একান্নবর্তী পরিবারের পরিবেশবান্ধব বাড়ি

একই ছাদের নীচে একান্নবর্তী পরিবারের বসবাস ক্রমশঃ বিরল হয়ে উঠছে৷ কিন্তু আধুনিক স্থাপত্যরীতিতে তৈরি পরিবেশবান্ধব ও টেকসই একটি বাড়ি তৈরি করে এমনই এক স্বপ্ন পূরণ করেছেন এক স্থপতি৷

ইটালির সাউথ টিরোল প্রদেশের ফিচ এলাকায় পিশলার পরিবারের নতুন বাড়ি শোভা পাচ্ছে৷ ২০০৯ সাল থেকে তারা তথাকথিত ‘প্যাসিভ হাউস'-এ বসবাস করছে৷ অর্থাৎ বাড়ির ১৮০ বর্গ মিটার জুড়ে কোনো হিটিং ব্যবস্থা নেই৷ সৌরশক্তি সঞ্চয় করে বাড়ি স্বাধীনভাবে গরম রাখা হয়৷

স্থপতি আর্টুর পিশলার বাবা-মা সহ নিজস্ব পরিবারের জন্য বাড়িটি তৈরি করেছেন৷ নীচের দুই তলায় তিনি স্ত্রী ও তিন ছেলে-মেয়ে নিয়ে থাকেন৷ খোলা রান্নাঘর সহ বসার ঘরটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ৷ স্ত্রী ক্রিস্টিনে বলেন, ‘‘আমরা খোলামেলা ঘরের কথা ভেবেছিলাম৷ অর্থাৎ একটি ছাদের নীচে একটি ঘরেই পারিবারিক জীবন সাজানো হবে৷ তাই এখানে শোবার ঘর ও বাথরুম ছাড়া কোথাও কোনো দরজা নেই৷ বাকিটা সব একই জায়গায় রয়ছে৷''

বসার ঘরের সিলিং-এর উচ্চতা ৫ মিটার ৬০ সেন্টিমিটার৷ জানালা মেঝে পর্যন্ত বিস্তৃত৷ ফলে ঘরে অনেক আলো ঢোকে৷ একই সঙ্গে সাউথ টিরোল-এর মনোরম দৃশ্যও উপভোগ করা যায়৷ কাঠের থামগুলি সত্যি দেখার মতো, সেগুলির উপযোগিতাও রয়েছে৷

আর্টুর পিশলার বলেন, ‘‘এই সব থাম এই মুহূর্তে বাড়ি তৈরির উপকরণ মাত্র৷ তবে এর সুবিধা হলো, ভবিষ্যতে পরিবারের সদস্যসংখ্যা বাড়লে আরও ঘর যোগ করা সম্ভব হবে৷ এর জন্য বাড়ির থার্মাল খোলস বা বাইরের স্তরে পরিবর্তন করতে হবে না৷'

উল্টো দুনিয়া

২০০৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর জার্মানির মেকলেনবুর্গ ফোয়রপমার্ন রাজ্যের ট্রাসেনহাইডে-তে নির্মাণ করা হয় অদ্ভুত এই বাড়ি৷ জার্মান ভাষায় বাড়িটির নাম, ‘ডি ভেল্ট শ্টেট কপ্ফ’, অর্থাৎ ‘পৃথিবীটা মাথার ওপরে দাঁড়িয়ে’৷ সত্যিই তাই৷ বাংলায় ‘হেঁট মুণ্ডু ঊর্ধ্ব পদ’ বলে একটা কথা আছে, ঠিক সেভাবে এ বাড়ির ছাদটা নীচে, আর নীচে থাকার জিনিসগুলো সব ওপরে৷ পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছে এই বাড়ি৷

স্ক্রু আর আঠার কেরামতি

বাড়িটির নকশা করেছেন দুই পোলিশ স্থপতি ক্লাউডিউসৎজ গোলোস এবং সেবাস্টিয়ান মিকিচিউক৷ কেমন করে উল্টো করে সব তৈরি বা স্থাপন করা হলো? সবই স্ক্রু আর আঠার জাদু৷ ঘরের আসবাবপত্র, টেলিভিশন থেকে শুরু করে সাধারণত মেঝেতে বা ছাদের নীচে থাকে এমন সব জিনিস ওপরে লাগানো হয়েছে শুধু স্ক্রু আর আঠা দিয়ে৷

অবাক তাকিয়ে রয়...

