কোলনে বিদেশিদের ওপর হামলা

বছরের শেষ রজনী ও নতুন বছরের আগম উদযাপনের সময় নারীদের ব্যাপক যৌন নিপীড়ন, ছিনতাই ও ধর্ষণের ঘটনার রেশ এখনো কাটেনি৷ বরং সেই শহরেই বিদেশিদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে৷ কোলনের পুলিশই জানিয়েছে এ খবর৷

‘থার্টি ফার্স্ট নাইট' উদযাপনের সময় কোলন কেন্দ্রীয় রেল স্টেশনের কাছে যে ব্যাপক যৌন নিপীড়ন এবং ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছিল, যা নিয়ে এখনো উত্তপ্ত জার্মানি৷ ইতিমধ্যে কোলন পুলিশের প্রধান দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন৷ তবে তাতে পরিস্থিতির এখনো কোনো উন্নতি হয়নি৷ সপ্তাহান্তে অভিবাসনবিরোধী মিছিল হয়েছে৷ এমন মিছিল অবশ্য আগেও হয়েছে জার্মানিতে৷ তবে এবারের বিক্ষোভ মিছিলটি কোলনের ঘটনার পরেই হলো বলে সেদিকে সতর্ক নজর রাখে পুলিশ৷

রবিবার কোলন শহরে ২০ জন বিদেশির ওপর হামলা হয়৷ হামলার শিকার ২০ জনের মধ্যে ৬ জন পাকিস্তানের নাগরিক বলে জানিয়েছে পুলিশ৷ দু'জনকে হাসপাতালে নিতে হয়েছে৷ বাকিদের তেমন কোনো আঘাত লাগেনি৷ রবিবার সন্ধ্যায় কোলন কেন্দ্রীয় রেল স্টেশনের সামনেই হামলার এ ঘটনা ঘটে৷

জার্মানিতে এত শরণার্থী চায় না তারা

‘বিশ্বাসঘাতক’ ম্যার্কেল

জার্মানির ইসলাম ও অভিবাসী বিরোধী গোষ্ঠী পেগিডার হাজার হাজার সমর্থক সোমবার জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের শরণার্থী নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে৷ শরণার্থীদের প্রতি নরম মনোভাবের কারণ তারা ম্যার্কেলের বিরুদ্ধে ‘উচ্চ পর্যায়ের বিশ্বাসঘাতকতা’ ও ‘জার্মানির মানুষের বিরুদ্ধে অপরাধ’-এর অভিযোগ আনেন৷

জার্মানিতে এত শরণার্থী চায় না তারা

শরণার্থীদের নিয়ে কটূক্তি

পেগিডার (প্যাট্রিয়টিক ইউরোপিয়ান অ্যাগেনস্ট দ্য ইসলামাইজেশন অফ দ্য অক্সিডেন্ট) প্রতিষ্ঠাতা লুটৎস বাখমান সম্প্রতি শরণার্থীদের ‘পশু’, ‘আবর্জনা’ ও ‘উচ্ছৃঙ্খল জনতা’ বলে আখ্যায়িত করেন৷ এ জন্য তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেছে সরকার৷

জার্মানিতে এত শরণার্থী চায় না তারা

সমাজে অন্তর্ভুক্তি সম্ভব নয়

সোমবার বিক্ষোভের সময় বাখমান বলেন, শরণার্থীর সংখ্যা দেড় কিংবা দুই মিলিয়নেই থেমে থাকবে না৷ এরপর আসবে তাদের স্ত্রী; আসবে এক, দুই কিংবা তিন সন্তান৷ ফলে এতগুলো লোকের জার্মান সমাজে অন্তর্ভুক্তির কাজ অসম্ভব হয়ে পড়বে৷

জার্মানিতে এত শরণার্থী চায় না তারা

জার্মান সরকারের অস্বীকার

জার্মানির জনপ্রিয় পত্রিকা ‘বিল্ড’ সরকারের গোপন ডকুমেন্টের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, চলতি বছর জার্মানিতে প্রায় দেড় মিলিয়ন শরণার্থী আসবে বলে মনে করছে সরকার৷ যদিও প্রকাশ্যে সরকার বলছে সংখ্যাটা এক মিলিয়ন হতে পারে৷ তবে জার্মান সরকারের এক মুখপাত্র এ ধরনের কোনো গোপন ডকুমেন্টের কথা তিনি জানেন না বলে সাংবাদিকদের বলেছেন৷

