জলহস্তি যখন নু'র প্রাণ বাঁচায়

নু বা উইল্ডেবিস্ট হলো আফ্রিকার এক বড় আকারের অ্যান্টিলোপ বা হরিণ৷ পানি খেতে গিয়ে সে যদি কুমিরের কবলে পড়ে, তবে তাকে বাঁচায় কে? ভাগ্যিস কাছে বদমেজাজি জলহস্তিরা ছিল!

গল্পটা এভাবে বললে বেশ সরস শোনায় বটে কিন্তু জীবজগতে বন্যপ্রাণীদের অস্তিত্বে ক্ষুধা-তৃষ্ণা ও মৃত্যু পরস্পরের সঙ্গে জড়িত৷ জীবনই জীবনের ক্ষুধা মেটায়৷ একটি প্রাণীর মৃত্যু আরেকটি প্রাণীর জীবনকে অন্তত আরো কয়েকটা দিন বা মাস, এমনকি বছর অবধি বাড়িয়ে দেয়৷ কাজেই উইল্টেবিস্টের মৃত্যু মানে কুমিরের বাঁচা৷ কুমিরকে এই ইউটিউব ভিডিওর খলনায়ক মনে করলে ভুল করা হবে৷ সে শুধু তার খিদে মেটাতে চেয়েছে৷

উইল্ডেবিস্ট বা নু'রা ভবঘুরে হলেও, ঠিক সেই হিসেবে পরিব্রাজী নয়৷ আফ্রিকার তৃণভূমিতে তাদের মতো তৃণভোজীদের শত্রুর কোনো অভাব নেই, বিশেষ করে হায়েনাদের শিকার হয় তারা৷ কিন্তু সব প্রাণীরই জলের প্রয়োজন৷ কাজেই সব প্রাণীকেই কোনো না কোনো সময়ে জলে নামতে হয়৷ আর সেখানে জলের তলায় শরীর লুকিয়ে শুধু নাকটুকু ভাসিয়ে রেখে অপেক্ষা করে মরণ৷

দৃশ্যটি ক্যামেরায় ধরে রাখেন ৭২ বছর বয়সের অবসরভোগী মার্ভিন ভ্যান ওয়াইক ও তাঁর স্ত্রী টোকি৷ আগস্ট মাসের শেষে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রুগার ন্যাশনাল পার্কের স্কুকুজার কাছের বাঁধ থেকে দেখা দৃশ্য৷ বাঁধের উলটোদিকে নীল উইল্ডেবিস্ট, জেব্রা আর ইম্পালা হরিণরা শান্তিতে চরছিল৷ তাদের মধ্যে একটি উইল্ডেবিস্ট পানিতে নামতেই একটা কুমির তার পিছনের ডান পা'টা কামড়ে ধরে – শুরু হয়ে যায় নু আর কুমিরের টানাটানি!

সমাজ

চর ওসমান

হাতিয়া উপজেলার দক্ষিণাংশে বঙ্গোপসাগরের মোহনায় জেগে ওঠা ছোট্ট দ্বীপ এটি৷ শোনা যায়, ওসমান নামে এক ব্যক্তি তাঁর মহিষের বাথান নিয়ে এ দ্বীপে বসতি গড়ার পর এটি পরিচিতি পায় ‘চর ওসমান’ নামে৷ পরে নাম হয় নিঝুম দ্বীপ৷ বল্লার চর, কামলার চর, চর ওসমান ও চর মুরি নামের প্রধান চারটি দ্বীপ ও ছোট ছোট কয়েকটি চর নিয়েই এ দ্বীপ৷ উত্তর-দক্ষিণে এ দ্বীপ প্রায় নয় কিলোমিটার লম্বা আর পূর্ব পশ্চিমে প্রায় সাত কিলোমিটার চওড়া৷

সমাজ

শ্বাসমূলীয় বন

নিঝুম দ্বীপে আছে বড়সড় একটি শ্বাসমূলীয় বন৷ ৭০ এর দশকে বন বিভাগ এ দ্বীপে কেওড়া, ওড়া জাতীয় শ্বাসমূলীয় গাছ রোপণ করে৷ সেই গাছপালাই এখন বিশাল মহীরূহে পরিণত হয়েছে৷ ২০০১ সালে নিঝুম দ্বীপ জাতীয় উদ্যানের মর্যাদা পায়৷

সমাজ

চিত্রা হরিণ

১৯৭৪ সালে এ বনে সর্বপ্রথম সুন্দরবন থেকে এনে চার জোড়া চিত্রা হরিণ ছেড়ে দেয়া হয়৷ ওই চারটি হরিণের বংশ বিস্তারের ফলে এ বনে হরিণের সংখ্যা এখন বিশ হাজারেরও বেশি৷ নিঝুম দ্বীপের প্রধান পর্যটন আকর্ষণ চিত্রা হরিণ৷