দর্শনার্থীরা গিয়ে অবাক হয়ে দেখেন সবকিছু৷ ছবিতে দেখুন, এক দর্শনার্থীর চোখের সামনে উল্টো হয়ে ঝুলছে একটা গাছের টব৷ অবাক তো লাগবেই!

ভাগ্যিস সিঁড়িটা ঠিকঠাক!

উল্টো বাড়ি হলেও বাড়ির একটা জিনিস অন্তত ঠিক আছে৷ কী সেটা, জানেন? সিঁড়ি৷ সিঁড়িও যদি ওপরের দিকে থাকতো তাহলে দর্শনার্থীদের কী বিপদটাই না হতো!

স্টিলের কাঠামো

ঘরের সব আসবাবপত্রের চাপটা পড়ে ছাদের ওপর৷ এমন বাড়ির কাঠামোটা একটু বেশি শক্ত না হলে কি চলে? সে কথা ভেবেই ইট-শুঁড়কির জায়গায় স্টিল ব্যবহার করে নির্মাণ করা হয়েছে ‘ডি ভেল্ট শ্টেট কপ্ফ’, নির্মাণকাজে ব্যয় হয়েছে ৩ লক্ষ ইউরো!

দর্শনার্থীরা গিয়ে অবাক হয়ে দেখেন সবকিছু৷ ছবিতে দেখুন, এক দর্শনার্থীর চোখের সামনে উল্টো হয়ে ঝুলছে একটা গাছের টব৷ অবাক তো লাগবেই!

ইটালির সাউথ টিরোল প্রদেশের ফিচ এলাকায় পিশলার পরিবারের নতুন বাড়ি শোভা পাচ্ছে৷ ২০০৯ সাল থেকে তারা তথাকথিত ‘প্যাসিভ হাউস'-এ বসবাস করছে৷ অর্থাৎ বাড়ির ১৮০ বর্গ মিটার জুড়ে কোনো হিটিং ব্যবস্থা নেই৷ সৌরশক্তি সঞ্চয় করে বাড়ি স্বাধীনভাবে গরম রাখা হয়৷

স্থপতি আর্টুর পিশলার বাবা-মা সহ নিজস্ব পরিবারের জন্য বাড়িটি তৈরি করেছেন৷ নীচের দুই তলায় তিনি স্ত্রী ও তিন ছেলে-মেয়ে নিয়ে থাকেন৷ খোলা রান্নাঘর সহ বসার ঘরটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ৷ স্ত্রী ক্রিস্টিনে বলেন, ‘‘আমরা খোলামেলা ঘরের কথা ভেবেছিলাম৷ অর্থাৎ একটি ছাদের নীচে একটি ঘরেই পারিবারিক জীবন সাজানো হবে৷ তাই এখানে শোবার ঘর ও বাথরুম ছাড়া কোথাও কোনো দরজা নেই৷ বাকিটা সব একই জায়গায় রয়ছে৷''

বসার ঘরের সিলিং-এর উচ্চতা ৫ মিটার ৬০ সেন্টিমিটার৷ জানালা মেঝে পর্যন্ত বিস্তৃত৷ ফলে ঘরে অনেক আলো ঢোকে৷ একই সঙ্গে সাউথ টিরোল-এর মনোরম দৃশ্যও উপভোগ করা যায়৷ কাঠের থামগুলি সত্যি দেখার মতো, সেগুলির উপযোগিতাও রয়েছে৷

