জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার সুন্দরবন

জলে কুমির ডাঙ্গায় বাঘ! প্রবাদটি শুনলে যে কেউ বলবেন, আমি কোথাকার কথা বলছি৷ সে যে সুন্দরবন! রয়েল বেঙ্গল টাইগারের বন, মায়াবী চিত্রা হরিণের বন, বন পাখির, সুন্দরী গাছের৷ এই বন দুষ্টু বানরের দলের, বন মোরগের ছুটে চলার বন৷

প্রতিবেদক: সাগর সরওয়ার

সম্পাদনা: আবদুস সাত্তার

সুন্দরবন সমুদ্র উপকূলবর্তী নোনা পরিবেশের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বনভূমি হিসেবে অখন্ড বন যা বিশ্বে সর্ববৃহৎ৷ অববাহিকার সমুদ্রমূখী সীমানা এই বনভূমি গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্রের মোহনায় অবস্থিত এবং বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে বিস্তৃত৷ ১৯৯৭ সালে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি পায় এই সুন্দরবন ৷

সুন্দরবনকে জালের মত জড়িয়ে রয়েছে সামুদ্রিক স্রোতধারা, কাদা চর এবং ম্যানগ্রোভ বনভূমির লবণাক্ততাসহ ছোট ছোট দ্বীপ ৷ বনভূমিটি, স্বনামে বিখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগার ছাড়াও নানান ধরণের পাখি, চিত্রা হরিণ, কুমির ও সাপ সহ অসংখ্য প্রজাতির প্রাণীর আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত৷

পুরো পৃথিবীর মধ্যে সর্ববৃহৎ তিনটি ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের একটি হিসেবে গঙ্গা অববাহিকায় অবস্থিত সুন্দরবনের বাস্তুসংস্থান যথেস্ট জটিল৷ দুই প্রতিবেশি দেশ বাংলাদেশ এবং ভারত জুড়ে বিস্তৃত সুন্দরবনের বৃহত্তর ৬২ শতাংশ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে অবস্থিত৷ সেই সুন্দরবনের সামনে এখন বড় বিপদ৷ জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কা লাগতে শুরু করেছে এই বনে৷ জলবায়ুর পরিবর্তন ও বিশ্ব ঐতিহ্যের পাঠ শীর্ষক ইউনেস্কোর রিপোর্টে বলা হয়েছে, মনুষ্যসৃষ্ট অন্যান্য কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিসহ জলবায়ু পরিবর্তনের নানা কারণে সুন্দরবনের ৭৫ শতাংশ ধংস হয়ে যেতে পারে৷

শিল্প বিপ্লবের কারণে বায়ুমন্ডলে কার্বনের পরিমাণ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে এ কথা তো সকলের জানা৷ গত ২০০২ সাল পর্যন্ত কার্বনের পরিমাণ বেড়েছে ২৯০ পিপিএম থেকে ৩৭০ পিপিএম৷ এ পরিবর্তন গত সাড়ে ১২ হাজার বছরের পরিবর্তনের হারের তুলনায় অনেক বেশি৷ গবেষকরা মনে করছেন, বর্তমান শতাব্দির শেষ নাগাদ কার্বনের পরিমাণ ৫০০ পিপিএম থেকে ১০০০ পিপিএম পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে৷ কার্বনডাই অক্সাইড একটি গ্রীন হাউজ গ্যাস যার বৃদ্ধি বৈশ্বিক উষ্ণতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের দিকে ধাবিত করছে৷ এরই শিকার হচ্ছে সুন্দরবন৷ একই কারণে মিঠা পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় লবণাক্ততাও ক্রমে ক্রমে বাড়ছে৷

২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বরের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় সিডরের আঘাতে সুন্দরবনের পশ্চিম বন বিভাগের বিশাল এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়৷ ধ্বংস হয়ে যায় কয়েকশ' কোটি টাকার মূল্যবান গাছ৷ মারা যায় শত শত পশু পাখি৷ সিডরের আঘাতের ক্ষত শুকিয়ে ওঠার আগেই আবারও জলোচ্ছাসের শিকার হয় সুন্দরবন৷ পশ্চিম বিভাগে আঘাত হানে আইলা নামক জলোচ্ছাস৷ নদী তীরবর্তী বিশাল এলাকা জুড়ে ভাঙ্গনের কবলে পড়ে৷ জোয়ারের পানির তোড়ে ভাঙ্গতে থাকা নদীগুলোর পাড় ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে৷

