কারখানার চিমনি থেকে ধোঁয়া নয়, শিকারি বাজপাখি

রাইন নদের কূলে যে এলাকাটি এককালে শিল্পকারখানা আর পরিবেশ দূষণের জন্য খ্যাত ছিল, আজ সেখানেই ফিরে আসছে পেরেগ্রিন ফ্যালকন বা শিকারি বাজ, চল্লিশ বছর আগে যারা উধাও হয়েছিল এই এলাকা থেকে৷

রাইন ইউরোপের সবচেয়ে বড় নদীগুলির মধ্যে পড়ে৷ কয়েক দশক আগে এই জলধারাই কারখানার ময়লা পানিতে ভরে একটা বিষাক্ত নালায় পরিণত হতে চলেছিল – আজ তা ভাবা যায় না৷

পরিবেশ সুরক্ষার ফলে প্রকৃতিও আবার ফিরে এসেছে৷ সেক্ষেত্রে কারখানার চিমনি যে একটি ভূমিকা পালন করবে, পক্ষিবিশারদরাও তা ভাবতে পারেননি! এ অঞ্চলে বিরল হয়ে আসা পেরেগ্রিন নামের শিকারি বাজটি কীভাবে বাসা বাঁধার জন্য কারখানার চিমনির উপযোগিতা আবিষ্কার করেছে, ক্যামেরা বসানো মাইক্রোকপ্টার দিয়ে তা ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে৷

সমাজ-সংস্কৃতি

আবু ধাবির বাজপাখি হাসপাতাল

হাসপাতালটিতে ঢোকার পথে আগতদের স্বাগত জানায় বিশাল আকারের এক বাজপাখির প্রতিকৃতি৷ এই ভবনটি যে শিকারি পাখিটির নিরাপদ আশ্রয়স্থল, তা স্পষ্ট হয় শুরুতেই৷

সমাজ-সংস্কৃতি

বিশ্রাম কক্ষ

হাসপাতালটিতে প্রতিনিয়ত ভিড় লেগেই থাকে৷ মানুষ না হতে পারে, তাই বলে চিকিৎসা নিতে এসে অপেক্ষা করার ব্যবস্থা তো বাজপাখির জন্যও থাকা উচিত, তাই না? পাখিদের প্রত্যেকের জন্য তাই ২০ সেন্টিমিটার উঁচু কাঠের খুঁটি বরাদ্দ৷ প্রতিটি খুঁটি ঢেকে দেয়া হয়েছে কৃত্রিম ঘাস দিয়ে৷ তবে শ্যেন দৃষ্টি নিয়ে যাতে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে না পড়ে, সেজন্য সবার চোখ ঢেকে দেয়া হয় চামড়া দিয়ে তৈরি ঢাকনা দিয়ে৷

সমাজ-সংস্কৃতি

বেড়েই চলেছে ভিড়

প্রতি বছর ১১ হাজারেরও বেশি বাজপাখির চিকিৎসা করানো হয় এই হাসপাতালে৷ ১৯৯ সালে চালুর পর থেকে হাসপাতালটি মোটামুটি ৭৫ হাজার বাজপাখিকে চিকিৎসাসেবা দিয়েছে৷

সমাজ-সংস্কৃতি

কে সেই ডাক্তার?

আমিরাতিরা হাসপাতালের প্রধান চিকিৎসককে ডাকে ‘ডক্টরা’ নামে৷ ৪৯ বছরের জার্মান ডাক্তার মার্গিট ম্যুলার আবু ধাবির এই হাসপাতালটি পরিচালনা করছেন ২০০১ সাল থেকে৷ বাজপাখির এই বিশেষজ্ঞের নাম এরই মধ্যে আরব সংযুক্ত আমিরাতের সীমানা ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বজুড়ে৷ অভিজ্ঞতা এবং কর্মদক্ষতার দিক দিয়ে এই ক্ষেত্রে বিশ্বে নেতৃস্থানীয়৷

