ছোট্ট লিয়াহ এখন অনেকের অনুপ্রেরণা

আর দশটা শিশুর মতোই লিয়াহ ক্যারল৷ চার বছরের লিয়াহ স্লাইডে চড়ে আস্তে করে নেমে যাওয়ার খেলাটা খুব পছন্দ করতো৷ প্রায় দেড় বছর একটানা হাসপাতালে থাকার দিনগুলো ছাড়া শৈশবের শুরুটা তার ভালোই ছিল৷

বিরল এক রক্তের অসুখ বাসা বেঁধেছে লিয়াহ’র শরীরে৷ নিউট্রোপেনিয়া নামের এই রোগটি তার জন্মগত৷ অথচ অসুস্থতা এক ফোঁটাও দমিয়ে দিতে পারেনি এই শিশুকে৷ হাসপাতালের বিছানায় বসে ছোট্ট এই শিশু নিজের রোগকে ‘জয়’ করার ঘোষণা দিয়েছে গানে গানে৷ ম্যান্ডিসার পপ গান ‘ওভারকামার’ হলো লিয়াহ’র প্রিয় গান৷ এই গানই তার বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা৷  

সম্প্রতি ইউটিউবে ভাইরাল হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার এই শিশুর গাওয়া গানের ভিডিওটি৷ শিশুটির মা এই গানটির ভিডিও ধারন করেছেন৷ 

‘‘সে আসলেই ওভারকামার’’ বললেন লিয়াহ’র মা লিন্ডসে ক্যারল৷ বলেন, ‘‘মাত্র ৩০সেকেন্ডের ভিডিও কতকিছুই না করতে পারে৷ আমার তো মনে হচ্ছে, একটা বিস্ফোরণ হয়ে গেছে৷’’ 

লিয়াহকে নিয়ে সম্প্রতি স্থানীয় এবিসি-৭ টেলিভিশন প্রতিবেদন তৈরি করে৷ সেখানে বলা হয়, গত বছর ওকল্যান্ডের ইউসিএসএফ বেনিফ চিলড্রেন হাসপাতালে দ্বিতীয়বারের মতো তার বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট অপারেশন হয়৷ এখন অবশ্য সে বাড়িতেই আছে৷ 

মা লিন্ডসে বলেন, ‘‘আমাদের সব কষ্ট বৃথা যায়নি৷ আমরা অনেকের কাছ থেকে উল্লেখ করার মতো অনুপ্রেরণা পাচ্ছি৷’’ ইন্টারনেটের কল্যানে গায়িকা ম্যান্ডিসার সাথে দেখা হয়েছে লিয়াহ’র৷ তাঁকে বোন ম্যারো দান করেছেন যে শিক্ষক, তার সাথেও দেখা হবে শিগগিরই৷ হোলি রবিনসন নামে এই শিক্ষক আইওয়া’র বাসিন্দা৷  

লিয়াহ ও তার পরিবার এখন এ ধরনের রোগের ব্যাপারে বেশ সজাগ৷ অন্যদেরও এ ধরনের রোগের ব্যাপারে জানানোর চেষ্টা করছেন তাঁরা৷

ইউসিএসএফ বেনিফ চিলড্রেন হাসপাতালে অকল্যান্ডের চিকিৎসক মার্ক ওয়াল্টার্স বলেন, ‘‘আপনি যদি উত্তর ইউরোপের কোনো দেশের সাদা নাগরিক হন, তাহলে আপনার শতকরা ৭০ ভাগ সম্ভাবনা আছে বোনন ম্যারোর সাথে মিলে যাওয়ার আর যদি আফ্রিকান আমেরিকান হন তাহলে সেই সম্ভাবনা কমে ১৮ বা ১৯ ভাগে নেমে আসবে৷’’

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান লিয়াহ’র ছবি ব্যবহার করে পোস্টার তৈরি করে বোন ম্যারো দান করতে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করছেন৷ তহবিল সংগ্রহে হচ্ছে গল্ফ টুর্নামেন্ট থেকে৷

‘‘লিয়াহ’র কোনো ধারণাই নেই যে সে দুনিয়াকে বদলে দিয়েছে’’ বললেন মা ক্যারল৷ ‘‘আমি জানি শেষ পর্যন্ত সে পারবেই’’ আশা এই মায়ের৷ 

