1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

জাতিসংঘে ট্রাম্প-শি জিনপিংয়ের উত্তপ্ত বক্তৃতা

২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০

জাতিসংঘের সাধারণ সভায় বক্তৃতা করলেন অ্যামেরিকা এবং চীনের প্রেসিডেন্ট। দুইজনেই বক্তৃতায় একে অপরের দিকে আঙুল তুলেছেন।

https://p.dw.com/p/3irlH
ছবি: UNTV/AP/picture alliance

একদিকে করোনার প্রকোপ। অন্যদিকে তা নিয়ে বাকযুদ্ধ। জাতিসংঘের সাধারণ সভায় ফের একে অপরের দিকে আঙুল তুলল অ্যামেরিকা এবং চীন। ভার্চুয়াল মিটিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বললেন, অ্যামেরিকার 'দাদাগিরি' করার অধিকার নেই।অন্য দিকে, ডনাল্ড ট্রাম্প স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে ফের বললেন, চীনের গাফিলতিতেই গোটা বিশ্বে করোনা ছড়িয়ে গিয়েছে।

প্রতি বছরের মতো এ বার জাতিসংঘের সাধারণ সভার বৈঠক হয়নি। করোনার কারণে বৈঠকের অধিকাংশ ব্যবস্থাই করা হয়েছিল অনলাইন। নিউ ইয়র্কে মূল অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা হয়েছিল। প্রতিটি দেশ থেকে একজন করে প্রতিনিধি বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন। সেখানেই বক্তৃতা দিয়েছেন শি জিনপিং এবং ট্রাম্প।

করোনার গোড়া থেকেই ট্রাম্প বিশ্বে এই ভাইরাস ছড়িয়ে যাওয়ার জন্য চীনকে দায়ী করছিলেন। এ দিনও নিজের বক্তৃতায় ট্রাম্প বলেন, করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার পরে চীন দেশের ভিতর ফ্লাইট বন্ধ করে দিয়েছিল। লকডাউনও করেছিল। কিন্তু চীন থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ করেনি। সে কারণেই সেখান থেকে বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে করোনা ভাইরাস। চীন চাইলে এ ঘটনা আটকাতে পারতো। ট্রাম্পের বক্তব্য, করোনার জন্য চীনকে দায় স্বীকার করতেই হবে।

যদিও বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, জাতিসংঘের জন্য নয়, ট্রাম্প মঙ্গলবার বক্তৃতা করেছেন ভোটের কথা মাথায় রেখে। এই মুহূর্তে অ্যামেরিকায় করোনা মৃত্যুর সংখ্যা দুই লাখে পৌঁছেছে। দেশের ভিতর প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা প্রতিদিন কমছে। অনেকেই বলছেন, করোনা মোকাবিলায় ট্রাম্প সম্পূর্ণ ব্যর্থ। এই পরিস্থিতিতে খানিকটা গ্যালারির জন্যই বক্তৃতা করেছেন ট্রাম্প। বলেছেন, নিজের কৃতিত্বের কথাও।

অন্য দিকে চীনের প্রেসিডেন্ট তাঁর বক্তৃতায় বলেছেন, ''অ্যামেরিকা যে ভাবে গোটা বিশ্বের সঙ্গে দাদাগিরি করার চেষ্টা করছে, তা ঠিক নয়।'' আন্তর্জাতিক বাজারে অ্যামেরিকার হস্তক্ষেপ নিয়েও সরব হয়েছেন তিনি। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, 'হট ওয়ার' বা 'কোল্ড ওয়ার' কোনও যুদ্ধেই যাওয়ার কোনও ইচ্ছে চীনের আপাতত নেই। প্রতিবেশীদের সঙ্গে সমস্যা আলোচনার মাধ্যমেই মেটানো হবে। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, সম্প্রতি লাদাখ প্রসঙ্গে ভারতের সঙ্গে চীনের যে সংঘাত চলছে, তা মাথায় রেখেই এ কথা বলেছেন শি জিনপিং। তাইওয়ানের কথাও মাথায় রেখেছেন। বস্তুত, এ ক্ষেত্রেও অ্যামেরিকা তাইওয়ান এবং ভারতের সমর্থনে কথা বলেছে। ফলে যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে শি জিনপিং ডনাল্ড ট্রাম্পকেও বার্তা দিয়েছেন বলে অনেক বিশেষজ্ঞের বক্তব্য।

এসজি/জিএইচ (রয়টার্স, এপি)