জলবায়ু পরিবর্তনের খোঁজ রাখতে স্যাটেলাইট

সুমেরুর বরফ গলছে৷ তাই নিয়ে চিন্তিত জলবায়ু গবেষকরা৷ কিন্তু কী পরিমাণ বরফ গলছে? তা জানার একমাত্র উপায় হল স্যাটেলাইটের মাধ্যমে তার পরিমাপ করা৷ ইউরোপীয় ‘স্মস’ স্যাটেলাইট ঠিক তাই করে থাকে৷

‘স্মস'-এর পাঠানো বিপুল পরিমাণ তথ্য সেঁচে পৃথিবীর সামুদ্রিক মানচিত্র তৈরি করছেন হামবুর্গের আবহাওয়াবিদ ও পদার্থবিদরা৷ কালে কালে হয়তো গোটা জলবায়ু প্রণালীকেই এভাবে কম্পিউটারের ছবি হিসেবে ফুটিয়ে তোলা যাবে৷

ইউরোপীয় কৃত্রিম উপগ্রহ ‘স্মস' প্রতি সেকেন্ডে দশ লক্ষ বর্গকিলোমিটার পরিমাণ এলাকা পরিমাপ করে সেই ছবি বেতার মারফৎ পৃথিবীতে পাঠাতে পারে৷ স্মস-এর ৮০০ কিলোমিটার নীচে ভূপৃষ্ঠে বসে সেই তথ্য বিশ্লেষণ করছেন হামবুর্গের আবহাওয়া বিশারদরা ৷

সুমেরুর বরফ গলছে

সামুদ্রিক বরফ সংক্রান্ত গবেষণার পদার্থবিদ লার্স কালেশকে স্মস থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী সুমেরু অঞ্চলের কোথায় কী পরিমাণ বরফ জমেছে, তা পর্যবেক্ষণ করেন৷

বাকি বিশ্ব থেকে দ্বিগুণ

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সারা বিশ্বে তাপমাত্রা যে হারে বাড়ছে, আর্কটিক বা সুমেরু অঞ্চলে সেই মাত্রাটা প্রায় দ্বিগুণ৷ এভাবে বরফ গলার কারণে আর্কটিকে যাওয়ার পথ সহজ ও সংক্ষিপ্ত হচ্ছে৷ ফলে সেখানে থাকা সম্পদ আহরণের কাজে সুবিধা হবে৷ তাই খুশি এ খাত সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী গোষ্ঠী৷

খুশি আর্কটিকের দেশগুলোও

ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি পাঁচটি আর্কটিক দেশ – ক্যানাডা, ডেনমার্ক, নরওয়ে, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র – বিভিন্নভাবে সেখানে তাদের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছে৷ উল্লেখ্য, আর্কটিকের কতটুকু অংশ কার নিয়ন্ত্রণে সেটা নিয়ে এখনো দেশগুলোর মধ্যে বিরোধ রয়েছে৷

প্রায় এক চতুর্থাংশ

ভূতত্ত্ববিদদের ধারণা, বিশ্বে এখনো যে পরিমাণ তেল ও গ্যাস আছে তার প্রায় এক চতুর্থাংশ রয়েছে আর্কটিকের বরফের নীচে৷

সামরিক উপস্থিতি

সীমানা নিয়ে বিরোধ থাকার কারণে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আর্থিক লাভের বিষয়টি সামনে আসায় ডেনমার্ক, ক্যানাডা, রাশিয়া আর যুক্তরাষ্ট্র সেখানে তাদের সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে৷ ছবিতে মার্কিন একটি সাবমেরিনকে বরফের নীচ থেকে বের হতে দেখা যাচ্ছে৷

গ্রিনপিসের বিরোধিতা

আর্কটিকে তেলের ড্রিলিং এর বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রিনপিসের৷ কারণ ড্রিলিং করতে গিয়ে যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে তাহলে উত্তর মেরুর পরিবেশের উপর তার বিরূপ প্রভাব পড়বে বলে সংগঠনটি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে৷ কেননা দুর্গম ঐ পরিবেশে উদ্ধার তৎপরতা চালানোও বেশ কঠিন হবে৷

