1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

কেন একের পর এক শোচনীয় হার ভারতের?

১ নভেম্বর ২০২১

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের হারের ধারা অব্যাহত। পাকিস্তানের কাছে দশ উইকেটে হারের পর নিউজিল্যান্ডের কাছে আট উইকেটে হার।

https://p.dw.com/p/42PwO
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পরপর দুইটি ম্যাচ হারলেন কোহলিরা। ছবি: Getty Images/D. Sarkar

খাতায়-কলমে প্রবল পরাক্রান্ত ভারতীয় ক্রিকেট দল। ব্যাটিংয়ে বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা, কে এল রাহুল, ঋষভ পন্থ, রবীন্দ্র জাদেজা, ইশান কিষাণরা সদ্যসমাপ্ত আইপিএলে মাঠ কাঁপিয়েছেন। বোলিংয়ে বুমরা, শামি, শার্দুল ঠাকুর, বরুণ চক্রবর্তীদেরও আইপিএলে খুবই ভালো ফর্মে দেখা গিয়েছে। তা সত্ত্বেও প্রথম দুইটি ম্যাচে ভারতীয় বোলার ও ব্যাটাররা চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ। তাদের ব্যাটে রান আসছে না, প্রতিপক্ষের উইকেটও তুলতে পারছেন না। মাঠভরা দর্শক চিৎকার করে ভারতীয় দলকে উৎসাহ দিচ্ছে। আমিরাতের উইকেটে আইপিএল খেলেছেন ক্রিকেটারর। তাই উইকেটের চাল-চরিত্র-চেহারা তাদের জানা। তারপরেও লাগাতার ব্যর্থ তারা।

নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে মাত্র ১১০ রান তুলতে পেরেছিল ভারত। প্রথম দিকের সব ব্যটসম্যান ব্যর্থ। খুব সহজেই মাত্র দুই উইকেট হারিয়ে নিউজিল্যান্ড সেই রান তুলে নেয়। বিরাট কোহলি দুইটি ম্যাচেই টসে হেরেছিলেন, পরের দিকে শিশির থাকলে বল করা অসুবিধাজনক, এসব যুক্তি দিয়ে আর ব্যর্থতার লজ্জা ঢাকা যাচ্ছে না। কেন এই হার, কী ব্যাখ্যা দিচ্ছেন ক্রিকেটাররা?

মাঠে নামার আগেই

বিরাট কোহলি কোনো রাখঢাক না করেই জানিয়েছেন, মাঠে নামার আগেই কেঁপে গিয়েছিল ভারতীয় দল। ম্যাচের পর তিনি বলেছেন,  ''ব্যাটে বা বলে আমরা একেবারেই সাহসী ছিলাম না। মাঠে নামার পরেই বোঝা যাচ্ছিল, আমাদের মধ্যে সাহসের অভাব আছে। নিউজিল্যান্ড আমাদের থেকে অনেক এগিয়ে ছিল। আমরা তো প্রথম থেকেই চাপে ছিলাম। ব্যাটিংয়ের সময় দ্বিধায় ভুগেছি।'' কোহলি সরাসরি কথা বলেন বলে এইভাবেই ব্যর্থতার দায় সব ক্রিকেটারের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়েছেন।

এই আত্মবিশ্বাস না থাকার বিষয়টি পাকিস্তানের ম্যাচেও দেখা গিয়েছিল। পরপর দুইটি ম্যাচে ভারতীয় দলকে মাঠে চনমনে দেখায়নি। এর জন্য সাহসের অভাবের যুক্তি দিয়েছেন কোহলি। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কেন এই অবস্থা? অনেক সময় প্রত্যাশার চাপ সামলাতে পারেন না ক্রিকেটাররা। এই ক্ষেত্রেও কি তাই হয়েছে? কোহলির জবাব, ''প্রত্যাশা  তো থাকবেই। যে ম্যাচেই আমরা নামি না কেন, এই চাপটা নিতে হবে। চাপের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে।''

দলের মধ্যে একতা

কোহলি বলেছেন ''দল যদি ঐক্যবদ্ধ হয় তাহলে এই চাপ কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। আমরা গত দু'ম্যাচে এটা করতে ব্যর্থ।''

সূত্র জানাচ্ছে, কোহলির বিরুদ্ধে কিছুদিন আগেই দলের জনা কয়েক সিনিয়ার প্লেয়ার বোর্ডের কাছে নালিশ জানিয়েছিলেন। কোহলির উদ্ধত ব্যবহার, খামখেয়ালীপনা নিয়ে। কোহলি ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন এই বিশ্বকাপের পরেই তিনি টি-টোয়েন্টি ও একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে ভারতীয় দলের নেতৃত্বে থাকবেন না। ক্রিকেটাররা অতীতে অনেক সময়ই বলেছেন, ম্যাচ জেতার জন্য ড্রেসিং রুমের পরিবেশ ও ক্রিকেটারদের এক হয়ে থাকাটা খুবই জরুরি। কোহলির কথা থেকে কি ক্রিকেটারদের অনৈক্যের ছবি উঠে আসছে?

আইপিএল দায়ী?

ভারতীয় পেসারদের মধ্যে বুমরার উপরেই টিম সব চেয়ে বেশি নির্ভর করে। তার হাতে মারাত্মক ইয়র্কার আছে। তার বলের গতিও যথেষ্ট। তিনি বিশ্বের যে কোনো ব্যাটসম্যানকে বিপাকে ফেলতে পারেন। হারের পর বুমরার মত হলো, ''ক্রিকেটারদের বিশ্রাম প্রয়োজন। তারা টানা ছয় মাস ধরে খেলছে।  এটা একেবারেই সহজ নয়। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোও দরকার।'' নাম না করে আইপিএলের উপরেই দায় চাপিয়ে দিয়েছেন বুমরা।

বুমরা বলেছেন, ''আমাদের সাহায্য করার জন্য বিসিসিআই যথাসাধ্য চেষ্টা করেছে। কিন্তু সূচি কী হবে সেটা তো হাতে থাকে না। জৈব সুরক্ষা বলয়ের মধ্যে থাকলে মানসিক ক্লান্তি আসতে বাধ্য।''

বুমরা জানিয়েছেন, ''আমাদের বড় রান দরকার ছিল। সেটা করতে গিয়ে একের পর এক উইকেট হারাই আমরা। তবে খেলায়. হারজিত থাকে। এটাই খেলার নিয়ম।''

এখনো আশা

কোহলি জানিয়েছেন, এখনো সবকিছু শেষ হয়ে যায়নি। আশা আছে।

খাতায় কলমে হয়তো আছে। যদি ছোট দলগুলি নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তানকে হারায়, ভারত যদি পরপর তিনটি ম্যাচে জিততে পারে, সেই সব জটিল অঙ্কের উপর নির্ভর করছে, ভারত সেমিফাইনালে যাবে কি না। তবে যেভাবে পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ড খেলছে এবং যেভাবে ভারত হারছে, তাতে তাদের সেমিফাইনাল যাওয়ার আশা খুবই কম, প্রায় নেই বললেই চলে।

জিএইচ/এসজি(পিটিআই, এএনআই, স্টার স্পোর্টস)