সমাজ

প্রধান প্রাণী

নিঝুম দ্বীপ জাতীয় উদ্যানের প্রধান প্রাণী চিত্রা হরিণ৷ এ ছাড়াও এ বনে আরো আছে উদ্বিড়াল, মেছো বাঘ, খেকশিয়াল ইত্যাদি৷

সমাজ

খুব কাছ থেকে হরিণ দেখা

নিঝুম দ্বীপ জাতীয় উদ্যানে গাছের আড়ালে দুটি চিত্রা হরিণ৷ দেখতে সুন্দরবনের মতো হলেও তেমন কোনো হিংস্র বন্যপ্রাণী নেই এ বনে৷ তাই নিঝুম দ্বীপে বেড়াতে যাওয়া পর্যটকরা খুব কাছাকাছি থেকেই চিত্রা হরিণের দল দেখতে পারেন৷

সমাজ

হরিণের দল

নিঝুম দ্বীপ জাতীয় উদ্যানের পশ্চিম পাশে বিশাল বিশাল খোলা মাঠে পড়ন্ত বিকেলে হরিণের দল৷

সমাজ

নিঝুম দ্বীপে সূর্যাস্ত

মনোরম এ দৃশ্য দেখতে হলে যেতে হবে নিঝুম দ্বীপের নামা বাজারের পশ্চিম পাশে৷

সমাজ

নদী ভাঙন

নদী ভাঙনের কারণে বিলীন হচ্ছে নিঝুম দ্বীপ জাতীয় উদ্যানের উত্তরাংশের জঙ্গল৷ গত তিন বছরে এ জঙ্গলের বড় একটা অংশ নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে৷

সমাজ

চৌধুরী খাল

নিঝুম দ্বীপের পশ্চিম-দক্ষিণ প্রান্তে চৌধুরীর খাল এলাকা৷ নৌকায় চড়ে নামা বাজারের পাশের খাল ধরে যেতে হবে জায়গাটিতে৷ এ খালটি একেবারে জঙ্গলের গহীনে চলে গেছে৷ নৌকায় কিংবা বনের পাশে কোথাও নিজেদের আড়াল করে চুপচাপ বসে থাকলে প্রচুর হরিণ দেখা সম্ভব৷

সমাজ

অপূর্ব জৌড়ালি

নিঝুম দ্বীপে নদীর চরে এক ঝাঁক জৌড়ালি৷ এ দ্বীপে দেখতে পাওয়া নানান পাখির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো নিশি বক, কানিবক, গোবক, পানকৌড়ি, ধূসর বক, কাদাখোঁচা, বালিহাঁস, লালপা, নানান জাতের মাছরাঙ্গাসহ বিভিন্ন রকম পরিযায়ী পাখি ইত্যাদি৷

সমাজ

বিপন্ন দেশি গাঙচষা

নিঝুম দ্বীপের পূর্ব পাশে জেগে ওঠা দমার চরের আকাশে এক ঝাঁক ইন্ডিয়ান স্কিমার বা দেশী গাঙচষা৷ জলচর নানান পাখির নিরাপদ আবাসস্থল এই চর৷ তবে দমার চরের প্রধান আকর্ষণ এই দেশী গাঙচষা৷ এই চরই মহা বিপন্ন এই পাখিটির বাংলাদেশে অন্যতম আবাসস্থল৷

সমাজ

কালো মাথা কাস্তেচরা

নিঝুম দ্বীপের চরে ব্ল্যাক হেডেড আইবিস, বাংলায় পাখিটির নাম ‘কালো মাথা কাস্তেচরা’৷ বিরল এই পাখিটিও নিঝুম দ্বীপের চরে দেখা যায় শীতকালে৷

সমাজ

সরকারি নজরদারির অভাব

জনপ্রিয় এই পর্যটন কেন্দ্রটিতে সরকারি নজরদারি নেই বললেই চলে৷

প্রকৃতিতে সবচেয়ে বড় প্রবৃত্তি সম্ভবত বাঁচার প্রবৃত্তি, তবুও একটা মোষের আকারের হরিণ যে তার সর্বশক্তি প্রয়োগ করে একটা কুমিরকে হেঁচড়ে ডাঙায় তুলে নিয়ে যেতে পারে, এটা না দেখলে বিশ্বাস করা শক্ত৷ চিকণ পায়ের নড়ি ছিঁড়ে যে পা'টা কুমিরের মুখে থেকে যায়নি, তা থেকে প্রমাণ হয়, প্রকৃতি এই অবোধ প্রাণীদের কী পরিমাণ শক্তি – ও সহ্যশক্তি – দিয়ে থাকে৷ একদিকে পায়ের যন্ত্রণা, অন্যদিকে নাছোড়বান্দা কুমির, কাজেই ধীরে ধীরে নু'টিকে জলের ভিতরে টেনে নিয়ে যাচ্ছে কুমির; প্রথমে চুবিয়ে মারবে, তারপর পাক খেয়ে খেয়ে শরীরটাকে টুকরো টুকরো করে গলাধঃকরণ করবে৷

