জার্মানিতে কিছু ক্ষেত্রে বোরকা নিষিদ্ধ হতে পারে

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টোমাস ডেমেজিয়ের রাজ্য পর্যায়ের অপরাপর সিডিইউ-সিএসইউ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকের পর জানিয়েছেন যে, আংশিক বোরকা নিষেধের প্রচেষ্টা করা হবে, কিন্তু দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকবে৷

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টোমাস ডেমেজিয়ের রাজ্য পর্যায়ের অপরাপর সিডিইউ-সিএসইউ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকের পর জানিয়েছেন যে, আংশিক বোরকা নিষেধের প্রচেষ্টা করা হবে, কিন্তু দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকবে৷

শুক্রবার অনেক রাত অবধি বৈঠক চলে৷ পরে ডেমেজিয়ের জার্মান টেলিভিশনে বলেন যে, বোরকা নিষেধ ও দ্বিবিধ নাগরিকত্বের ব্যাপারে একটি যৌথ অবস্থানে আসা সম্ভব হয়েছে৷ জনজীবনের বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে বোরকা পরিধান নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে৷

‘‘আমরা সকলেই বোরকা প্রত্যাখ্যান করি,'' বলেন ডেমেজিয়ের, ‘‘আমাদের মুক্ত সমাজে বোরকা ঠিক খাপ খায় না৷'' দৃশ্যত বোরকা নিষেধ কিভাবে বাস্তবে বলবৎ করা হবে তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে৷ সিডিইউ-সিএসইউ দলের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা এ-বিষয়ে একমত যে, ‘‘সমাজজীবনে যেখানে মুখাবয়ব প্রদর্শন করা প্রয়োজন, সেখানে মুখ না ঢাকা বাধ্যতামূলক করে আইন প্রণয়ন করা হবে৷''

যেসব দেশে বোরকা নিষিদ্ধ, যেখানে চলেছে আলোচনা

ফ্রান্স

ফ্রান্স ইউরোপের প্রথম দেশ, যেখানে বোরকা আইন করে নিষিদ্ধ করা হয়৷ ফ্রান্সে ৫০ লাখ মুসলমানের বাস৷ ২০১১ সালের ১১ এপ্রিল এই আইন কার্যকর হয়৷ বোরকা বা নেকাব পড়লে জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে আইনে৷

যেসব দেশে বোরকা নিষিদ্ধ, যেখানে চলেছে আলোচনা

বেলজিয়াম

২০১১ সালের জুলাইয়ে বেলজিয়ামেও নেকাব নিষিদ্ধ হয়৷ অর্থাৎ কোনো নারী তার পুরো মুখ কাপড়ে ঢেকে রাখতে পারবে না৷

যেসব দেশে বোরকা নিষিদ্ধ, যেখানে চলেছে আলোচনা

নেদারল্যান্ডস

নেদারল্যান্ডসে ২০১৫ সালে আইন করে বোরকা নিষিদ্ধ করা হয়৷ বিশেষ করে জনসমক্ষে, অর্থাৎ স্কুল, হাসপাতাল ইত্যাদির মতো জায়গায বোরকা ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে৷

যেসব দেশে বোরকা নিষিদ্ধ, যেখানে চলেছে আলোচনা

স্পেন

পুরো স্পেনে নয়, বার্সেলোনা শহর কর্তৃপক্ষ সেখানে বোরকা নিষিদ্ধ করেছে৷

যেসব দেশে বোরকা নিষিদ্ধ, যেখানে চলেছে আলোচনা

ব্রিটেন

ব্রিটেনে প্রচুর মুসলিমের বাস, তাই সেখানে কোনো ইসলামি পোশাকের ওপর নিষেধাজ্ঞা নেই৷ তবে স্কুলগুলোতে নির্দিষ্ট পোশাক পরতে হয়৷ ২০০৭ সালে বেশ কয়েকটি মামলার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ ঠিক করে, স্কুলে কেউ বোরকা বা নেকাব পরতে পারবে না৷

যেসব দেশে বোরকা নিষিদ্ধ, যেখানে চলেছে আলোচনা

সুইজারল্যান্ড

২০১৩ সালে সুইজারল্যান্ডের ইটালীয় ভাষাভাষীদের এলাকা টিসিনোতে বোরকা নিষিদ্ধের ওপর ভোট হয়৷ নিষিদ্ধ করার পক্ষে পড়ে ৬৫ শতাংশ ভোট৷ এরপর ২৬টি শহরে বোরকা নিষিদ্ধ হয়৷ চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে লুগানো, লোকারনো, মাগাদিনোসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় বোরকা নিষিদ্ধ হয়৷ কেউ জনসমক্ষে বোরকা পড়লে ৯ হাজার ২০০ ইউরো পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে তাঁর৷

যেসব দেশে বোরকা নিষিদ্ধ, যেখানে চলেছে আলোচনা

ইটালি

ইটালির বেশ কয়েকটি শহরে নেকাব নিষিদ্ধ৷ উত্তর পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর নোভারা কর্তৃপক্ষ সেখানে আইন করে বোরকা নিষিদ্ধ করেছে৷ ৭০-এর দশকেই মুখ ঢেকে রাখা সব ধরনের ইসলামিক পোশাকের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে ইটালি৷

