জার্মানিতে অশনি সংকেত, উদ্বিগ্ন বিশ্ব

জার্মানির সবচেয়ে জনবিরল রাজ্য৷ অথচ সেই রাজ্যের সরকার নির্বাচন আন্তর্জাতিক শিরোনাম হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ প্রশ্ন উঠছে, ইউরোপের অন্য অনেক দেশের মতো জার্মানির মানুষও কি চরম দক্ষিণপন্থি শিবিরের দিকে ঝুঁকে পড়ছে?

জার্মানির উত্তর-পূর্বের রাজ্য মেকলেনবুর্গ ফোয়রপমার্ন৷ যে দুই বড় দলের মহাজোট সরকার জার্মানি শাসন করছে, সেই সামাজিক গণতন্ত্রী ও খ্রীষ্টান গণতন্ত্রীরাই সেই রাজ্যে ক্ষমতার শীর্ষে ছিল৷ মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত জনপ্রিয়৷ গত কয়েক বছরে অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ইত্যাদির যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে৷ মানুষ তাতে বেশ সন্তুষ্ট৷ অথচ রবিবার রাজ্য সরকার বাছাইয়ের সময় ভোটারদের একটা বড় অংশ তাঁদের ক্ষোভ উগরে দিলেন৷ সেই ক্ষোভের বলি হলো সরকার-বিরোধী মিলিয়ে প্রায় সব রাজনৈতিক দল৷ তারা সবাই উল্লেখযোগ্য মাত্রায় সমর্থন হারিয়েছে৷ ক্ষমতাসীন জোটের প্রধান শরিক এসপিডি সবচেয়ে বেশি ভোট পেলেও অন্য শরিক সিডিইউ দল তৃতীয় বৃহত্তম শক্তি হিসেবে দুর্বল হয়ে পড়েছে৷ বিরোধী শিবিরও ছারখার৷ উদারপন্থি ও সবুজ দল সংসদে প্রবেশ করতে পারেনি৷ চরম দক্ষিণপন্থি এনপিডি দলও পারেনি৷ এমনকি বামপন্থি দলও বিপুল সমর্থন হারিয়েছে৷

এমন ঘটনা গণতান্ত্রিক নির্বাচনে ঘটতেই পারে৷ কিন্তু মূল স্রোতের সব দলের ভরাডুবি ঘটিয়ে যে দল দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে, তার নাম এএফডি – অর্থাৎ ‘জার্মানির জন্য বিকল্প'৷ রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি মানুষের প্রতিবাদের ফায়দা তুলতে সক্ষম হয়েছে নতুন এই দলটি৷ কাগজে-কলমে চরম দক্ষিণপন্থি না হলেও কথাবার্তা ও কাজেকর্মে তারা বিদেশি ও ইসলাম বিদ্বেষের নানা দৃষ্টান্ত দেখিয়ে আসছে৷

এই ক্ষোভের লক্ষ্য বার্লিন৷ আরও স্পষ্টভাবে বলতে গেলে জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের শরণার্থী নীতি৷ নির্বাচনের দিনটিও কম প্রতীকী ছিল না৷ ঠিক এক বছর আগে ম্যার্কেল শরণার্থীদের জন্য উদার নীতি ঘোষণা করেছিলেন৷ বলেছিলেন, ‘ভিয়ার শাফেন ডাস৷' অর্থাৎ আমরা অবশ্যই সামলাতে পারবো৷ প্রথম ধাক্কায় বিশাল সংখ্যক শরণার্থী জার্মানিতে প্রবেশ করলেও নানা পদক্ষেপ ও কড়া আইনের মাধ্যমে জার্মানির দ্বার পেরোনো আর সহজ নয়৷

তা সত্ত্বেও জনমানসে ম্যার্কেলের উদার নীতি আতঙ্কের কারণ রয়ে গেছে৷ এতটাই যে অতি নগণ্য সংখ্যক শরণার্থী এবং গোটা দেশে সবচেয়ে কম অনুপাতে বিদেশি বা বিদেশি বংশোদ্ভূত মানুষ থাকা সত্ত্বেও মেকলেনবুর্গ ফোয়রপমার্ন-এর ভোটাররা বোরখার উপর নিষেধাজ্ঞার মতো বিষয় নিয়ে উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলেন৷ অথচ সেই রাজ্যে কাউকে বোরখা পরতে দেখা যায়নি৷