মিনিট দুয়েকের অসম যুদ্ধের পর হঠাৎই উদয় হলো জলাশয়ের আসল বাসিন্দারা – যাকে বলে কিনা পাড়ার মস্তান! আর কিছু নয়, দু'টি জলহস্তি৷ উইল্ডেবিস্ট বাঁচল না মরল, তাতে তাদের কিছু আসে যায় না৷ কিন্তু ‘তাদের’ পানিতে যে কোনো এক বেটা কুমির যথেচ্ছ শিকার ধরবে, এ তো চলতে পারে না৷

জলহস্তিরা ধেয়ে আসতেই নু'টাকে ছেড়ে জলে গা ঢাকা দিল বেচারা কুমির৷ তার জন্য চিন্তা করার কোনো কারণ নেই, কেননা কুমিররা নাকি দু'বছর অবধি না খেয়ে থাকতে পারে৷ আর নু'টা যে ঠিক পার পেল, এমন বলা চলে না, কেননা তার পা'টা শুধু ভাঙা নয়, প্রায় বাকি পা থেকে আলাদা হয়ে গেছে, সে খোঁড়াচ্ছে৷ এই অবস্থায় সে দলের সাথে পাল্লা দিয়ে চলতে পারবে না, অন্য কোনো জল্লাদ তেড়ে এলে দৌড়ে পালাতে পারবে না৷

আফ্রিকার তৃণভূমিতে কমেডি আর ট্র্যাজেডির মধ্যে কোনো ফারাক নেই৷ আর মৃত্যুর বিরুদ্ধে জীবনের জয় তো চিরকালই ক্ষণিকের৷ তাই বলে কি আর ৩৪ লাখ ৩৮ হাজার মানুষ (ভিডিওটির ভিউয়ার) উইল্ডেবিস্ট-এর অযাচিত পরিত্রাণে হর্ষ বোধ করবেন না?

এসি/ডিজি

ভল্লুকের থাবা

ভল্লুকের পিত্ত ওষুধ তৈরিতে কাজে লাগে৷ এছাড়া তাদের থাবা খাবার হিসেবে খেয়ে থাকেন এশিয়ার কয়েকটি দেশের মানুষ৷

কচ্ছপের খোলস

কয়েক শতাব্দী আগে কচ্ছপের খোলস দিয়ে অলংকার, শিল্পকর্ম, চুলের অ্যাকসেসরিজ ইত্যাদি তৈরি করা হতো৷ এ কাজে সাধারণত ‘হকসবিল’ কচ্ছপের খোলস ব্যবহৃত হতো৷ ফলে ধীরে ধীরে ঐ কচ্ছপের বিলুপ্তি ঘটছিল৷ তাদের বাঁচাতে ১৯৭৩ সালে কচ্ছপের খোলসের ব্যবসার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলেও বিশ্বের অনেক অঞ্চলে এখনও তা চলছে৷

নপুংসকতার চিকিৎসায় বাঘের হাড়

চীনে আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে বাঘের চামড়ার কদর আছে৷ এর বাইরে বাঘের হাড় দিয়ে ওয়াইন তৈরি করা হয়৷ নপুংসকতা ও বাতের চিকিৎসায়ও বাঘের হাড় ব্যবহৃত হয়৷

হাঙরের ডানা

স্যুপ হিসেবে খাওয়ার জন্য হাঙরের ডানা কেটে নেয়া হয়৷ কিন্তু হাঙরের মাংসের যেহেতু কোনো কদর নেই, তাই ডানা কাটা অবস্থাতেই হাঙরগুলোকে সাগরে ছেড়ে দেয়া হয়৷ কিন্তু ডানা না থাকায় হাঙরের পক্ষে সাঁতার কাটা সম্ভব হয় না৷ ফলে সাগরে নামিয়ে দেয়ার কয়েকদিনের মধ্যে কষ্ট পেয়ে প্রাণ হারায় সে৷

চিতার ত্বক

মধ্য এশিয়া, পূর্ব ইউরোপ আর রাশিয়ায় পোশাক তৈরিতে চিতার চামড়ার ব্যবহার আছে৷ এছাড়া বাঘের মতো চিতার হাড়ও এশিয়ায় ওষুধ তৈরিতে কাজে লাগে৷

হরিণের লালাগ্রন্থি

সুন্দর গন্ধের জন্য পারফিউম তৈরিতে হরিণের লালাগ্রন্থি ব্যবহৃত হয়৷ লালাগ্রন্থি সংগ্রহ করতে হরিণকে মারার প্রয়োজন না হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সেটিই করা হয়৷

ধনেশ পাখির শিং, পালক

ছবিটি রাইনোসেরোস গোত্রের ধনেশ পাখির৷ পোষা প্রাণী হিসেবে তাদের ব্যবহার আছে৷ এছাড়া তাদের পালকও অনেক কাজে লাগে৷ হেলমেটেড ধনেশের শিং হাতির দাঁতের মতোই মূল্যবান৷