জমকালো বিয়ে নয়, আসুন অনুসরণ করি অভয়-প্রীতির দৃষ্টান্ত

বর্তমানে বাংলাদেশে শহুরে বিয়ের অনুষ্ঠান যেন মানুষের মর্যাদার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ বিয়েতে কে কত বেশি জমকালো আয়োজন করতে পারে, অর্থ ব্যয় করতে পারে, তার যেন প্রতিযোগিতা চলে আজকাল৷ কিন্তু এর প্রয়োজন আসলে কতটা?

আপনি কী ভাবছেন?

এখানে ক্লিক করুন ও আলোচনায় যোগ দিন

মূল কথায় যাওয়ার আগে আসুন আজ থেকে এক বা দুই দশক পিছিয়ে যাই৷ ৮০ বা ৯০-এর দশকে বাংলাদেশে মুসলিম বা হিন্দু বিবাহ ছিল আজকের অনুষ্ঠান থেকে অনেকটাই ভিন্ন৷ সেসময় বিয়েতে প্রধান অতিথি হতেন আত্মীয়স্বজন, এরপর পাড়া-প্রতিবেশী ও বন্ধু-বান্ধব৷ নিজেদের বাড়িতেই হতো অনুষ্ঠান৷ ঢক যাঁরা ভাড়া বাসায় থাকতেন, তাঁদের বিয়ে হতো আত্মীয় বা প্রতিবেশীর বাসায়, যাঁদের ছাদ আছে বা আছে বড় উঠোন৷ মুসলিম বিয়েতে হলুদ থেকেই শুরু হতো বিয়ের অনুষ্ঠান৷ আজকের মতো উপটান দিয়ে হলুদ তখন দেয়া হতো না৷ রীতি মতো কাঁচা হলুদ বাঁটা হতো, সঙ্গে হত গীত – ‘‘হলুদ বাটো, মেহেদি বাটো...''৷ একদিকে গান চলছে, অন্যদিকে কাঁচা হলুদ ও মেহেদি পাতা বাটা হচ্ছে৷ চারপাশে হাসির ফোয়ারা, সেইসাথে আনন্দের লহর৷ আর হলুদে হতো রং খেলা৷ একে অপরকে রাঙিয়ে আনন্দ হতো দ্বিগুণ৷

পছন্দ বা ভালো লাগা

বিয়ে শুধু দু’টি মানুষের মধ্যে নয়, দু’টি পরিবারের মধ্যেও নতুন সম্পর্কের সূচনা করে৷ তাই নব দম্পতির অনেকটা সময় চলে যায় পরিবারের লোকজনের সঙ্গে পরিচিত হতে৷ নিজেদের পছন্দ-অপছন্দের খবর নেয়ার তেমন সুযোগ পান না তাঁরা৷ ফলে দু’জনের মধ্যে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হতে পারে৷ কিন্তু বিয়ের আগে প্রেম বা বন্ধুত্ব থাকলে ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ থাকে কম, দাম্পত্যজীবনও হয় মধুময়৷ আর পরবর্তীতে উপহার নির্বাচনেও অসুবিধা হয় না৷

একে অপরের প্রতি বিশ্বাস

স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের মূল ভিত হলো বিশ্বাস৷ বিশ্বাস ছাড়া কখনো সংসার টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়৷ আর বিয়ের আগে, অর্থাৎ মন দেয়া-নেয়ার সময় একে-অপরের প্রতি বিশ্বাসের প্রমাণ দেওয়া বা পাওয়ারও যথেষ্ট সুযোগ থাকে৷ সুযোগ থাকে অন্যজনের ভালো লাগা-মন্দ লাগা, চিন্তা-ভাবনা সম্পর্কে জানারও৷

ভুল-ক্রুটি বা দূর্বলতা

প্রতিটি মানুষই ভুল করে৷ প্রত্যেকের মধ্যেই থাকে নানা ক্রুটি বা দূর্বলতা৷ কিন্তু বিয়ের পরে, হঠাৎ করে এ সব জানার পর অনেক দম্পতির মধ্যেই হতাশার জন্ম নেয়৷ কেউ-ই ‘পারফেক্ট’ নয় – কথাটা যেমন ঠিক, তেমনই বিয়ের আগে এ সমস্ত কথা জানা থাকলে একে-অপরের ক্রুটিগুলো মেনে নেওয়া সহজ হয় বৈকি!

ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ নেই

আজকের যুগের বিয়ের পর অনেক দম্পতির ভেতর তাদের পুরনো প্রেম নিয়ে ঝগড়া-বিবাদ লেগে থাকে৷ কিন্তু প্রেম করে বিয়ে করলে এর কোনো সুযোগ থাকে না৷ বরং স্বামী-স্ত্রীর বুন্ধদের মধ্যে অনেকেই পূর্ব পরিচিত বা ‘কমন ফ্রেন্ড’ হওয়ায় আধুনিক জীবনযাপন আরো সহজ হয়৷

পারিবারিক কলহ এড়াতে...

বিয়ের পর দুই পরিবারের মধ্যে যৌতুকের মতো নানা কারণে যে কলহ বা ভুল বোঝাবুঝি হয়, তা এড়ানো সম্ভব যদি আগে থেকেই ছেলে-মেয়ের মধ্যে বন্ধুত্ব বা প্রেম থাকে৷ কারণ প্রেম করে বিয়ে হলে পরিবারের বড়রা সাধারণত এ সব ব্যাপারে চুপ করে থাকাটাই শ্রেয় বলে মনে করেন৷

বিশেষজ্ঞের মত

জার্মানি বা ইউরোপের দেশগুলোতে সাধারণত ভালোভাবে পরিচয়ের পরই মানুষ বিয়ে করে বা অনেকে না করেও একসাথে বসবাস করে৷ তবে বিয়ের আগে একে-অপরের পছন্দ-অপছন্দ, সখ, ইচ্ছে – এ সব খুব ভালো করে জেনে নিয়ে তবেই সারা জীবন একসাথে থাকার প্রতিশ্রুতি দেওয়া বা বিয়ের মতো বড় সিদ্ধান্তটি নেওয়া উচিত বলে মনে করেন জার্মানির পারিবারিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ ব্যার্নহার্ড ভল্ফ৷

এরপর ছাদে বা পাশের বড় কোনো মাঠে সামিয়ানা টাঙিয়ে বিয়ের দিন হতো প্রীতিভোজ৷ উপহার দেয়া হতো নব দম্পতির সাংসারিক জীবনে যা প্রয়োজন, তেমন আসবাব৷ কনের প্রসাধনও ছিল সাধারণ৷ হলুদে গাছ থেকে ফুল ছিড়ে তা দিয়ে সাজ৷ সাধারণ সুতি বা জামদানি শাড়ি৷ বিয়ের দিন বেনারশি শাড়ি, একটু স্নো পাউডার, চোখে কাজল৷ আত্মীয় বা প্রতিবেশীদের মধ্যে যে ভালো সাজাতে জানেন, তাঁর ওপরই পড়ত কনেকে সাজানোর ভার৷ বিয়েতে এই যে আত্মীয়-প্রতিবেশীদের সমাগম, তাঁরা কিন্তু নিজেরাই কাজ ভাগ করে নিতেন৷ এমনকি কোমরে গামছা বেঁধে তাঁরা নেমে পড়তেন খাওয়ার পরিবেশনের কাজও৷ ফলে যে পরিবারে মেয়ের বিয়ে তাঁদের ওপর চাপ অনেক কমে যেত৷ বিয়েতে অর্থ খরচের বাহুল্যো তেমন চোখে পড়ত না৷ অথচ আনন্দের কোনো কমতি ছিল না৷ প্রতিটির মেয়েরই জীবনে সাধ থাকে বিয়ের দিনটিতে তাঁকে যেন রাজরানীর মতো লাগে৷ তখনকার সেই সাজে মেয়েটি কিন্তু তৃপ্ত ছিল৷ তাঁর স্বপ্ন ভঙ্গ হতো না৷

কিন্তু গত দই দশকে বদলে গেল চিত্র৷ বাংলাদেশের শহরগুলোতে গড়ে উঠল অনেক ভবন৷ গড়ে উঠল অ্যাপার্টমেন্ট৷ আগের মতো জায়গা পাওয়া না যাওয়ায় অনেকেই বাধ্য হলো কমিউনিটি সেন্টার ভাড়া নিতে৷ সেটা অবশ্য হতেই পারে৷ কিন্তু সমস্যা হলো অন্য জায়গায়৷ হিন্দি সিরিয়াল ও বলিউডের প্রভাবে অনেক উচ্চবিত্তরা শুরু করলেন নতুন এক সংস্কৃতি৷ হলদি নাইট, মেহেন্দি নাইট শুরু হয়ে গেল৷ ডিজে আনা হতে লাগলো৷ প্রচুর খরচ হতে শুরু হলো বিয়েতে৷ কে কার চেয়ে বেশি পারে৷ হিন্দু বিয়েতেও একই অবস্থা৷ আগে হিন্দু বিয়েতে হলুদ দিয়ে মেয়েকে গোসল করানো হতো৷ এখন হলুদে আলাদা অনুষ্ঠান হয়, মেহেদি পড়ানো হয়৷ আর পার্লারে যাওয়া যেন বাধ্যতামূলক৷ কেবল কনে নয়, বর এবং দুই পরিবারের আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব সবাই৷ তার ওপর হলুদে হিন্দি গানের সাথে রাতভর নাচ তো আছেই৷ ডিজিটাল অগ্রগতির কারণে এই সংস্কৃতি কেবল শহরে নয়, এখন ছড়িয়ে যাচ্ছে গ্রামেও৷

