কাল ভোরে গুজরাটে আঘাত হানছে ঘূর্ণিঝড় বায়ু

আরব সাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘বায়ু‘ ধেয়ে আসছে ভারতের পশ্চিমাঞ্চলের রাজ্য গুজরাটের উপকূলে৷ আবহাওয়ার পূর্ভাবাস বলছে, বৃহস্পতিবার ভোরে, স্থলভাগে আঘাত হানতে পারে ৷ উপকূলের তিন লাখ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে৷

দেশটির আবহাওয়া বিভাগের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় বায়ু যে গতিতে এগিয়ে আসছে তাতে, বৃহস্পতিবার ভোর নাগাদ স্থলভাগে আঘাত হানতে পারে৷ গুজরাটের জ্যেষ্ঠ রাজ্য কর্মকর্তা জেএন সিং জানিয়েছেন, ‘উপকূলবর্তী দশটি জেলার প্রায় তিন লাখ মানুষ ঝুঁকিতে রয়েছে৷ তাদের বুধবার বিকেলের মধ্যে আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে আনা হবে৷ এজন্য সব প্রস্তুতি শেষ করা হয়েছে৷‘ ইতোমধ্যে, ৬৭টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি৷

উপকূলীয় জেলা সৌরাষ্ট্র ও কচ্ছের সব স্কুল কলেজ বৃহস্পিতবার পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও জানান জেএন সিং৷

ঘূর্ণিঝড়ের কারণে ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাব্যতা বিবেচনা করে উদ্ধার তৎপরতা ও ত্রাণ নিশ্চিত করতে,  রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রুপানি, দেশটির সেনাবাহিনী ও জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থার সহযোগিতা চেয়েছেন৷ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেয়া এক বার্তায়, বুধবারের মধ্যে পর্যটকদের উপকূল ছেড়ে নিরাপদ স্থানে ফিরে আসারও অনুরোধ জানিয়েছেন রুপানি৷

ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার পর দ্রুত সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ, টেলিযোগাযোগ এবং পরিবহন ব্যবস্থা সচল করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছন কেন্দ্র সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ৷

আবহাওয়ার খবর অনুযায়ী, আরব সাগরে অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘বায়ু‘  ক্রমে আরো শক্তিশালী হয়ে গুজরাটের দিকে অগ্রসর হচ্ছে৷ এর কেন্দ্রে বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ১০৬ মাইল৷ ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে তুমুল বৃষ্টিপাত হচ্ছে৷ প্রায় সাতফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস তৈরি আশঙ্কাও রয়েছে৷ ফলে প্লাবিত হতে পারে নিম্নাঞ্চল৷

ফণীর আঘাত

ওড়িশায় ফণীর তাণ্ডব

ফণীর আঘাতের শুরুতে ওড়িশায় ৩ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম৷ পুরীর সাক্ষীগোপালে গাছ পড়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে আর ওড়িশার কেন্দ্রপাড়ায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু এক বৃদ্ধার৷ এছাড়া গাছপালা ও ঘরবাড়ি লণ্ডভণ্ড হয়েছে বিভিন্ন এলাকায়৷

ফণীর আঘাত

ওড়িশায় ক্ষয়ক্ষতি

ফণীর আঘাতের শুরুতে ওড়িশায় ৩ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম৷ পুরীর সাক্ষীগোপালে গাছ পড়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে আর ওড়িশার কেন্দ্রপাড়ায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু এক বৃদ্ধার৷ এছাড়া গাছপালা ও ঘরবাড়ি লণ্ডভণ্ড হয়েছে বিভিন্ন এলাকায়৷

ফণীর আঘাত

ওড়িশা ছাড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গে

ওড়িশা রাজ্যের উপকূল অতিক্রম করার পর উত্তর-উত্তরপূর্বে পশ্চিমবঙ্গের দিকে অগ্রসর হয় ফণী৷ শক্তিশালী এই ঘুর্ণিঝড়ের কারণে রেল ও বিমান চলাচল বন্ধ রেখেছে পশ্চিমবঙ্গ৷ রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকায় অনেকে আটকা পড়েন স্টেশনগুলোতে৷

ফণীর আঘাত

বাংলাদেশে আঘাত

পশ্চিমবঙ্গের উপকূল থেকে আরো উত্তর-উত্তর পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে শুক্রবার মধ্যরাত নাগাদ ফণী খুলনাসহ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ফণীর পৌঁছানোর কথা৷ এরপর রাজশাহী, রংপুর এবং বৃহত্তর ময়মনসিংহের ওপর দিয়ে দেশের উত্তরাংশ পেরিয়ে যেতে পারে৷ দেশের স্থলভাগ পার হওয়ার সময় ঘণ্টায় ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে৷

