খোদ নেইমারকেও বোকা বানিয়েছিলেন যিনি

এই ভিডিওটা যখন তৈরি হয়, সঁ গার্নিয়ে'র বয়স তখন ২৯৷ পরের চার বছরে তিন কোটি বত্রিশ লাখ মানুষ দেখেছেন ভিডিওটি, দেখেছেন স্ট্রিট ফুটবল কিভাবে আর্ট হয়ে ওঠে৷

ভিডিওর শিরোনাম ‘পান্না লন্ডন পয়েন্ট টু’৷ ‘পান্না’ বলতে বোঝায় ফুটবল ও অন্যান্য বল নিয়ে খেলার একটি সুপরিচিত প্যাঁচ বা কায়দা৷ বিপক্ষের খেলোয়াড়ের পায়ের ফাঁক দিয়ে বলটা কাটিয়ে নিয়ে যাওয়া অথবা পাস করা৷ ‘পান্না’ নামটা এসেছে হল্যান্ড থেকে, তবে ট্রিকটা নানান নামে পরিচিত, যেমন ‘টানেল’ (সুড়ঙ্গ) বা ‘নাটমেগ’ (জায়ফল)৷ এই নাটমেগ কায়দাটি যেসব বড় খেলোয়াড়ের রপ্ত, তাদের মধ্যে  রোনাল্ডো, রোনালদিনিয়ো, লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো, নেইমার এবং লুইস সুয়ারেজ অন্যতম৷ তবে মেসিকেই ‘নাটমেগ’-এর রাজা বলে গণ্য করা হয়ে থাকে৷

সঁ গার্নিয়ে-র কথা বলতে গিয়ে তাবৎ স্বনামধন্য ফুটবল তারকার নাম এসে পড়ল দু'টি কারণে৷ প্রথমত, ২০১২ সালের রেড বুল স্ট্রিট ফ্রিস্টাইল প্রদর্শনীতে খোলা মঞ্চে নেইমারকে পায়ের ভেলকি দেখিয়ে ধাঁধাঁ লাগিয়ে দিয়েছিলেন সঁ গার্নিয়ে৷ আজও ইউটিউবে গেলে সেই দৃশ্য দেখা যায়৷

দ্বিতীয়ত, গার্নিয়ের স্বয়ং এককালে লিগ পর্যায়ের ফুটবল খেলেছেন একাধিক ফরাসি ক্লাবের হয়ে৷ চোট পাবার পর খেলা বন্ধ করতে হয়, তাই ফুটবল প্রশিক্ষকের ট্রেনিং নিয়ে, সেখান থেকে স্ট্রিট ফুটবল, ফ্রিস্টাইল ফুটবল, ফুটসাল, প্রো-ফুটসাল ইত্যাদিতে আসেন৷ অর্থাৎ গার্নিয়ে যে ‘পান্না’ ট্রিকটি দেখাচ্ছেন, তার সঙ্গে বাস্তবিক পেশাদার ফুটবলের অঙ্গাঙ্গী সম্পর্ক৷

গার্নিয়ের মতো ‘ফুটবল শিল্পীরা’ যে পথেঘাটে ফুটবলের ম্যাজিক দেখিয়ে মানুষের মনোরঞ্জন করেন এবং ফুটবলের জনপ্রিয়তা বাড়ান তাতে সন্দেহের অবকাশ নেই৷ কিন্তু ফুটবল হলো একটি দলীয় খেলা, আবার দাবাখেলার মতো একটা ছকে খেলাও বটে৷ ড্রিবলিং ফুটবলের অস্ত্রাগারে মাত্র একটি অস্ত্র৷ আবার ‘পান্না’ নামের প্যাঁচটি ড্রিবলিংয়ের তূণে মাত্র একটি তীর৷ ইংরেজিতে একটা কথা আছে, ‘প্লেয়িং টু দ্য গ্যালারি’ – অর্থাৎ চড়া সুরে অভিনয় করে সস্তার সিটের দর্শকদের মন জয় করার চেষ্টা বা অপচেষ্টা৷

গার্নিয়েকে দেখে প্রশ্ন উঠতে পারে, নেইমার যে নেইমার হলেন, বা মেসি যে মেসি হয়েছেন, সেটা কি শুধু প্রতিপক্ষের পাঁয়ের ফাঁক গলিয়ে বল কাটিয়ে নিয়ে গিয়ে? ফুটবলের টিম স্পিরিট, পিছন থেকে খেলা গড়ে তোলা, বার্সেলোনার কায়দায় পুরো মাঠটাকে ছকে ভাগ করে প্রতিটি ছকে প্লেয়ার রাখার ব্যবস্থা, কোচের প্লেয়ার নামানো বা তুলে নেয়ার স্ট্র্যাটেজি – এ সমস্তই বাদ পড়ে যাচ্ছে রাস্তার মোড়ে ‘পান্না’ দেখিয়ে লোককে চমক লাগানোয়; তফাৎটা সেখানেই৷ আপনাদের কি মত?