উত্তর মেরুতে বিমানযাত্রা

ছবিতে বিমান থেকে বরফ সরাতে দেখা যাচ্ছে৷ আর্কটিক সার্কেলে ওড়াওড়ি করা বিমানের জন্য এটা একটা নিয়মিত ব্যাপার৷ তবে গবেষণায় দেখা গেছে, আর্কটিকের উপর বিমান চলাচলের কারণে সেখানকার পরিবেশে কার্বনের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে৷ এই কালো কার্বনের পার্টিকেল সূর্যের আলো শোষণ করে বিশ্ব উষ্ণতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে৷

চীনের আগমন

আর্কটিকের গুরুত্ব বেড়ে যাওয়া সেখান থেকে লাভবান হতে চায় চীনও৷ তাইতো ‘স্নো ড্রাগন’ নামের এই জাহাজটি ২০১২ সালে আর্কটিকের মধ্য দিয়ে যাত্রা করে ইউরোপে পৌঁছেছে৷ এ বছর মে মাসে চীনকে আর্কটিক কাউন্সিলের অবজারভার স্ট্যাটাস দেয়া হয়৷

ভারতের গবেষণা

২০০৮ সালে আর্কটিকের নরওয়ের অংশে এই গবেষণা কেন্দ্রটি চালু করে ভারত৷ এর বাইরে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াও আর্কটিক নিয়ে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে৷

সবচেয়ে কম বরফের রেকর্ড ছিল ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে৷ সত্তরের দশকে স্যাটেলাইট-ভিত্তিক নজরদারি শুরু হওয়া যাবৎ সুমেরুর ‘আইস ক্যাপ' বা বরফের আস্তরণ কখনো এতো সংকীর্ণ ছিল না৷

ভূতত্ত্ববিদদের ধারণা, বিশ্বে এখনো যে পরিমাণ তেল ও গ্যাস আছে তার প্রায় এক চতুর্থাংশ রয়েছে আর্কটিকের বরফের নীচে৷

ছবিতে বিমান থেকে বরফ সরাতে দেখা যাচ্ছে৷ আর্কটিক সার্কেলে ওড়াওড়ি করা বিমানের জন্য এটা একটা নিয়মিত ব্যাপার৷ তবে গবেষণায় দেখা গেছে, আর্কটিকের উপর বিমান চলাচলের কারণে সেখানকার পরিবেশে কার্বনের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে৷ এই কালো কার্বনের পার্টিকেল সূর্যের আলো শোষণ করে বিশ্ব উষ্ণতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে৷

‘স্মস'-এর পাঠানো বিপুল পরিমাণ তথ্য সেঁচে পৃথিবীর সামুদ্রিক মানচিত্র তৈরি করছেন হামবুর্গের আবহাওয়াবিদ ও পদার্থবিদরা৷ কালে কালে হয়তো গোটা জলবায়ু প্রণালীকেই এভাবে কম্পিউটারের ছবি হিসেবে ফুটিয়ে তোলা যাবে৷

ইউরোপীয় কৃত্রিম উপগ্রহ ‘স্মস' প্রতি সেকেন্ডে দশ লক্ষ বর্গকিলোমিটার পরিমাণ এলাকা পরিমাপ করে সেই ছবি বেতার মারফৎ পৃথিবীতে পাঠাতে পারে৷ স্মস-এর ৮০০ কিলোমিটার নীচে ভূপৃষ্ঠে বসে সেই তথ্য বিশ্লেষণ করছেন হামবুর্গের আবহাওয়া বিশারদরা ৷

সুমেরুর বরফ গলছে

সামুদ্রিক বরফ সংক্রান্ত গবেষণার পদার্থবিদ লার্স কালেশকে স্মস থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী সুমেরু অঞ্চলের কোথায় কী পরিমাণ বরফ জমেছে, তা পর্যবেক্ষণ করেন৷

বাকি বিশ্ব থেকে দ্বিগুণ

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সারা বিশ্বে তাপমাত্রা যে হারে বাড়ছে, আর্কটিক বা সুমেরু অঞ্চলে সেই মাত্রাটা প্রায় দ্বিগুণ৷ এভাবে বরফ গলার কারণে আর্কটিকে যাওয়ার পথ সহজ ও সংক্ষিপ্ত হচ্ছে৷ ফলে সেখানে থাকা সম্পদ আহরণের কাজে সুবিধা হবে৷ তাই খুশি এ খাত সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী গোষ্ঠী৷

