চতুর্থবারের মতো চ্যান্সেলর হলেন ম্যার্কেল

জার্মানির বর্তমান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল বুধবার চতুর্থবারের মতো চ্যান্সেলর হিসেবে শপথ নিয়েছেন৷ এর আগে তাঁকে চ্যান্সেলর নির্বাচিত করেন সাংসদরা৷

নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রায় ছয় মাস পর চ্যান্সেলর হিসেবে শপথ নিলেন ম্যার্কেল৷ গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল৷

বুধবার সকালে জার্মান সংসদের নিম্নকক্ষ বুন্ডেসটাগে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ৩৬৪-৩১৫ ভোটে চ্যান্সেলর নির্বাচিত হন ম্যার্কেল৷ নয়জন সাংসদ ভোটদানে বিরত ছিলেন৷ নির্বাচনে ম্যার্কেলের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল না৷ ভোটাভুটির সময় প্রথমবারের মতো ম্যার্কেলের স্বামী ইওয়াখিম সাওয়ার উপস্থিত ছিলেন৷ ছিলেন ম্যার্কেলের মা হেরলিন্ড কাজনারও৷

সংসদে ম্যার্কেলের খ্রিষ্টীয় গণতন্ত্রী দল, সিডিইউ, বাভারিয়া রাজ্যে তাদের অংশীদার দল সিএসইউ এবং সরকার গঠনে জোটসঙ্গী দল সামাজিক গণতন্ত্রী, এসপিডি দলের মোট আসন সংখ্যা ৩৯৯৷

স্থানীয় সময় দুপুর বারোটায় প্রেসিডেন্ট ফ্রাংক ভাল্টার স্টাইনমায়ারের কার্যালয়ে চ্যান্সেলর হিসেবে শপথ নেন ম্যার্কেল৷ আজই দিনের শেষে মন্ত্রীদের শপথ নেয়ার কথা রয়েছে৷ সরকার গঠন শেষে শুক্রবার প্যারিস সফরে যাবেন ম্যার্কেল৷ সেখানে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁর সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সংস্কার নিয়ে কথা বলবেন তিনি৷

নির্বাচনের পর ম্যার্কেল নতুন সরকার গঠনে সমস্যায় পড়েছিলেন৷ কারণ, শুরুতে এসপিডি ম্যার্কেলের দলের সঙ্গে সরকার গঠন করতে চায়নি৷ তাই সবুজ দল ও মুক্ত গণতন্ত্রী দল, এফডিপির শরণাপন্ন হয়েছিলেন তিনি৷ কিন্তু তাতে সফল হননি৷ পরে জার্মান প্রেসিডেন্টের উদ্যোগে এসপিডি ও ম্যার্কেলের সিডিইউ দল জোট গঠনে আলোচনা শুরু করে এবং সফল হয়৷ ফলে এখন সরকার গঠন সম্ভব হচ্ছে৷

নানা মুডে আঙ্গেলা ম্যার্কেল

সুবিখ্যাত ম্যার্কেল মুদ্রা

ব্রীড়া থেকেই হোক, বা ঝানু রাজনীতিকের পরিশীলিত ভঙ্গিই হোক, ম্যার্কেল যে হাতের আঙুলগুলো জোড়া দিয়ে কী বলতে চাইছেন, তা তিনি নিজেই জানেন...

নানা মুডে আঙ্গেলা ম্যার্কেল

ইউরোপীয় রাজনীতিক

সার্বভৌম, উৎসাহী অথচ নিরুদ্বেগ অভিব্যক্তি নিয়ে ইউরোপীয় রাজনীতির মঞ্চে চলাফেরা করেন জার্মান চ্যান্সেলর৷ ছবিতে তিনি ব্রাতিস্লাভায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাম্প্রতিক শীর্ষবৈঠকে৷

নানা মুডে আঙ্গেলা ম্যার্কেল

চ্যান্সেলরের সঙ্গে সেলফি

উদ্বাস্তু সংকট ম্যার্কেলের রাজনৈতিক জীবনে একটা বড় প্রসঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ তবুও গতবছর বার্লিনের মারৎসান এলাকার একটি উদ্বাস্তু শিবিরে সিরিয়া থেকে আগত এক রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীকে তাঁর সঙ্গে সেলফি তোলার সুযোগ দেন ম্যার্কেল৷