সমাজ-সংস্কৃতি

বাজের জন্য সবকিছু

একজন মানুষের জন্য যা যা দরকার, তার সবই আছে এই হাসপাতালে৷ একটি অপারেশন থিয়েটার, ছোঁয়াচে রোগের জন্য কোয়ারেন্টাইন রুম, পরীক্ষাগার, এক্সরে রুম, এমনকি একটি নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রও আছে হাসপাতালটিতে৷

সমাজ-সংস্কৃতি

খুদে রোগির জন্য খুদে মেশিন

হাসপাতালের মেশিনগুলো মূলত এসেছে একটি শিশু হাসপাতাল থেকে৷ একটি ছোট শিশুর জন্য যে আকারের মেশিন দরকার, একটি বাজপাখিরও সেই আকারের মেশিনেই চিকিৎসা করা যায়৷ প্রি-ম্যাচিওর শিশুদের জন্য যে ইনকিউবেটর ব্যবহার করা হয়, বাজপাখিদের ক্ষেত্রে তা ব্যবহার করা হয় নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে৷

সমাজ-সংস্কৃতি

নিয়মিত চেক-আপ

শুধু অসুখ হলে নয়, আবু ধাবিতে বাজপাখির অভিজাত মালিকেরা তাদের পোষা প্রাণিটির নিয়মিত চেক-আপ করাতেও এই হাসপাতালে আসেন৷ রক্ত পরীক্ষা এই নিয়মিত চেক-আপের অংশ৷ এছাড়াও ভাঙা পা এবং পাঁজর নিয়েও আসেন অনেকে৷ ভাঙা পালক, চামড়ায় ক্ষত এবং সংক্রমণও দেখা যায়৷ তবে শুধু আরব আমিরাত নয়, ১৬ দেশের ১০৭ বাজপাখির মালিক তাদের পোষা প্রাণিকে এই হাসপাতালেই চিকিৎসা করান৷

সমাজ-সংস্কৃতি

পাখির অস্ত্রোপচার

কোন কোন ক্ষেত্রে ওষুধ বা ব্যান্ডেজেই শেষ হয় না চিকিৎসা৷ প্রয়োজন হয় শল্যচিকিৎসার৷ বাজপাখির অপারেশনে জন্য অবশ্য কার্পেট কাটার বা স্যান্ডিং মেশিনের মতো সাধারণ যন্ত্রপাতিই যথেষ্ট৷

সমাজ-সংস্কৃতি

কৃত্রিম পালক

পালক ভেঙে গেলে বা পড়ে গেলে যাতে উড়তে সমস্যা না হয়, আছে সে ব্যবস্থাও৷ বিভিন আকার এবং রংয়ের পালক সাজিয়ে রাখা আছে হাসপাতালের স্টোর রুমে৷ এই পালক আঠা দিয়ে লাগিয়ে দেয়া হয় মূল পালকের জায়গায়৷ একদিন পরে অবশ্য প্রাকৃতিকভাবেই নতুন পালক পায় বাজপাখি৷

সমাজ-সংস্কৃতি

জার্মানি থেকে আমিরাত

মার্গিট ম্যুলারের জন্ম জার্মানির উল্ম শহরে৷ জার্মানিতেই তিনি পশুচিকিৎসক হিসেবে প্রশিক্ষণ নেন৷ তাঁর গবেষণা ছিলো বাজপাখির পায়ের রোগ নিয়ে৷ এরপর ব্যবহারিক প্রশিক্ষণে আবু ধাবি যান তিনি৷ তখন থেকেই চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে তার নাম৷

সমাজ-সংস্কৃতি

খরুচে চিকিৎসা

বাজপাখি আমিরাতিদের বেশ প্রিয় পোষা প্রাণি৷ এদের সুস্থ রাখতে তাই প্রচুর খরচ করতেও তাঁরা পিছ পা হন না৷ যারা বাজপাখি লালনপালন করেন, তাদের এ বাবদ প্রতি মাসেই ৩০০-৪০০ ইউরো রাখতে হয় খরচের খাতায়৷ বাজপাখির একটি অ্যান্ডোস্কোপির জন্য খরচ হয় প্রায় ৭০ ইউরো (৮২ ডলার)৷ বড় অপারেশনের ক্ষেত্রে স্বভাবতই খরচ আরো বেশি৷