জার্মানিতে এত শরণার্থী চায় না তারা

শরণার্থীর মৃত্যু

জার্মানির পূর্বাঞ্চলের এক শরণার্থীদের বাসস্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ইরিত্রিয়া থেকে আসা ২৯ বছরের এক শরণার্থীর মৃত্যু হয়েছে৷ অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনও জানা যায়নি৷ এদিকে, জার্মান সরকারের হিসেবে দেখা যাচ্ছে, চলতি বছর শরণার্থী ও তাদের বাসস্থানের উপর হামলার সংখ্যা বেড়েছে৷ এ বছরের প্রথম ছয় মাসেই এরকম ২০২টি ঘটনা ঘটেছে বলে সরকার জানিয়েছে, যেখানে গত বছর সংখ্যাটি ছিল ১৯৮৷

জার্মানিতে এত শরণার্থী চায় না তারা

বিপদে ম্যার্কেল

শরণার্থীদের সঙ্গে এমন আচরণের কারণে নিজ দল সহ অন্যান্য দলের রাজনীতিবিদদের তোপের মুখে পড়েছেন ম্যার্কেল৷ তাঁরা জার্মানির শরণার্থী নীতি ও শরণার্থীদের আগমনের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে চ্যান্সেলরকে আরও কঠোর হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন৷

আরেক হামলার ঘটনায় আহত হয়েছেন ৩৯ বছর বয়সি এক সিরীয়৷ পাঁচ তরুণ তাঁর ওপর চড়াও হয়৷ সিরিয়া থেকে আগত অভিবাসন প্রত্যাশীর ওপর হামলার ঘটনাটিরও তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ৷

এদিকে ৩১শে ডিসেম্বর রাতের রোমহর্ষক হামলার শিকারদের মধ্যে আরো অনেকেই এখন পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করছেন৷ প্রথমে ৯০ জন অভিয়োগ দায়ের করলেও, সারা দেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার পর ধীরে ধীরে অভিযোগের সংখ্যা বাড়তে বাড়তে এখন পাঁচশ ছাড়িয়েছে৷

এ পর্যন্ত ৫১৬টি অভিযোগ পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ৷ ৫১৬ জনের মধ্যে কেউ কেউ ব্যাপক যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, কারো কারো কাছ থেকে টাকা-পয়সা, মোবাইলফোন ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে৷ এছাড়া একটি ধর্ষণের অভিযোগও পেয়েছে পুলিশ৷

এসিবি/ডিজি (এএফপি, রয়টার্স, ডিপিএ)

বন্ধুরা, কোলনে যৌন নিপীড়নের ঘটনার পর ঘটলো বিদেশিদের ওপর হামলা৷ আপনার কি মনে হয়? এমন পরিস্থিতি কি সামাল দিতে পারবে জার্মানি?

জার্মানিতে আসার আগে আপনার যা জানা প্রয়োজন

কাজের অনুমতি ছাড়া কাজ নয়

মধ্যপ্রাচ্য এবং আফ্রিকায় এটা বৈধ হলেও জার্মানিতে কাজের অনুমতি ছাড়া কাজ করা আইনের দৃষ্টিতে অবৈধ৷ কেউ যদি অবৈধভাবে কাজ করা অবস্থায় ধরা পড়ে, তাহলে তার জরিমানা, এমনকি জেলও হতে পারে৷

জার্মানিতে আসার আগে আপনার যা জানা প্রয়োজন

কর অবশ্যই প্রদান করতে হবে

জার্মানিতে কর প্রদানের নিয়মকানুন বেশ জটিল৷ তাসত্ত্বেও কর প্রদান না করা এখানে অবৈধ৷ আইন অনুযায়ী, এটা সমাজের বিপরীতে এক ধরনের চুরি৷ কর প্রদান এক ধরনের দায়িত্ব, যেমনটা ট্যাক্স প্রদান৷

জার্মানিতে আসার আগে আপনার যা জানা প্রয়োজন

শিশুদের প্রতি জোর খাটানো যাবে না

শিশুদের আঘাত করা জার্মানিতে শাস্তিযোগ্য অপরাধ৷ বাড়ি কিংবা স্কুল কোথাও শারীরিক শাস্তি গ্রহণযোগ্য নয়৷