নানা মুডে আঙ্গেলা ম্যার্কেল

সরকারপ্রধান

চ্যান্সেলর হিসেবে ম্যার্কেলকে দেখা যায় তাঁর স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিমা ও ভূমিকায়৷ সঙ্গে ভাইস চ্যান্সেলর সিগমার গাব্রিয়েল৷

নানা মুডে আঙ্গেলা ম্যার্কেল

নারীসুলভ

হঠাৎ কিছুটা অন্তরঙ্গতা ও একটি হাসি৷ ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রঁসোয়া ওলঁদকেও পার্ফেক্ট জেন্টলম্যান বলা চলে৷

নানা মুডে আঙ্গেলা ম্যার্কেল

জোট সরকার

ম্যার্কেলের দুই জোট সহযোগী, এসপিডি প্রধান সিগমার গাব্রিয়েল ও সিএসইউ প্রধান হর্স্ট জেহোফারকে দেখলে বোঝা যায়, ‘অ্যাঞ্জি’ মাথা ঠান্ডা না রাখলে বিপদ ঘটতে কতক্ষণ?

নানা মুডে আঙ্গেলা ম্যার্কেল

বৈজ্ঞানিক মনোবৃত্তি

পদার্থবিদ্যায় ডক্টরেট ডিগ্রির অধিকারিনী ম্যার্কেলের ইন্টারনেট বা ডিজিটাল মিডিয়াগুলোর জন্যে খুব একটা সময় থাকে না৷ তবে টুইট করতে ভালোবাসেন৷ ২০১৫ সালে জাতিসংঘের একটি ফোরামে ফেসবুক প্রতিষ্ঠাতা মার্ক সাকারবার্গের সঙ্গে আগ্রহ নিয়েই আলোচনা করছেন!

নানা মুডে আঙ্গেলা ম্যার্কেল

যাজক তনয়া

২০১৬ সালে পোপ ফ্রান্সিসের সঙ্গে ব্যক্তিগত সাক্ষাৎ প্রটেস্টান্ট যাজকের কন্যা ম্যার্কেলের পক্ষে একটি বিশেষ মুহূর্ত৷

নানা মুডে আঙ্গেলা ম্যার্কেল

শ্যাম্পেন পান করার মতো উপলক্ষ্য চাই

যেমন জার্মানি ও ফ্রান্সের মধ্যে এলিসি চুক্তির ৫০ বছর পূর্তি৷

নানা মুডে আঙ্গেলা ম্যার্কেল

ক্ষমতার নেশা চেনেন ম্যার্কেল

২০১১ সালে ডয়চে ব্যাংকের প্রধান ইয়োসেফ আকারমান-এর সঙ্গে বৈঠকে সম্ভবত চলতি আর্থিক সংকট নিয়েই কথা হয়েছিল৷

Flash-Galerie Merkel in Polen

নানা মুডে আঙ্গেলা ম্যার্কেল

ছুটিছাটায়

চ্যান্সেলরও মানুষ, তাঁরও ছুটি লাগে৷ তবে ছুটিতেও পাপারাৎসিদের হাত থেকে মুক্তি নেই আঙ্গেলা ম্যার্কেলের৷ ছবিতে তাঁর স্বামী ইওয়াখিম সাওয়ারকে দেখা যাচ্ছে (বাঁয়ে)৷

নানা মুডে আঙ্গেলা ম্যার্কেল

সে অনেকদিন আগের কথা

তরুণ সিডিইউ রাজনীতিক আঙ্গেলা ম্যার্কেল দলীয় সতীর্থ আনেট শাভান ও প্রবীণ সিডিইউ রাজনীতিক এর্ভিন টয়ফেল-এর সঙ্গে দক্ষিণ জার্মানিতে সাইকেল টুরে৷ তখনও তাঁর মুখে অভিজ্ঞতা ও ক্ষমতার ছাপ পড়েনি৷