যেসব দেশে বোরকা নিষিদ্ধ, যেখানে চলেছে আলোচনা

অস্ট্রিয়া

দেশটির ক্ষমতাসীন জোট সরকার প্রকাশ্য স্থানে পুরো মুখ ঢাকা নিকাব নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে একমত হয়েছে৷ স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালতে নিকাব পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করতে একমত হয়েছে সরকারের শরিক দলগুলোও৷ এছাড়া যাঁরা সরকারি চাকরি করেন, তাঁদের মাথায় স্কার্ফ, হিজাব কিংবা অন্যান্য ধর্মীয় প্রতীক পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথাও বিবেচনা করছে সরকার৷

যেসব দেশে বোরকা নিষিদ্ধ, যেখানে চলেছে আলোচনা

জার্মানি

জার্মানির রক্ষণশীল রাজনীতিকদের মধ্যে বোরকা নিষিদ্ধ করার দাবি উঠেছে৷ সিডিইউ দলের একাধিক রাজনীতিক স্কুল, সরকারি অফিস, আদালতকক্ষ ও গাড়ি চালানোর সময় বোরকা ও গোটা মুখ ঢাকা নিকাব পরা নিষিদ্ধ করতে চান৷ সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় তিন-চতুর্থাংশ জার্মানও প্রকাশ্যে বোরকাধারী মহিলাদের দেখতে নারাজ৷ এমনকি সম্প্রতি চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলও পুরো মুখ ঢাকা নিকাব নিষিদ্ধ করার পক্ষ তাঁর সায় দিয়েছেন৷

গাড়ি চালানোর সময়, সরকারি কার্যালয়ে যাবার সময়, স্কুল-কলেজে-বিশ্ববিদ্যালয়ে, সরকারি চাকুরিতে বা আদালতে মুখ ঢাকা নিষিদ্ধ করার কথা ভাবা হচ্ছে, বলে ডেমেজিয়ের জানান৷ দৃশ্যত জোট সহযোগী এসপিডি দল অথবা জার্মান সংসদের উচ্চকক্ষ বুন্ডেসরাটেও এ বিষয়ে ঐকমত্যের সম্ভাবনা আছে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশ্বাস৷

‘ঢালাওভাবে দ্বিবিধ নাগরিকত্ব নয়, ব্যতিক্রম হিসেবে'

দ্বিবিধ বা দ্বৈত নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে আইনগত পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকবে বলে ডেমেজিয়ের জানান৷ যেসব বিদেশি বা বহিরাগতদের সন্তান জার্মানিতে জন্মগ্রহণ করেছেন, কিন্তু তাদের বাবা-মায়ের আজও বিদেশি নাগরিকত্ব রয়েছে, তারা পূর্বাপর দ্বিবিধ নাগরিকত্বের সুযোগ পাবেন৷ কিন্তু তারপরের প্রজন্ম আর এই সুযোগ পাবে না৷ বংশানুক্রমে দ্বিবিধ নাগরিকত্ব চলতে দেওয়া হবে না৷

বাভারিয়ায় সর্বাধুনিক সন্ত্রাসী আক্রমণের পরপরই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জার্মানিতে পুলিশ ও নিরাপত্তা বিভাগের কর্মীদের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেন৷ এছাড়া নিরাপত্তা সংক্রান্ত আইন আরো কড়া করার কথা ভাবা হচ্ছে; বিদেশি-বহিরাগত ও উদ্বাস্তুদের ক্ষেত্রেও ক্ষেত্রবিশেষে কড়াকড়ি বাড়বে৷

‘বোরকা নিষেধ' কথাটি জার্মানির ক্ষেত্রে কতটা প্রযোজ্য, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে, কারণ আফগানিস্তান অথবা পাকিস্তানে যেমন চোখও জালের পিছনে ঢাকা থাকে, সে ধরনের বোরখা জার্মানিতে প্রায় চোখে পড়ে না৷ জার্মানিতে যা চোখে পড়ে তা হলো, নিকাব, যা পরলে চোখ দেখা যায়৷

পোশাক নিয়ে ইরানি মহিলাদের চোর-পুলিশ খেলা

মাথার চুল দেখানো চলবে না

১৯৭৯ সালের পর থেকে ইরানের শাসকবর্গ মহিলাদের ‘শালীন’ পোশাক-আশাক পরিধানের নির্দেশ দিয়েছেন৷ এই ‘ড্রেস কোড’ অনুযায়ী মহিলাদের মাথার চুল পুরোপুরি ঢাকা থাকতে হবে; লম্বা ঢোলা পাতলুন আর ওভারকোট পড়তে হবে; সেগুলো যতদূর সম্ভব কালো বা ছাই রঙের হলেই ভালো৷