ফণীর আঘাত

ফণী আসার আগেই লণ্ডভণ্ড

ঘূর্ণিঝড় ফণী আঘাত হানার আগেই ঝড়ের কারণে লন্ডভন্ড হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলা৷ স্থানীয় সময় সকাল সোয়া ১০টায় মাত্র ১৫ সেকেন্ডের একটি দমকা হাওয়া বয়ে যায় শহরের মির্জাবাজার এলাকার উপর দিয়ে৷ ঝড়ের শক্তিতে আশেপাশের অন্তত ২৫টি বাড়ির চাল উড়ে গিয়েছে৷

ফণীর আঘাত

উড়ে গেছে এভারেস্টের তাঁবু

৯০০ কিলোমিটারের বেশি দূরের ঘূর্ণিঝড়ে আওতার মধ্যে নেই নেপাল৷ কিন্তু ফণীর প্রভাবে সৃষ্ট ঝড়ো হাওয়ায় উড়ে গেছে এভারেস্টের বেশ কিছু তাঁবু৷ পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গে ৬,৪০০ মিটার উঁচুতে ২টি ক্যাম্পের ২০টি তাঁবু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা জানায় কর্তৃপক্ষ৷

ফণীর আঘাত

শিশুর নাম হলো ‘ফণী’

ভারতের ওড়িশা উপকূলের ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবের মধ্যে জন্ম নিয়েছে শিশুটি৷ সে কারণে ঘূর্ণিঝড়ের নাম ফণীকে নিজের নাম হিসাবে পেয়েছে মেয়েশিশুটি৷ শুক্রবার স্থানীয় সকাল ১১টায় ভুবনেশ্বরের মঞ্চেশ্বর হাসপাতালে তার জন্ম হয় বলে জানিয়েছে আনন্দবাজার পত্রিকা৷

ফণীর আঘাত

ব্যাপক প্রস্তুতি

গত ১০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী এ ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন রাজ্য৷ শুক্রবার সকাল পর্যন্ত বাংলাদেশের উপকূলের ৪ লাখ মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে৷ অন্যদিকে ভারতে অন্তত ১১ লাখ লোককে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়েছে ওড়িশা সরকার৷

ঝড়টি স্থলভাগে আঘাত হানলে, ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি সড়ক যোগাযোগ ব্যহত হবার আশঙ্কা করছে, আবহাওয়া বিভাগ৷ এছাড়াও উপকূলীয় খড়ের ঘর, ছাউনি উড়িয়ে লণ্ডভণ্ড হওয়ার আশঙ্কা আছে৷ বিচ্ছিন্ন হতে পারে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা৷

কিছুদিন আগে ঘূর্ণিঝড় ফণি আঘাত হেনেছিল ভারতের ওড়িশা ও বাংলাদেশের উপকূলে৷ এর প্রভাবে ভারতে ৩৪ ও বাংলাদেশে ১৫ জনের প্রাণহানি হয়৷

সাগর কিংবা মহসাগরে একইসঙ্গে দু-তিনটি ঘূর্ণিঝড় অবস্থান করতে পারে৷ তাই ঘূর্ণিঝড়ের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের সুবিধায়, আলাদা নাম দেয়া হয়৷ মুম্বাই আবহাওয়া বিভাগের উপ মহাপরিচালক  কেএস হোসিলকার জানান, পৃথিবীর দক্ষিণাঞ্চলে ৮টি দেশের অবস্থান৷ এগুলোর মধ্য আছে, বাংলাদেশ, ভারত, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড৷ এই আটটি দেশ ধারাবাহিকভাবে ঘূর্ণিঝড়ের আগাম নাম ঠিক রাখে৷ তারপর সব দেশ মিলে নামটি চূড়ান্ত করে৷ সাগরে কোনো  ঘূর্ণিঝড় দেখা দিলে, তখন ঠিক করা নামটি ব্যবহার করা হয়৷ এরপর নাম করণের দায়িত্ব মালদ্বীপের বলেও জানান তিনি৷ এর মধ্যে দেশটি ঘূর্ণিঝড়ের পরবর্তী নাম হিসেবে ‘হাইকা‘ চূড়ান্ত করেছে৷

চলতি গ্রীষ্ম থেকেই ভারতের আবহাওয়া বৈরি আচরণ করছে৷  আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে ভারতের প্রায় অর্ধেকটা জুড়ে খরার মতো অবস্থা তৈরি হয়েছে৷ বৃষ্টির আশায় দিন গুণছে এসব এলাকার প্রায় ৫০ কোটি মানুষ৷ প্রচণ্ড গরমে ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা তাদের৷ রাজস্থানে তাপমাত্রা  ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসও ছাড়িয়ে গেছে৷ দেরিতে হলেও, গেল সপ্তাহে দেশটির দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য কেরালায় বৃষ্টি হয়েছে৷

টিএম/কেএম

আরো প্রতিবেদন...

8 ছবি
মিডিয়া সেন্টার | 11 মিনিট আগে

মানবসৃষ্ট মরুভূমি!

বিশ্ব | 22 মিনিট আগে

টাইগার টিমকে অভিনন্দন!

আমাদের অনুসরণ করুন