২০০৫ সালে প্রথমবারের মতো চ্যান্সেলর নির্বাচিত হয়েছিলেন ম্যার্কেল৷ ২০১৫ সালে নেয়া উদার শরণার্থী নীতির কারণে দেশের ভেতরে সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি৷ সবশেষ নির্বাচনেও তার প্রভাব দেখা গেছে৷ শরণার্থী ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে জার্মানির জন্য বিকল্প দল, এএফডি নির্বাচনে ভালো ফল করেছে৷ ফলে সিডিইউ ও এসপিডি উভয় দলেরই রেকর্ড পরিমাণ ভোট কমেছে৷

হারিয়ে যাওয়া ভোটারদের ফিরে পেতে সচেষ্ট দুই দল৷ জোট আলোচনাতে সেই বিষয়গুলোতে জোর দেয়া হয়েছে৷ দুই বছর পর জোট সরকারের কার্যকারিতা যাচাই করা হবে৷ কোনো পক্ষ সন্তুষ্ট না হলে জোট থেকে বেরিয়ে যেতে পারবে৷

ফলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চ্যান্সেলর হিসেবে ম্যার্কেল এবার আগের মেয়াদের তুলনায় হয়ত কিছুটা দূর্বল অবস্থায় থাকবেন৷ ইউরোপিয়ান কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন্সের জার্মান রাজনীতির বিশ্লেষক ইয়োসেফ ইয়ানিং মনে করছেন, ম্যার্কেল যদি এবার তাঁর পুরো মেয়াদ জোট ধরে রাখতে পারেন এবং পরবর্তী নির্বাচনে সিডিইউকে ভালো অবস্থানে নিয়ে যেতে পারবেন, এমন কাউকে গড়ে তুলতে পারেন, তাহলে মেয়াদ শেষে ম্যার্কেলকে সফল বলে রায় দেয়া যেতে পারে৷

এদিকে, নতুন সরকারের জন্য বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করে রয়েছে, যার মধ্যে অনেকগুলি গত মহাজোট সরকারের আমলেই দানা বাঁধছিল৷ জার্মানির একাধিক শহরে মাত্রাতিরিক্ত বায়ুদূষণের কারণে ডিজেল গাড়ির উপর নিষেধাজ্ঞা চাপানো হতে পারে৷ গাড়ি শিল্পের ক্ষতি না করে কোম্পানিগুলির অসৎ আচরণের জন্য শাস্তির দাবি বাড়ছে৷

জার্মানির বর্তমান মন্ত্রিসভা

আঙ্গেলা ম্যার্কেল

চতুর্থ বারের মতো জার্মানির চ্যান্সেলর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন আঙ্গেলা ম্যার্কেল (৬৩)৷ একাধিক সংকট কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত নিজের কর্তৃত্ব বজায় রাখতে পেরেছেন তিনি৷ তবে তাঁর অবস্থান আগের তুলনায় কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে৷ কোয়ালিশন চুক্তি অনুযায়ী কার্যকালের মাঝামাঝি সময়ে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে৷ সম্ভবত তখনই ম্যার্কেল-এর ভবিষ্যৎ স্পষ্ট হয়ে যাবে৷

জার্মানির বর্তমান মন্ত্রিসভা

হর্স্ট সেহোফার

বাভেরিয়ার সিএসইউ দলের শীর্ষ নেতা হর্স্ট সেহোফার-ও (৬৩) নিজের দলে বেশ কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন৷ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা আগেই হয়েছিল৷ নতুন সরকারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি৷ অভিবাসনের প্রশ্নে দলের কড়া অবস্থানের প্রতিফলন বজায় রেখেছেন সেহোফার৷

জার্মানির বর্তমান মন্ত্রিসভা

ওলাফ শলৎস

শহর-রাজ্য হামবুর্গের মুখ্যমন্ত্রী ও এসপিডি দলের নেতা ওলাফ শলৎস (৫৯) নতুন সরকারে অর্থমন্ত্রী এবং ভাইস-চ্যান্সেলরের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি৷ শান্ত স্বভাবের ধীর-স্থির এই মানুষটিকে ঘিরে দেশে-বিদেশে সবচেয়ে বেশি কৌতূহল দেখা যাচ্ছে৷ বিগত সরকারের বাজেট-ঘাটতি দূর করার সাফল্য ধরে রেখে তাঁকে বেশ কিছু কঠিন দায়িত্ব পালন করতে হবে৷