সমাজ-সংস্কৃতি

পাসপোর্ট, প্লিজ

হয়তো অনেকেই জানেন না, আমিরাতে বাজপাখিরও আছে নিজেদের পাসপোর্ট৷ জন্মতারিখ, মালিক এবং ১৩ ডিজিটের যে মাইক্রোচিপটি বাজের গলায় লাগানো আছে সেটির নম্বরও থাকে এই পাসপোর্টে৷ বাজপাখির চেহারা দিনদিন বদলায়, তাই এই পাসপোর্টে বাজপাখির কোন ছবি থাকে না৷

সমাজ-সংস্কৃতি

পর্যটন আকর্ষণ

২০০৭ সাল থেকে দর্শণার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে হাসপাতালটি৷ উপসাগরীয় দেশগুলোতে বাজপাখি কেন এতো জনপ্রিয়, তা দর্শণার্থীদের সামনে তুলে ধরতে এখানে একটি জাদুঘরও স্থাপন করা হয়েছে৷ বর্তমানে আবু ধাবির অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন আকর্ষণে পরিণত হয়েছে হাসপাতালটি৷

কারখানার বিষ আর বাসা ভাঙা ও ডিমচুরির ফলে এ অঞ্চল থেকে শিকারি বাজরা উধাও হয় প্রায় চল্লিশ বছর আগে৷ এবার তারা আবার ফিরে এসেছে৷ দৃশ্যত কলকারখানার উঁচু উঁচু চিমনিগুলোকে তাদের পছন্দ৷ কঠিন কংক্রিট দৃশ্যত এই পাখিদের কাছে পাহাড়ের পাথর বসানো ঢালের চেয়ে বেশি লোভনীয়৷ চিমনিগুলোর মাথায় বেড়া বসানো; এখানে নিশ্চিন্তে ছানা মানুষ করা যায়, চোরডাকাতের ভয় থাকে না৷

প্রকৃতি সংরক্ষণকারী আর কারখানার পাহারাদাররা অবাক হয়ে দেখেন, পড়ে থাকা কারখানাটি কীভাবে সারা বিশ্বের সেরা শিকারি বাজ এলাকাগুলির মধ্যে একটিতে পরিণত হয়েছে – যার আর একটি কারণ: এখানে প্রচুর শিকার পাওয়া যায়৷ কারখানার প্রহরী আক্সেল  মার্কেন্স যোগ করলেন, ‘‘পায়রা তাড়ানোর জন্য আমাদের বেশ টাকা ঢালতে হয়৷ কাজেই এই প্রাকৃতিক সাহায্যকারীদের পেয়ে কোম্পানির লাভ বৈ লোকসান নেই৷’’

পরিবেশের রাসায়নিক দূষণ যতো কমতে থাকে, ততোই পায়রা ও ইঁদুরদের মতো বাজপাখিদের শিকারের সংখ্যা বাড়তে থাকে৷ ইস্পাত আর কয়লা খনি অধ্যুষিত রাইন অঞ্চলে শিকারি বাজদের ফিরে আসার একটা মূল কারণ হল পায়রা আর মূষিকদের বংশবৃদ্ধি৷

পরিবেশ

বিশ্বের সবচেয়ে ছোট পাখি

ট্রকিলিডে পরিবারের ক্ষুদ্রতম সদস্য এই ‘বি হামিংবার্ড’ বা মৌমাছি হামিংবার্ড, ঠোঁট সুদ্ধু মাত্র দুই ইঞ্চি লম্বা, ওজনে আড়াই গ্রাম বা দু’টি ডাক টিকিটের সমান৷ হামিংবার্ডরা সাধারণত তিন থেকে পাঁচ ইঞ্চি লম্বা হয়৷ এদের বাস প্রধানত দক্ষিণ ও উত্তর অ্যামেরিকায়৷ পক্ষীবিজ্ঞানীরা ৩০০ থেকে ৩৫০ ধরনের হামিংবার্ড শনাক্ত করেছেন৷

