জলবায়ু চুক্তিতে সম্মত হতে আবারও ব্যর্থ জার্মানি

আফ্রিকার দেশ মরক্কোর ঐতিহ্যবাহী শহর মারাকাশে ৭ নভেম্বর শুরু হয়েছে ২২তম বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন৷ জলবায়ু চুক্তি সংক্রান্ত প্রস্তাবে অর্থনীতি মন্ত্রীর ভেটোর কারণে জার্মান পরিবেশ মন্ত্রী সম্মেলনে যাচ্ছেন খালি হাতে৷

মরক্কোর সম্মেলনে মূল কাজ হলো বৈশ্বিক তাপমাত্রাকে ১ দশমিক ৫ শতাংশের নীচে নিয়ে আসা৷ এক্ষেত্রে প্রত্যেক দেশেরই কিছু করণীয় আছে৷ ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে এ সম্মেলন৷ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও সরকার প্রধানরা এতে যোগ দেবেন৷ জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি কমাতে প্যারিস চুক্তির বাস্তবায়ন এবারের সম্মেলনের লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশ বিজ্ঞানীরা৷

আপনি কী ভাবছেন?

এখানে ক্লিক করুন ও আলোচনায় যোগ দিন

উন্নত দেশগুলোর মধ্যে কার্বন নিঃসরণ কমানোর ব্যাপারে জার্মানির ভূমিকা অন্যতম৷ অথচ মঙ্গলবার রাতে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘ক্লাইমেট প্রটেকশন প্ল্যান ২০৫০' সংক্রান্ত প্রস্তাবটি পাসই হলো না৷ অন্যান্য মন্ত্রীদের সমর্থন থাকলেও জার্মান অর্থনীতি মন্ত্রী সিগমার গাব্রিয়েল এতে ভেটো দেন৷ তাই পরিবেশ মন্ত্রী হেনড্রিকস কে জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলনে খালি হাতেই যেতে হচ্ছে৷

মঙ্গলবার ঠিক শেষমুহূর্তে অর্থনীতি মন্ত্রীর ভেটোতে জলবায়ু চুক্তি থেকে আবারো পিছু হটলো জার্মানি৷ এ দিন রাতে সরকারের এক প্রতিনিধি জানান, ‘‘জলবায়ু পরিকল্পনার ভবিষ্যত নিয়ে তারা এখনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি৷ আর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে মন্ত্রিসভার বৈঠক এক সপ্তাহের জন্য পেছানো হয়েছে৷'' আগামী সপ্তাহেই জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দেবেন পরিবেশ মন্ত্রী৷

জার্মান পত্রিকা ‘ফ্রাংকফুর্টার আলগেমাইনে সাইটুং' জানিয়েছে, মঙ্গলবারে মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বয়ং চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল৷ তার উপস্থিতিতেই জলবায়ু চুক্তি সংক্রান্ত প্রস্তাবটিতে ভেটো দেন অর্থমন্ত্রী৷ তাঁর দাবি বাদামী কয়লার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে না নিলে তিনি এতে সমর্থন দেবেন না৷ প্যারিস জলবায়ু চুক্তি অনুযায়ী জার্মানির এই প্রস্তাবটি পাস করার কথা৷ জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে ২০৫০ সালের মধ্যে জার্মানিতে কার্বন নিঃসরণ ৯৫ শতাংশ কমিয়ে আনাই এ চুক্তির লক্ষ্য৷ আনুষ্ঠানিকভাবে মরক্কোর সম্মেলনে জার্মানির কোনো পরিকল্পনা জানানোর প্রয়োজন নেই৷ তবে বার বার চুক্তি থেকে পিছিয়ে যাওয়ায় বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তন রোধে জার্মানির পদক্ষেপের গ্রহণযোগ্যতার ব্যাপারটি প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে৷ বিশেষ করে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো এর ব্যাপক সমালোচনা করছেন৷

বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে (কপ-২২) যোগ দেয়ার কথা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারও৷ রীতি অনুযায়ী সম্মেলনের প্রথম দিনে প্যারিসের কাছ থেকে এক বছরের জন্য দায়িত্ব বুঝে নিয়েছে মরক্কো৷ বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের সরকারি ও বেসরকারি পরিবেশবাদীরা অংশ নিয়েছেন এ সম্মেলনে৷