মোট ৬টি গবেষণা করা হয় প্রায় ৭৫ হাজার যুগলকে নিয়ে৷ ফলাফল – বিয়ের পর ডায়বেটিস টাইপ ২-এর ঝুঁকি শতকরা ২৬ ভাগ বেড়ে গেছে৷ এই অসুখ যে মানুষের জীবনযাত্রা ও খাওয়া-দাওয়ার ওপর নির্ভর করে, তা সকলেই কম-বেশি জানি৷ তাই স্বামী বা স্ত্রীর একজন যদি অস্বাস্থ্যকর খাবার খান, তাহলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অন্যজনও একই খাবার খান৷ ফলে ডায়বেটিসের ঝুঁকিও বেড়ে যায়৷

অবিবাহিত অবস্থায় যাঁরা শরীরচর্চা, বাইরে হাঁটা-হাঁটি বা বিভিন্ন ধরনের ব্যায়াম করতেন, তাঁরাই পরবর্তীতে সঙ্গির আগ্রহ না থাকার কারণে বিয়ের পর তা ছেড়ে দেন৷ ফলে তাঁদেরও ডায়বেটিস টাইপ ২-এর ঝুঁকি থাকে৷ জার্মানিতে এগারো হাজার দম্পতিকে নিয়ে করা এক গবেষণার ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে৷

মূল কথায় যাওয়ার আগে আসুন আজ থেকে এক বা দুই দশক পিছিয়ে যাই৷ ৮০ বা ৯০-এর দশকে বাংলাদেশে মুসলিম বা হিন্দু বিবাহ ছিল আজকের অনুষ্ঠান থেকে অনেকটাই ভিন্ন৷ সেসময় বিয়েতে প্রধান অতিথি হতেন আত্মীয়স্বজন, এরপর পাড়া-প্রতিবেশী ও বন্ধু-বান্ধব৷ নিজেদের বাড়িতেই হতো অনুষ্ঠান৷ ঢক যাঁরা ভাড়া বাসায় থাকতেন, তাঁদের বিয়ে হতো আত্মীয় বা প্রতিবেশীর বাসায়, যাঁদের ছাদ আছে বা আছে বড় উঠোন৷ মুসলিম বিয়েতে হলুদ থেকেই শুরু হতো বিয়ের অনুষ্ঠান৷ আজকের মতো উপটান দিয়ে হলুদ তখন দেয়া হতো না৷ রীতি মতো কাঁচা হলুদ বাঁটা হতো, সঙ্গে হত গীত – ‘‘হলুদ বাটো, মেহেদি বাটো...''৷ একদিকে গান চলছে, অন্যদিকে কাঁচা হলুদ ও মেহেদি পাতা বাটা হচ্ছে৷ চারপাশে হাসির ফোয়ারা, সেইসাথে আনন্দের লহর৷ আর হলুদে হতো রং খেলা৷ একে অপরকে রাঙিয়ে আনন্দ হতো দ্বিগুণ৷

পছন্দ বা ভালো লাগা

বিয়ে শুধু দু’টি মানুষের মধ্যে নয়, দু’টি পরিবারের মধ্যেও নতুন সম্পর্কের সূচনা করে৷ তাই নব দম্পতির অনেকটা সময় চলে যায় পরিবারের লোকজনের সঙ্গে পরিচিত হতে৷ নিজেদের পছন্দ-অপছন্দের খবর নেয়ার তেমন সুযোগ পান না তাঁরা৷ ফলে দু’জনের মধ্যে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হতে পারে৷ কিন্তু বিয়ের আগে প্রেম বা বন্ধুত্ব থাকলে ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ থাকে কম, দাম্পত্যজীবনও হয় মধুময়৷ আর পরবর্তীতে উপহার নির্বাচনেও অসুবিধা হয় না৷

একে অপরের প্রতি বিশ্বাস

স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের মূল ভিত হলো বিশ্বাস৷ বিশ্বাস ছাড়া কখনো সংসার টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়৷ আর বিয়ের আগে, অর্থাৎ মন দেয়া-নেয়ার সময় একে-অপরের প্রতি বিশ্বাসের প্রমাণ দেওয়া বা পাওয়ারও যথেষ্ট সুযোগ থাকে৷ সুযোগ থাকে অন্যজনের ভালো লাগা-মন্দ লাগা, চিন্তা-ভাবনা সম্পর্কে জানারও৷

