‘কুকুরের চেয়েও খারাপ অবস্থা আমাদের'

ইউরোপে যখন শরণার্থীদের ঢল নামা শুরু হয়, তখন ম্যার্কেল আশ্বাস দিয়েছিলেন৷ বলেছিলেন – ‘‘আমরা অবশ্যই পারবো৷'' আর আজও নিজের সেই বিশ্বাসে অনড় জার্মান চ্যান্সেলর৷ কিন্তু জার্মানিতে বসবাসকারী শরণার্থীদের অভিজ্ঞতা কী বলছে?

সাম্প্রতিক সময়ে জার্মানিসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশে একের পর এক জঙ্গি হামলার জন্য অনেকেই পরোক্ষভাবে আঙ্গেলা ম্যার্কেলের উদার শরণার্থী নীতিকে দায়ী করছেন৷ দেশের ভেতরে এতদিনের শক্ত অবস্থান আর নেই চ্যান্সেলরের৷ শরণার্থী সংকটের কারণে নিজের রাজনৈতিক শিবিরের মধ্যে সমর্থন হারাচ্ছেন তিনি৷ এমনকি সাম্প্রতিক একটি সমীক্ষা বলছে, চতুর্থবারের মতো বিশ্ব রাজনীতিতে ‘লৌহমানবী' হিসেবে পরিচিতি ম্যার্কেলকে আর চ্যান্সেলর হিসেবে দেখতে চান না জার্মানির দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ৷

আপনি কী ভাবছেন?

এখানে ক্লিক করুন ও আলোচনায় যোগ দিন

চ্যান্সেলরের ইতিবাচক আশ্বাসে তাঁদের যেন আর বিশ্বাস নেই৷ অনেকেই আজ শরণার্থীদের চায় না৷ জার্মানিতে ছুটে আসা অভিবাসনপ্রত্যাশীরা কি তবে আজ সাধারণের চক্ষুশূল? কী বলছেন জার্মানিতে বসবাসকারী শরণার্থীরা? #MsgToMerkel অভিযানে অংশ নেওয়া তাঁদের কয়েকজনের কথাই তুলে ধরেছে ডয়চে ভেলে:

মুহাম্মদ টাঙ্কো, নাইজার

ভিডিও দেখুন 02:00
এখন লাইভ
02:00 মিনিট
DW News | 24.08.2016

‘কুকুরেরও জার্মানিতে বেশি সম্মান দেখানো হয়’

‘‘ইউরোপে আফ্রিকা থেকে আসা মানুষদের তুলনায় একটা কুকুরের প্রতিও বেশি সম্মান দেখানো হয়৷ তাই তো আমি এখানে আফ্রিকানদের অধিকার আদায়ের জন্য কাজ করছি৷ কাজ করছি তাঁদের জন্য, যাঁদের গায়ের রং ‘কালো' হওয়ার কারণে জার্মানি ছেড়ে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে৷''

রেজা আকবরি, আফগানিস্তান

‘‘আমি যখন আফগানিস্তান থেকে জার্মানিতে এসেছিলাম, তখন আমার মেয়ের বয়স ছিল মাত্র ১০ বছর৷ ওর চোখে স্বপ্ন ছিল, জার্মানির স্কুলে পড়বে, বড় হবে৷ কিন্তু আজও আমাদের একটা শরণার্থী শিবিরে আরো ৫০০ জনের সঙ্গে গাদাগাদি করে বাস করতে হচ্ছে৷ আমরা জানি না এভাবে আর কতদিন থাকতে হবে৷ আজ মনে হচ্ছে, আমার মেয়ের ভবিষ্যত সত্যিই অন্ধকার৷''

মোহাম্মদ মোহাম্মাদি, ইরান

‘‘ইরান ছেড়ে আসার সময় আমার পরিবারকে শেষ দেখি আমি৷ জার্মানিতে ঢোকার সময়ই আমরা আলাদা হয়ে যাই৷ আজও আমরা একেকজন একেক শহরে আছি৷ এভাবে আর কতদিন? আমরা কি কোনোদিনই আবার আগের মতো একসঙ্গে থাকতে পারবো না?''

ডিজি/এসিবি

আপনারও কি ম্যার্কেলকে কিছু বলার আছে? #MsgToMerkel ব্যবহার করে লিখুন নীচের ঘরে৷

চিকিৎসা ব্যবস্থা ভালো

৩২ বছরের ফারাহ আলি তাঁর আড়াই বছরের ছেলেকে নিয়ে ইরাক ছেড়েছেন ১৫ দিন আগে৷ এখন তিনি অস্ট্রিয়া থেকে জার্মানি যেতে চান৷ কারণ তিনি শুনেছেন সেখানকার চিকিৎসকরা ভালো৷ ফারাহর বিশ্বাস, জার্মানির ডাক্তাররাই পারবেন তার ছেলের ডানহাতের জন্মগত সমস্যার সমাধান করতে৷

