চার দশকে সামুদ্রিক প্রাণীদের সংখ্যা অর্ধেক হয়েছে

প্রাণী বলতে স্তন্যপায়ী জীব, পাখি, সরীসৃপ, মাছ – এক কথায় সব কিছু কমে গেছে৷ হ্রাসের পরিমাণ ১৯৭০ সাল যাবৎ প্রায় ৫০ শতাংশ৷ ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ড বুধবার জানিয়েছে এই ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা৷
অন্বেষণ | 26.05.2015

ডাব্লিউডাব্লিউএফ-এর নতুন রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, মাত্রাধিক মাছ ধরা, সেই সঙ্গে দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ১৯৭০ থেকে ২০১০, এই চল্লিশ বছরে সাগরে তথাকথিত কমার্সিয়াল ফিশ স্টক বা বাণিজ্যিক মাছের পরিমাণ বিপুলভাবে কমে গেছে৷ লিভিং ব্লু প্ল্যানেট রিপোর্টের বক্তব্য হলো, যে সব মাছ বিশ্বের খাদ্য সরবরাহের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, সেগুলিই সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়েছে৷

যেমন টুনা আর ম্যাকারেল মাছ কমেছে ৭৪ শতাংশ৷ একদিকে মাছেদের প্রজনন প্রক্রিয়ার চেয়ে দ্রুততর হারে মাছ ধরা হচ্ছে; অন্যদিকে তাদের ডিম পাড়ার জায়গাগুলো ধ্বংস করা হচ্ছে – বলেছেন ডাব্লিউডাব্লিউএফ ইন্টারন্যাশনাল-এর প্রধান মার্কো লাম্বেরতিনি৷ এছাড়া বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র মানবগোষ্ঠীদেরই এর মূল্য চোকাতে হচ্ছে, কেননা তারাই তাদের জীবিকার জন্য সাগরের ওপরে নির্ভর৷

মাংসের বদলে মাছ

আজকাল প্রায়ই লক্ষ্য করা যায় অনেক জার্মানই মাংসের পরিবর্তে নানা ধরণের মাছ খেতে পছন্দ করেন৷ বিশেষকরে যাঁরা স্বাস্থ্য সচেতন তাঁরা তো অবশ্যই৷ মাছে তেমন কোনো চর্বি নেই, রয়েছে প্রচুর প্রোটিন, যা শারীরিক ও মানসিকভাবে মানুষকে ফিট রাখতে সহায়তা করে৷

খাবারের মুকুট

জার্মানিতে মাছকে বলা হয় ‘খাবারের মুকুট’৷ মাছ মস্তিষ্কের রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে৷ জার্মান খাদ্য গবেষণা কেন্দ্রের পরামর্শ, প্রতিটি মানুষেরই সপ্তাহে অন্তত দু’দিন মাছ খাওয়া প্রয়োজন৷ মাছ হৃদরোগ ও ক্যানসার থেকেও দূরে থাকতে সাহায্য করে৷ মাছ বুদ্ধি বাড়াতে সাহায্য করে৷

নানা জাতের মাছ

জার্মানিতে নানা রকম মাছ পাওয়া যায়৷ ছোট বড়, নদীর মাছ, সামুদ্রিক মাছ, লোনা পানির মাছ, হ্রদের মাছ, তাজা মাছ, হিমায়িত, ধূমায়িত এবং টিনজাত মাছ৷

মাছ ভাজি

জার্মানরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মাছ ভাজি খায়, আমাদের বাঙালিদের মতো রান্না করে খুবই কম খেয়ে থাকেন তাঁরা৷ ডয়চে ভেলের ক্যান্টিনে সপ্তাহে প্রায় দু’দিন মাছ দেওয়া হয়৷ ক্যান্টিনে এরকম একটি ট্রাউট মাছের ভাজির দাম ৭ ইউরো, বাইরে যার দাম প্রায় দ্বিগুণ৷

কাটা মাছ

বাজারে পাঠানোর আগে এভাবেই মাছ ‘প্রসেস’ করা হয়৷ মাছ কেটে পরিষ্কার করে, কাঁটা বেছে ‘স্লাইস’ করে তবেই সেটা বাজারে যায়৷ তবে কিছুটা ছোট আকারের মাছ কার্প, ট্রাউট, হেরিং, সি ব্রাস ইত্যাদি মাছ আস্তই পাওয়া যায় বাজারে৷

সখের জেলে

জার্মানিতে অনেকেই সখ করে মাছ ধরেন, তবে তাঁদের অবশ্যই মাছ ধরার লাইসেন্স থাকতে হবে৷ তাছাড়া যে কোনো জায়াগায় মাছ ধরা যায় না, শুধু যেসব জায়গায় অনুমতি রয়েছে সেখানেই মাছ ধরা সম্ভব৷