তাহলে কি রবিবার এএফডি-র সাফল্য বিচ্ছিন্ন ঘটনা? তেমনটা বলা যাচ্ছে না৷ কারণ, এই নিয়ে পর পর ৯টি রাজ্যে ভালো ফল করে বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে এএফডি, অর্থাৎ ‘জার্মানির জন্য বিকল্প' দল৷

Infografik Wahlergebnisse der AfD 2013 - 2016 ENG

তা ছাড়া শুধু প্রান্তিক দক্ষিণপন্থি মানুষ নয় – মূল স্রোতের সব দলের ভোটার টানতে সক্ষম হচ্ছে এই দলটি৷ এমনকি দলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে ক্রমাগত কোন্দলের ফলে সংগঠনে অরাজকতা সত্ত্বেও সমর্থন হারাচ্ছে না তারা৷

জার্মানিতে সংসদ নির্বাচনের মাত্র এক বছর বাকি৷ জনমত সমীক্ষায় চ্যান্সেলর ম্যার্কেল সমর্থন হারাচ্ছেন৷ অন্য অনেক ক্ষেত্রে সরকারের সাফল্য ঢেকে দিচ্ছে শরণার্থী ও বিদেশি বিষয়ক নীতি৷ নিজের দলের একাংশ এবং বাভেরিয়ায় তাঁর সহযোগী সিএসইউ দলও তাঁর শরণার্থী নীতির সমালোচনা করে চলেছে৷ ঘরে-বাইরে এই বিপুল ক্ষোভের ধাক্কা সামলানো আঙ্গেলা ম্যার্কেলের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে পর্যবেক্ষকেরা মনে করছেন৷

মেসিডোনিয়ায় পৌঁছানোর পর সার্বিয়ার সীমান্ত পর্যন্ত যেতে অনেকটা পথ হাঁটতে হয়েছে হামবারকে৷ হেঁটে কোনো শহরে পৌঁছালেই শুরু হতো ইন্টারনেট ক্যাফে খুঁজে বের করার চেষ্টা৷ পেলে প্রথম কাজ কোথায় আছেন, কেমন আছেন সে সম্পর্কে পরিবারকে বিস্তারিত জানানো৷ একা এসেছেন, তাই স্বজনদের তাঁর জন্য খুব চিন্তা৷ তাঁদের চিন্তা দূর করা ও তাঁদের সম্পর্কে জেনে নিজেকে নিশ্চিন্ত রাখতেই পছন্দ করেন হামবার৷

আফগানিস্তান থেকে জার্মানিতে অবশ্য একা আসেনি তোবা৷ দুই বোন এবং তাঁদের স্বামীও এসেছেন সঙ্গে৷ কাছের এই মানুষগুলো সঙ্গে থাকার কারণেই ইরান, তুরস্ক, গ্রিস এবং বলকান অঞ্চল হয়ে জার্মানিতে পৌঁছাতে পেরেছে তোবা৷

আহমেদ-হেবা দম্পতির এই মেয়েটিও এসেছে জার্মানিতে৷ মাত্র এক বছর বয়সেই শুরু হয়েছে তার প্রবাসজীবন৷ ওর বাবা অবশ্য যুদ্ধ থামলেই ফিরে যেতে চায় সিরিয়ায়৷

জার্মানির উত্তর-পূর্বের রাজ্য মেকলেনবুর্গ ফোয়রপমার্ন৷ যে দুই বড় দলের মহাজোট সরকার জার্মানি শাসন করছে, সেই সামাজিক গণতন্ত্রী ও খ্রীষ্টান গণতন্ত্রীরাই সেই রাজ্যে ক্ষমতার শীর্ষে ছিল৷ মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত জনপ্রিয়৷ গত কয়েক বছরে অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ইত্যাদির যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে৷ মানুষ তাতে বেশ সন্তুষ্ট৷ অথচ রবিবার রাজ্য সরকার বাছাইয়ের সময় ভোটারদের একটা বড় অংশ তাঁদের ক্ষোভ উগরে দিলেন৷ সেই ক্ষোভের বলি হলো সরকার-বিরোধী মিলিয়ে প্রায় সব রাজনৈতিক দল৷ তারা সবাই উল্লেখযোগ্য মাত্রায় সমর্থন হারিয়েছে৷ ক্ষমতাসীন জোটের প্রধান শরিক এসপিডি সবচেয়ে বেশি ভোট পেলেও অন্য শরিক সিডিইউ দল তৃতীয় বৃহত্তম শক্তি হিসেবে দুর্বল হয়ে পড়েছে৷ বিরোধী শিবিরও ছারখার৷ উদারপন্থি ও সবুজ দল সংসদে প্রবেশ করতে পারেনি৷ চরম দক্ষিণপন্থি এনপিডি দলও পারেনি৷ এমনকি বামপন্থি দলও বিপুল সমর্থন হারিয়েছে৷

