কাটালুনিয়া স্বাধীন হলে কোন দেশে খেলবে বার্সেলোনা?

রবিবার ন্যু ক্যাম্পে দর্শকদের বাদ দিয়েই খেলে বার্সেলোনা ফুটবল ক্লাব৷ আজ মঙ্গলবার কাটালুনিয়ায় সাধারণ ধর্মঘটে যোগ দিচ্ছে এই কিংবদন্তিপ্রতিম ক্লাব৷ কিন্তু আগামীতে কোথায় খেলবে ‘বার্সা?

সোমবারেই প্রশ্নটা তোলেন এফ সি বার্সেলোনার প্রেসিডেন্ট হোসেপ মারিয়া বার্তোমিউ৷ ‘‘(কাটালুনিয়ার) স্বাধীনতার ক্ষেত্রে (বার্সেলোনা) ক্লাব ও তার সদস্যদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে, আমরা কোন (ফুটবল) লিগে খেলব,'' একটি বোর্ড মিটিংয়ের পর সাংবাদিকদের বলেন বার্তোমিউ৷

রাজনীতি | 24.08.2017

‘‘আমরা একটি সংকটপূর্ণ ও জটিল মুহূর্তের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি এবং ভবিষ্যতে কী ঘটতে পারে, সে প্রসঙ্গটি আমরা শান্তি ও বিজ্ঞতার সঙ্গে বিবেচনা করব,'' বলেন বার্তোমিউ৷

কাটালান ক্রীড়ামন্ত্রী জেরার ফিগেরাস গত সপ্তাহেই স্পষ্ট করে দেন যে, কাটালুনিয়া স্পেন থেকে স্বাধীনতা পেলে, বার্সেলোনা অন্য কোনো দেশেও খেলতে পারে৷

‘‘স্বাধীনতার ক্ষেত্রে লা লিগার কাটালান দলগুলিকে – অর্থাৎ বার্সেলোনা, এস্পানিওল ও জিরোনা-কে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তারা কোথায় খেলতে চায়: স্পেনীয় লিগে, নাকি ইটালি বা ফ্রান্সের মতো কোনো প্রতিবেশী দেশে, নাকি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে,'' বলেন ফিগেরাস৷

দর্শকবিহীন ন্যু ক্যাম্পে খেলা

রবিবার বার্সেলোনা তাদের নিজেদের মাঠে খেলে বটে, কিন্তু দর্শক ছাড়াই৷ সে খেলায় লিওনেল মেসির কল্যাণে বার্সেলোনা লা পালমাস দলকে ৩-০ গোলে হারালেও, স্পেন যে কাটালুনিয়ার স্বাধীনতা সংক্রান্ত গণভোট রোখার জন্য ব্যাপক বলপ্রয়োগ করেছে, তার বিরুদ্ধে বিশ্বখ্যাত ফুটবল ক্লাবটির এই প্রতিবাদই মূল খবর হয়ে দাঁড়ায়৷

বার্সা লা লিগা কর্তৃপক্ষের কাছে রবিবারের খেলাটি পিছিয়ে দেওয়ার জন্য আবেদন করেছিল৷ কিন্তু ফুটবল এবং পুলিশ কর্তৃপক্ষ সে আবেদন প্রত্যাখ্যান করে৷ অপরদিকে ফিক্সচার অনুযায়ী না খেললে শাস্তি হিসেবে বার্সার ছয় পয়েন্ট খোয়ানোর ভয় ছিল৷

Fussballspiel - FC Barcelona vs Las Palmas -Sieg für Barcelona

বার্সার প্রেসিডেন্ট বার্তোমিউ দাবি করেন যে, দর্শক ছাড়া খেলার সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য ছিল, কাটালুনিয়ায় যা ঘটেছে ও ঘটছে, তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো৷ এছাড়া বিভিন্ন বার্সা সমর্থক গোষ্ঠী মাঠে ঢুকে খেলা ভণ্ডুল করার হুমকি দিয়েছিল বলেও বার্তোমিউ জানান৷

সব সত্ত্বেও দর্শকবিহীন খেলার সিদ্ধান্ত নিয়ে দৃশ্যত বার্সার পরিচালকমণ্ডলীতে মতপার্থক্য ছিল, কেননা, সোমবার বোর্ডের একটি জরুরি বৈঠকের পর বার্তোমিউ দু'জন বোর্ড সদস্যের পদত্যাগের কথা ঘোষণা করেন৷ তাঁরা হলেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট কার্লেস ভিলারুবি ও  পরিচালক ইয়র্দি মোনেস৷