আর্টুর পিশলার বলেন, ‘‘এই সব থাম এই মুহূর্তে বাড়ি তৈরির উপকরণ মাত্র৷ তবে এর সুবিধা হলো, ভবিষ্যতে পরিবারের সদস্যসংখ্যা বাড়লে আরও ঘর যোগ করা সম্ভব হবে৷ এর জন্য বাড়ির থার্মাল খোলস বা বাইরের স্তরে পরিবর্তন করতে হবে না৷'

উল্টো দুনিয়া

২০০৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর জার্মানির মেকলেনবুর্গ ফোয়রপমার্ন রাজ্যের ট্রাসেনহাইডে-তে নির্মাণ করা হয় অদ্ভুত এই বাড়ি৷ জার্মান ভাষায় বাড়িটির নাম, ‘ডি ভেল্ট শ্টেট কপ্ফ’, অর্থাৎ ‘পৃথিবীটা মাথার ওপরে দাঁড়িয়ে’৷ সত্যিই তাই৷ বাংলায় ‘হেঁট মুণ্ডু ঊর্ধ্ব পদ’ বলে একটা কথা আছে, ঠিক সেভাবে এ বাড়ির ছাদটা নীচে, আর নীচে থাকার জিনিসগুলো সব ওপরে৷ পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছে এই বাড়ি৷

স্ক্রু আর আঠার কেরামতি

বাড়িটির নকশা করেছেন দুই পোলিশ স্থপতি ক্লাউডিউসৎজ গোলোস এবং সেবাস্টিয়ান মিকিচিউক৷ কেমন করে উল্টো করে সব তৈরি বা স্থাপন করা হলো? সবই স্ক্রু আর আঠার জাদু৷ ঘরের আসবাবপত্র, টেলিভিশন থেকে শুরু করে সাধারণত মেঝেতে বা ছাদের নীচে থাকে এমন সব জিনিস ওপরে লাগানো হয়েছে শুধু স্ক্রু আর আঠা দিয়ে৷

অবাক তাকিয়ে রয়...

দর্শনার্থীরা গিয়ে অবাক হয়ে দেখেন সবকিছু৷ ছবিতে দেখুন, এক দর্শনার্থীর চোখের সামনে উল্টো হয়ে ঝুলছে একটা গাছের টব৷ অবাক তো লাগবেই!

ভাগ্যিস সিঁড়িটা ঠিকঠাক!

উল্টো বাড়ি হলেও বাড়ির একটা জিনিস অন্তত ঠিক আছে৷ কী সেটা, জানেন? সিঁড়ি৷ সিঁড়িও যদি ওপরের দিকে থাকতো তাহলে দর্শনার্থীদের কী বিপদটাই না হতো!

স্টিলের কাঠামো

ঘরের সব আসবাবপত্রের চাপটা পড়ে ছাদের ওপর৷ এমন বাড়ির কাঠামোটা একটু বেশি শক্ত না হলে কি চলে? সে কথা ভেবেই ইট-শুঁড়কির জায়গায় স্টিল ব্যবহার করে নির্মাণ করা হয়েছে ‘ডি ভেল্ট শ্টেট কপ্ফ’, নির্মাণকাজে ব্যয় হয়েছে ৩ লক্ষ ইউরো!