এমন ঘটনা গণতান্ত্রিক নির্বাচনে ঘটতেই পারে৷ কিন্তু মূল স্রোতের সব দলের ভরাডুবি ঘটিয়ে যে দল দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে, তার নাম এএফডি – অর্থাৎ ‘জার্মানির জন্য বিকল্প'৷ রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি মানুষের প্রতিবাদের ফায়দা তুলতে সক্ষম হয়েছে নতুন এই দলটি৷ কাগজে-কলমে চরম দক্ষিণপন্থি না হলেও কথাবার্তা ও কাজেকর্মে তারা বিদেশি ও ইসলাম বিদ্বেষের নানা দৃষ্টান্ত দেখিয়ে আসছে৷

এই ক্ষোভের লক্ষ্য বার্লিন৷ আরও স্পষ্টভাবে বলতে গেলে জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের শরণার্থী নীতি৷ নির্বাচনের দিনটিও কম প্রতীকী ছিল না৷ ঠিক এক বছর আগে ম্যার্কেল শরণার্থীদের জন্য উদার নীতি ঘোষণা করেছিলেন৷ বলেছিলেন, ‘ভিয়ার শাফেন ডাস৷' অর্থাৎ আমরা অবশ্যই সামলাতে পারবো৷ প্রথম ধাক্কায় বিশাল সংখ্যক শরণার্থী জার্মানিতে প্রবেশ করলেও নানা পদক্ষেপ ও কড়া আইনের মাধ্যমে জার্মানির দ্বার পেরোনো আর সহজ নয়৷

তা সত্ত্বেও জনমানসে ম্যার্কেলের উদার নীতি আতঙ্কের কারণ রয়ে গেছে৷ এতটাই যে অতি নগণ্য সংখ্যক শরণার্থী এবং গোটা দেশে সবচেয়ে কম অনুপাতে বিদেশি বা বিদেশি বংশোদ্ভূত মানুষ থাকা সত্ত্বেও মেকলেনবুর্গ ফোয়রপমার্ন-এর ভোটাররা বোরখার উপর নিষেধাজ্ঞার মতো বিষয় নিয়ে উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলেন৷ অথচ সেই রাজ্যে কাউকে বোরখা পরতে দেখা যায়নি৷

তাহলে কি রবিবার এএফডি-র সাফল্য বিচ্ছিন্ন ঘটনা? তেমনটা বলা যাচ্ছে না৷ কারণ, এই নিয়ে পর পর ৯টি রাজ্যে ভালো ফল করে বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে এএফডি, অর্থাৎ ‘জার্মানির জন্য বিকল্প' দল৷

Infografik Wahlergebnisse der AfD 2013 - 2016 ENG

তা ছাড়া শুধু প্রান্তিক দক্ষিণপন্থি মানুষ নয় – মূল স্রোতের সব দলের ভোটার টানতে সক্ষম হচ্ছে এই দলটি৷ এমনকি দলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে ক্রমাগত কোন্দলের ফলে সংগঠনে অরাজকতা সত্ত্বেও সমর্থন হারাচ্ছে না তারা৷

জার্মানিতে সংসদ নির্বাচনের মাত্র এক বছর বাকি৷ জনমত সমীক্ষায় চ্যান্সেলর ম্যার্কেল সমর্থন হারাচ্ছেন৷ অন্য অনেক ক্ষেত্রে সরকারের সাফল্য ঢেকে দিচ্ছে শরণার্থী ও বিদেশি বিষয়ক নীতি৷ নিজের দলের একাংশ এবং বাভেরিয়ায় তাঁর সহযোগী সিএসইউ দলও তাঁর শরণার্থী নীতির সমালোচনা করে চলেছে৷ ঘরে-বাইরে এই বিপুল ক্ষোভের ধাক্কা সামলানো আঙ্গেলা ম্যার্কেলের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে পর্যবেক্ষকেরা মনে করছেন৷

চিকিৎসক থেকে শরণার্থী

সিরিয়ায় রাজধানী দামেস্কে চিকিৎসক হিসেবে ভালোই ছিলেন হামবার আল-ইসা৷ কিন্তু যুদ্ধ শুরুর পর জন্মভূমির সব সুখ ছেড়ে ইউরোপের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমাতে হয় তাঁকে৷

অনেক পথ পেরিয়ে...