গত বছর প্যারিসে অনুষ্ঠিত ২১তম বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে গৃহীত প্যারিস চুক্তি বাংলাদেশ গত ২২ এপ্রিল স্বাক্ষর ও ২১ সেপ্টেম্বর অনুসমর্থন করেছে৷ গত ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত ১৯১টি দেশ প্যারিস চুক্তিটি স্বাক্ষর করেছে৷ যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ ৮৪টি সদস্য দেশ চুক্তিটি অনুস্বাক্ষর করেছে৷

এপিবি/ডিজি (এপি, এএফপি, ডিপিএ)

সমাজ

প্রত্যন্ত এলাকা

মরক্কোতে সাহারা মরুভূমির কাছে অবস্থিত ১৩টি গ্রামে প্রায় ৪০০ মানুষের বাস৷ গ্রামগুলো এতই প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থিত যে, সেখানকার বাসিন্দাদের পানির জন্য অনেক দূরে যেতে হয়৷ প্রতিদিন এই কাজে গড়ে অন্তত তিন ঘণ্টা সময় ব্যয় হয়৷ সাধারণত নারীরাই এই কাজটি করে থাকেন৷ তবে একটি প্রকল্প তাঁদের কষ্ট লাঘবের স্বপ্ন দেখাচ্ছে৷

সমাজ

সমাধান কুয়াশা

এলাকাটি বছরের প্রায় ছ’মাস ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন থাকে৷ সেই কুয়াশাকে কাজে লাগিয়েই গ্রামবাসীদের জন্য পানির ব্যবস্থা করা হচ্ছে৷

সমাজ

কুয়াশা ধরতে জাল

পাহাড়ের উঁচুতে স্থাপিত বিশেষ জালে কুয়াশা আটকে পানি হয়ে ঝরবে৷ পানি ধরার জন্য থাকবে বড় বড় পাত্র৷ এরপর পাইপের মাধ্যমে তা পাহাড়ের নীচে অবস্থিত গ্রামগুলোতে সরবরাহ করা হবে৷ ঘন কুয়াশার সময় এক বর্গমিটার জাল থেকে দিনে প্রায় ২২ লিটার পানি পাওয়া সম্ভব বলে জানিয়েছে প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা৷ ভিডিও দেখতে ‘+’ চিহ্নে ক্লিক করুন৷

সমাজ

জার্মান সহায়তা

যে প্রযুক্তিতে কুয়াশা থেকে পানি সংগ্রহ করা হবে তার নাম ‘ক্লাউডফিশার’৷ জার্মানির ভাসাস্টিফটুং ফাউন্ডেশনের প্রকৌশলী পেটার ট্রাউটভাইন এটি উদ্ভাবন করেছেন৷ মরক্কোর বেসরকারি সংস্থা ‘দার সি হামদ’ ঐ ফাউন্ডেশনের সহায়তায় ইতিমধ্যে প্রকল্পের পরীক্ষামূলক কাজ শেষ করেছে৷ ফলে কিছু গ্রামের বাসিন্দারা এখনই তাদের ঘরে পানি পাচ্ছেন৷ কয়েকদিনের মধ্যে সবার জন্য পানির ব্যবস্থা করতে আরও জাল স্থাপনের কাজ শুরু হবে৷

সমাজ

শিক্ষিত হচ্ছেন নারী

যে গ্রামগুলোতে ইতিমধ্যে পানি পাওয়া যাচ্ছে সেখানকার নারীদের প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা সময় বেঁচে যাওয়ায় এখন তাঁরা লেখাপড়া শেখা থেকে শুরু করে অন্যান্য অর্থনৈতিক কাজে জড়িত হতে পারছেন৷ প্রকল্পের আওতায় তাঁদের শিক্ষিত করে তোলা হচ্ছে৷

সমাজ

কাজের স্বীকৃতি

প্রকল্পটিকে সম্প্রতি জাতিসংঘের ক্লাইমেট চেঞ্জ পুরস্কার দেয়া হয়েছে৷ কুয়াশা থেকে পানি সংগ্রহের এটিই সবচেয়ে বড় প্রকল্প বলে ধারণা করা হয়৷ জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সংস্থা ইউএনএফসিসির মুখপাত্র নিক নাটাল বলেন, ‘‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় এ ধরনের অভিনব পরিকল্পনা সত্যিই এক দারুণ ব্যাপার৷’’