ভুল-ক্রুটি বা দূর্বলতা

প্রতিটি মানুষই ভুল করে৷ প্রত্যেকের মধ্যেই থাকে নানা ক্রুটি বা দূর্বলতা৷ কিন্তু বিয়ের পরে, হঠাৎ করে এ সব জানার পর অনেক দম্পতির মধ্যেই হতাশার জন্ম নেয়৷ কেউ-ই ‘পারফেক্ট’ নয় – কথাটা যেমন ঠিক, তেমনই বিয়ের আগে এ সমস্ত কথা জানা থাকলে একে-অপরের ক্রুটিগুলো মেনে নেওয়া সহজ হয় বৈকি!

ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ নেই

আজকের যুগের বিয়ের পর অনেক দম্পতির ভেতর তাদের পুরনো প্রেম নিয়ে ঝগড়া-বিবাদ লেগে থাকে৷ কিন্তু প্রেম করে বিয়ে করলে এর কোনো সুযোগ থাকে না৷ বরং স্বামী-স্ত্রীর বুন্ধদের মধ্যে অনেকেই পূর্ব পরিচিত বা ‘কমন ফ্রেন্ড’ হওয়ায় আধুনিক জীবনযাপন আরো সহজ হয়৷

পারিবারিক কলহ এড়াতে...

বিয়ের পর দুই পরিবারের মধ্যে যৌতুকের মতো নানা কারণে যে কলহ বা ভুল বোঝাবুঝি হয়, তা এড়ানো সম্ভব যদি আগে থেকেই ছেলে-মেয়ের মধ্যে বন্ধুত্ব বা প্রেম থাকে৷ কারণ প্রেম করে বিয়ে হলে পরিবারের বড়রা সাধারণত এ সব ব্যাপারে চুপ করে থাকাটাই শ্রেয় বলে মনে করেন৷

বিশেষজ্ঞের মত

জার্মানি বা ইউরোপের দেশগুলোতে সাধারণত ভালোভাবে পরিচয়ের পরই মানুষ বিয়ে করে বা অনেকে না করেও একসাথে বসবাস করে৷ তবে বিয়ের আগে একে-অপরের পছন্দ-অপছন্দ, সখ, ইচ্ছে – এ সব খুব ভালো করে জেনে নিয়ে তবেই সারা জীবন একসাথে থাকার প্রতিশ্রুতি দেওয়া বা বিয়ের মতো বড় সিদ্ধান্তটি নেওয়া উচিত বলে মনে করেন জার্মানির পারিবারিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ ব্যার্নহার্ড ভল্ফ৷

এরপর ছাদে বা পাশের বড় কোনো মাঠে সামিয়ানা টাঙিয়ে বিয়ের দিন হতো প্রীতিভোজ৷ উপহার দেয়া হতো নব দম্পতির সাংসারিক জীবনে যা প্রয়োজন, তেমন আসবাব৷ কনের প্রসাধনও ছিল সাধারণ৷ হলুদে গাছ থেকে ফুল ছিড়ে তা দিয়ে সাজ৷ সাধারণ সুতি বা জামদানি শাড়ি৷ বিয়ের দিন বেনারশি শাড়ি, একটু স্নো পাউডার, চোখে কাজল৷ আত্মীয় বা প্রতিবেশীদের মধ্যে যে ভালো সাজাতে জানেন, তাঁর ওপরই পড়ত কনেকে সাজানোর ভার৷ বিয়েতে এই যে আত্মীয়-প্রতিবেশীদের সমাগম, তাঁরা কিন্তু নিজেরাই কাজ ভাগ করে নিতেন৷ এমনকি কোমরে গামছা বেঁধে তাঁরা নেমে পড়তেন খাওয়ার পরিবেশনের কাজও৷ ফলে যে পরিবারে মেয়ের বিয়ে তাঁদের ওপর চাপ অনেক কমে যেত৷ বিয়েতে অর্থ খরচের বাহুল্যো তেমন চোখে পড়ত না৷ অথচ আনন্দের কোনো কমতি ছিল না৷ প্রতিটির মেয়েরই জীবনে সাধ থাকে বিয়ের দিনটিতে তাঁকে যেন রাজরানীর মতো লাগে৷ তখনকার সেই সাজে মেয়েটি কিন্তু তৃপ্ত ছিল৷ তাঁর স্বপ্ন ভঙ্গ হতো না৷

