গণতন্ত্র ধরে রাখতে পদত্যাগ, বললেন ম্যার্কেল

জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল বলেছেন, পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র বিকশিত হয়৷ সম্প্রতি তিনি দলীয় প্রধানের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান৷ তাঁর এই সিদ্ধান্তে দলে গণতন্ত্র আরো সুসংহত হবে বলে মনে করেন তিনি৷

নববর্ষ উপলক্ষ্যে জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া এক ভাষণে তিনি এ মন্তব্য করেন৷ ম্যার্কেল বলেন, জার্মানির নিজ স্বার্থেই পরিবেশ, অভিবাসন ও সন্ত্রাসবাদ সমাধানে কাজ করতে হবে৷ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এ বিষয়গুলোর সমাধান করতে হবে বলে মনে করেন তিনি৷

২০১৯ সাল থেকে পরবর্তী দু'বছরের জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য হতে যাচ্ছে জার্মানি৷ এই সময় জার্মানির সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন তিনি৷ ম্যার্কেল বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য হিসেবে জার্মানির ভূমিকা হবে জোড়ালো এবং সুনির্দিষ্ট৷ ‘‘বিশ্বব্যাপী চলমান সমস্যাগুলো সমাধানে আমরা বৈশ্বিক সমাধানে আগ্রহী'' এবং এ লক্ষ্যে জার্মানি কাজ করে যাবে বলে তিনি জানান৷

বিশ্ব রাজনীতিতে জার্মানির অবস্থান উল্লেখ করতে গিয়ে ম্যার্কেল বলেন, বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, উন্নয়নসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে জার্মানি কাজ করে যাচ্ছে৷ ইউরোপীয় ইউনিয়নকে আরো শক্তিশালী ও কার্যকর করতে জার্মানি তার চেষ্টা অব্যাহত রাখবে বলে মন্তব্য করেন তিনি৷ 

যেখানে নারীরা দেশ শাসন করেন

আঙ্গেলা ম্যার্কেল

বর্তমানে ৬২ বছর বয়সি জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল সরকারপ্রধান হিসেবে প্রথম নিয়োগ পান ২০০৫ সালে৷ তিনিই জার্মানির প্রথম নারী সরকার প্রধান৷ চতুর্থবারের মতো এই পদে থেকে যেতে পারেন তিনি৷ সাবেক পূর্ব জার্মানিতে বেড়ে ওঠা এক যাজকের মেয়ে ম্যার্কেল রসায়নে পিএইচডি ডিগ্রি নিয়েছিলেন৷ টাইম ম্যাগাজিন তাঁকে ২০১৫ সালে ‘‘পারসন অফ দ্য ইয়ার’’ ঘোষণা করে৷

যেখানে নারীরা দেশ শাসন করেন

টেরেসা মে

টেরেসা মে হচ্ছেন মার্গারেট থ্যাচারের পর যুক্তরাজ্যের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী৷ ৬০ বছর বয়সি সাবেক এই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গত বছরের জুলাইয়ে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন৷ ঐতিহাসিক ব্রেক্সিট গণভোটের পক্ষে সে দেশের জনগণ রায় দেয়ার পর তিনি ক্ষমতায় আসেন৷ তিনি ঠিক কতদিন ক্ষমতায় থাকতে পারেন তা নিয়ে অবশ্য প্রশ্ন রয়েছে৷ চলতি মাসে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে হারলে তাঁকে বিদায় নিতে হতে পারে৷

যেখানে নারীরা দেশ শাসন করেন

সাই ইং-ভেন

সাই ইং-ভেন হচ্ছেন ‘রিপাবলিক অফ চায়না’ বা তাইওয়ানের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট৷ ২০১৬ সালের মে মাসে তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর দ্বীপটির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে বেইজিং, কেননা চীন মনে করে দ্বীপটি স্বাধীন নয়৷ তবে সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সে দেশের কাছে নতি স্বীকার করবেন না বলে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন সাই৷

যেখানে নারীরা দেশ শাসন করেন

এলেন জনসন সার্লিফ

৭৮ বছর বয়সি এই নারী ২০০৬ সাল থেকে লাইবেরিয়ার রাষ্ট্রপতি৷ তিনি আফ্রিকার প্রথম নারী রাষ্ট্রপ্রধান৷ ২০১১ সালে সার্লিফ এবং লাইবেরিয়া ও ইয়েমেনের আরো দুই নারী শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার জয় করেন৷ অহিংস পথে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সংগ্রাম এবং শান্তিপ্রক্রিয়ায় নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করায় এই সম্মাননা দেয়া হয় তাঁদের৷