বাড়ির অনেক কিছুই কাঠ দিয়ে তৈরি৷ যেমন ভেতরের বারান্দা৷ আর্টুর পিশলার বলেন, ‘‘সিঁড়ির উপরের ঘরটি তেমন ব্যবহার হয় না৷ তাই সেটিকে আমরা আমাদের নিজস্ব যোগাযোগের জন্য গড়ে তুলতে চেয়েছিলাম৷ প্রথমে নিজের জন্য সুন্দর করে সাজাতে চেয়েছিলাম৷ শেষ পর্যন্ত সেটি বাচ্চাদের খেলার জায়গা হয়ে উঠলো৷ এখান থেকে সরাসরি রান্নাঘর আর বসার ঘর দেখা যায়৷''

গরম পানির জন্য একটি ছোট চুলা ছাড়া বাড়িতে অন্য কোনো হিটিং ব্যবস্থা নেই৷ সৌরশক্তি দিয়েই বাড়িটি গরম রাখা হয়৷ ভালো ইনসুলেশনের কারণে উত্তাপ পালাতে পারে না৷ বাড়িটি একেবারে এয়ার টাইট৷ তবে বাসিন্দারা যাতে যথেষ্ট অক্সিজেন পায়, তার জন্য একটি তাজা বাতাসের প্লান্ট রয়েছে৷ পিশলার বলেন, ‘‘এই স্ট্যারৎসিং শহরেও গ্রীষ্মে তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি ছুঁতে পারে৷ ভুললে চলবে না, যে হিট ইনসুলেশন শীতে কাজে লাগে, গ্রীষ্মেও সেটি ঘর ঠান্ডা রাখে৷

দোতলায় বাবা-মার শোবার ঘর, বাথরুম ও শিশুদের ঘর৷ আর্টুর পিশলার-এর বাবা-মা তিন তলায় থাকেন৷ তাঁদের বারান্দা সহ ৭০ বর্গমিটার ফ্ল্যাটের আলাদা প্রবেশপথ রয়েছে৷ আর্টুর পিশলার বলেন, ‘‘সৌরশক্তি পেতে দক্ষিণ দিকে মুখ করে বাড়িটি বানানো খুব জরুরি ছিল৷ আমাদের এই ‘প্যাসিভ হাউস'-এর জ্যামিতির মধ্যে শান্তির আমেজ রয়েছে৷ চারিপাশের নিসর্গের সঙ্গে সেটা বেশ খাপ খেয়ে যায়৷''

এই স্থপতি একাধিক প্রজন্মের জন্য একটি বাড়ি তৈরি করতে সফল হয়েছেন, যে একই সঙ্গে টেকসই ও আধুনিক স্থাপত্যের মেলবন্ধন ঘটিয়েছে৷

জলের ছলাৎ ছলাৎ শব্দের ছন্দ অনেকের চোখেই ঘুম নিয়ে আসে৷ সেই শব্দের কাছে থাকতে চাইলে নদীতেই ঘর বানাতে পারেন৷ এমন ঘর অনেক আছে ইউরোপে৷ ছোট ছোট ঘরগুলো যেন নদীর জলে নৌকার মতো ভাসছে৷

ইটালির সাউথ টিরোল প্রদেশের ফিচ এলাকায় পিশলার পরিবারের নতুন বাড়ি শোভা পাচ্ছে৷ ২০০৯ সাল থেকে তারা তথাকথিত ‘প্যাসিভ হাউস'-এ বসবাস করছে৷ অর্থাৎ বাড়ির ১৮০ বর্গ মিটার জুড়ে কোনো হিটিং ব্যবস্থা নেই৷ সৌরশক্তি সঞ্চয় করে বাড়ি স্বাধীনভাবে গরম রাখা হয়৷

স্থপতি আর্টুর পিশলার বাবা-মা সহ নিজস্ব পরিবারের জন্য বাড়িটি তৈরি করেছেন৷ নীচের দুই তলায় তিনি স্ত্রী ও তিন ছেলে-মেয়ে নিয়ে থাকেন৷ খোলা রান্নাঘর সহ বসার ঘরটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ৷ স্ত্রী ক্রিস্টিনে বলেন, ‘‘আমরা খোলামেলা ঘরের কথা ভেবেছিলাম৷ অর্থাৎ একটি ছাদের নীচে একটি ঘরেই পারিবারিক জীবন সাজানো হবে৷ তাই এখানে শোবার ঘর ও বাথরুম ছাড়া কোথাও কোনো দরজা নেই৷ বাকিটা সব একই জায়গায় রয়ছে৷''