কিন্তু গত দই দশকে বদলে গেল চিত্র৷ বাংলাদেশের শহরগুলোতে গড়ে উঠল অনেক ভবন৷ গড়ে উঠল অ্যাপার্টমেন্ট৷ আগের মতো জায়গা পাওয়া না যাওয়ায় অনেকেই বাধ্য হলো কমিউনিটি সেন্টার ভাড়া নিতে৷ সেটা অবশ্য হতেই পারে৷ কিন্তু সমস্যা হলো অন্য জায়গায়৷ হিন্দি সিরিয়াল ও বলিউডের প্রভাবে অনেক উচ্চবিত্তরা শুরু করলেন নতুন এক সংস্কৃতি৷ হলদি নাইট, মেহেন্দি নাইট শুরু হয়ে গেল৷ ডিজে আনা হতে লাগলো৷ প্রচুর খরচ হতে শুরু হলো বিয়েতে৷ কে কার চেয়ে বেশি পারে৷ হিন্দু বিয়েতেও একই অবস্থা৷ আগে হিন্দু বিয়েতে হলুদ দিয়ে মেয়েকে গোসল করানো হতো৷ এখন হলুদে আলাদা অনুষ্ঠান হয়, মেহেদি পড়ানো হয়৷ আর পার্লারে যাওয়া যেন বাধ্যতামূলক৷ কেবল কনে নয়, বর এবং দুই পরিবারের আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব সবাই৷ তার ওপর হলুদে হিন্দি গানের সাথে রাতভর নাচ তো আছেই৷ ডিজিটাল অগ্রগতির কারণে এই সংস্কৃতি কেবল শহরে নয়, এখন ছড়িয়ে যাচ্ছে গ্রামেও৷

ডায়বেটিসের ঝুঁকি

বিবাহিত দম্পতিরা শুধু বিছানা আর খাবার টেবিলই ‘শেয়ার’ করেন না, সম্ভবত একে-অপরের অসুখ-বিসুখও ভাগাভাগি করেন তাঁরা৷ সমীক্ষার মাধ্যমে এই তথ্যটি খুঁজে বের করেছেন অ্যামেরিকার গবেষকরা৷ বিশেষ করে ডায়বেটিস টাইপ ২-এর ক্ষেত্রে এটা নাকি একেবারে খাঁটি কথা৷

একই খাবার পছন্দ

মোট ৬টি গবেষণা করা হয় প্রায় ৭৫ হাজার যুগলকে নিয়ে৷ ফলাফল – বিয়ের পর ডায়বেটিস টাইপ ২-এর ঝুঁকি শতকরা ২৬ ভাগ বেড়ে গেছে৷ এই অসুখ যে মানুষের জীবনযাত্রা ও খাওয়া-দাওয়ার ওপর নির্ভর করে, তা সকলেই কম-বেশি জানি৷ তাই স্বামী বা স্ত্রীর একজন যদি অস্বাস্থ্যকর খাবার খান, তাহলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অন্যজনও একই খাবার খান৷ ফলে ডায়বেটিসের ঝুঁকিও বেড়ে যায়৷

বিয়ে কি ওজন বাড়ায়?

বার্লিনের মাক্স প্লাঙ্ক ইন্সটিটিউট-এ ইউরোপের ৯টি দেশের মোট ৪৫৫৫ জন বিবাহিতদের নিয়ে একটি গবেষণা করা হয়েছিল৷ এতে দেখা গেছে যে, বিবাহিতরা স্বাস্থ্যকর খাবারের দিকে নজর রাখা সত্ত্বেও তাঁদের ওজন বেড়ে গেছে৷ আসলে বিয়ের আগে সঙ্গী পাওয়া বা খোঁজার জন্য তাঁরা যেভাবে শরীরচর্চা বা খেলাধুলা করতেন, বিয়ের পরে তা আর সেভাবে না করাই বাড়তি ওজনের কারণ!

ধূমপান

একাকী মানুষদের পক্ষে ধূমপান ছাড়া খুবই কঠিন একটা কাজ৷ তবে ধূমপায়ী যদি বিবাহিত হন, তাহলে অন্যজনের সহযোগিতায় ধূমপান ছাড়া অনেক সহজ হতে পারে৷ এ তথ্য জানিয়েছে ইউনিভার্সিটি কলেজ অফ লন্ডনের বিজ্ঞানীরা৷ এই গবেষণা করা হয়েছিল ৩৭২২ জন বিবাহিতদের নিয়ে৷ এতে শতকরা ৪৮ ভাগ পুরুষ, তাঁদের স্ত্রীর সহযোগিতায় ধূমপান ছাড়তে সফল হন৷