সুন্দরবনের পশ্চিম বন বিভাগের সবচেয়ে গহীনের ক্যাম্প মান্দারবাড়িয়া ক্যাম্প ইতোমধ্যে সাগরে হারিয়ে গেছে৷ এ ক্যাম্পটির অবস্থান ছিলো বঙ্গোপসাগর থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে৷ সেখানে ছিল একটি মিষ্টি পানির পুকুর৷ যা ছিল হাজার হাজার জেলে-বাওয়ালির সুপেয় পানির একমাত্র উৎস৷ সেই মাদারবাড়িয়া ক্যাম্পসহ ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার এলাকার এখন আর কোন চিহ্ন নেই৷ নদী ভাঙ্গনের ফলে পলি জমে ভরাট হয়ে যাচ্ছে বনের ভেতরে ছোট ছোট খাল ও নদী৷ ফলে জোয়ারের পানি উঠলে আর তা নামতে পারছে না৷ পরবর্তী জোয়ারে পানি আরও ভেতরে ঢুকছে৷ এসব এলাকার গাছপালার বৃদ্ধি কমে যাচ্ছে৷ এর মানে দাঁড়াচ্ছে সরাসরি হুমকির মুখে পড়ে গেছে গাজী কালু চম্পাবতীর সুন্দরবন৷ হয়তো মৌয়ালরা আর যাবে না গাজী গাজী ডেকে....

প্রতিবেদক: সাগর সরওয়ার

সম্পাদনা: আবদুস সাত্তার

শিল্প বিপ্লবের কারণে বায়ুমন্ডলে কার্বনের পরিমাণ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে এ কথা তো সকলের জানা৷ গত ২০০২ সাল পর্যন্ত কার্বনের পরিমাণ বেড়েছে ২৯০ পিপিএম থেকে ৩৭০ পিপিএম৷ এ পরিবর্তন গত সাড়ে ১২ হাজার বছরের পরিবর্তনের হারের তুলনায় অনেক বেশি৷ গবেষকরা মনে করছেন, বর্তমান শতাব্দির শেষ নাগাদ কার্বনের পরিমাণ ৫০০ পিপিএম থেকে ১০০০ পিপিএম পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে৷ কার্বনডাই অক্সাইড একটি গ্রীন হাউজ গ্যাস যার বৃদ্ধি বৈশ্বিক উষ্ণতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের দিকে ধাবিত করছে৷ এরই শিকার হচ্ছে সুন্দরবন৷ একই কারণে মিঠা পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় লবণাক্ততাও ক্রমে ক্রমে বাড়ছে৷

২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বরের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় সিডরের আঘাতে সুন্দরবনের পশ্চিম বন বিভাগের বিশাল এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়৷ ধ্বংস হয়ে যায় কয়েকশ' কোটি টাকার মূল্যবান গাছ৷ মারা যায় শত শত পশু পাখি৷ সিডরের আঘাতের ক্ষত শুকিয়ে ওঠার আগেই আবারও জলোচ্ছাসের শিকার হয় সুন্দরবন৷ পশ্চিম বিভাগে আঘাত হানে আইলা নামক জলোচ্ছাস৷ নদী তীরবর্তী বিশাল এলাকা জুড়ে ভাঙ্গনের কবলে পড়ে৷ জোয়ারের পানির তোড়ে ভাঙ্গতে থাকা নদীগুলোর পাড় ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে৷

সুন্দরবনের পশ্চিম বন বিভাগের সবচেয়ে গহীনের ক্যাম্প মান্দারবাড়িয়া ক্যাম্প ইতোমধ্যে সাগরে হারিয়ে গেছে৷ এ ক্যাম্পটির অবস্থান ছিলো বঙ্গোপসাগর থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে৷ সেখানে ছিল একটি মিষ্টি পানির পুকুর৷ যা ছিল হাজার হাজার জেলে-বাওয়ালির সুপেয় পানির একমাত্র উৎস৷ সেই মাদারবাড়িয়া ক্যাম্পসহ ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার এলাকার এখন আর কোন চিহ্ন নেই৷ নদী ভাঙ্গনের ফলে পলি জমে ভরাট হয়ে যাচ্ছে বনের ভেতরে ছোট ছোট খাল ও নদী৷ ফলে জোয়ারের পানি উঠলে আর তা নামতে পারছে না৷ পরবর্তী জোয়ারে পানি আরও ভেতরে ঢুকছে৷ এসব এলাকার গাছপালার বৃদ্ধি কমে যাচ্ছে৷ এর মানে দাঁড়াচ্ছে সরাসরি হুমকির মুখে পড়ে গেছে গাজী কালু চম্পাবতীর সুন্দরবন৷ হয়তো মৌয়ালরা আর যাবে না গাজী গাজী ডেকে....