বসার ঘরের সিলিং-এর উচ্চতা ৫ মিটার ৬০ সেন্টিমিটার৷ জানালা মেঝে পর্যন্ত বিস্তৃত৷ ফলে ঘরে অনেক আলো ঢোকে৷ একই সঙ্গে সাউথ টিরোল-এর মনোরম দৃশ্যও উপভোগ করা যায়৷ কাঠের থামগুলি সত্যি দেখার মতো, সেগুলির উপযোগিতাও রয়েছে৷

আর্টুর পিশলার বলেন, ‘‘এই সব থাম এই মুহূর্তে বাড়ি তৈরির উপকরণ মাত্র৷ তবে এর সুবিধা হলো, ভবিষ্যতে পরিবারের সদস্যসংখ্যা বাড়লে আরও ঘর যোগ করা সম্ভব হবে৷ এর জন্য বাড়ির থার্মাল খোলস বা বাইরের স্তরে পরিবর্তন করতে হবে না৷'

উল্টো দুনিয়া

২০০৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর জার্মানির মেকলেনবুর্গ ফোয়রপমার্ন রাজ্যের ট্রাসেনহাইডে-তে নির্মাণ করা হয় অদ্ভুত এই বাড়ি৷ জার্মান ভাষায় বাড়িটির নাম, ‘ডি ভেল্ট শ্টেট কপ্ফ’, অর্থাৎ ‘পৃথিবীটা মাথার ওপরে দাঁড়িয়ে’৷ সত্যিই তাই৷ বাংলায় ‘হেঁট মুণ্ডু ঊর্ধ্ব পদ’ বলে একটা কথা আছে, ঠিক সেভাবে এ বাড়ির ছাদটা নীচে, আর নীচে থাকার জিনিসগুলো সব ওপরে৷ পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছে এই বাড়ি৷

স্ক্রু আর আঠার কেরামতি

বাড়িটির নকশা করেছেন দুই পোলিশ স্থপতি ক্লাউডিউসৎজ গোলোস এবং সেবাস্টিয়ান মিকিচিউক৷ কেমন করে উল্টো করে সব তৈরি বা স্থাপন করা হলো? সবই স্ক্রু আর আঠার জাদু৷ ঘরের আসবাবপত্র, টেলিভিশন থেকে শুরু করে সাধারণত মেঝেতে বা ছাদের নীচে থাকে এমন সব জিনিস ওপরে লাগানো হয়েছে শুধু স্ক্রু আর আঠা দিয়ে৷

অবাক তাকিয়ে রয়...

দর্শনার্থীরা গিয়ে অবাক হয়ে দেখেন সবকিছু৷ ছবিতে দেখুন, এক দর্শনার্থীর চোখের সামনে উল্টো হয়ে ঝুলছে একটা গাছের টব৷ অবাক তো লাগবেই!

ভাগ্যিস সিঁড়িটা ঠিকঠাক!

উল্টো বাড়ি হলেও বাড়ির একটা জিনিস অন্তত ঠিক আছে৷ কী সেটা, জানেন? সিঁড়ি৷ সিঁড়িও যদি ওপরের দিকে থাকতো তাহলে দর্শনার্থীদের কী বিপদটাই না হতো!

স্টিলের কাঠামো

ঘরের সব আসবাবপত্রের চাপটা পড়ে ছাদের ওপর৷ এমন বাড়ির কাঠামোটা একটু বেশি শক্ত না হলে কি চলে? সে কথা ভেবেই ইট-শুঁড়কির জায়গায় স্টিল ব্যবহার করে নির্মাণ করা হয়েছে ‘ডি ভেল্ট শ্টেট কপ্ফ’, নির্মাণকাজে ব্যয় হয়েছে ৩ লক্ষ ইউরো!