বিয়ের আগে

অবিবাহিত অবস্থায় যাঁরা শরীরচর্চা, বাইরে হাঁটা-হাঁটি বা বিভিন্ন ধরনের ব্যায়াম করতেন, তাঁরাই পরবর্তীতে সঙ্গির আগ্রহ না থাকার কারণে বিয়ের পর তা ছেড়ে দেন৷ ফলে তাঁদেরও ডায়বেটিস টাইপ ২-এর ঝুঁকি থাকে৷ জার্মানিতে এগারো হাজার দম্পতিকে নিয়ে করা এক গবেষণার ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে৷

আনন্দের খবর

অন্যান্য কয়েকটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মধুর সম্পর্কের কারণে তাঁরা শারীরিক ও মানসিকভাবে ভালো বোধ করেন৷ শুধু তাই নয়, একে-অপরকে মনের কথা খুলে বলতে পরার কারণে তাঁদের রক্তে স্ট্রেস হরমোন বা অবসাদ কমে যায়৷

আত্মবিশ্বাস বাড়ায়

রক্তে স্ট্রেস হরমোন কমার ফলে শরীরের ‘ইমিউন সিস্টেম’ বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হয়, যা কেটে যাওয়া ক্ষত সারতে সাহায্য করে এবং মনের অস্থিরতা, ভয় এবং আতঙ্ক কমিয়ে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তোলে৷

নারীদের ক্ষেত্রে

গবেষণায় আরো জানা যায় যে, বিবাহিতরা হার্টের ‘বাইপাস’ অপারেশনের পর আরো বেশিদিন বেঁচে থাকেন৷ এটা বিশেষ করে বিবাহিত নারীদের ক্ষেত্রে দেখা যায়৷ বলা বাহুল্য, এ কথা শুধুমাত্র সুখি দম্পতিদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য৷

পুরুষদের আয়ু বাড়ে

সমীক্ষায় দেখা গেছে, বিবাহিত পুরুষদের ক্ষেত্রে স্ত্রী পাশে থাকার কারণে তাঁরা অনেক নিশ্চিত বোধ করেন এবং তাঁদের বেঁচে থাকার আগ্রহ ও প্রেরণা জোগায়৷ তবে এখানেও এসে যায় সুখি দাম্পত্য জীবনের কথা৷ আর হ্যাঁ, বিশেষজ্ঞদের মতে, ভালো স্বাস্থ্যের সাথে উন্নত জীবনযাত্রার মানের রয়েছে এক নিবিড় সম্পর্ক৷

প্রশ্ন হলো, এতে করে কি আনন্দের মাত্রা আগের চেয়ে বেড়েছে? আমার তো মনে হয় না৷ কেননা বর্তমানে আমন্ত্রিত অনেককেই হয়ত বর-কনে চেনেন না৷ তাছাড়া এত অর্থ ব্যয়ের প্রতিযোগিতায় অনেক বাবা-মা নিঃস্ব হয়ে যান৷ নিজের কন্যা বা পুত্রের মুখের দিকে চেয়ে তারা, মানে তাঁদের বুকের ধন যা দাবি করে – তাই উজার করে দিতে চান তাঁরা৷ কিন্তু এর কোনো প্রয়োজন আছে কি? নিজের পরিবার, আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব নিয়ে ছোট করে চমৎকার একটি বিয়ের আয়োজন কি কারো মর্যাদা বা আভিজাত্যে আঘাত হানে? কত গরু-খাসি কাটা হলো, কত মানুষ আমন্ত্রিত হলো, বিয়ের পর সে হিসাব কে রাখে? বরং কাছের ও পছন্দের মানুষের আশীর্বাদটাই যে সবচেয়ে প্রয়োজন৷ আর বাবা-মা যদি সত্যিই ধনী হন, তবে তো জীবনের এই বিশেষ মুহূর্তটাকে আরও স্মরণীয় করে রাখা যায় আরও বড়, আরও ভালো কাজের মধ্য দিয়ে!

হ্যাঁ, ঠিক তেমনটাই করেছিলেন ভারতের অভয় দেওয়ারে এবং প্রীতি কুম্ভার দম্পতি৷ ভারতীয় বিয়ে মানেই ব্যান্ড-বাজা-বারাত, অর্থাৎ নাচ, গান, খাওয়া-দাওয়া ও সাজগোজে প্রচুর অর্থ ব্যয়৷ কিন্তু অভয় আর প্রীতি সে পথে মোটেও হাঁটেননি৷

টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, এমন এক আশ্চর্যের দেশ ভারত, যেখানে প্রতি বছর মোট ১৬ লাখ কোটি টাকা ব্যয় হয় শুধু বিবাহানুষ্ঠান আয়োজনে, অন্যদিকে কৃষিপণ্যের উপযুক্ত দাম না পেয়ে অভাবের তাড়নায় আত্মহত্যার পথ বেছে নেন কৃষকরা৷ বিষয়টি আহত করেছিল অভয় ও প্রীতিকে৷ মহারাষ্ট্রের অমরাবতীর এই দুই বাসিন্দা যখন পরস্পর বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হবেন বলে স্থির করেন, তখনই তাঁরা ঠিক করেন নিজেদের বিয়ের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে একটি ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন৷ এম‌ন এক দৃষ্টান্ত, যা দেখে এরপর বিয়ের অনুষ্ঠানে লাখ লাখ টাকা অপব্যয় করার আগে ভারতীয় বাবা-মা বা বিয়ের পাত্র-পাত্রীরা দ্বিতীয়বার ভাববেন৷

জার্মানি

প্রথমে কোর্টে ছোট্ট একটি আয়োজনের মাধ্যমে বিয়েটা সেরে ফেলেন বর-কনেরা৷ পরে অন্য এক সময়ে গির্জায় হয় বিয়ের অনুষ্ঠান৷ গির্জার অনুষ্ঠানের আগের রাতে কনের বাড়ির সামনে সেরামিকের বিভিন্ন জিনিস ভাঙেন বর-কনের পরিবারের সদস্যরা৷ এরপর সেটা পরিষ্কার করেন শুধু বর আর কনে৷ এর মাধ্যমে নবদম্পতিকে দলবদ্ধভাবে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে দীক্ষা দেয়া হয়৷

টিউনিশিয়া

কনের এই পোশাকটির নাম ‘কিসওয়া’৷ হীরা আর মুক্তা দিয়ে সাজানো বিয়ের এই পোশাকটি ব্যয়বহুল হওয়ায় অনেকেই সেটা একদিনের জন্য ধার করে৷ শুধু এক রাতের জন্য ভাড়া হিসেবে দিতে হয় ২৫ হাজার থেকে এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত!

দক্ষিণ কোরিয়া

দক্ষিণ কোরিয়ায় বিয়ের ক্ষেত্রে এখনও প্রচলিত নিয়মগুলো পালন করা হলেও তরুণরা ইদানীং পশ্চিমা ধাঁচের দিকে ঝুঁকছে৷ সে অনুযায়ী তরুণীরা সাদা গাউন আর তরুণরা কালো জ্যাকেট পরে বিয়ে করছেন৷

ইথিওপিয়া

বরের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য কনের পরিবারের কাছে বিয়ের প্রস্তাব পাঠানো হয়৷ আর বিয়ের দিন বর তিন চারজন সঙ্গীকে নিয়ে গান গাইতে গাইতে কনের বাড়ি যান৷

ভারত

এটি কলকাতার একটি গণবিয়ের অনুষ্ঠানের দৃশ্য৷ বিভিন্ন সামাজিক সংস্থা এভাবে গরিব মানুষদের জন্য বিয়ের আয়োজন করে থাকে৷ কেননা ভারতে নিয়ম মেনে বিয়ে করাটা ব্যয়বহুল – যা অনেকের পক্ষেই জোগাড় করা সম্ভব হয়না৷

ইরান

ছবিটি ইরানের হলেও এটি আসলে সেখানকার সংখ্যালঘু গোষ্ঠী ‘তুর্কমেন’-দের একটি বিয়ের অনুষ্ঠান৷ সংখ্যালঘু হওয়ায় তুর্কমেনদের ভাষা ও সংস্কৃতি খোদ ইরানিদের কাছে ততটা পরিচিত নয়৷ তিন-চারদিন ধরে তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান হয়৷

তাই তাঁরা নামমাত্র আয়োজনে বিয়ের কর্তব্য সারেন৷ নিজেদের বিয়ের খরচ বাঁচিয়ে খরচ করেন অন্যত্র৷ যেসব কৃষক পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারীরা অভাবের তাড়নায় আত্মহত্যা করেছেন, সেরকম ১০টি পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে দেন অভয়-প্রীতি৷ পাশাপাশি অমরাবতীর পাঁচটি লাইব্রেরিতে মোট ৫২ হাজার টাকার বই দান করেন৷ একই সঙ্গে বিয়েতে আমন্ত্রিতদের সমজাতীয় সমাজসেবায় উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে বিয়ের অনুষ্ঠানে তাঁরা আহ্বান করেছিন সমাজের কিছু নামকরা ব্যক্তিত্বকে৷ এঁরা এসে কিছু অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য রাখেন অতিথিদের সামনে৷

ভারতের পুনে শহরের আদিত্য তেওয়ারির বিয়েও ব্যতিক্রম৷ সফটওয়্যার প্রকৌশলী আদিত্য ভারতের প্রথম সিঙ্গেল ফাদার, অর্থাৎ অবিবাহিত বাবা৷