যেখানে নারীরা দেশ শাসন করেন

দালিয়া গ্রেবাউসকাইতি

লিথুনিয়ার প্রথম নারী রাষ্ট্রপ্রধান দালিয়া গ্রেবাউসকাইতি৷ কারাতে ব্লাক বেল্ট থাকায় এবং কথাবার্তায় কঠোর মনোভাব প্রকাশ করায় তাঁকে অনেকেই ‘আয়রন লেডি’ বলেন৷ ৬১ বছর বয়সি গ্রেবাউসকাইতি ২০০৯ সালে প্রথমে দায়িত্ব নেন এবং ২০১৪ সালে পুনরায় নির্বাচিত হন৷

যেখানে নারীরা দেশ শাসন করেন

এর্না সোলব্যার্গ

নরওয়ের সরকারপ্রধানও একজন নারী৷ ২০১৩ সালে দ্বায়িত্ব পান তিনি৷ তবে সোলব্যার্গ দেশটির দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী৷ রাজনৈতিক আশ্রয় বিষয়ে কঠোর নীতির কারণে তাঁকে ‘আয়রন এর্না’ বলা হয়ে থাকে৷

যেখানে নারীরা দেশ শাসন করেন

বেয়াটা শিডউয়ো

পোল্যান্ডের তৃতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী বেয়াটা শিডউয়ো৷ ২০১৫ সালের নভেম্বর থেকে দায়িত্বে আছেন তিনি৷ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে তিনি মেয়র এবং সংসদ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন৷

যেখানে নারীরা দেশ শাসন করেন

সারা কুগোনগেলওয়া-আমাথিলা

নামিবিয়ার চতুর্থ প্রধানমন্ত্রী সারা কুগোনগেলওয়া-আমাথিলা ২০১৫ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করছেন৷ তরুণ বয়সে সিয়েরা লিয়নে রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়েছিলেন তিনি৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ শেষে ১৯৯৪ সালে দেশে ফেরেন ৪৯ বছর বয়সি এই নারী৷ তিনি সে দেশের প্রথম নারী সরকারপ্রধান৷

যেখানে নারীরা দেশ শাসন করেন

মিশেল বাচিলেট

২০১৪ সাল থেকে দায়িত্বে রয়েছেন চিলির প্রেসিডেন্ট মিশেল বাচিলেট৷ তবে এটাই তাঁর প্রথমবারের মতো প্রেসিডেন্ট হওয়া নয়৷ সে দেশের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হিসেবে ২০০৬ থেকে ২০১০ অবধিও দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি৷

যেখানে নারীরা দেশ শাসন করেন

শেখ হাসিনা ওয়াজেদ

ফোর্বস ম্যাগাজিনে ২০১৬ সালে প্রকাশিত বিশ্বের ১০০ ক্ষমতাশালী নারীর মধ্যে স্থান পেয়েছিলেন বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা৷ ২০০৯ সাল থেকে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম রাষ্ট্রটি শাসন করছেন তিনি৷ তবে রাজনীতিতে তিনি আছেন কয়েক দশক ধরে৷

যেখানে নারীরা দেশ শাসন করেন

কোলিন্দা গ্রাবার-কিটারোভিচ

৪৯ বছর বয়সি এই নারী ২০১৫ সালে ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগ অবধি সরকারের বিভিন্ন পদে, এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর দেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন৷ তিনি সেদেশের প্রথম নারী রাষ্ট্রপ্রধান৷

যেখানে নারীরা দেশ শাসন করেন

সালম চুবারবিশভিলি

জর্জিয়ার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দেশটির প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন৷ ২০১৮ সালের নভেম্বরে ৬০ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন তিনি৷

 ম্যার্কেল বলেন, সবার জন্য সমান সুবিধা নিশ্চিত করাই তাঁর সরকারের প্রথম লক্ষ্য৷‘‘জার্মান সরকার দেশের প্রত্যেক নাগরিকের জন্য শিক্ষা, বাসস্থান এবং স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে চায়৷ এ সকল সুবিধা সমানভাবে নিশ্চিত করার জন্য একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান বের করতে চায় সরকার,'' বলেন জার্মান চ্যান্সেলর৷

তবে দেশটির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর আশঙ্কার কথা জানিয়ে ম্যার্কেল বলেন, ‘‘আমরা যদি আমাদের মূল্যবোধের চর্চা করি ও আমাদের সামাজিক ও রাজনৈতিক বিশ্বাসকে বাস্তবায়নের চেষ্টা করি তাহলে নিশ্চয় নতুন এবং ভালো কিছুই আমরা করতে পারব৷''

মার্সেল ফুর্সটেনাউ/আরআর

আমাদের অনুসরণ করুন