পরিবেশ

তলোয়ারঠুঁটো

হামিংবার্ডরা প্রধানত ফুলের মধু খেয়ে বেঁচে থাকে৷ ফুলের মধ্যে ঠোঁট ঢুকিয়ে খায় বলে নানা ফুলের আকার অনুযায়ী হামিংবার্ডদের ঠোঁটের আকারেরও বিবর্তন ঘটেছে৷ ছবিতে যে তলোয়ারঠুঁটো হামিংবার্ডকে দেখা যাচ্ছে, শরীর (এবং লেজের) তুলনায় তার ঠোঁটের দৈর্ঘ্য পৃথিবীর অন্য যে কোনো পাখির চেয়ে বেশি৷

পরিবেশ

পাখা ঝাপটায় বিদ্যুৎগতিতে

হামিংবার্ড নামটা এসেছে ‘হামিং’ বা অতি দ্রুত পাখা ঝাপটানোর একটানা শব্দ থেকে, যেন ভোমরার গুঞ্জন৷ সাধারণভাবে হামিংবার্ডরা সেকেন্ডে ৫০ বার পাখা ঝাপটায় – ওরা আবার পাখা ঝাপটায় ইংরেজি আটের মতো করে, সামনে ও পিছনে, ফলে ওরাই একমাত্র পাখি, যারা সামনের দিকে আবার পিছনের দিকেও উড়তে পারে৷ আর হেলিকপ্টারের মতো বাতাসে এক জায়গায় দাঁড়িয়ে পাখা নাড়া তো আছেই, যাকে ইংরেজিতে বলে ‘হোভারিং’, যেমন ‘হোভারক্রাফ্ট’৷

পরিবেশ

উচ্চগতিতে বেঁচে থাকা

হামিংবার্ডদের হৃৎস্পন্দন মিনিটে ১,২৬০ পর্যন্ত পৌঁছতে পারে, যেখানে মানুষের হৃৎস্পন্দন থাকে মিনিটে ৬০ থেকে ৮০-র মধ্যে৷ হামিংবার্ডরা মিনিটে ২৫০ বার অবধি নিঃশ্বাস নিতে পারে৷ হামিংবার্ডদের শরীরের সাধারণ তাপমাত্রা ৪০ কি ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, রাতে তা কমে দাঁড়ায় ১৮ ডিগ্রিতে, হৃৎস্পন্দন কমে হয় মিনিটে ৫০ থেকে ১৮০৷ হামিংবার্ডরা এই সময় যে অর্ধচেতন অবস্থায় থাকে, তাকে ইংরেজিতে বলে ‘টর্পর’৷

পরিবেশ

মেটাবলিজম

পরিভাষায় যাকে বলে বিপাক, অথবা সহজ কথায়, শরীর যেভাবে খাদ্যকে শক্তিতে পরিণত করে ও সেই শক্তি ব্যয় করে৷ হামিংবার্ডদের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়াটি জীবজগতে দ্রুততম৷ তাই বেচারাদের প্রতি ১৫ মিনিট অন্তর মধু আহরণ করতে হয় – চিনির হিসেবে তারা প্রতিদিন নিজের ওজনের অর্ধেক পরিমাণ চিনি খায়৷ ফুলের মধু শরীরে গিয়ে শক্তিতে পরিণত হতে ৪৫ মিনিটের বেশি লাগে না৷