বিয়ের আগেই ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত দু'বছর বয়সের একটি শিশুকে দত্তক নেন আদিত্য৷ বিয়ের সময় শিশুটিকে কোলে নিয়েই বসেন বিয়ের পীড়িতে৷ কিন্তু এর চেয়েও বড় কথা হলো, তার বিয়েতে আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকায় ছিলেন দশ হাজার গৃহহীন মানুষ, অনাথ আশ্রমের আশ্রিত এবং এক হাজার রাস্তায় থাকা কুকুর-বিড়াল৷ এই বিয়ের ঘটনা গণমাধ্যমে আসার পর ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত শিশুদের প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিতে খানিকটা হলেও পরিবর্তন এসেছে৷ এই শিশুদের সহায়তায় তৈরি হয়েছে একশ'টিরও বেশি ‘সাপোর্ট গ্রুপ'৷

DW Bengali Redaktion

অমৃতা পারভেজ, ডয়চে ভেলে

তৃতীয় দৃষ্টান্তটিও অন্যন্য৷ ভারতের অনেক জায়গায় এখনো আনন্দ অনুষ্ঠানে বিধবাদের যোগদান শুভ বলে মনে করা হয় না৷ কিন্তু গুজরাটের এক ব্যবসায়ী জিতেন্দ্র পাটেল অন্যরকম এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন সম্প্রতি৷ নিজের ছেলের বিয়েতে প্রায় ১৮ হাজার দরিদ্র বিধবাকে নিমন্ত্রণ জানান তিনি৷ এবং তাঁদের সবাইকে পোশাক ও কম্বল উপহার দেন৷ এমনকি যাঁরা নিতান্তই গরিব, তাঁদের অনেককে একটি করে গাভিও দান করেন জিতেন্দ্র৷

আমাদের দেশের গণমাধ্যমে এমন দৃষ্টান্ত বিরল৷ সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে তাঁরাই উঠে আসেন, যাঁদের বিয়ের আয়োজন হয় জমকালো৷ এঁদের কেউ কেউ হয়ত বিয়েতে বিশেষ বিশেষ অতিথিদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন৷ কেউ আবার পাত্র বা পাত্রিকে গাড়ি বা বাড়ি উপহার দিয়েছেন বিয়েতে৷ অথবা তাঁদের বিয়ে সংবাদমাধ্যমে আসে, যাঁদের বিয়েতে লাখো মানুষের সমাগম হয়েছিল৷ তবে অভয়-প্রীতি বা আদিত্যর বিয়ের মতো এমন দৃষ্টান্ত হয়ত আমাদের দেশেও আছে৷ আর আমাদেরই দায়িত্ব তাঁদের দৃষ্টান্ত সবার সামনে তুলে ধরা৷ যাতে অন্তত শিক্ষিত উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো জমকালো বিয়ের আয়োজনের আগে একবার ভেবে দেখেন এবং নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গিটা বদলান৷

আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

মূল কথায় যাওয়ার আগে আসুন আজ থেকে এক বা দুই দশক পিছিয়ে যাই৷ ৮০ বা ৯০-এর দশকে বাংলাদেশে মুসলিম বা হিন্দু বিবাহ ছিল আজকের অনুষ্ঠান থেকে অনেকটাই ভিন্ন৷ সেসময় বিয়েতে প্রধান অতিথি হতেন আত্মীয়স্বজন, এরপর পাড়া-প্রতিবেশী ও বন্ধু-বান্ধব৷ নিজেদের বাড়িতেই হতো অনুষ্ঠান৷ ঢক যাঁরা ভাড়া বাসায় থাকতেন, তাঁদের বিয়ে হতো আত্মীয় বা প্রতিবেশীর বাসায়, যাঁদের ছাদ আছে বা আছে বড় উঠোন৷ মুসলিম বিয়েতে হলুদ থেকেই শুরু হতো বিয়ের অনুষ্ঠান৷ আজকের মতো উপটান দিয়ে হলুদ তখন দেয়া হতো না৷ রীতি মতো কাঁচা হলুদ বাঁটা হতো, সঙ্গে হত গীত – ‘‘হলুদ বাটো, মেহেদি বাটো...''৷ একদিকে গান চলছে, অন্যদিকে কাঁচা হলুদ ও মেহেদি পাতা বাটা হচ্ছে৷ চারপাশে হাসির ফোয়ারা, সেইসাথে আনন্দের লহর৷ আর হলুদে হতো রং খেলা৷ একে অপরকে রাঙিয়ে আনন্দ হতো দ্বিগুণ৷