খুশি আর্কটিকের দেশগুলোও

ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি পাঁচটি আর্কটিক দেশ – ক্যানাডা, ডেনমার্ক, নরওয়ে, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র – বিভিন্নভাবে সেখানে তাদের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছে৷ উল্লেখ্য, আর্কটিকের কতটুকু অংশ কার নিয়ন্ত্রণে সেটা নিয়ে এখনো দেশগুলোর মধ্যে বিরোধ রয়েছে৷

প্রায় এক চতুর্থাংশ

ভূতত্ত্ববিদদের ধারণা, বিশ্বে এখনো যে পরিমাণ তেল ও গ্যাস আছে তার প্রায় এক চতুর্থাংশ রয়েছে আর্কটিকের বরফের নীচে৷

সামরিক উপস্থিতি

সীমানা নিয়ে বিরোধ থাকার কারণে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আর্থিক লাভের বিষয়টি সামনে আসায় ডেনমার্ক, ক্যানাডা, রাশিয়া আর যুক্তরাষ্ট্র সেখানে তাদের সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে৷ ছবিতে মার্কিন একটি সাবমেরিনকে বরফের নীচ থেকে বের হতে দেখা যাচ্ছে৷

গ্রিনপিসের বিরোধিতা

আর্কটিকে তেলের ড্রিলিং এর বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রিনপিসের৷ কারণ ড্রিলিং করতে গিয়ে যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে তাহলে উত্তর মেরুর পরিবেশের উপর তার বিরূপ প্রভাব পড়বে বলে সংগঠনটি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে৷ কেননা দুর্গম ঐ পরিবেশে উদ্ধার তৎপরতা চালানোও বেশ কঠিন হবে৷

উত্তর মেরুতে বিমানযাত্রা

ছবিতে বিমান থেকে বরফ সরাতে দেখা যাচ্ছে৷ আর্কটিক সার্কেলে ওড়াওড়ি করা বিমানের জন্য এটা একটা নিয়মিত ব্যাপার৷ তবে গবেষণায় দেখা গেছে, আর্কটিকের উপর বিমান চলাচলের কারণে সেখানকার পরিবেশে কার্বনের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে৷ এই কালো কার্বনের পার্টিকেল সূর্যের আলো শোষণ করে বিশ্ব উষ্ণতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে৷

চীনের আগমন

আর্কটিকের গুরুত্ব বেড়ে যাওয়া সেখান থেকে লাভবান হতে চায় চীনও৷ তাইতো ‘স্নো ড্রাগন’ নামের এই জাহাজটি ২০১২ সালে আর্কটিকের মধ্য দিয়ে যাত্রা করে ইউরোপে পৌঁছেছে৷ এ বছর মে মাসে চীনকে আর্কটিক কাউন্সিলের অবজারভার স্ট্যাটাস দেয়া হয়৷

ভারতের গবেষণা

২০০৮ সালে আর্কটিকের নরওয়ের অংশে এই গবেষণা কেন্দ্রটি চালু করে ভারত৷ এর বাইরে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াও আর্কটিক নিয়ে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে৷

সবচেয়ে কম বরফের রেকর্ড ছিল ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে৷ সত্তরের দশকে স্যাটেলাইট-ভিত্তিক নজরদারি শুরু হওয়া যাবৎ সুমেরুর ‘আইস ক্যাপ' বা বরফের আস্তরণ কখনো এতো সংকীর্ণ ছিল না৷

এছাড়া কালেশকে বিশেষ হাই রেজোলিউশনের স্যাটেলাইট ছবিও ব্যবহার করতে পারেন – তবে প্রতিবার ক্ষুদ্র একটি এলাকার জন্য৷ কালেশকে বলেন: ‘‘বিভিন্ন ধরনের কাঠামো দেখা যায়, খোলা সমুদ্র, তার পাশে গত গ্রীষ্মের পুরনো বরফ, যাতে নানা ধরনের কাঠামো দেখা যায়: আইস রিজ গোত্রীয়, যা শুধুমাত্র হাই রেজোলিউশনের এই স্যাটেলাইটের ছবিতেই ঠিকমতো দেখতে পাওয়া যায়৷''