বাড়ির অনেক কিছুই কাঠ দিয়ে তৈরি৷ যেমন ভেতরের বারান্দা৷ আর্টুর পিশলার বলেন, ‘‘সিঁড়ির উপরের ঘরটি তেমন ব্যবহার হয় না৷ তাই সেটিকে আমরা আমাদের নিজস্ব যোগাযোগের জন্য গড়ে তুলতে চেয়েছিলাম৷ প্রথমে নিজের জন্য সুন্দর করে সাজাতে চেয়েছিলাম৷ শেষ পর্যন্ত সেটি বাচ্চাদের খেলার জায়গা হয়ে উঠলো৷ এখান থেকে সরাসরি রান্নাঘর আর বসার ঘর দেখা যায়৷''

গরম পানির জন্য একটি ছোট চুলা ছাড়া বাড়িতে অন্য কোনো হিটিং ব্যবস্থা নেই৷ সৌরশক্তি দিয়েই বাড়িটি গরম রাখা হয়৷ ভালো ইনসুলেশনের কারণে উত্তাপ পালাতে পারে না৷ বাড়িটি একেবারে এয়ার টাইট৷ তবে বাসিন্দারা যাতে যথেষ্ট অক্সিজেন পায়, তার জন্য একটি তাজা বাতাসের প্লান্ট রয়েছে৷ পিশলার বলেন, ‘‘এই স্ট্যারৎসিং শহরেও গ্রীষ্মে তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি ছুঁতে পারে৷ ভুললে চলবে না, যে হিট ইনসুলেশন শীতে কাজে লাগে, গ্রীষ্মেও সেটি ঘর ঠান্ডা রাখে৷

দোতলায় বাবা-মার শোবার ঘর, বাথরুম ও শিশুদের ঘর৷ আর্টুর পিশলার-এর বাবা-মা তিন তলায় থাকেন৷ তাঁদের বারান্দা সহ ৭০ বর্গমিটার ফ্ল্যাটের আলাদা প্রবেশপথ রয়েছে৷ আর্টুর পিশলার বলেন, ‘‘সৌরশক্তি পেতে দক্ষিণ দিকে মুখ করে বাড়িটি বানানো খুব জরুরি ছিল৷ আমাদের এই ‘প্যাসিভ হাউস'-এর জ্যামিতির মধ্যে শান্তির আমেজ রয়েছে৷ চারিপাশের নিসর্গের সঙ্গে সেটা বেশ খাপ খেয়ে যায়৷''

এই স্থপতি একাধিক প্রজন্মের জন্য একটি বাড়ি তৈরি করতে সফল হয়েছেন, যে একই সঙ্গে টেকসই ও আধুনিক স্থাপত্যের মেলবন্ধন ঘটিয়েছে৷

''

হবিট হাউজ

‘হবিট’ নাম শুনলেই মনে পড়ে জে. আর. আর. টলকিনের অনন্য সৃষ্টি ‘দ্য হবিট’-এর কথা৷ ছবির এই বাড়িটিও যেন রূপকথার রাজ্য থেকেই নেমে এসেছে৷ পাহাড়ে গর্ত খুঁড়ে জায়গা তৈরি, সেই জায়গায় পাশের বন থেকে খড়কুটো, গাছের ডাল ইত্যাদি জোগাড় করে গড়ে তোলা হয়েছে দারুণ এক শান্তির নীড়৷ বাড়ির মেঝে বা দেয়ালেও ইট-শুড়কির চিহ্নমাত্র নেই, সবই খাঁটি মাটির তৈরি৷

নৌকাঘর

জলের ছলাৎ ছলাৎ শব্দের ছন্দ অনেকের চোখেই ঘুম নিয়ে আসে৷ সেই শব্দের কাছে থাকতে চাইলে নদীতেই ঘর বানাতে পারেন৷ এমন ঘর অনেক আছে ইউরোপে৷ ছোট ছোট ঘরগুলো যেন নদীর জলে নৌকার মতো ভাসছে৷

