কোলনের পর ফেসবুকে উদ্বাস্তুদের কোঁদল

কোলনে মহিলাদের উপর যৌন হামলার পর জার্মানিতে উদ্বাস্তুদের মধ্যেও বিরোধ দেখা দিয়েছে৷ উত্তর আফ্রিকার মাঘ্রেব দেশগুলি থেকে আসা উদ্বাস্তু বা অভিবাসন প্রত্যাশী আর মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা উদ্বাস্তুরা পরস্পরের ওপর দোষারোপ করছেন৷

থার্টি ফার্স্ট নাইটে কোলনে যা ঘটেছে, তা সারা জার্মানিতে বিমূঢ়তার সৃষ্টি করেছে, তুলেছে ধিক্কারের ঝড়৷ একদল মানুষ জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের উদ্বাস্তু নীতির সমালোচনা করছেন; আরেক দল রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী আর অভিবাসীদের সকলকে দোষী না করার আবেদন করছেন৷

অপরদিকে অভিবাসীদের মধ্যেও বিরোধ দেখা দিয়েছে৷ আরব ভাষাভাষি অভিবাসীরা পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছেন, কারা কোলনে মহিলাদের উপর হামলা চালিয়েছে, তা নিয়ে৷ সোশ্যাল মিডিয়া হলো সিরীয় উদ্বাস্তু আর উত্তর আফ্রিকা থেকে আগত উদ্বাস্তুদের মধ্যে পারস্পরিক দোষারোপের প্রেক্ষাপট৷

দোষ কার?

ফেসবুকে আহমদ আলবোরানি লিখছেন, ‘‘এই সব জঘন্য কার্যকলাপ সিরীয় জনগণের সংস্কৃতি বা নীতিমালার অঙ্গ নয়৷ তা-তে যদি কোনো সিরীয় সংশ্লিষ্ট থেকে থাকেন, তবে হয় তারা আরব, যারা নিজেদের সিরীয় বলে পরিচয় দিচ্ছেন; নয়ত তারা এমন সব চরিত্র, উদ্বাস্তুদের ক্ষতি করার জন্য আসাদ যাদের পাঠিয়েছেন৷''

সেই ‘কালরাত্রি’...

টোনি শাহুদ উত্তর আফ্রিকা থেকে আগত উদ্বাস্তুদের দোষ দিয়েছেন, ‘‘মরক্কান, আলজিরীয় আর টিউনিশীয়রা এই সব কুকাজ করেছে৷'' করম ওরফালি একই মত প্রকাশ করেছেন, ‘‘ইউরোপ সিরীয় উদ্বাস্তুদের জন্য দুয়ার খুলে দিয়েছে, অন্য সবাই তার সুযোগ নিয়েছে৷ উদ্বাস্তু শিবিরে গিয়ে দশজন মানুষের দেখা পেলে তাদের সকলেই বলবে তারা সিরীয়; বাস্তবে তাদের মধ্যে দু'জন শুধু সিরীয়, বাকিরা এসেছে মরক্কো, আলজিরিয়া, লেবানন আর আফ্রিকার অন্যান্য দেশ থেকে৷''

মুহানেদ দুরুবি-ও লিখেছেন, ‘‘অধিকাংশ হামলাকারী উত্তর আফ্রিকা থেকে আগত, প্রত্যক্ষদর্শীরাই তা বলেছেন৷ কিন্তু তারা যুদ্ধের হাত থেকে পালিয়েছেন, তাদের মধ্যে এই যৌন হামলার সমস্যা দেখতে পাওয়া যাবে না৷ যেমন ফিনল্যান্ডে হাজার হাজার উদ্বাস্তুর মধ্যে মাত্র দু'টি যৌন হামলার ঘটনা ঘটেছে৷

এখন লাইভ
04:08 মিনিট
Focus on Europe | 13.01.2016

থার্টি ফার্স্ট নাইটের আতঙ্ক এখনও কাটেনি জার্মানিতে

অপর পক্ষ

তথাকথিত মাঘ্রেব, অর্থাৎ মরক্কো, আলজিরিয়া, টিউনিশিয়া, লিবিয়া প্রমুখ দেশ থেকে আসা উদ্বাস্তুরা এই অপবাদ মেনে নিতে রাজি নন৷ আক্সেল গানিকাস তাই ফেসবুকে লিখছেন, ‘‘উত্তর আফ্রিকার মানুষ, অর্থাৎ আলজিরীয়, মরক্কান বা টিউনিশীয়রা বহুদিন ধরে জার্মানি তথা ইউরোপে বাস করছেন৷ তাদের থেকে এর আগে কোনোদিন এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি৷ যে সব আরব বিগত কয়েক মাসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে এসেছেন, শুধু তারাই জার্মানিতে যা ঘটেছে, তার জন্য দায়ী৷ উত্তর আফ্রিকার মানুষ আর মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা আরবদের মধ্যে পার্থক্য করা উচিত৷''