পোশাক নিয়ে ইরানি মহিলাদের চোর-পুলিশ খেলা

নীরব প্রতিরোধ

প্রায় চার দশকের নিপীড়ন সত্ত্বেও মহিলাদের সাহস অটুট৷ বহু ইরানি মহিলা কড়া ড্রেস কোডের নিজস্ব ব্যাখ্যা করে নিয়েছেন৷ তারা হিজাব আর বোরখা পরেন বটে, তবে নিজেদের মতো করে৷

পোশাক নিয়ে ইরানি মহিলাদের চোর-পুলিশ খেলা

সর্বত্র নিয়ন্ত্রণ

রঙচঙে আর খোলামেলা ফ্যাশন কাম্য নয়৷ প্রতিবছর গরমে পথেঘাটে নৈতিকতার প্রহরীদের নজরদারি বাড়ে৷ বিধিনিয়ম মেনে না চললে, পুলিশ পথ আটকায়, শুরু হয় লম্বা তর্ক-বিতর্ক, বাগবিতণ্ডা...

পোশাক নিয়ে ইরানি মহিলাদের চোর-পুলিশ খেলা

ফলশ্রুতি

‘মরাল পুলিশ’-কে সন্তোষজনক কারণ না দেখাতে পারলে অর্থদণ্ড, এমনকি কারাদণ্ডও হতে পারে৷ আটক মহিলাদের মুচলেকা দিতে হয় যে, তারা ভবিষ্যতে নিয়ম মেনে চলবেন৷ জেলহাজতে থাকাকালীন মহিলাদের জামাকাপড় ছিঁড়ে ফেলে নোংরা কালো ‘চাদর’ পরিয়ে বাড়ি পাঠানো হয়৷

পোশাক নিয়ে ইরানি মহিলাদের চোর-পুলিশ খেলা

রঙচঙে, আঁটোসাটো আর ছোট...

অনেক তরুণী শাস্তির ভয়েও সাজ ছাড়তে রাজি নন৷ নৈতিকতার প্রহরীদের দৌরাত্ম্য সত্ত্বেও কমবয়সি মহিলারা ক্রমেই আরো বেশি করে আধুনিক সাজপোশাকের দিকে ঝুঁকছেন৷ বহু মডেল সোশ্যাল মিডিয়ায় এই হালফ্যাশন পরিবেশন করে থাকেন৷

পোশাক নিয়ে ইরানি মহিলাদের চোর-পুলিশ খেলা

নিপীড়ন সত্ত্বেও ফ্যাশন

ইরানি মডেল শবনম মোলাভি এমনকি মার্কিন ফ্যাশন ম্যাগাজিন ‘এফএসএইচএন’-এর প্রচ্ছদও অলঙ্কৃত করেছেন৷ গত মে মাসে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়, ‘ইসলাম পরিপন্থি সংস্কৃতি’ প্রচারের দায়ে৷ কয়েকদিন পরে তিনি জামিনে ছাড়া পান৷

পোশাক নিয়ে ইরানি মহিলাদের চোর-পুলিশ খেলা

রোহানির আমলেও বোরখা বাধ্যতামূলক

তবে ফ্যাশন সচেতনতাকে অত সহজে নিষিদ্ধ করা যায় না৷ নৈতিকতার প্রহরীদের যাবতীয় উৎপাত ইরানি মহিলাদের ফ্যাশনেবল জামাকাপড় পরার শখ রোধ করতে পারেনি৷

পোশাক নিয়ে ইরানি মহিলাদের চোর-পুলিশ খেলা

নিষ্ফল প্রতিশ্রুতি

প্রেসিডেন্ট হাসান রোহানি ২০১২ সালের নির্বাচনি প্রচার অভিযানে ‘খোলা রাস্তায় হয়রানি’ বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন৷ কিন্তু যে বিশটির বেশি সংস্থা মহিলাদের পোশাক-আশাকের উপর নজর রাখার দায়িত্বে, তাদের একটি বড় অংশ রোহানির নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত৷

পোশাক নিয়ে ইরানি মহিলাদের চোর-পুলিশ খেলা

নৈতিক গোয়েন্দা পুলিশ

২০১৬ সালের এপ্রিল মাস থেকে সরকার নিজেই আরো প্রস্তুতি নিচ্ছে৷ তেহরানের পুলিশ প্রধান জানিয়েছেন যে, মোট সাত হাজার পুরুষ ও মহিলা সাদাপোশাকের গোয়েন্দা পুলিশ হিসেবে মহিলাদের সাজপোশাক ও আচার-ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা শুরু করেছেন৷

পোশাক নিয়ে ইরানি মহিলাদের চোর-পুলিশ খেলা

ইন্টারনেটে সংহতি

গত জুলাই মাসের শেষে ইরানি পুরুষরা #মাইনহিজাব (অর্থাৎ আমার হিজাব) হ্যাশট্যাগ দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি অভিযান শুরু করেন৷ তারা ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম নিজেদের হিজাব পরা অবস্থায় ছবি পোস্ট করে ইরানি মহিলাদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করছেন৷

এসি/এসিবি (ডিপিএ, ইপিডি)

আমাদের অনুসরণ করুন