গুয়াম দ্বীপ সম্পর্কে অজানা কিছু তথ্য

সংস্কৃতি

খাঁটি সুখের জীবন

এখানে সামরিক ঘাঁটির কোনো চিহ্ন নেই৷ যদিও গুয়ামের এক তৃতীয়াংশ এলাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কাজে ব্যবহার হয়, বাকিটার সৌন্দর্য অপার: নীল পানি, প্রবাল প্রাচীর, প্রকৃতি প্রেমীদের জন্য হাঁটার সুন্দর পথ৷ তাই সেনাঘাঁটি বাদে এই দ্বীপের আয়ের অন্যতম বড় মাধ্যম যে পর্যটন তা আর বলে দিতে হয় না৷

সংস্কৃতি

বছরের প্রতিটি দিনেই সাঁতার কাটা

অনলাইনে নিজেদের এলাকার বিজ্ঞাপন হিসেবে তারা এটা প্রচার করে যে গুয়ামে সারা বছরই সাঁতার কাটা যায়৷ বছরজুড়ে তাপমাত্রা ২৬ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠা-নামা করে৷ দ্বীপটিতে মাত্র দু’টি ঋতু৷ গ্রীষ্ম এবং বর্ষা৷ জুন থেকে নভেম্বর বর্ষাকাল এবং বাকি সময়টা গ্রীষ্ম৷

সংস্কৃতি

বাড়ছে পর্যটন ব্যবসা

দ্বীপটির সৈকতগুলো সব সময় লোকে লোকারণ্য৷ প্রতি বছর গুয়ামে অবসর কাটাতে আসেন ১০ লাখেরও বেশি পর্যটক৷ প্রবাল প্রাচীরের কারণে ডুবুরিদের কাছে এখানকার সমুদ্র অত্যন্ত জনপ্রিয়৷ আশির দশক থেকে এখানকার পর্যটন ব্যবসা ফুলে ফেঁপে উঠেছে৷ মূলত দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপান এখানে বিনিয়োগ করে থাকে৷ এই দু’টি দেশ থেকে গুয়ামে আসতে বিমানে মাত্র কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে৷

সংস্কৃতি

স্থানীয় বিনোদন ব্যবস্থা

বিমানবন্দর থাকায় পূর্ব এশিয়ার মানুষের কাছে ছুটি কাটানোর অন্যতম স্থান হয়ে উঠেছে গুয়াম৷ গুয়ামে পৌঁছাতে লাগে মাত্র কয়েক ঘণ্টা৷ হাওয়াই যাওয়ার চেয়ে যা অনেক কম সময়৷ গুয়ামে জাপান থেকে সবচেয়ে বেশি পর্যটক যায়, মোট পর্যটকের তিন চতুর্থাংশ৷ বাকিদের বেশিরভাগ দক্ষিণ কোরিয়া, চীন অথবা তাইওয়ান থেকে যায়৷

সংস্কৃতি

ট্যাক্স ছাড়া কেনাকাটা

যারা কেনাকাটা করতে ভালোবাসেন তাদের জন্য গুয়াম হলো স্বর্গ: এখানে কোনো ট্যাক্স লাগে না৷ এছাড়া গুয়াম জাদুঘরে গিয়ে জানতে পারবেন এই দ্বীপের ইতিহাস (ছবিতে দেখা যাচ্ছে)৷ গুয়ামের ১৩০টি স্থান যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাশনাল রেজিস্টার অফ হিস্টোরিক প্লেসেস’-এর অন্তর্গত৷

সংস্কৃতি

দীর্ঘ ইতিহাস

গুয়াম দ্বীপটি ৪ হাজার বছরের পুরোনো৷ অর্থাৎ ৪ হাজার বছর আগে এখানে প্রথম বসতি স্থাপিত হয়েছিল৷ এর ইতিহাসের অন্যতম কালো অধ্যায় হলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ৷ ১৯৪১ সালে পার্ল হারবারে হামলার পর জাপানি সেনারা গুয়াম দখল করেছিল৷ সেই সময়কার অনেক স্মৃতিস্তম্ভ এখনও সেখানে রয়েছে৷ ছবিতে আসান মেমোরিয়াল পার্কে টর্পেডো দেখা যাচ্ছে৷

সংস্কৃতি

আদিবাসীদের সংস্কৃতি

গুয়ামের অধিবাসীদের মধ্যে বেশিরভাগই চামোরো জাতিগোষ্ঠীর৷ ৪,০০০ বছর আগে এই জাতিগোষ্ঠী সেখানে বসতি স্থাপন করেছিল৷ বর্তমান অধিবাসীরা তাদের উত্তরসূরি৷ এই মূর্তিটি একজন চামোরো দল নেতার, যা গুয়ামবাসীদের পূর্বপুরুষের স্মৃতিচিহ্ন বহন করছে৷ দ্বীপটিতে ঐতিহ্যবাহী চামোরো সংস্কৃতিকে বিজ্ঞাপন হিসেবে ব্যবহার করা হয়৷ তবে বর্তমান গুয়ামের অধিবাসীরা জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক৷

উত্তর কোরিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণে একটি জায়গা বেশ পরিচিতি পেয়েছে৷ সেটি হলো প্রশান্ত মহাসাগরীয় ছোট্ট দ্বীপ গুয়াম৷ এটি কিন্তু কেবল মার্কিন সেনা ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত নয়, জায়গাটিতে দেখার মতো আছে অনেক কিছু৷

ইয়ানিনা জেমেনোভা/এপিবি