সরকার বলেছে শরণার্থীদের নেবে

কাফ্ফা তার স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে জার্মানি যাওয়ার জন্য অস্ট্রিয়ার রেলস্টেশনে অপেক্ষা করেছিলেন৷ তাঁরা জার্মানি যেতে চান কারণ জার্মান সরকার নাকি বলেছে যে তারা শরণার্থীদের গ্রহণ করবে৷

চাকরি পাওয়া যাবে

ইরাক থেকে আসা আহমেত হুসেইনের মূল লক্ষ্য ছিল বেলজিয়াম যাওয়া৷ কিন্তু যাত্রাপথে অন্য শরণার্থীদের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন যে, জার্মানিতে নাকি অনেক চাকরির সুযোগ আছে৷ ভাষা জানলে চাকরি পাওয়া সম্ভব৷ তাই তিনি এখন জার্মানি যাওয়ার চিন্তা করছেন৷

অর্ধ সত্য

ডিডাব্লিউর প্রতিবেদক মনে করেন, শরণার্থীরা যেসব সুযোগ-সুবিধার কথা শুনে জার্মানির প্রতি আগ্রহী হয়েছেন তা হয়ত কিছুটা সত্য, পুরোপুরি নয়৷

একদিনেই সাড়ে তিন হাজার!

পুলিশ জানিয়েছে জার্মানির বাভারিয়া রাজ্যে শুধু মঙ্গলবারেই রেকর্ড সাড়ে তিন হাজার আশ্রয়প্রার্থী এসেছে৷

আট লক্ষ শরণার্থী আবেদন

শরণার্থীদের মনে জার্মানি সম্পর্কে যেভাবেই হোক ইতিবাচক ধারনার জন্ম নেয়ায় চলতি বছর প্রায় আট লক্ষ শরণার্থীর আবেদনের আশা করছেন জার্মান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী৷

জনপ্রিয়তা কমেছে, কিন্তু...

চলমান শরণার্থী সংকটের কারণে জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের দলের জনপ্রিয়তা চলতি সপ্তাহে এক শতাংশের মতো কমেছে বলে জানিয়েছে জরিপ পরিচালনাকারী সংস্থা ফোরসা৷ কিন্তু তারপরও তাঁর দল দ্বিতীয় স্থানে থাকা জোটসঙ্গী এসপিডির চেয়ে অনেক ব্যবধানে এগিয়ে আছে৷

ইরাক থেকে আসা আহমেত হুসেইনের মূল লক্ষ্য ছিল বেলজিয়াম যাওয়া৷ কিন্তু যাত্রাপথে অন্য শরণার্থীদের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন যে, জার্মানিতে নাকি অনেক চাকরির সুযোগ আছে৷ ভাষা জানলে চাকরি পাওয়া সম্ভব৷ তাই তিনি এখন জার্মানি যাওয়ার চিন্তা করছেন৷

শরণার্থীদের মনে জার্মানি সম্পর্কে যেভাবেই হোক ইতিবাচক ধারনার জন্ম নেয়ায় চলতি বছর প্রায় আট লক্ষ শরণার্থীর আবেদনের আশা করছেন জার্মান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী৷

সাম্প্রতিক সময়ে জার্মানিসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশে একের পর এক জঙ্গি হামলার জন্য অনেকেই পরোক্ষভাবে আঙ্গেলা ম্যার্কেলের উদার শরণার্থী নীতিকে দায়ী করছেন৷ দেশের ভেতরে এতদিনের শক্ত অবস্থান আর নেই চ্যান্সেলরের৷ শরণার্থী সংকটের কারণে নিজের রাজনৈতিক শিবিরের মধ্যে সমর্থন হারাচ্ছেন তিনি৷ এমনকি সাম্প্রতিক একটি সমীক্ষা বলছে, চতুর্থবারের মতো বিশ্ব রাজনীতিতে ‘লৌহমানবী' হিসেবে পরিচিতি ম্যার্কেলকে আর চ্যান্সেলর হিসেবে দেখতে চান না জার্মানির দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ৷

চ্যান্সেলরের ইতিবাচক আশ্বাসে তাঁদের যেন আর বিশ্বাস নেই৷ অনেকেই আজ শরণার্থীদের চায় না৷ জার্মানিতে ছুটে আসা অভিবাসনপ্রত্যাশীরা কি তবে আজ সাধারণের চক্ষুশূল? কী বলছেন জার্মানিতে বসবাসকারী শরণার্থীরা? #MsgToMerkel অভিযানে অংশ নেওয়া তাঁদের কয়েকজনের কথাই তুলে ধরেছে ডয়চে ভেলে:

মুহাম্মদ টাঙ্কো, নাইজার

ভিডিও দেখুন 02:00
এখন লাইভ
02:00 মিনিট
DW News | 24.08.2016

‘কুকুরেরও জার্মানিতে বেশি সম্মান দেখানো হয়’

