দেশপ্রেম দেখানোর মঞ্চ৷ কে জানে হয়ত এটা দেখানো খুব সহজ বলে! অন্য কোনোভাবে দেশপ্রেম প্রকাশ করতে হলে কিছু করতে হয়৷ কিছু ত্যাগ, কিছু পরিশ্রম, কিছু কষ্ট৷ এখানে কিচ্ছু না৷ শুধু লাফালেই হয়৷ আর জটিল অঙ্কের ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে ক্রীড়াবোধ৷ এবং ক্রীড়া৷

৩.

সেদিনই পত্রিকায় ছাপা হয়েছে ছবিটা৷ জাতীয় জুনিয়র সাঁতার প্রতিযোগিতায় সাঁতারুদের খাবার দেওয়া হচ্ছে৷ লঙ্গরখানার মতো লাইন করে ওরা খাবার নিচ্ছে৷ পাতে শুধু ভাত আর সবজি৷ এক টুকরো মাছ বা মাংস নেই৷ এসব খেলার আয়োজকদের প্রশ্ন করলে তাঁরা বলবেন, মানুষ দেখে না, মিডিয়া কভারেজ দেয় না বলে তাঁরা প্রয়োজনীয় স্পন্সর পান না৷ টাকা-পয়সার অভাব তাই!

কথাগুলো যে ঠিক সেটা আগেই বলেছি৷ কিন্তু সেই অবস্থাটা বদলানোর জন্য কী করেছেন তাঁরা? কোনো লক্ষ্য নেই, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেই৷ বাংলাদেশ এমনিতে হুজুগের দেশ বলে যেখানে প্রচার, সেখানেই সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দৌড়াবে স্বাভাবিক, কিন্তু এই বিমুখ মানুষগুলোকে নিজেদের দিকে আনাই তো সংগঠকদের দায়িত্ব৷ এই কাজের জন্যই তো ওরা ওখানে বসে৷ কিন্তু নির্বাচনের সময় কমিটিতে ঢোকার জন্য যে শক্তি ব্যয় করেন, মেয়াদের পুরো সময় খেলার জন্য এর অর্ধেক ব্যয় করলেও অন্তত শাক-ভাত খেয়ে খেলোয়াড়দের খেলতে হতো না৷ আমাদের সামাজিক বাস্তবতা, সাফল্যমুখী হুজুগ সব ঠিক আছে, কিন্তু সেগুলো বদলানোর মতো দূরদর্শী মানুষও নেই এই ছোট খেলাগুলোতে৷ এখানেও রাজনীতি-বাণিজ্য আর দলবাজির ত্রিধারা মিলিত হয়ে সত্যিকারের সংগঠকদের গলা টিপে রাখছে৷