জার্মানির বর্তমান মন্ত্রিসভা

হাইকো মাস

এসপিডি দলের নেতা হাইকো মাস (৫১) বিগত সরকারে আইন ও বিচারমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন৷ নতুন সরকারে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন৷ এসপিডি দলের মধ্যে অপেক্ষাকৃত তরুণ এই নেতার প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার কদর রয়েছে৷ পূর্বসূরি সিগমার গাব্রিয়েল জনপ্রিয়তার যে মাত্রা ছুঁয়েছিলেন, হাইকো মাস সেই অসাধ্য সাধন করতে পারবেন কিনা, সে দিকে সবার নজর থাকবে৷

জার্মানির বর্তমান মন্ত্রিসভা

পেটার আল্টমায়ার

সিডিইউ দলের মধ্যে চ্যান্সেলর ম্যার্কেলের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন নেতা পেটার আল্টমায়ার (৫৯) অর্থনীতি ও জ্বালানি বিষয়ক মন্ত্রী হয়েছেন৷ বিগত সরকারে তিনি চ্যান্সেলরের দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী ছিলেন৷ সিডিইউ দলের মন্ত্রীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় তাঁর গুরুত্ব আরও বাড়বে বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে৷

জার্মানির বর্তমান মন্ত্রিসভা

উরসুলা ফন ডেয়ার লাইয়েন

মহাজোট সরকারে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবেই থেকে গেছেন সিডিইউ দলের নেত্রী উরসুলা ফন ডেয়ার লাইয়েন (৫৯)৷ ম্যার্কেলের উত্তরসূরি হিসেবে তাঁর নাম বারবার উঠে এলেও এখনো সেই ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে না৷ ইংরাজি ও ফরাসি ভাষায় পারদর্শী এই নেত্রী আন্তর্জাতিক মঞ্চে যথেষ্ট পরিচিত৷

জার্মানির বর্তমান মন্ত্রিসভা

ইয়েন্স স্পান

তরুণ নেতা ও ম্যার্কেল-এর সমালোচক হিসেবে পরিচিত ইয়েন্স স্পান (৩৭) নতুন সরকারে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদ পেয়েছেন৷ মন্ত্রিসভায় তাঁকে অন্তর্গত করার জন্য প্রবল চাপ ছিল৷ মাত্র ২২ বছর বয়সে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন তিনি৷ ২০১৫ সালে অর্থ মন্ত্রণালয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছিলেন তিনি৷

জার্মানির বর্তমান মন্ত্রিসভা

গ্যার্ড ম্যুলার

নতুন সরকারেও উন্নয়ন সাহায্য মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সিএসইউ দলের গ্যার্ড ম্যুলার (৬৩)৷ নিজের বিষয়ে অত্যন্ত পারদর্শী এই মন্ত্রী উন্নয়ন সাহায্যের ক্ষেত্রে বিশ্বমঞ্চেও যথেষ্ট স্বীকৃতি পেয়েছেন৷ বিশেষ করে আফ্রিকার উন্নয়নের ক্ষেত্রে তাঁর পরিকল্পনা প্রশংসা কুড়িয়েছে৷ বাংলাদেশে পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের উন্নয়নের লক্ষ্যে তিনি অনেক উদ্যোগ নিয়েছেন৷

জার্মানির বর্তমান মন্ত্রিসভা

কাটারিনা বার্লে

এসপিডি নেত্রী কাটারিনা বার্লে (৪৯) বিগত সরকারে পরিবার, বয়স্ক, নারী ও তরুণ প্রজন্মের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবে সক্রিয় ছিলেন৷ নতুন সরকারে তিনি আইনমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন৷ ব্রিটিশ বাবার সুবাদে তাঁর সে দেশের নাগরিকত্বও রয়েছে৷ ফলে প্রস্তাবিত সরকার তিনিই একমাত্র বিদেশি বংশোদ্ভূত প্রতিনিধি৷