স্বাস্থ্য

বাড়ি বদল শিশুদের মানসিক চাপ বাড়ায়

মা-বাবার চাকরি বা অন্য কোনো কারণে যেসব শিশুর ঘন ঘন বাড়ি বদল করতে হয়, তারা মানসিক চাপে ভোগে৷ এই তথ্যটি এসেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জার্নাল অফ অ্যাডোলেসেন্ট হেল্থ ম্যাগাজিনে৷ সেনা পরিবারের মোট ৫ লক্ষ শিশুদের নিয়ে এক সমীক্ষা চালিয়েছিল তারা৷ দেখা গেছে, বাড়ি বা জায়গা বদলের কারণে অনেক শিশুকেই পরে মানসিক চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হয়েছে৷

স্বাস্থ্য

সূর্যের আলো দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়

যেসব শিশু বাইরে মুক্ত হাওয়ায় খেলাধুলা করে এবং যথেষ্ট আলো পায়, তাদের চোখের দৃষ্টি ভালো থাকে৷ কারণ শিশু বয়সেই চোখের স্বাস্থ্য গঠনের জন্য আলো প্রয়োজন৷ এই তথ্যটি জানা গেছে এক আন্তর্জাতিক গবেষক দলের করা সমীক্ষার ফলাফল থেকে৷ চীনে গ্রীষ্মকালের চেয়ে শীতকালে শিশুদের চোখ বেশি খারাপ হয়৷ স্মার্টফোন এবং কম্পিউটার ব্যবহারের কারণে শিশুদের চোখের দিকে বিশেষভাবে নজর রাখার কথা বলেছেন বিশেষজ্ঞরা৷

স্বাস্থ্য

প্রতিদিন গোসলের কোনো প্রয়োজন নেই !

শিশুদের গোসল করানো সহজ কাজ নয়, যদিও অনেক মা-বাবার ধারণা প্রতিদিনই শিশুদের গোসল করা প্রয়োজন৷ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু বিশেষজ্ঞ ড. রবার্ট সিডবুরি জানান, শিশুদের গায়ে একটু-আধটু জীবাণু থাকলে ক্ষতি নেই, বরং শরীরটা জীবাণুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে শেখে এবং এর মধ্য দিয়ে ইমিউন সিস্টেমও আরো শক্তিশালী হতে পারে৷ তাই সপ্তাহে তিন-চারদিন গোসলই শিশুর জন্য যথেষ্ট৷

স্বাস্থ্য

শিশুদের স্বাস্থ্যে আপেলের গুরুত্ব

আপেলের উপকারের কথা অনেকের জানা থাকলেও প্রতিদিন হয়তো কোনো শিশুরই আপেল খাওয়া হয়ে ওঠে না৷ তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১৩ হাজার শিশুকে নিয়ে করা এক গবেষণা থেকে জানা গেছে, যেসব বাড়ন্ত শিশু প্রতিদিন একটি করে আপেল খায়, তাদের অতিরিক্ত ওজন বাড়া বা মোটা হওয়ার ভয় থাকে না, অর্থাৎ আপেল বেশি মোটা না হতে সহায়তা করে৷

স্বাস্থ্য

দূষিত বাতাস, পরীক্ষার ফলাফল খারাপ

বাতাসে দূষণের মাত্রা যত বেশি, স্কুলের পড়া-লেখায় শিশুদের মনোযোগ তত কম, অর্থাৎ দূষিত বাতাসে থাকলে শিশুদের শেখার ক্ষমতা কমে যায়৷ ৭ থেকে ১০ বছর বয়সি ৩৯টি স্কুলের ২৭০০ শিশুকে নিয়ে স্পেনের বার্সেলোনা বিশ্ববিদ্যালের করা গবেষণা থেকে এই তথ্যটি বেরিয়ে এসেছে৷ তাই শিশুদের শারীরিক, মানসিক বিকাশ ও পুরো মনোযোগের জন্য চাই দূষণমুক্ত বাতাস ও সুন্দর পরিবেশ৷

স্বাস্থ্য

‘অ্যান্টি-ডিপ্রেশন ওষুধ’ শিশুদের কাজে দেয় না

ডিপ্রেশনে ভোগা ৯ থেকে ১৮ বছর বয়সি মোট পাঁচ হাজার শিশুকে নিয়ে আন্তর্জাতিক এক গবেষক দলের গবেষণা থেকে বেরিয়ে আসা এ তথ্যটি ‘ল্যানসেট’-ম্যাগাজিনে প্রকশিত হয়েছে৷ সেখানে বলা হয়েছে, ‘অ্যান্টি-ডিপ্রেশন ওষুধ’ শিশুদের ক্ষেত্রে তেমন কাজে দেয়না, বরং এই ওষুধ সেবনের ফলে কারো কারো আত্মহত্যা করার চিন্তা বেড়ে যায়৷

আরো প্রতিবেদন...