প্রতিবেদক: সাগর সরওয়ার

সম্পাদনা: আবদুস সাত্তার

সুন্দরবন সমুদ্র উপকূলবর্তী নোনা পরিবেশের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বনভূমি হিসেবে অখন্ড বন যা বিশ্বে সর্ববৃহৎ৷ অববাহিকার সমুদ্রমূখী সীমানা এই বনভূমি গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্রের মোহনায় অবস্থিত এবং বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে বিস্তৃত৷ ১৯৯৭ সালে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি পায় এই সুন্দরবন ৷

সুন্দরবনকে জালের মত জড়িয়ে রয়েছে সামুদ্রিক স্রোতধারা, কাদা চর এবং ম্যানগ্রোভ বনভূমির লবণাক্ততাসহ ছোট ছোট দ্বীপ ৷ বনভূমিটি, স্বনামে বিখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগার ছাড়াও নানান ধরণের পাখি, চিত্রা হরিণ, কুমির ও সাপ সহ অসংখ্য প্রজাতির প্রাণীর আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত৷

পুরো পৃথিবীর মধ্যে সর্ববৃহৎ তিনটি ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের একটি হিসেবে গঙ্গা অববাহিকায় অবস্থিত সুন্দরবনের বাস্তুসংস্থান যথেস্ট জটিল৷ দুই প্রতিবেশি দেশ বাংলাদেশ এবং ভারত জুড়ে বিস্তৃত সুন্দরবনের বৃহত্তর ৬২ শতাংশ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে অবস্থিত৷ সেই সুন্দরবনের সামনে এখন বড় বিপদ৷ জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কা লাগতে শুরু করেছে এই বনে৷ জলবায়ুর পরিবর্তন ও বিশ্ব ঐতিহ্যের পাঠ শীর্ষক ইউনেস্কোর রিপোর্টে বলা হয়েছে, মনুষ্যসৃষ্ট অন্যান্য কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিসহ জলবায়ু পরিবর্তনের নানা কারণে সুন্দরবনের ৭৫ শতাংশ ধংস হয়ে যেতে পারে৷

শিল্প বিপ্লবের কারণে বায়ুমন্ডলে কার্বনের পরিমাণ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে এ কথা তো সকলের জানা৷ গত ২০০২ সাল পর্যন্ত কার্বনের পরিমাণ বেড়েছে ২৯০ পিপিএম থেকে ৩৭০ পিপিএম৷ এ পরিবর্তন গত সাড়ে ১২ হাজার বছরের পরিবর্তনের হারের তুলনায় অনেক বেশি৷ গবেষকরা মনে করছেন, বর্তমান শতাব্দির শেষ নাগাদ কার্বনের পরিমাণ ৫০০ পিপিএম থেকে ১০০০ পিপিএম পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে৷ কার্বনডাই অক্সাইড একটি গ্রীন হাউজ গ্যাস যার বৃদ্ধি বৈশ্বিক উষ্ণতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের দিকে ধাবিত করছে৷ এরই শিকার হচ্ছে সুন্দরবন৷ একই কারণে মিঠা পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় লবণাক্ততাও ক্রমে ক্রমে বাড়ছে৷

২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বরের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় সিডরের আঘাতে সুন্দরবনের পশ্চিম বন বিভাগের বিশাল এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়৷ ধ্বংস হয়ে যায় কয়েকশ' কোটি টাকার মূল্যবান গাছ৷ মারা যায় শত শত পশু পাখি৷ সিডরের আঘাতের ক্ষত শুকিয়ে ওঠার আগেই আবারও জলোচ্ছাসের শিকার হয় সুন্দরবন৷ পশ্চিম বিভাগে আঘাত হানে আইলা নামক জলোচ্ছাস৷ নদী তীরবর্তী বিশাল এলাকা জুড়ে ভাঙ্গনের কবলে পড়ে৷ জোয়ারের পানির তোড়ে ভাঙ্গতে থাকা নদীগুলোর পাড় ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে৷

সুন্দরবনের পশ্চিম বন বিভাগের সবচেয়ে গহীনের ক্যাম্প মান্দারবাড়িয়া ক্যাম্প ইতোমধ্যে সাগরে হারিয়ে গেছে৷ এ ক্যাম্পটির অবস্থান ছিলো বঙ্গোপসাগর থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে৷ সেখানে ছিল একটি মিষ্টি পানির পুকুর৷ যা ছিল হাজার হাজার জেলে-বাওয়ালির সুপেয় পানির একমাত্র উৎস৷ সেই মাদারবাড়িয়া ক্যাম্পসহ ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার এলাকার এখন আর কোন চিহ্ন নেই৷ নদী ভাঙ্গনের ফলে পলি জমে ভরাট হয়ে যাচ্ছে বনের ভেতরে ছোট ছোট খাল ও নদী৷ ফলে জোয়ারের পানি উঠলে আর তা নামতে পারছে না৷ পরবর্তী জোয়ারে পানি আরও ভেতরে ঢুকছে৷ এসব এলাকার গাছপালার বৃদ্ধি কমে যাচ্ছে৷ এর মানে দাঁড়াচ্ছে সরাসরি হুমকির মুখে পড়ে গেছে গাজী কালু চম্পাবতীর সুন্দরবন৷ হয়তো মৌয়ালরা আর যাবে না গাজী গাজী ডেকে....

প্রতিবেদক: সাগর সরওয়ার

সম্পাদনা: আবদুস সাত্তার

সংশ্লিষ্ট বিষয়