জার্মানিতে আসার আগে আপনার যা জানা প্রয়োজন

শিশুদের অবশ্যই স্কুলে যেতে হবে

স্কুল বয়সি শিশুরা শুধু বাসায় বসে থাকতে পারবে না, পারবে না কাজে যেতে৷ তাদের যেতে হবে স্কুলে৷ শিশুর বয়স ছয় বছর হলে তাকে অবশ্যই কোনো না কোনো স্কুলে নিবন্ধিত হতে হবে এবং নিয়মিত ক্লাসে যেতে হবে৷

জার্মানিতে আসার আগে আপনার যা জানা প্রয়োজন

বেশি শব্দ করা যাবে না!

এমনকি নিজের ঘরের মধ্যেও বেশি শব্দ করা যাবে না, যা আপনার প্রতিবেশীদের বিরক্ত করতে পারে৷ বিশেষ করে রাতের বেলা জার্মানিতে এদিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হয়৷

জার্মানিতে আসার আগে আপনার যা জানা প্রয়োজন

সুপারমার্কেটে দরকষার সুযোগ নেই

বাজারে দরকষাকষি বিশ্বের অনেক দেশেই গ্রহণযোগ্য এবং মানুষ তা উপভোগও করে৷ তবে জার্মানিতে সুপারমার্কেট কিংবা অধিকাংশ দোকানপাটে দরদামের সুযোগ নেই৷ দরাদরি করতে চাইলে অনলাইনে চেষ্টা করতে পারেন৷

জার্মানিতে আসার আগে আপনার যা জানা প্রয়োজন

পশুপ্রাণিকে খেতে দেবেন না!

জার্মানিতে অধিকাংশ প্রাণির মালিক রয়েছে কিংবা তারা বিশেষ আইনের আওতায় পরিচালিত৷ তাই প্রতিবেশির বেড়ালকে তাঁর অনুমিত ছাড়া খাওয়ানো খুব একটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না৷ আর বেড়ালটা যদি মালিকের চেয়ে আপনার প্রতি বেশি অনুগত হয়ে যায় তাহলে মালিক আপনার বিরুদ্ধে মামলাও ঠুকতে পারে!

জার্মানিতে আসার আগে আপনার যা জানা প্রয়োজন

সময়নিষ্ঠা – জার্মানিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

কোনো অ্যাপয়েনমেন্ট থাকলে সেখানে সময়মত যাওয়া এবং সর্বোপরি সময়ের প্রতি সচেতনতা জার্মানিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ৷ দেরি করে কোথাও যাওয়া ঠিক নয়৷ আর যদি একান্ত দেরি হয় তাহলে যার সঙ্গে সাক্ষাতের কথা তাঁকে তা জানানোই নিয়ম৷

জার্মানিতে আসার আগে আপনার যা জানা প্রয়োজন

নিজের দূরত্ব বজায় রাখুন

অনেক সংস্কৃতিতে অন্যের বাচ্চাকে জড়িয়ে ধরা, চুমু দেয়া কিংবা উপহার দেয়া স্বাভাবিক ব্যাপার৷ তবে জার্মানিতে বিষয়টি তেমন নয়৷ বাচ্চার অভিভাবকের উপর এটা নির্ভর করে৷ তাই শিশুটা যদি বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণও করে তবুও নিজের দূরত্ব বজায় রেখে তার সঙ্গে কথা বলুন৷

জার্মানিতে আসার আগে আপনার যা জানা প্রয়োজন

রাস্তায় গাড়ি পরিষ্কার নয়

অবশ্যই বাড়ির কাছে গাড়ি পরিষ্কার করাটা সাশ্রয়ী৷ তবে জার্মানিতে এটা নিষিদ্ধ৷ কারণ এতে পরিবেশের ক্ষতি হয়৷ তাই গাড়ি পরিষ্কার করতে চাইলে সেটি নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে যান৷ কিছু জায়গায় নিজ হাতে পরিষ্কারের সুযোগ আছে, কোথাও আছে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা৷ তাই পছন্দ আপনার৷

আমাদের অনুসরণ করুন