1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

এমপির বাড়ির ‘অবৈধ স্থাপনা’ ভেঙে দিল সিটি কর্পোরেশন

২৮ অক্টোবর ২০২১

বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেন চৌধুরীর ঢাকার ধানমণ্ডির একটি বাড়ির ‘অবৈধ স্থাপনা’ ভেঙে দিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন৷ বুধবার ওই বাড়ির সীমানা প্রাচীর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়৷

https://p.dw.com/p/42HDM
Bangladesh | DSCC demolished extensive parts of a Member of Parliament's residence
বুধবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অভিযানে মনোয়ার হোসেন চৌধুরীর বাড়ির সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে ফেলা হয়ছবি: bdnews24.com

বাংলাদেশে ডয়চে ভেলের কনটেন্ট পার্টনার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম জানিয়েছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাহী হাকিম মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে বাড়ির সীমানা প্রাচীরটি ভেঙ্গে ফেলা হয়৷ ডিএসসিসির দাবি ঐ অংশটুকু অবৈধ ছিল৷ তবে মনোয়ার দাবি করেছেন, তিনি নিয়ম মেনেই ওই প্রাচীর নির্মাণ করেন৷ তিনি গাইবান্ধা-৪ আসন থেকে তৃতীয়বার মতো আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য৷

ডিএসসিসি জানিয়েছে, ধানমণ্ডি লেকের পরিবেশগত উন্নয়ন এবং লেক ঘিরে ওয়াকওয়ে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে তারা৷ লেক অভিমুখে অবৈধভাবে সম্প্রসারিত ১৮টি অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করেছে সংস্থাটি, যার মধ্যে রয়েছে মনোয়ারের সীমানা প্রাচীরও৷ বুধবার সেটিসহ তিনটি স্থাপনা ভেঙে দেওয়া হয়৷

ডিএসসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবু নাছের বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, ‘‘স্থাপনাগুলো নিয়ম বহির্ভূতভাবে যেমন লেকের জায়গা অবৈধভাবে দখল করেছে, তেমনি লেকের পানির দূষণ বাড়ছে৷ তাই লেকের পরিবেশ অটুট রাখা এবং লেক ঘিরে ওয়াকওয়ে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আজ (বুধবার) করপোরেশনের সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়৷’’

তিনি জানান, প্রথম দিনে লেকমুখী তিনটি স্থাপনার অবৈধ বর্ধিতাংশ ও প্রাচীর ভেঙে ফেলা হয়েছে৷ সসব স্থাপনার অবৈধ বর্ধিতাংশ উচ্ছেদ না হওয়া পর্যন্ত দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উচ্ছেদ কার্যক্রম চলমান থাকবে৷

Monowar Hossain Chowdhury
মনোয়ার হোসেন চৌধুরী, সংসদ সদস্য, গাইবান্ধা-৪ছবি: bdnews24.com

উচ্ছেদ অভিযানের সময় মনোয়ার বাড়িতে ছিলেন৷ সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ১৯৫৮ সালে জমিটি তার শাশুড়ির নামে গৃহায়ন ও গণপূর্ত অধিদপ্তর থেকে বরাদ্দ দেওয়া হয়৷ তারপর থেকে এই সীমানা প্রাচীর রয়েছে৷ ২০ বছর আগে সিটি কর্পোরেশন লেকের পাড় নির্মাণের সময়ও সীমানা প্রাচীরটি অক্ষত ছিল৷ এখন প্রাচীরের সঙ্গে গাছপালাও কেটে দিয়েছে ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ৷

প্রাচীর ভাঙ্গার আগে কোনো ধরনের নোটিস দেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি৷ দাবি করেন অবৈধভাবেই স্থাপনা ভেঙে দেওয়া হয়েছে৷

মনোয়ার বলেন, ‘‘গণপূর্ত অধিদপ্তরের বরাদ্দ দেওয়া জমি সিটি কর্পোরেশন দখলে নিতে পারে না। তারপরও তারা বাড়ির সীমানা প্রাচীর ভেঙে দিয়েছে৷ এ বাড়ির প্রাচীর ভাঙতে হলে গৃহায়ন ও গণপূর্ত অধিদপ্তর থেকে চিঠি নিতে হবে এবং তারা আমাকে অবহিত করবেন৷’’

অভিযানের সময় নিজের দাবির পক্ষে দলিলপত্রও হাকিমকে দেখিয়েছেন বলে জানান তিনি৷

মনোয়ার বলেন, ‘‘আমি ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুজ্জামানকে কাগজ দেখালাম৷ উনি নিজেই কাগজগুলো দেখলেন৷ আমি মেয়রকে ১০-১৫ বার ফোন দিয়েছি, ধরেননি৷ না পেয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম সাহেবকে বললাম৷ তিনি বলেছেন, ‘আমি মেয়রকে বলছি'৷ বাস্তবে বলছেন কি না, সেটা আমি জানি না৷ কিন্তু এর মধ্যেই দেয়াল ভেঙে দেওয়া হয়েছে৷ আমার তো কাগজপত্র আছে, তাহলে এটা উনারা করতে পারেন না৷’’

এ বিষয়ে মন্ত্রী তাজুল ইসলাম কিংবা মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের কোনো বক্তব্য বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম জানতে পারেনি৷

তবে ডিএসসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা নাছের বলেন, তারা সরেজমিন জরিপ চালিয়েই অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করেছেন৷

এফএস/কেএম (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)

গত মার্চের ছবিঘর দেখুন...

স্কিপ নেক্সট সেকশন এই বিষয়ে আরো তথ্য

এই বিষয়ে আরো তথ্য

আরো সংবাদ দেখান