গর্ভপাত নিষিদ্ধের প্রতিবাদে ‘সেক্স স্ট্রাইক'

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের গর্ভপাত নিষিদ্ধ করা আইন বাতিলের দাবিতে অভিনব এক প্রতিবাদের ডাক দিয়েছেন অভিনেত্রী ও মি টু আন্দোলনের নেত্রী অ্যালিসা মিলানো৷ আন্দোলনের নাম দিয়েছেন ‘সেক্স স্ট্রাইক' বা যৌন ধর্মঘট৷

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে গর্ভপাত নিষিদ্ধ আইন বাতিলের আগ পর্যন্ত পুরুষদের সাথে যৌন সম্পর্ক থেকে বিরত থাকার জন্য নারীদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন অ্যালিসা মিলানো৷ শুক্রবার টুইটারে এই সেক্স স্ট্রাইক বা যৌন ধর্মঘটের ডাক দেন মি টু আন্দোলনের নেত্রী৷

অ্যালিসা টুইটে লিখেছেন, ‘‘আমাদের প্রজনন অধিকার ধ্বংস করে দেয়া হচ্ছে৷ যতক্ষণ নারীরা তাঁদের শরীরের উপর নিয়ন্ত্রণ ফিরে না পায়, ততক্ষণ আমরা গর্ভধারণের ঝুঁকি নিতে পারি না৷ আমার সাথে যোগ দিন, শরীরের উপর নিজেদের স্বাধীনতা ফিরে না পাওয়া পর্যন্ত আমরা যৌন সম্পর্কে জড়াবো না৷ আমি সেক্স স্ট্রাইকের ডাক দিচ্ছি৷ ছড়িয়ে দিন এটি৷''

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর টুইটটিতে প্রায় ৪৫ হাজার লাইক পড়েছে, রিটুইট হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার বার৷     

এদিকে গর্ভপাত নিষিদ্ধের নতুন আইন কার্যকর করা হলে জর্জিয়ায় কোনো ধরনের কাজে অংশ না নেয়ার হুমকি দিয়ে রেখেছেন অরো অনেক চলচ্চিত্র তারকা৷ মিলানোর নেতৃত্বে এই দলে আছেন অ্যালেক বালডউইন, ডন চিয়াডল, বেন স্টিলার, মিয়া ফারো ও অ্যামি শুমার৷

সমাজ-সংস্কৃতি | 13.11.2018

সেখানকার নতুন আইন অনুযায়ী ভ্রুণে হৃদস্পন্দন এলে গর্ভপাত করানো যাবে না৷ হৃদস্পন্দন সাধারণত গর্ভধারণের ছয় সপ্তাহের মধ্যে আসে৷ গত মঙ্গলবার অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর ব্রায়ান ক্যাম্প এই আইনে স্বাক্ষর করেন৷

‘সেক্স স্ট্রাইক' কী

মিলানো তাঁর নতুন কর্মসূচীর বিষয়ে বার্তা সংস্থা এপিকে বলেন, ‘‘আমাদের বুঝতে হবে, পুরো দেশজুড়ে পরিস্থিতি কতটা খারাপ হয়েছে৷ এটি আসলে মানুষকে মনে করিয়ে দেয়ার জন্য যে, আমাদের শরীর এবং সেটি আমরা কীভাবে ব্যবহার করব সে বিষয়ে আমাদের নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আছে৷'' তবে প্রতিবাদ কিংবা রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিতে যৌন সম্পর্ক স্থগিত করার বিষয়টি ইতিহাসে এবারই প্রথম নয় বলেও জানান তিনি৷ ১৬০০ সালে অনিয়ন্ত্রিত যুদ্ধ ঠেকাতে উত্তর অ্যামেরিকার আদিবাসীদের জোট ইরোকুয়োইস-এরনারীরা যৌন সম্পর্ক স্থাপনে অস্বীকৃতি জানান৷ এছাড়া ২০০৩ সালে লাইবেরিয়ার নারীরা দীর্ঘ সময় ধরে চলা গৃহযুদ্ধ বন্ধেও ‘যৌন ধর্মঘট' করেছেন বলে জানিয়েছেন মিলানো৷