সার্কাস গাড়ি

দালান কোঠা বানানোয় ঝামেলা অনেক, খরচও প্রচুর৷ কার্বন নিঃসরণ কমানোয় ভূমিকা রাখতে আগ্রহীরা তাই নানা উপায়ে সেই ঝামেলা এড়িয়ে কম খরচেই বানাচ্ছেন বাড়ি৷ সার্কাসের দল যে ধরণের ওয়াগন নিয়ে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতো, আজকাল সেইগুলোতেও গড়া হচ্ছে বাড়ি৷ পূর্ণাঙ্গ বাড়ির সব সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন এসব বাড়ি যখন যেখানে খুশি নিয়েও যাওয়া যায়৷

অন্যরকম গ্রাম

বার্লিনে তখন পর্যটক এবং ছাত্ররা সবে দলে দলে আসতে শুরু করেছে৷ সেই তুলনায় বাড়ি-ঘর বেশ কম৷ স্থানীয় এক আবাসন বিশেষজ্ঞের মাথায় কম খরচে অভিনব বাড়ি বানানোর একটা বুদ্ধি এলো৷ পুরোনো কন্টেইনার জড়ো করলেন সবুজ শ্যামলিমায় ঘেরা একটা জায়গায়৷ কয়েকদিনের মধ্যেই সেই কন্টেইনারগুলোই হয়ে গেল আলাদা আলাদা বাড়ি৷ সব বাড়ি মিলিয়ে গড়ে উঠল অন্যরকম এক গ্রাম৷ অভিনব এই গ্রামের সব অধিবাসীই শিক্ষার্থী৷

বাক্সবাড়ি

বাক্স না বলে, এগুলোকে জাহাজের কন্টেইনারের মতো বলাই বোধহয় ভালো৷ পার্থক্য হলো, জাহাজের কন্টেইনার আড়াআড়ি হলেও এই ধরণের বাক্সবাড়ি দাঁড়ায় খাড়াখাড়ি৷ সব মিলিয়ে তিন তলা৷ ছোট ছোট তিনটি কামরায় কম চাহিদার আধুনিক জীবনের জন্য দরকারি সবকিছুই আছে৷

গাছবাড়ি

ইউরোপের বনে বনে ছড়িয়ে পড়ছে এ ধরণের বাড়ি৷ অনেকটাই ধাতব পদার্থের তৈরি হলেও ‘পরিবেশবান্ধব ছোট ঘর’এর ভাবনাকে গুরুত্ব দিয়েই তৈরি এসব বাড়ি৷ প্রকৃতির বুকে থাকার লোভনীয় অভিজ্ঞতার আকর্ষণে আজকাল এমন বাড়ি তৈরির দিকে ঝুঁকছেন অনেকেই৷

অপরূপ কাচঘর

এক জার্মান ডিজাইনারের অপরূপ সৃষ্টি এটি৷ ঘরের ছাদ, সাগর তীর, খেলার মাঠ- মোট কথা যেখানেই একটু ফাঁকা জায়গা, সেখানেই এই বাড়ি বসিয়ে শুরু করতে পারেন বসবাস৷ চারপাশ কাচের বলে সারাদিন আলোকিত থাকে এই ঘর৷ ‘লফটকিউব’ দেখতেও দারুণ, তাইনা?

বাগানবাড়ি

জার্মানির প্রায় সব শহরেই দেখা যায় এ ধরণের বাড়ি৷ এটাও পরিবেশবান্ধব৷ ছোট্ট একটু জায়গার ওপর এই বাড়ি তৈরির সময় আশপাশে বাগান করার জায়গাও রাখা হয়৷ সেখানে কেউ ফুলের বাগান করেন, কেউ বা সযত্নে করেন শাকসবজির ক্ষেত৷

আরো প্রতিবেদন...