কালেশকে চান আরো অনেক তথ্য, যাতে গোটা সুমেরু অঞ্চলটির উপরেই এভাবে খুঁটিয়ে নজর রাখা যায়৷ তাঁর মতে ‘‘এই সব পরিমাপ করার জন্য নতুন প্রযুক্তির প্রয়োজন পড়বে৷ নতুন সব অ্যান্টেনার প্রয়োজন পড়বে৷ নতুন স্যাটেলাইট লাগবে, যেগুলি গোটা এলাকার হাই রেজোলিউশনের ফটো ও তথ্য পাঠাতে পারবে৷''

সাগরের পরিমাপ

যেখানে বাস্তব তথ্য হাতে নেই, সেখানে জলবায়ু গবেষকরা কম্পিউটারের সাহায্য নেন৷ গ্রিড সেলের মাধ্যমে বায়ুমণ্ডল থেকে সমুদ্রবক্ষ অবধি তাপমাত্রা কিংবা বায়ুর চাপ মাপা চলে৷ আবহাওয়াবিদ জিন-সং ফন স্টর্শ এভাবেই গোটা সাগরের পরিমাপ করতে চান৷ এমন সব ইকোয়েশন, যা সাগরের গতিশীলতা বর্ণনা করে থাকে৷

আবহাওয়াবিদ জিন-সং ফন স্টর্শ বলেন: ‘‘সাগরের জলে লবণের পরিমাণ, কিংবা পানির তাপমাত্রা কিংবা স্রোতের তীব্রতা, এ সবই চলে বিশেষ বিশেষ নিয়ম অনুযায়ী৷ এই নিয়মগুলো হলো আমাদের মডেলের বুনিয়াদি ইকোয়েশনের ভিত্তি৷''

জলবায়ু পরিবর্তন

বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত দেশ বাংলাদেশ৷ উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বাড়ছে৷ ফলে উপকূলের মানুষ বাসস্থান হারাচ্ছেন৷ অসময়ের বন্যা, খরা ফসলের ক্ষতি করছে৷ মোটের উপর লবণাক্ত পানি চাষ উপযোগী জমির পরিমাণ কমিয়ে দিচ্ছে৷

বাড়ছে পানি, বাড়ছে ভোগান্তি

বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা অনুযায়ী, ২১০০ সাল নাগাদ যদি সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা এক মিটার বেড়ে যায়, তাহলে বাংলাদেশের তিন মিলিয়ন হেক্টর জমি প্লাবিত হতে পারে৷ সম্প্রতি সন্দ্বীপ, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও টেকনাফের সমুদ্র উপকূলের পানি পরিমাপ করে গবেষকরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের উপকূলে প্রতি বছর ১৪ মিলিমিটার করে সমুদ্রের পানি বাড়ছে৷

জলবায়ু উদ্বাস্তু

বাংলাদেশের জলবায়ু শরণার্থী বিষয়ক সংগঠন এসিআর-এর মুহাম্মদ আবু মুসা চলতি বছর ডয়চে ভেলেকে জানান, ২০৫০ সাল নাগাদ বিশ্বে ৪৫ জনের মধ্যে ১ জন জলবায়ু উদ্বাস্তুতে পরিণত হবে৷ আর বাংলাদেশে সংখ্যাটা হবে প্রতি সাতজনে একজন৷ দেশের ১৭ ভাগ এলাকা বিলীন হয়ে যাবে সমুদ্র গর্ভে৷ ইতোমধ্যে কুতুবদিয়া এলাকার প্রায় ২০ হাজার মানুষ মূল ভূখণ্ড ত্যাগ করে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন৷

লবণাক্ত পানি

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় লবণাক্ত পানি সমতল ভূমির আরো ভেতরের দিকে চলে আসছে৷ ফলে লবণাক্ততা বাড়ছে৷ বাংলাদেশের সাতক্ষীরা অঞ্চলে ইতিমধ্যে এ সমস্যা সনাক্ত করা হয়েছে৷ পানি ও মাটিতে লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় চাষাবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে৷

মাছের উৎপাদন কমছে

জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে মাছ উৎপাদনের উপর৷ মূলত জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং মাত্রাতিরিক্ত লবণাক্ততার কারণে সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকা থেকে দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে৷ এছাড়া গত কয়েক বছর ধরে খাল, বিল, প্লাবনভূমিতে সময় মতো পানি না পৌঁছানোয় দেশীয় মাছের প্রজনন চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে৷