চলচ্চিত্র ও টিভি প্রতিষ্ঠানগুলোর জর্জিয়া বর্জন

বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র, টেলিভিশন অনুষ্ঠান নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান এই আইন বাতিলের আগ পর্যন্ত জর্জিয়া অঙ্গরাজ্য বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে৷ তাঁদের মধ্যে রয়েছেন এইচবিও-র দ্য ওয়্যার এর মতো সিরিজের নির্মাতা ডেভিড সিমন, কিলার ফিল্মসের প্রধান নির্বাহী ক্রিস্টিন ভ্যাখোন, অভিনেতা ও নির্মাতা মার্ক ডুপ্ল্যাস৷

দীর্ঘদিন ধরেই জর্জিয়া যুক্তরাষ্ট্রের চলচ্চিত্র ও টিভি সিরিজ নির্মাতাদের কাছে শুটিংয়ের জন্য আকর্ষণীয় জায়গা৷ লস এঞ্জেলেসের তুলনায় সেখানে খরচ কম, আছে দৃশ্য ধারণের জন্য বৈচিত্র্যপূর্ণ প্রকৃতি৷ সেই সঙ্গে ২০০৮ সাল থেকে ৩০ ভাগ পর্যন্ত কর ছাড়ের ব্যবস্থাও চালু হয়েছে৷

মার্ভেলস-এর ব্ল্যাক প্যানথার, অ্যভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার-এর মতো চলচ্চিত্র, সেই সঙ্গে স্ট্রেঞ্জার থিংস, ওজার্ক, দ্য ওয়াকিং ডেড-এর মতো টিভি সিরিজগুলো জর্জিয়াতেই ধারণ করা৷ গত বছর মোট ৪৫০ টি চলচ্চিত্র ও টিভি সিরিজের কাজ হয়েছে সেখানে৷ এর পেছনে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো খরচ করেছে ২৭০ কোটি ডলার৷ দেশটির চিত্রনাট্যকারদের সংগঠন ‘দ্য রাইটার্স গিল্ড অফ অ্যামেরিকা'-র পক্ষ থেকে আইনটির প্রতিবাদ জানিয়ে বলা হয়েছে, এর মাধ্যমে জর্জিয়া চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন শিল্পের সাথে জড়িতদের জন্য একটি অনাকাঙ্খিত জায়গায় পরিণত হয়েছে৷

এফএস/এসিবি (এএফপি, এপি)

‘মি-টু’ ঝড়ে বেকায়দায় যারা

যেখান থেকে শুরু: নানা পাটেকর

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সাবেক মিস ইন্ডিয়া ও অভিনেত্রী তনুশ্রী দত্ত তুলে আনেন ২০০৮ সালের ঘটনা, যার ভিত্তিতে বর্তমানে ভারতব্যাপী ঝড় তুলেছে ‘মি-টু’ আন্দোলন৷ তনুশ্রী জানান, সে বছর ‘হর্ণ ওকে প্লিজ’ ছবির সেটে অভিনেতা নানা পাটেকার তাঁকে যৌনহেনস্থা করেছিলেন৷ তবে সংবাদমাধ্যমের কাছে বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন পাটেকর৷ আপাতত দুজনেই আইনি লড়াইয়ে নেমেছেন৷

‘মি-টু’ ঝড়ে বেকায়দায় যারা

অভিযোগের তির বিকাশের দিকে

প্রযোজনা সংস্থা ফ্যান্টম ফিল্মসের এক প্রাক্তন কর্মচারী গত বছর পরিচালক বিকাশ বেহেলের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ আনেন৷ বেহেলের দুই সহযোগী পরিচালক, অনুরাগ কাশ্যপ ও বিক্রমাদিত্য মোতওয়ানে অভিযোগকারী মহিলাকে সমর্থন করে ফ্যান্টম ফিল্মস ভেঙে দেন৷ পরবর্তীতে অভিনেত্রী কঙ্গনা রনৌতও বেহেলের বিরুদ্ধে হেনস্থার অভিযোগ করেন৷ বিকাশের মতে, পুরো বিষয়টি পেশাগত ঈর্ষার কারনে কাশ্যপ ও মোতওয়ানের সাজানো৷