তাজা মাছের বাজার

এভাবেই সুন্দর করে সাজানো থাকে মাছের বাজারে মাছগুলো৷ দেখে মনে হয়, মাছগুলো যেন মাছ-প্রেমীদের ডাকছে৷ মাছ মস্তিষ্ককে সজাগ রাখে, তাই ডাক্তাররা মাছ খেতে সবসময়ই পরামর্শ দিয়ে থাকেন, বিশেষকরে ছাত্র-ছাত্রী এবং বয়স্কদের৷ তবে সবার জন্যই মাছ খুব উপাদেয়৷

ধূমায়িত মাছ

ধূমায়িত বা ‘স্মোক্ড’ মাছ জার্মানদের কাছে বেশ প্রিয়, বিশেষ করে রুটির সাথে তাঁরা এ ধরনের বিশেষ প্রক্রিয়ায় রান্না করা মাছ খেতে পছন্দ করেন৷ ম্যাকরেল নামের এক মাছ যার মধ্যে খুব সামান্য হলেও আমাদের ইলিশের স্বাদ খুঁজে পাওয়া যায়৷ তবে সেই মাছ ‘স্মোক্ড’ অবস্থায়ই বেশি পাওয়া যায়৷

বরফ দেওয়া মাছ

এভাবেই মাছকে যত্ন করে বরফের ওপর সুন্দর করে সাজিয়ে রাখা হয়৷ শুধুমাত্র মাছের জন্য রয়েছে আলাদা বাজার, সেখানে এ ধরনের মাছ পাওয়া যায়৷

মাছ খান, সুন্দর আর স্লিম থাকুন

মাছ খাওয়ার পরামর্শ আজকাল চারিদিকে শোনা যায়৷ ডাক্তার থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য সচেতন যে কেউ এই পরমার্শ দেন৷ তবে ছোটবেলা থেকেই এই অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত বলেও মনে করেন বিশেষজ্ঞরা৷ শরীরে আয়োডিনের ঘাটতিও পূরণ করে থাকে বেশ কিছু মাছ৷

শুধু মাছই নয়, সেই সঙ্গে প্রবাল দ্বীপ, ম্যানগ্রোভ বা শ্বাসমূল অরণ্য এবং সামুদ্রিক ঘাস, সব কিছু উধাও হচ্ছে৷ মনে রাখা দরকার, মাছেদের এক তৃতীয়াংশ এই সব প্রবাল দ্বীপের উপর নির্ভর, যেমন পৃথিবীর প্রায় ৮৫ কোটি মানুষের জীবিকা সামুদ্রিক মাছেদের উপর নির্ভর৷ প্রবাল দ্বীপগুলোর অর্ধেক ইতিমধ্যে অন্তর্হিত হয়েছে, এবং বিশ্বের উষ্ণায়ন চলতে থাকলে, বাকি অর্ধেকও ২০৫০ সালের মধ্যে উধাও হবে৷ হাঙর ও স্টিং রে গোত্রীয় মাছেদের প্রতিটি চারটে প্রজাতির মধ্যে একটি আজ বিলুপ্ত হওয়ার মুখে৷

ডাব্লিউডাব্লিউএফ-এর পক্ষে বিশ্বের নেতৃ – তথা সরকারবর্গের প্রতি আবেদন জানানো ছাড়া আর বিশেষ কিছু করার নেই৷ তবে রিপোর্টে সুরক্ষিত সামুদ্রিক এলাকার পরিমাণ ২০২০ সালের মধ্যে বর্তমান তিন দশমিক চার শতাংশ থেকে তিনগুণ বাড়ানোর ডাক দেওয়া হয়েছে৷ ‘‘সমুদ্রে যে গতিতে পরিবর্তন ঘটছে, তা থেকে বোঝা যায় যে, আর নষ্ট করার মতো সময় নেই'', বলেছেন লাম্বেরতিনি৷ ‘‘আমাদের জীবদ্দশাতেই এই সব পরিবর্তন ঘটছে৷ আমাদের এখনই পথ বদলাতে হবে এবং আমরা তা করার ক্ষমতা রাখি৷''

এসি/ডিজি (এএফপি, রয়টার্স)

ডাব্লিউডাব্লিউএফ-এর নতুন রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, মাত্রাধিক মাছ ধরা, সেই সঙ্গে দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ১৯৭০ থেকে ২০১০, এই চল্লিশ বছরে সাগরে তথাকথিত কমার্সিয়াল ফিশ স্টক বা বাণিজ্যিক মাছের পরিমাণ বিপুলভাবে কমে গেছে৷ লিভিং ব্লু প্ল্যানেট রিপোর্টের বক্তব্য হলো, যে সব মাছ বিশ্বের খাদ্য সরবরাহের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, সেগুলিই সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়েছে৷

সংশ্লিষ্ট বিষয়