একইসঙ্গে বার্তোমিউ এ-ও ঘোষণা করেন যে, বার্সা মঙ্গলবারের সাধারণ ধর্মঘটে অংশগ্রহণ করবে৷ এস্পানিওল ও জিরোনা ক্লাব দু'টিও সোমবার ঘোষণা করে যে, তারা মঙ্গলবারের সাধারণ ধর্মঘটে অংশ নিচ্ছে৷ বার্সার সোমবারের বিবৃতি অনুযায়ী, ‘‘এফসি বার্সেলোনা ‘গণতন্ত্রের টেবিল' আন্দোলনের ডাকা সাধারণ ধর্মঘটে যোগ দিচ্ছে৷ কাজেই আগামীকাল ক্লাব বন্ধ থাকবে৷ (ক্লাবের) পেশাদারি বা যুব দলগুলি  আগামীকাল ট্রেনিং করবে না৷'' প্রসঙ্গত, লিওনেল মেসি ও জেরার্ড পিকেসহ বার্সেলোনার ফুটবল তারকাদের অনেকেই মঙ্গলবার ক্লাবের হয়ে চ্রেনিং করতেন না, কেননা, তাঁরা সেদিন নিজের নিজের জাতীয় দলের সঙ্গে রয়েছেন৷

পিকের চোখে জল

বার্সেলোনা ও স্পেন জাতীয় দলের খেলোয়াড় জেরার্ড পিকে কাটালুনিয়ার স্বনির্ধারণের অধিকারের জ্বলন্ত প্রবক্তা – রবিবার সন্ধ্যায় তাঁর চোখে জল৷ কিন্তু সেদিন সকালে পিকে বিনা বাধায় গণভোটে তাঁর ভোট দিতে পেরেছেন৷

‘‘আমি কাটালুনিয়া ও তার সব মানুষের জন্য খুবই গর্বিত,'' দর্শকশূন্য ন্যু ক্যাম্পে লাস পালমাস-এর বিরুদ্ধে ৩-০ গোলে জয়ের পর সাংবাদিকদের বলেন পিকে৷ আরো বলেন, ‘‘স্পেন ও নিরাপত্তা বাহিনীর সব প্ররোচনা সত্ত্বেও, তারা শান্তিপূর্ণ ভাবে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন৷''

রবিবারের খেলা শুরু হওয়ার আধ ঘণ্টার কম আগে দর্শকদের মাঠে না ঢুকতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়৷ ৯৯,০০০ দর্শকের স্টেডিয়ামের সামনে ফ্যানরা তখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে৷ ‘‘আমি হলে খেলতাম না,'' কাটালুনিয়ার একটি বেতার কেন্দ্রকে বলেছেন ম্যানচেস্টার সিটির ম্যানেজার পেপ গুয়ার্দিওলা৷

 অপরদিকে স্পেনের জাতীয় দলে পিকে'র ভূমিকা নিয়ে আবার বিতর্ক শুরু হয়েছে৷ সোমবার পিকে জাতীয় দলের একটি ট্রেনিং সেশনে যোগদান করেন; সেখানে মাত্র কয়েকশ' দর্শক থাকলেও, পিকে-কে ধ্বনি শুনতে হয়, ‘‘পিকে, জাতীয় দল ছাড়ো!'' পিকে ইতিমধ্যেই বলেছেন যে, প্রথমত তিনি আগামী বছরের বিশ্বকাপের পরেই জাতীয় দল থেকে অবসর গ্রহণের অভিপ্রায় রাখেন; দ্বিতীয়ত, জাতীয় দলের কোচ অথবা দেশের ফুটবল ফেডারেশন তাঁর রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিকে সমস্যাকর মনে করলে, তিনি তার আগেও যেতে রাজি৷ ইত্যবসরে পিকে যথারীতি কাটালুনিয়ায় পুলিশি নির্মমতা নিয়ে টুইট করে চলেছেন৷

এসি/এসিবি (এএফপি, রয়টার্স, এপি) 

পরিবেশ

সমুদ্র বন্দর

১৯৯২ সালে অলিম্পিক গেমস উপলক্ষ্যে এই ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছিল৷ এর কারণে বন্দরটি অবশ্য লাভবানই হয়েছে৷ ঐ অলিম্পিকের পর থেকে এখানকার বার, রেস্তোরাঁগুলো পর্যটকের জনপ্রিয় ভ্রমণ স্থান হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে৷ ১৯৯২ সালের অলিম্পিকের জন্য বিশাল আকৃতির এই ‘স্বর্ণ মৎসটির’ নকশা করেছিলেন বিখ্যাত স্থপতি ফ্রাংক গেহরি৷