জার্মানির বর্তমান মন্ত্রিসভা

ফ্রানৎসিস্কা গিফাই

জার্মানির পূর্বাঞ্চলে এসপিডি দলের জনপ্রিয় নেত্রী ফ্রানৎসিস্কা গিফাই (৩৯) এক ধাক্কায় বার্লিনের সমস্যায় জর্জরিত নয়ক্যোলন এলাকার মেয়র থেকে পরিবার কল্যাণমন্ত্রী হয়েছেন৷ কড়া হাতে তিনি অরাজকতা দূর করে এলাকার উন্নয়নের জন্য অনেক উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন৷

জার্মানির বর্তমান মন্ত্রিসভা

আন্দ্রেয়াস শয়ার

সিএসইউ দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পর এবার নতুন মন্ত্রিসভায় পরিবহণমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন আন্দ্রেয়াস শয়ার (৪৪)৷ ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত তিনি পরিবহণ মন্ত্রণালয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন৷

জার্মানির বর্তমান মন্ত্রিসভা

হুব্যার্টুস হাইল

দু-দুবার এসপিডি দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পর এবার নতুন সরকারে শ্রমমন্ত্রী হয়েছেন হুব্যার্টুস হাইল (৪৬)৷ সামাজিক সুরক্ষাসহ এসপিডি দলের মূল অঙ্গীকারগুলি রূপায়নের ক্ষেত্রে এই পদের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে৷ এই মন্ত্রণালয়ের বাজেটের অঙ্ক সবচেয়ে বড়৷

জার্মানির বর্তমান মন্ত্রিসভা

আনিয়া কারলিচেক

নতুন সরকারে শিক্ষামন্ত্রী হয়েছেন সিডিইউ দলের নেত্রী আনিয়া কারলিচেক (৪৬)৷ ২০১৩ সাল থেকে তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন৷ সংসদে দলের চিফ হুইপ হিসেবে সক্রিয় থাকলেও তিনি জনমানসে তেমন পরিচিত নন৷

জার্মানির বর্তমান মন্ত্রিসভা

ইয়ুলিয়া ক্ল্যোকনার

সিডিইউ দলের অপেক্ষাকৃত তরুণ নেত্রী ইয়ুলিয়া ক্ল্যোকনার (৪৫) অনেককাল ধরে রাইনল্যান্ড প্যালেটিনেট রাজ্য শাখার সভাপতি ছিলেন৷ নতুন সরকারে তিনি খাদ্য ও কৃষিমন্ত্রী হয়েছেন৷ রক্ষণশীল ও মুক্ত বাণিজ্যের প্রবক্তা হিসেবে তিনি পরোক্ষভাবে ম্যার্কেলের উদার শরণার্থী নীতির সমালোচনা করেছেন৷

জার্মানির বর্তমান মন্ত্রিসভা

স্ভেনিয়া শুলৎসে

নতুন পরিবেশমন্ত্রী হিসেবে শেষ মুহূর্তে এসপিডি দলের তালিকায় স্থান পেয়েছেন স্ভেনিয়া শুলৎসে (৪৯)৷ ফেডারেল সরকারে কাজের অভিজ্ঞতা না থাকলেও তিনি জার্মানির সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য নর্থরাইন ওয়েস্টফেলিয়ায় বিজ্ঞান, গবেষণা ও উদ্ভাবন মন্ত্রী হিসেবে কাজ করেছেন৷

জার্মানির বর্তমান মন্ত্রিসভা

ডোরোটে বেয়ার

বাভেরিয়ার সিএসইউ দলের তরুণ নেত্রী ডোরোটে বেয়ার (৩৯) চ্যান্সেলর দফতরের অধীনে ডিজিটাল প্রযুক্তির দায়িত্ব পেয়েছেন৷ রাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তিনি জার্মানিতে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সংযোগকে মৌলিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চান৷ সিএসইউ দলের একমাত্র নারী মন্ত্রী হিসেবে তিনি বাড়তি গুরুত্ব পাবেন বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে৷

জার্মানির বর্তমান মন্ত্রিসভা

হেলগে ব্রাউন

সিডিইউ দলে পরবর্তী প্রজন্মের নেতৃ্ত্বে হেলগে ব্রাউন (৪৫) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে চলেছেন৷ নতুন সরকারে চ্যান্সেলর দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবে তাঁকে বেছে নিয়েছেন চ্যান্সেলর ম্যার্কেল৷

আমাদের অনুসরণ করুন