পরিবেশ

দূরের পথ

ছবিতে যে রুবি-থ্রোটেড হামিংবার্ড পাখিটিকে দেখা যাচ্ছে, তারা মেক্সিকো উপসাগরের উপর দিয়ে ৮০০ কিলোমিটার উড়ে গিয়ে অপর পাড়ে পৌঁছায় – একবারও না থেমে৷ অপরদিকে মাত্র তিন ইঞ্চি লম্বা রুফাস হামিংবার্ড গ্রীষ্মের শেষে অ্যালাস্কা থেকে মেক্সিকোয় যায় ৩,৯০০ মাইল পার হয়ে – যা কিনা তার আকারের হিসেবে পরিযায়ী পাখিদের মধ্যে দীর্ঘতম যাত্রা৷

পরিবেশ

নীড়

বহু প্রজাতির হামিংবার্ড মাকড়শার জাল আর শ্যাওলা দিয়ে তাদের ছোট্ট বাসাগুলোকে বেঁধে রাখে৷ এর ফলে বাসার কাঠামোটা ভালো হয়, আবার মাকড়শার জাল টানলে বাড়ে বলে, বাচ্চা হামিংবার্ডরা যত বড় হতে থাকে, বাসাটাও তত বড় হতে থাকে৷ হামিংবার্ডরা দু’টি ছোট সাদা ডিম পাড়ে – স্বভাবতই সেগুলো পক্ষিজগতের সবচেয়ে ছোট ডিম৷ তবে তা থেকে দুই কি তিন সপ্তাহ পরে বের হয় দু’টি কচি হামিংবার্ড...

খোলা কয়লাখনিতে সুবিশাল পাথর কাটার যন্ত্র দিয়ে কয়লা কাটা হয় – এখানেও শিকারি বাজরা আবার থাকতে শুরু করেছে৷ কর্মীরা অবাক হয়ে দেখেন, অতিকায় এক্সক্যাভেটরের কাঠামোতেও বাসা বেঁধেছে শিকারি বাজ, যেন যন্ত্রের বা পাথর কাটার আওয়াজে তাদের কিছুই আসে যায় না৷ একটি মাদি শিকারি বাজ ডাকতে ডাকতে কাঠামোটার চারপাশে উড়ছে৷ ভেতরে কোথাও পাখির ছানারা বোধহয় তাদের মায়ের জন্য অপেক্ষা করছে৷

শিগগিরই তারা নিজেরাই শিকার ধরতে পারবে : এবার মা তাদের সঙ্গে আকাশেই একটি পাখির কাছ থেকে আরেকটি পাখিকে শিকার দেওয়ার কাজটা অভ্যাস করছে, যতক্ষণ পর্যন্ত না মা'কে ছাড়াই তারা সেটা একা করতে পারে৷ দেখে পক্ষী সংরক্ষণকারী গ্যার্ড লোমার মন্তব্য করলেন, ‘‘প্রকৃতি আবার ফিরে আসছে – কোথাও কোথাও আগের চাইতে বেশি বৈচিত্র্য নিয়ে৷ শিকারি বাজরা তার একটা প্রতীক৷’’   

অতিকায় কয়লা-কাটার যন্ত্রগুলিতে আজ তিন-তিনটি শিকারি বাজ পরিবারের বাস – পরিবর্তনের এর চাইতে ভালো চিহ্ন আর কী হতে পারে!

রাইন নদ বেয়ে আরো কিছুটা নামলে একটি কয়লা-চালিত বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে শিকারি বাজদের আরেক প্রজন্ম বড় হচ্ছে৷ ১৫০ মিটার উঁচু চিমনির একেবারে ওপরের একটি ফাঁকে মানুষ – থুড়ি, পাখি হচ্ছে তারা৷

পরিবেশ

রুপেল-এর শকুন (৩৭,১০০ ফুট)

এদের বাস মধ্য আফ্রিকার সাহেল এলাকায়৷ এদের সংখ্যা নাকি কমে হাজার ত্রিশেকে দাঁড়িয়েছে৷ উনবিংশ শতকের জার্মান প্রকৃতিবিজ্ঞানী এডুয়ার্ড রুপেল-এর নামে এদের নাম৷ শকুনেরা আকাশে উড়তে উড়তে মাটিতে মরা খোঁজে৷ রুপেল-এর গ্রিফন শকুন সে কাজে ১১,৩০০ মিটার বা ৩৭,১০০ ফুট অবধি উড়তে পারে৷