‘মি-টু’ ঝড়ে বেকায়দায় যারা

বলিউডের ‘বাবুজী’ আলোক নাথ

লেখক-প্রযোজক বিনতা নন্দ’র দাবি, ১৯ বছর আগে অভিনেতা আলোক নাথ তাঁর সম্ভ্রমহানির চেষ্টা করেন৷ বিনতা ছাড়াও অভিনেত্রী সন্ধ্যা মৃদুল, আমাইরা দস্তুর, নবনীত নিশান ও কন্ঠশিল্পী সোনা মহাপাত্র’র মতো সুপরিচিত ব্যক্তিত্বরাও তাঁদের হয়রানির অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেন৷ ‘আদর্শ’ পিতার চরিত্রে খ্যাত আলোক তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ‘‘আজকের জগতে, যা-ই হোক না কেন, একজন মহিলার কথাতেই সবাই কান দেয়৷’’

‘মি-টু’ ঝড়ে বেকায়দায় যারা

সুভাষ ঘাইয়ের কীর্তি

সম্প্রতি, টিভি অভিনেত্রী ও ভারতীয় মডেল কেট শর্মা বিশিষ্ট পরিচালক সুভাষ ঘাইয়ের বিরুদ্ধে জোর করে চুম্বন করার অভিযোগ তুলেছেন৷ যদিও সুভাষ ঘাই তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন৷কেট শর্মা পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন৷

‘মি-টু’ ঝড়ে বেকায়দায় যারা

কেচ্ছায় জর্জরিত সাজিদ খান

বলিউডের আরেক পরিচালক, সাজিদ খানের বিরুদ্ধে অভিনেত্রী সালোনি চোপড়া, সিমরান সুরি ও সাংবাদিক করিশমা উপাধ্যায়সহ একাধিক নারীর যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে৷ সামনে এসেছে ‘কাস্টিং কাউচ’-এর নোংরা চিত্র৷ সাজিদের বোন চিত্র পরিচালক ফারাহ খান মনে করেন, তাঁর ভাইয়ের বিরুদ্ধে আনা যৌন হয়রানির অভিযোগের খবরে তিনি দুঃখিত এবং অভিযোগগুলি সত্য প্রমাণিত হলে সাজিদের উচিত আত্মসমর্পণ করা৷

‘মি-টু’ ঝড়ে বেকায়দায় যারা

‘অ-শালীন’ রজত কাপূর

দু’জন নারী যৌন হয়রানি ও বেসামাল আচরণের অভিযোগ তুলেছেন এই বিখ্যাত মঞ্চ ও চলচ্চিত্র অভিনেতার বিরুদ্ধে৷ এর পরিপ্রেক্ষিতে টুইটারে পোস্ট করে ক্ষমা চেয়ে কাপূর দাবি করেন, তিনি সারা জীবন একজন ভদ্র ও শালীন মানুষ হওয়ার চেষ্টা করে এসেছেন৷

‘মি-টু’ ঝড়ে বেকায়দায় যারা

গানের জগতে ‘মি-টু’, অভিযুক্ত কৈলাশ খের

একটি সাক্ষাৎকার চলাকালীন এক নারী সাংবাদিকের সাথে আপত্তিকর আচরণ করার অভিযোগ ওঠে এই খ্যাতনামা কন্ঠশিল্পীর বিরুদ্ধে৷ এই অভিযোগ জানাজানি হবার পর আরেক গায়িকা সোনা মহাপাত্রও দাবি করেন, কৈলাশ তাঁর সাথেও আপত্তিকর আচরণ করেছেন৷ কৈলাশের অবশ্য দাবি, এমন কোনো ঘটনা তাঁর স্মরণে নেই৷ তবে তিনি এ-ও বলেন, অনিচ্ছাকৃতভাবে কিছু ভুল হয়ে থাকলে তিনি ক্ষমাপ্রার্থী৷