মেসিডোনিয়ায় পৌঁছানোর পর সার্বিয়ার সীমান্ত পর্যন্ত যেতে অনেকটা পথ হাঁটতে হয়েছে হামবারকে৷ হেঁটে কোনো শহরে পৌঁছালেই শুরু হতো ইন্টারনেট ক্যাফে খুঁজে বের করার চেষ্টা৷ পেলে প্রথম কাজ কোথায় আছেন, কেমন আছেন সে সম্পর্কে পরিবারকে বিস্তারিত জানানো৷ একা এসেছেন, তাই স্বজনদের তাঁর জন্য খুব চিন্তা৷ তাঁদের চিন্তা দূর করা ও তাঁদের সম্পর্কে জেনে নিজেকে নিশ্চিন্ত রাখতেই পছন্দ করেন হামবার৷

অবশেষে জার্মানিতে...

অনেক দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে অবশেষে জার্মানিতে পৌঁছেছেন হামবার৷ সিরিয়াতে সার্জন হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও নতুন দেশে চাইলেই তো আর চিকিৎসক হিসেবে কাজ শুরু করা যায় না৷ জার্মান ভাষা শিখে নিজেকে তৈরি করতে হবে সবার আগে৷ সেই চেষ্টা চলছে৷ পাশাপাশি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে অনুবাদকের কাজও করছেন৷ তাঁর স্বপ্ন অবশ্য জার্মানিতে বসবাস করা নয়৷ সুসময় ফিরে এলে নিজের দেশেই ফিরতে চান হামবার৷

দেশান্তরী এক আফগান কিশোরী

তোবার বয়স এখন ১৬ বছর৷ আফগানিস্তানের হেরাত থেকে জার্মানিতে এসেছে সে৷ হেরাতে নিয়মিত স্কুলে যেত সে৷ লেখাপড়া করেই প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্নও দেখতো৷ কিন্তু তালেবান বেছে বেছে মেয়েদের স্কুলে হামলা শুরু করায় তোবার পক্ষেও আর দেশে থাকা সম্ভব হয়নি৷

সপরিবারে জার্মানিতে

আফগানিস্তান থেকে জার্মানিতে অবশ্য একা আসেনি তোবা৷ দুই বোন এবং তাঁদের স্বামীও এসেছেন সঙ্গে৷ কাছের এই মানুষগুলো সঙ্গে থাকার কারণেই ইরান, তুরস্ক, গ্রিস এবং বলকান অঞ্চল হয়ে জার্মানিতে পৌঁছাতে পেরেছে তোবা৷

দুঃস্বপ্নে পোড়া স্কুল, স্বপ্নে সুন্দর আগামী

তালেবান হামলা থেকে বাঁচতে আফগানিস্তান ছেড়ে এলেও স্বনির্ভর হওয়ার স্বপ্ন কিন্তু ছাড়েনি তোবা৷ নিজেকে নতুন করে তৈরি করছে সে৷ জার্মান ভাষা শিখছে৷ স্বাবলম্বী হতে হলে জার্মানিতে ভাষা শেখাটা তো সবার জন্যই জরুরি৷

এক সাংবাদিকের পরিবার

ওপরের ছবির তিনজন জার্মানিতে এসেছেন সিরিয়ার ইদলিব থেকে৷ আহমেদ (মাঝখানে)-এর সঙ্গে তাঁর স্ত্রী হেবা এবং বন্ধু সালেহ৷ সিরিয়ায় সাংবাদিক হিসেবে বেশ কিছুদিন কাজ করেছেন আহমেদ৷

শৈশবেই প্রবাসী

আহমেদ-হেবা দম্পতির এই মেয়েটিও এসেছে জার্মানিতে৷ মাত্র এক বছর বয়সেই শুরু হয়েছে তার প্রবাসজীবন৷ ওর বাবা অবশ্য যুদ্ধ থামলেই ফিরে যেতে চায় সিরিয়ায়৷

এসবি/এসিবি (ডিপিএ, এপি)

সংশ্লিষ্ট বিষয়