‘‘ইউরোপে আফ্রিকা থেকে আসা মানুষদের তুলনায় একটা কুকুরের প্রতিও বেশি সম্মান দেখানো হয়৷ তাই তো আমি এখানে আফ্রিকানদের অধিকার আদায়ের জন্য কাজ করছি৷ কাজ করছি তাঁদের জন্য, যাঁদের গায়ের রং ‘কালো' হওয়ার কারণে জার্মানি ছেড়ে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে৷''

রেজা আকবরি, আফগানিস্তান

‘‘আমি যখন আফগানিস্তান থেকে জার্মানিতে এসেছিলাম, তখন আমার মেয়ের বয়স ছিল মাত্র ১০ বছর৷ ওর চোখে স্বপ্ন ছিল, জার্মানির স্কুলে পড়বে, বড় হবে৷ কিন্তু আজও আমাদের একটা শরণার্থী শিবিরে আরো ৫০০ জনের সঙ্গে গাদাগাদি করে বাস করতে হচ্ছে৷ আমরা জানি না এভাবে আর কতদিন থাকতে হবে৷ আজ মনে হচ্ছে, আমার মেয়ের ভবিষ্যত সত্যিই অন্ধকার৷''

মোহাম্মদ মোহাম্মাদি, ইরান

‘‘ইরান ছেড়ে আসার সময় আমার পরিবারকে শেষ দেখি আমি৷ জার্মানিতে ঢোকার সময়ই আমরা আলাদা হয়ে যাই৷ আজও আমরা একেকজন একেক শহরে আছি৷ এভাবে আর কতদিন? আমরা কি কোনোদিনই আবার আগের মতো একসঙ্গে থাকতে পারবো না?''

ডিজি/এসিবি

আপনারও কি ম্যার্কেলকে কিছু বলার আছে? #MsgToMerkel ব্যবহার করে লিখুন নীচের ঘরে৷

চিকিৎসা ব্যবস্থা ভালো

৩২ বছরের ফারাহ আলি তাঁর আড়াই বছরের ছেলেকে নিয়ে ইরাক ছেড়েছেন ১৫ দিন আগে৷ এখন তিনি অস্ট্রিয়া থেকে জার্মানি যেতে চান৷ কারণ তিনি শুনেছেন সেখানকার চিকিৎসকরা ভালো৷ ফারাহর বিশ্বাস, জার্মানির ডাক্তাররাই পারবেন তার ছেলের ডানহাতের জন্মগত সমস্যার সমাধান করতে৷

সরকার বলেছে শরণার্থীদের নেবে

কাফ্ফা তার স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে জার্মানি যাওয়ার জন্য অস্ট্রিয়ার রেলস্টেশনে অপেক্ষা করেছিলেন৷ তাঁরা জার্মানি যেতে চান কারণ জার্মান সরকার নাকি বলেছে যে তারা শরণার্থীদের গ্রহণ করবে৷

চাকরি পাওয়া যাবে

ইরাক থেকে আসা আহমেত হুসেইনের মূল লক্ষ্য ছিল বেলজিয়াম যাওয়া৷ কিন্তু যাত্রাপথে অন্য শরণার্থীদের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন যে, জার্মানিতে নাকি অনেক চাকরির সুযোগ আছে৷ ভাষা জানলে চাকরি পাওয়া সম্ভব৷ তাই তিনি এখন জার্মানি যাওয়ার চিন্তা করছেন৷

অর্ধ সত্য

ডিডাব্লিউর প্রতিবেদক মনে করেন, শরণার্থীরা যেসব সুযোগ-সুবিধার কথা শুনে জার্মানির প্রতি আগ্রহী হয়েছেন তা হয়ত কিছুটা সত্য, পুরোপুরি নয়৷

একদিনেই সাড়ে তিন হাজার!

পুলিশ জানিয়েছে জার্মানির বাভারিয়া রাজ্যে শুধু মঙ্গলবারেই রেকর্ড সাড়ে তিন হাজার আশ্রয়প্রার্থী এসেছে৷

আট লক্ষ শরণার্থী আবেদন

শরণার্থীদের মনে জার্মানি সম্পর্কে যেভাবেই হোক ইতিবাচক ধারনার জন্ম নেয়ায় চলতি বছর প্রায় আট লক্ষ শরণার্থীর আবেদনের আশা করছেন জার্মান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী৷

জনপ্রিয়তা কমেছে, কিন্তু...

চলমান শরণার্থী সংকটের কারণে জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের দলের জনপ্রিয়তা চলতি সপ্তাহে এক শতাংশের মতো কমেছে বলে জানিয়েছে জরিপ পরিচালনাকারী সংস্থা ফোরসা৷ কিন্তু তারপরও তাঁর দল দ্বিতীয় স্থানে থাকা জোটসঙ্গী এসপিডির চেয়ে অনেক ব্যবধানে এগিয়ে আছে৷