সবচেয়ে বেশি আয় করা সাত খেলোয়াড়

ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো – ৮৩ মিলিয়ন ইউরো

চারবার বিশ্বসেরা ফুটবলারের পুরস্কারজয়ী ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো গত বারো মাসে আয় করেছেন ৮৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার৷ সে হিসেবে তাঁর ঘণ্টাপ্রতি আয় ৯৫০০ মার্কিন ডলার৷ তাঁর আয়ের মধ্যে ৫২ মিলিয়ন ইউরো এসেছে শুধু বেতন এবং প্রাইজমানি থেকে৷ আর স্পন্সরদের অবদান ৩১ মিলিয়ন৷

সবচেয়ে বেশি আয় করা সাত খেলোয়াড়

লেব্রন জেমস – ৭৭ মিলিয়ন ইউরো

এনবিএ’র সবচেয়ে দামি খেলোয়াড় ‘কিং জেমস’-এর বার্ষিক আয় ৭৭ মিলিয়ন ইউরো৷ তবে বেতন আর প্রাইজমানির চেয়ে বেশি আয় তিনি করেছেন স্পন্সরশিপ থেকে৷ ৪৯ মিলিয়ন ইউরো তিনি আয় করেছেন স্পন্সর থেকে আর ২৮ মিলিয়ন অন্য খাত থেকে৷

সবচেয়ে বেশি আয় করা সাত খেলোয়াড়

লিওনেল মেস – ৭১ মিলিয়ন

বার্সেলোনা সুপারস্টার লিওনেল মেসি গতবছর আয় করেছেন ৭১ মিলিয়ন ইউরো৷ তবে পাঁচবার বিশ্বসেরা ফুটবলার হওয়া এই তারকা গত বছরের ট্যাক্স রিটার্ন এখনো দেননি৷

সবচেয়ে বেশি আয় করা সাত খেলোয়াড়

রজার ফেদেরার – ৫৭ মিলিয়ন

সুইস এই টেনিস তারকা রেকর্ড ১৮টি গ্র্যান্ড স্লাম টুর্নামেন্ট জয় করেছেন, এবং ২০০৩ সাল থেকে তাঁর ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে দক্ষিণ আফ্রিকায় শিশুদের বিভিন্ন প্রকল্পে সহায়তা করেছেন৷ ২০১৬ সালে ফেদেরার আয় করেছেন ৫৭ মিলিয়ন ইউরো৷ তবে এই ৫ দশমিক ৩৩ মিলিয়ন ইউরো এসেছে বেতন এবং প্রাইজমানি থেকে৷

সবচেয়ে বেশি আয় করা সাত খেলোয়াড়

কেভিন ড্যুরেন্ট – ৫৪ মিলিয়ন

দুই মিটার লম্বা গোল্ডেন স্টেট ওয়ারিয়র্স-এর এই খেলোয়াড় তাঁর নিখুঁত শ্যুটিংয়ের জন্য বিশেষ পরিচিত৷ ক্যারিয়ার শুরুর পর তিনি ৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের চুক্তি করেন নাইকি’র সঙ্গে৷ ফোর্বসে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই এনবিএ তারকা গত বছর ৫৪ মিলিয়ন ইউরো আয় করেছেন৷

সবচেয়ে বেশি আয় করা সাত খেলোয়াড়

অ্যান্ড্রু লাক – ৪৪ মিলিয়ন

ইন্ডিয়ানাপোলিস কোল্টস-এ খেলা এই অ্যামেরিকান ফুটবল কোয়ার্টারব্যাক গত জুনে এনএফএল-এর ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল চুক্তিটি স্বাক্ষর করেছেন৷ আগামী ছয় বছর তিনি চুক্তি অনুযায়ী ১২৪ মিলিয়ন ইউরো আয় করবেন৷ শুধুমাত্র ২০১৬ সালে লাকের আয় ৪৪ মিলিয়ন ইউরো৷

সবচেয়ে বেশি আয় করা সাত খেলোয়াড়

ররি ম্যাক্লরয় – ৪৪ মিলিয়ন

ররি ম্যাকলরয় বিশ্বের সবচেয়ে ভালো আয় করা গল্ফার৷ এই নর্দান আইরিশম্যান গত বছর আয় করেছেন ৪৪ মিলিয়ন ইউরো৷ তবে এই আয়র বেশিরভাগই এসেছে স্পন্সর থেকে৷ নাইকির সঙ্গে করা চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি বছর তিনি পাবেন ৩০ মিলিয়ন ইউরো৷

এসি/এসিবি

আমাদের অনুসরণ করুন