পরিবেশ

সারস পাখি (৩৩,০০০ ফুট)

এরা পরিযায়ী পাখি৷ এদের পরিভ্রমণের পথে সুইডেন, জার্মানি বা চীনসহ নানা দেশ পড়ে৷ হিমালয় পর্বতমালার ওপর দিয়ে ওড়ার সময় সারসের দল ১০,০০০ মিটার বা ৩৩,০০০ ফুট অবধি ওঠে৷

পরিবেশ

বার-হেডেড গুজ (২৯,০০০ ফুট)

সালিম আলির সাধারণ পাখির বইয়ের বাংলা অনুবাদ বলছে, এদের নাম নাকি রাজহাঁস৷ হিমালয় পার হয়ে ভারতে আসার সময় এই পরিযায়ী পাখিদের সরাসরি মাউন্ট এভারেস্টের ওপর দিয়ে উড়তে দেখা গেছে! এমনকি তার ছবিও আছে৷ কাজেই এভারেস্টের উচ্চতা ধরে নির্দ্বিধায় বলা চলে, এরা ৮,৮০০ মিটার বা ২৯,০০০ ফুট অবধি উড়েছে৷

পরিবেশ

হুপার সোয়ান (২৭,০০০ ফুট)

বাংলায় পোশাকি নাম হবে মরাল – (আসলে তা-ও নয়, কেননা মরাল হলো ‘লেসার হুইসলিং টিল’) – লোকে অবশ্য রাজহাঁস বলেই ডাকে৷ উত্তর অ্যামেরিকায় এদের নাম ট্রাম্পেটার সোয়ান, ট্রাম্পেটের আওয়াজের মতো ডাক বলেই বোধহয়৷ পরিভ্রমণ এদের রক্তে, তাই এরা ওড়ে ৮,২০০ মিটার বা ২৭,০০০ ফুট পর্যন্ত৷

পরিবেশ

অ্যাল্পাইন চাফ (২৬,৫০০ ফুট)

‘চাফ’ বস্তুত একটি কাক জাতীয় কালো রঙের পাখি৷ এরা উঁচু পাহাড়ি এলাকায় বাসা বাঁধতে পারে, কেননা এদের ডিমগুলোয় ছোট ছোট ফুটো কম থাকে বলে ডিমগুলো তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যায় না৷

পরিবেশ

বিয়ার্ডেড ভালচার (২৪,০০০ ফুট)

এদের জার্মান নাম ‘ল্যামারগায়ার’ বা ভেড়াখেকো শকুন৷ ইউরোপ থেকে শুরু করে এশিয়ার পর্বতাঞ্চলে, এমনকি আফ্রিকার ইথিওপীয় পর্বতাঞ্চলেও এদের দেখতে পাওয়া যায়৷ অবশ্য আইইউসিএন-এর তালিকায় এদের ‘প্রায় বিপন্ন’ হিসেবে দেখানো হয়েছে৷ এরা উড়তে পারে ৭,৩০০ মিটার বা ২৪,০০০ ফুট অবধি৷

পরিবেশ

রাডি শেলডাক (২২,০০০ ফুট)

ভারতে এদের নাম ব্রাহমিনি ডাক বা ব্রাহ্মণী হাঁস৷ হাঁস, কাজেই জলে থাকে৷আবার পরিযায়ী পাখি হিসেবে হিমালয় পার হয়ে ওদের ডিম পাড়া আর ছানাপোনা মানুষ করার জায়গায় যায়৷ কাজেই সদ্য আবিষ্কৃত হয়েছে যে, ব্রাহ্মণী হাঁসেরা ৬,৮০০ মিটার বা ২২,০০০ ফুট অবধি উড়তে পারে৷

আরো প্রতিবেদন...