‘মি-টু’ ঝড়ে বেকায়দায় যারা

আবার বিতর্কে অভিজিৎ ভট্টাচার্য

‘মি-টু’র দাপটে উঠে এলো আরেক গায়ক অভিজিতের নাম৷ বলিউডের এই গায়কের বিরুদ্ধে রয়েছে একটি পাবে একজন বিমানবালাকে হয়রানির অভিযোগ৷ অভিজিৎ ভট্টাচার্য তাঁর বিরুদ্ধে সব অভিযোগ অস্বীকার করে মন্তব্য করেছেন, ‘‘শুধুমাত্র ‘মোটা ও কুশ্রী’ মেয়েরাই পুরুষদের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ করছে৷’’ তাঁর এই মন্তব্য নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে৷ বিতর্কে জড়ানো অবশ্য অভিজিতের জন্য নতুন কোনো ঘটনা নয়৷

‘মি-টু’ ঝড়ে বেকায়দায় যারা

নগ্ন ছবি পাঠানোর অভিযোগ

নতুন প্রজন্মের আলোচিত অভিনেতা ও কমেডিয়ান উৎসব চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে উঠেছে মহিলাদের কাছে নিজের নগ্ন ছবি পাঠানো ও বিনিময়ে নগ্ন ছবি চাওয়ার অভিযোগ৷ জনপ্রিয় কমেডি দল এআইবি’র নিয়মিত অভিনেতা উৎসব তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রেক্ষিতে টুইটারে ক্ষমা চেয়েছেন৷ ইতিমধ্যে উত্সবের সব ভিডিও এআইবি তাদের চ্যানেল থেকে মুছে দিয়েছে৷

‘মি-টু’ ঝড়ে বেকায়দায় যারা

এবার ফাঁসলেন বিনোদ দুয়া

চিত্রনির্মাতা নিষ্ঠা জৈন পদ্মশ্রী পুরস্কারপ্রাপ্ত সাংবাদিক, বিনোদ দুয়াকে অভব্য ব্যবহার ও কর্মক্ষেত্রে হয়রানির দায়ে অভিযুক্ত করেছেন৷ এ বিষয়ে দুয়া কোনো মন্তব্য না করলেও তাঁর কন্যা কমেডিয়ান মল্লিকা দুয়া বাবার পাশে দাঁড়ান৷ বিনোদ দুয়া অনলাইন পোর্টাল ওয়্যার-এর সাংবাদিক৷ওয়্যার এক বিবৃতিতে জানায়, ‘‘আমাদের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটি (আইসিসি) অভিযোগগুলি সম্পর্কে সচেতন৷’’

‘মি-টু’ ঝড়ে বেকায়দায় যারা

অভিযুক্ত সাবেক মন্ত্রী এম জে আকবর

সাংবাদিক প্রিয়া রামানি, গজলা ওয়াহাব, সুতপা পল ও তুষিতা প্যাটেলসহ বেশ কয়েকজন যৌনহেনস্থার অভিযোগ করেন সাংবাদিক ও সম্প্রতি পদত্যাগ করা মন্ত্রী এম জে আকবরের বিরুদ্ধে৷ ইতিমধ্যে তিনি প্রিয়া রামানির বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছেন৷ আকবরের হয়ে ভারতের ৯৭জন আইনজীবী লড়ছেন বলে জানা গেছে৷ তবে ২০ জন নারী সাংবাদিক জানিয়েছেন, তাঁরা তাঁদের সহকর্মীদের হয়ে আদালতে সাক্ষ্য দেবেন৷

‘মি-টু’ ঝড়ে বেকায়দায় যারা

নারীও অভিযুক্ত

সম্মতি ছাড়াই কমেডিয়ান কানিজ সুরকা-কে মঞ্চে চুম্বনের চেষ্টা করেছিলেন আরেক কমেডিয়ান অদিতি মিত্তল৷ এমনই অভিযোগ কানিজের৷ যদিও অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর অদিতি কানিজের কাছে ক্ষমা চেয়ে বলেন, আসলে তিনি আঘাত দিতে চাননি৷

‘মি-টু’ ঝড়ে বেকায়দায় যারা

বলিউডের পর টলিউডেও ‘মি-টু’: সৃজিত মুখার্জী

অভিযোগ উঠেছে জনপ্রিয় পরিচালক সৃজিত মুখার্জির বিরুদ্ধে৷ সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক নারী লিখেছেন সৃজিতের বিরুদ্ধে৷ সোশ্যাল মিডিয়াতেই এসবের জবাব দিয়েছেন সৃজিত৷

আরো প্রতিবেদন...

আমাদের অনুসরণ করুন