ক্ষতির শিকার সুন্দরবন

জলবায়ুর পরিবর্তন ও বিশ্ব ঐতিহ্যের পাঠ শীর্ষক ইউনেস্কোর এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিসহ জলবায়ু পরিবর্তনের নানা কারণে সুন্দরবনের ৭৫ শতাংশ ধ্বংস হয়ে যেতে পারে৷ ইতোমধ্যে সুন্দরবনের পশ্চিম বন বিভাগের সবচেয়ে গহীনের ক্যাম্প মান্দারবাড়িয়া ক্যাম্প সাগরে হারিয়ে গেছে৷

জার্মানির সহায়তা

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় বাংলাদেশকে প্রায় ১১ মিলিয়ন ইউরো বা ১১২ কোটি টাকার অর্থ সহায়তা দিতে গত বছর এক চুক্তি স্বাক্ষর করে জার্মানি৷ এই অর্থ দিয়ে বাংলাদেশের তিনটি উপকূলীয় জেলায় দুর্যোগ সহনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে৷ ২০১২-২০১৭ মেয়াদে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা হবে৷ এসব প্রকল্পের মধ্যে আছে টেকসই রাস্তা-ঘাট, সেতু ও আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ৷

জলবায়ু তহবিল

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলায় বাংলাদেশকে অর্থ সহায়তা দিতে বিভিন্ন সম্মেলনে সম্মত হয়েছে আন্তর্জাতিক সমাজ৷ তবে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এসব সহায়তা পুরোপুরি প্রাপ্তির ক্ষেত্রে এখনো বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা রয়েছে৷ একইসঙ্গে জলবায়ু তহবিল বণ্টনের ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে৷ সব মিলিয়ে এক্ষেত্রে আরো সক্রিয় উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা৷

সেজন্য চাই সুপারকম্পিউটার

এই সব মডেল কোনো মানুষের পক্ষে অঙ্ক কষে বার করা সম্ভব নয়৷ সেজন্য জার্মান জলবায়ু কম্পিউটার সেন্টারের ‘ব্লিজার্ড'-এর মতো একটি সুপার-কম্পিউটারের প্রয়োজন৷ ব্লিজার্ড প্রতি সেকেন্ডে ১৫০ বিলিয়ন অঙ্ক কষতে পারে৷ জার্মান জলবায়ু কম্পিউটার কেন্দ্রের ভূপদার্থবিদ মিশায়েল ব্যোটিঙার জানালেন: ‘‘এটা আমাদের পরীক্ষাগার বলা যায় – জলবায়ু গবেষকরা এখানেই তাঁদের সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পারেন৷ এখানে আমাদের নানা ধরনের কম্পিউটার আছে, যেগুলো পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটা বিশেষ শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে, যাতে সব ক'টি কম্পিউটার যুগপৎ একটি সমস্যা নিয়ে কাজ করতে পারে৷''

জলবায়ু গবেষণায় এ পর্যন্ত যা অভাবনীয় ছিল, সুপারকম্পিউটার সেই অসাধ্য-সাধন করেছে৷ সমুদ্রের একটি বিশদ মডেল, যার রেজোলিউশন হল দশ কিলোমিটার৷ ঘূর্ণি, স্রোত এবং পানির তাপমাত্রা৷ একেবারে সমুদ্রগর্ভ অবধি৷ ফন স্টর্শ বলেন: ‘‘সাগরের গভীর অংশ হল এমন একটি রহস্য, যার বিষয়ে আমরা স্বল্পই জানি এবং আমাদের খুব কমই বাস্তবিক পর্যবেক্ষণ আছে৷ এই মডেলটির কল্যাণে আমরা প্রথমবার দেখতে পাই, সেটা কেমন দেখায়৷''

কম্পিউটারের সৃষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে একটি গোটা মহাসাগর তৈরি করা যায়৷ এবার লক্ষ্য হলো, সম্পূর্ণ জলবায়ু প্রণালীকেই তার পূর্ণ জটিলতায় কম্পিউটার সিমিউলেশন হিসেবে দেখানো৷

সংশ্লিষ্ট বিষয়