সংগঠক বলতে যাঁদের আমরা বুঝতাম, যাঁরা জীবন-যৌবন সঁপে দিতেন খেলা আর খেলোয়াড় তৈরির জন্য, তাঁরা আজ হারিয়ে যাওয়া প্রজাতি৷ এখন নির্বাচনের মাধ্যমে জিতে আসেন দুটো পক্ষ৷ একটা দল ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের আশীর্বাদপুষ্ট, আরেকটা হচ্ছে হালের টাকাওয়ালা মানুষ৷ এই দুটো হাত ধরাধরি করে এমন একটা শক্তির বলয় তৈরি করেছে যে, সত্যিকারের সংগঠকরা জেনে গেছেন তাঁদের পক্ষে কোনো ফেডারেশনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে যাওয়া সম্ভব নয়৷ তাঁরা হাত গুটিয়ে নিয়েছেন৷ তরুণ সংগঠকরাও এই অন্ধকার ভবিষ্যৎ দেখে চলে যাচ্ছেন অন্য লাইনে৷ তাই তৃণমূলে খেলা আয়োজন, খেলোয়াড় তৈরি– এসবের লাইনটাই হারিয়ে গেছে৷ ছোট খেলা খেলেও যে বড় হওয়া যায় সেই স্বপ্ন দেখানোর মানুষই আর নেই৷ তবু যে এই খেলাগুলো কিছু কিছু খেলোয়াড় খেলে তাই দেখে মাঝেমধ্যে বিস্ময় লাগে! এসবের ফল যা হওয়ার তা-ই হচ্ছে৷ এসএ গেমস পর্যায়ে যা ছিলাম, তার চেয়ে আরো পিছিয়ে যাচ্ছি৷ শ্যুটিং, আর্চারি, সাঁতার এ সব জায়গায় বিচ্ছিন্ন দু-একটি সাফল্য হয়তো আসে, কিন্তু সামগ্রিক অর্থে বলার মতো কিছু না৷ ফুটবলের মতো খেলা মানুষের মন থেকে হারিয়ে গিয়ে এখন লড়াই হয় আক্ষরিক অর্থেই ফাঁকা মাঠে; পৃথিবীর কোথাও বোধ হয় এতটা নিরাসক্তির মধ্য দিয়ে লিগ আয়োজিত হয় না৷ সেই লিগে আবার যখন-তখন বিরতি৷ এসবের কারণে জাতীয় দলের ফলও যাচ্ছেতাই৷ তবে ঘোর অন্ধকারে এটাই আশার কথা যে, যুব ফুটবলে বেশ কিছু ভালো পারফরম্যান্স দেখা গেছে সম্প্রতি৷ অনূর্ধ্ব-১৬ এবং অনূর্ধ্ব-১৮ কয়েকটি প্রতিযোগিতায় দেখিয়েছে, সম্ভাবনা তাদের মধ্যে আছে৷ তাই দেখে কেউ কেউ নতুন দিনের স্বপ্ন দেখেন৷ কিন্তু খুব একটা আশাবাদী হতে পারি না৷ কারণ, এর পরে ওদের বিকাশের যে সময় সেই সময়টা কাটবে খুব অযত্নে৷ ওরা চলে যাবে ক্লাবে, বাংলাদেশের সেই ক্লাবগুলোতে, যেখানে খেলোয়াড় তৈরির চেয়ে ধ্বংসের পরিবেশই বেশি৷ আশা নেই কোথাও৷ হতাশার অন্ধকারই চারদিকে৷

সাংবাদিক মোস্তফা মামুন

৪.

ছবি বদলানোর উপায়? খুব সম্ভব ক্রীড়াবোধ থেকে উগ্র সাফল্যের ক্ষুধা ছেঁটে ফেলা৷ এই খেলা খেললে আন্তর্জাতিক সাফল্য পাওয়া যাবে না, কাজেই এটা খেলার দরকার নেই – এই তত্ত্ব বাদ দিলেই সব বদলে যাবে৷ তখন ছোট্ট একটা বাচ্চা মনের আনন্দে টেবিল টেনিস খেলতে চাইলে কেউ বলবে না, এই খেলা খেলে লাভ কী! লাভ-ক্ষতির অঙ্ক না ভেবে সে মেতে থাকবে ক্রীড়ানন্দে৷ সেই আনন্দ হয়তো সঞ্চার হবে আরো অনেকের মধ্যে৷ কেউ আবার খেলবে ভলিবল৷ কেউ হকি৷ এটাই ক্রীড়াচর্চার নিয়ম৷ এভাবেই খেলা বেঁচে থাকে আনন্দের অফুরন্ত ঝরনা হয়ে৷

আর লাভ-ক্ষতি, সাফল্য-আন্তর্জাতিক খ্যাতি – এই অঙ্ক নিয়ে পড়ে থাকলে সবাই ক্রিকেটই খেলতে চাইবে৷ সেখানেই সব স্পন্সররা দৌড়াবে৷ এই ক্রিকেটীয় লড়াইয়ে কেউ কেউ শীর্ষে পৌঁছাবে৷ সাফল্য আনবে৷ আর বাকিরা পরাজিত হয়ে, নিজেদের ব্যর্থ মেনে পালিয়ে যাবে খেলার জগৎ থেকে৷ এবং তখন এ দেশের ভবিষ্যৎ মানুষরা ইতিহাস বইয়ে পড়বে, ‘‘একসময় বাংলাদেশে ফুটবল-হকি এসব খেলাও হতো!''

লেখাটি কেমন লাগলো বন্ধু? জানান নীচের ঘরে৷

আমাদের অনুসরণ করুন