যার উত্তরে বিলাল আলিয়ামানি লিখেছেন, ‘‘কিছু সিরীয় ভাই এমনভাবে নিজেদের সম্পর্কে কথা বলেন, যেন তারা সকলে দেবদূত, সবে স্বর্গ থেকে নেমে এসেছেন৷ তারা এখন মরক্কানদের দোষ দিচ্ছেন৷ আমি নিজে মরক্কান, জার্মানিতে বাস করি৷ আমি সিরিয়ায় গেছি৷ ওরা আর সব মানুষদের মতোই৷''

জার্মানিতে এত শরণার্থী চায় না তারা

‘বিশ্বাসঘাতক’ ম্যার্কেল

জার্মানির ইসলাম ও অভিবাসী বিরোধী গোষ্ঠী পেগিডার হাজার হাজার সমর্থক সোমবার জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের শরণার্থী নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে৷ শরণার্থীদের প্রতি নরম মনোভাবের কারণ তারা ম্যার্কেলের বিরুদ্ধে ‘উচ্চ পর্যায়ের বিশ্বাসঘাতকতা’ ও ‘জার্মানির মানুষের বিরুদ্ধে অপরাধ’-এর অভিযোগ আনেন৷

জার্মানিতে এত শরণার্থী চায় না তারা

শরণার্থীদের নিয়ে কটূক্তি

পেগিডার (প্যাট্রিয়টিক ইউরোপিয়ান অ্যাগেনস্ট দ্য ইসলামাইজেশন অফ দ্য অক্সিডেন্ট) প্রতিষ্ঠাতা লুটৎস বাখমান সম্প্রতি শরণার্থীদের ‘পশু’, ‘আবর্জনা’ ও ‘উচ্ছৃঙ্খল জনতা’ বলে আখ্যায়িত করেন৷ এ জন্য তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেছে সরকার৷

জার্মানিতে এত শরণার্থী চায় না তারা

সমাজে অন্তর্ভুক্তি সম্ভব নয়

সোমবার বিক্ষোভের সময় বাখমান বলেন, শরণার্থীর সংখ্যা দেড় কিংবা দুই মিলিয়নেই থেমে থাকবে না৷ এরপর আসবে তাদের স্ত্রী; আসবে এক, দুই কিংবা তিন সন্তান৷ ফলে এতগুলো লোকের জার্মান সমাজে অন্তর্ভুক্তির কাজ অসম্ভব হয়ে পড়বে৷

জার্মানিতে এত শরণার্থী চায় না তারা

জার্মান সরকারের অস্বীকার

জার্মানির জনপ্রিয় পত্রিকা ‘বিল্ড’ সরকারের গোপন ডকুমেন্টের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, চলতি বছর জার্মানিতে প্রায় দেড় মিলিয়ন শরণার্থী আসবে বলে মনে করছে সরকার৷ যদিও প্রকাশ্যে সরকার বলছে সংখ্যাটা এক মিলিয়ন হতে পারে৷ তবে জার্মান সরকারের এক মুখপাত্র এ ধরনের কোনো গোপন ডকুমেন্টের কথা তিনি জানেন না বলে সাংবাদিকদের বলেছেন৷

জার্মানিতে এত শরণার্থী চায় না তারা

শরণার্থীর মৃত্যু

জার্মানির পূর্বাঞ্চলের এক শরণার্থীদের বাসস্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ইরিত্রিয়া থেকে আসা ২৯ বছরের এক শরণার্থীর মৃত্যু হয়েছে৷ অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনও জানা যায়নি৷ এদিকে, জার্মান সরকারের হিসেবে দেখা যাচ্ছে, চলতি বছর শরণার্থী ও তাদের বাসস্থানের উপর হামলার সংখ্যা বেড়েছে৷ এ বছরের প্রথম ছয় মাসেই এরকম ২০২টি ঘটনা ঘটেছে বলে সরকার জানিয়েছে, যেখানে গত বছর সংখ্যাটি ছিল ১৯৮৷

জার্মানিতে এত শরণার্থী চায় না তারা

বিপদে ম্যার্কেল

শরণার্থীদের সঙ্গে এমন আচরণের কারণে নিজ দল সহ অন্যান্য দলের রাজনীতিবিদদের তোপের মুখে পড়েছেন ম্যার্কেল৷ তাঁরা জার্মানির শরণার্থী নীতি ও শরণার্থীদের আগমনের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে চ্যান্সেলরকে আরও কঠোর হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন৷

আরো প্রতিবেদন...

আমাদের অনুসরণ করুন