কার্বন নির্গমনের হ্রাসের প্রতিশ্রুতি দিল বিভিন্ন দেশ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ জাতিসংঘের কাছে কার্বন নির্গমণের মাত্রা কমানোর প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে৷ এদের মধ্যে শিল্পোন্নত এবং উন্নয়নশীল বিশ্বের বড় দেশগুলোও রয়েছে৷

কোপেনহেগেন জলবায়ু সম্মেলনের সমঝোতা অনুযায়ী রোববারই ছিল দেশগুলোর জন্য সর্বশেষ দিন৷ এর মধ্যে তাদের জানানোর কথা ছিল যে তারা কতটুকু কার্বন নিগর্মন কমাতে রাজি৷ সেই অনুযায়ী বিভিন্ন দেশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের প্রতিশ্রুতি জানিয়ে দিয়েছে৷

বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কার্বন নির্গমনকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে তারা আগামী ২০২০ সালের মধ্যে ২০০৫ সালের তুলনায় ১৭ শতাংশ নির্গমন কমাতে রাজি৷ এটা ১৯৯০ সালের তুলনায় ৪ শতাংশ কম৷

চীন জানিয়েছে তারা তাদের অর্থনৈতিক উৎপাদনের বেলায় প্রতি ইউনিটে ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ কার্বন নির্গমন হ্রাস করার উদ্যোগ গ্রহণ করবে৷ উল্লেখ্য, বিশ্বে চীন সবচেয়ে বেশি কার্বন নির্গমন করে থাকে৷

Luiz Inacio Lula da Silva Greenpeace UN-Klimakonferenz in Kopenhagen

সবচেয়ে সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইস দা সিলভা

রোববার ভারত জানিয়েছে যে তারা ২০ থেকে ২৫ শতাংশ কার্বন নির্গমন হ্রাস করবে, তবে এটি কৃষিক্ষেত্রে কার্যকর হবে না৷

দক্ষিণ আফ্রিকা এর আগেই জানিয়েছে যে তারা ৩৪ শতাংশ পর্যন্ত কার্বন নির্গমন কমাবে৷ বিশেষজ্ঞদের মতে সবচেয়ে সাহসী প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ব্রাজিল৷ তারা কেবল প্রতিশ্রুতি নয় বরং নিশ্চয়তা দিয়েছে যে তাদের কার্বন নির্গমন হ্রাসের পরিমাণ হবে শতকরা ৩৬ থেকে ৩৯ ভাগ৷

এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে সামগ্রিকভাবে ২০ শতাংশ কার্বন নির্গমন কমানোর জন্য৷ অপরদিকে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে তারা ২০২০ সালের মধ্যে ১৯৯০ সালের তুলনায় ২৫ শতাংশ কার্বন নির্গমন কমাতে রাজি৷ তবে এক্ষেত্রে তাদের শর্ত হল, চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রকেও সেই ধরণের প্রতিশ্রুতি দিতে হবে৷ অপরদিকে কিউবার মত দেশ জাতিসংঘের সমঝোতা চুক্তির বিরোধিতা করে বসেছে৷

দেশগুলোর এসব প্রতিশ্রুতি এবং প্রস্তাব আজ সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করার পরিকল্পনা করেছে জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক দপ্তর৷ তবে বিশেষজ্ঞদের মতে বিশ্ব উষ্ণায়ন বৃদ্ধির মাত্রা দুই ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামিয়ে আনার যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তা অর্জিত হওয়ার সম্ভাবনা এখনও কম৷ বিশ্বে দ্রুত উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে ব্রাজিল এবং মেক্সিকো ছাড়া অন্যদের কাছ থেকে তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি৷

প্রতিবেদক: রিয়াজুল ইসলাম, সম্পাদনা: অরুণ শঙ্কর চৌধুরী