পরিবেশ

সমুদ্র সৈকত

নাগরিক জীবন থেকে ছুটি চান বা কয়েকটা দিন সৈকতে কাটাতে চান? এ দু’টোর দারুণ সংমিশ্রণ হলো বার্সেলোনা৷ শহরে থেকেও এক পা বাড়ালেই সমুদ্র, তাই নাগরিক জীবনের সাথে সামঞ্জস্য করা ভীষণ সুবিধা৷ বার্সেলোনাকে ঘিরে আছে সাতটি সমুদ্র সৈকত, যেখান থেকে আপনি ভূ-মধ্যসাগরে সূর্যস্নানের সুযোগ পাবেন৷

পরিবেশ

রাম্বলা

শহরের অদূরে যে সমুদ্র সৈকতটি, তার থেকে খুব কাছেই বার্সেলোনার ঐতিহাসিক এই কেন্দ্রস্থলটি৷ এর আয়তন এক কিলোমিটার৷ ফুটপাতের পাশে ক্যাফেগুলো ফ্রেশ হওয়ার জন্য যেন আপনাকে হাতছানি দিতে থাকে৷ শেরি ওয়াইন, তাপাস, মানে বিভিন্ন ধরনের স্ন্যাক্স’সহ নানারকম সুস্বাদু খাবার পাবেন এখানে৷

পরিবেশ

পুরোনো শহর

লা রাম্বলার উত্তরে বারি গোতিক, পুরোনো শহরের গথিক কোয়ার্টার৷ এখানকার বেশিরভাগ ঐতিহাসিক ভবন ১৪ বা ১৫ শতকে তৈরি৷

পরিবেশ

স্কয়ার

অনেক জায়গায় পুরোনো শহরের রাস্তাগুলো ছোট বা বড় স্কয়ার বা চত্বরে গিয়ে মিলেছে৷ প্লাকা রিয়াল সিটি সেন্টার রাতের পর্যটকদের অন্যতম পছন্দের জায়গা৷

পরিবেশ

সাগ্রাদা ফামেলিয়া

আধুনিক বার্সেলোনার গুরুত্বপূর্ণ নজির সৃষ্টি করেছেন আন্তোনি গাউডি৷ তাঁর নকশায় বানানো সাগ্রাদা ফামেলিয়া চার্চ বার্সেলোনার অন্যতম দ্রষ্টব্য স্থান৷ বিশ্বের বিখ্যাত ভবনগুলোর অন্যতম এটি৷

পরিবেশ

গাউডি-র বিশ্ব

আলো আর রঙের এমন অপূর্ব সংমিশ্রণ বিশ্বের আর কোনো চার্চের ভেতরে হয়ত দেখতে পাবেন না৷ গাউডি তাঁর স্থাপত্যে প্রকৃতি থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছেন৷ ছাদটা এমনভাবে নির্মিত যে, মনে হবে এর কলামগুলো গাছের মতো আকাশের দিকে মুখ করে আছে৷

পরিবেশ

ফুন্দাসিও জোয়ান মিরো

বার্সেলোনা এমন একটা শহর, যে শহর আপনাকে অনেক কাজে উৎসাহ দেবে৷ মন্টউইক পাহাড়ের উপর জাদুঘরটি জোয়ান মিরোর স্মরণে তৈরি৷ এই শিল্পীর কাজে কাতালান ফোক আর্টের বিষয় ও রং চোখে পড়ে৷ তাঁর তৈরি বর্নিল ভাস্কর্য এবং সেরামিকের কাজ বার্সেলোনা জুড়ে চোখে পড়বে৷

পরিবেশ

ফন্ত মাগিকা

বার্সেলোনার সবচেয়ে রোম্যান্টিক জায়গা ফন্ত মাগিকা৷ ১৯২৯ সালে নির্মিত এই ঝর্ণাটিতে আলোর ৫০ট রকমের বর্ণচ্ছটা আপনাকে অভিভূত করবে৷ শহরের সবচেয়ে বড় ঝর্ণা এটি৷

পরিবেশ

তিবিদাবো

বার্সেলোনা দু’টো পাহাড় দিয়ে ঘেরা৷ এর একটি মন্টউইক (১৭৩ মিটার) আর অন্যটি তিবিদাবো (৫২০ মিটার)৷ তিবিদাবো থেকে আপনি শহরের বেশিরভাগ অংশটা দেখতে পাবেন৷ বার্সেলোনার একমাত্র ঐতিহাসিক ট্রামলাইন দ্য ট্রামভিয়া ব্লাও-এর সাহায্যে আপনি পাহাড়ের উপরে উঠতে পারবেন৷