1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

জোট সরকার গঠনে আগামী সপ্তাহে আলোচনা

৯ অক্টোবর ২০১৭

রবিবার দীর্ঘ আলাপ-আলোচনার পর অভিবাসন প্রসঙ্গে সিএসইউ-এর সঙ্গে আপোশ সম্ভব হওয়ার পর, সবুজ দল ও এফডিপি দলের সঙ্গে আলোচনা শুরু হতে চলেছে আগামী ১৮ই অক্টোবর৷

https://p.dw.com/p/2lVUB
ছবি: picture-alliance/dpa/M. Kappeler

জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল আজ সোমবার এই তথ্য জানিয়েছেন৷ তিনি বলেন,সিডিইউ ও সিএসইউ‘‘(রবিবারের আলোচনার পর) এমন একটি যৌথ ফলাফলে আসতে পেরেছে, যা এফডিপি ও সবুজ দলের সঙ্গে প্রাথমিক আলাপ-আলোচনার উপযোগী ভিত্তি হতে পারবে, বলে আমার ধারণা৷'' বার্লিনে সিএসইউ নেতা হর্স্ট জেহোফার-এর সঙ্গে একটি যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে এসব মন্তব্য করেন ম্যার্কেল৷

টানাপোড়েন

সিডিইউ ও সিএসইউ দলের নেতৃবর্গ রবিবার বার্লিনে মিলিত হন প্রধানত অভিবাসনের ব্যাপারে দুই ইউনিয়ন দলের মধ্যে বোঝাপড়া সৃষ্টির উদ্দেশ্যে – কেননা সিএসইউ অভিবাসীদের সংখ্যা বছরে দু'লাখে সীমিত করার দাবি জানিয়ে আসছে৷ অপরদিকে ম্যার্কেল গোড়া থেকেই সিএসইউ নেতা হর্স্ট জেহোফার-এর এই পরিকল্পনার বিরোধী৷ ম্যার্কেলের মতে অভিবাসী, বস্তুত রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের সংখ্যা বেঁধে দেওয়া অসাংবিধানিক কাজ হবে৷

সেপ্টেম্বরের নির্বাচনের পর সিডিইউ-সিএসইউ দলকে এখন জোট সরকার গঠন করতে হবে৷ এখনকার জোট সহযোগী এসপিডি দল এবার বিরোধীপক্ষে যাবার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর ম্যার্কেলকে এখন মুক্ত গণতন্ত্রী এফডিপি ও সবুজদের সঙ্গে জোট সরকার গঠনের কথা ভাবতে হচ্ছে৷ এফডিপি ও সবুজদের সঙ্গে আলোচনাতেও অভিবাসন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ হয়ে দাঁড়াবে; কিন্তু তার আগে সিডিইউ-সিএসইউ-এর মধ্যে বিষয়টি নিয়ে মতপার্থক্য, এমনকি মতবিভাজন দূর করা প্রয়োজন ছিল৷

অভিবাসনকে ইস্যু করেই উগ্র দক্ষিণপন্থি এএফডি দল পালে হাওয়া ও হালে পানি পেয়েছে এবং ফেডারাল পর্যায়ে প্রথমবার ভোটে নেমেই সংসদে তৃতীয় বৃহত্তম গোষ্ঠী হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ এক্ষেত্রে এএফডি যেমন সিডিইউ-সিএসইউ, তেমনই বামঘেঁষা দলগুলির কাছ থেকে ভোটার ভাঙাতে সক্ষম হয়েছে৷

নতুন অভিবাসন আইন?

প্রায় দশ ঘণ্টার ম্যারাথন আলাপ-আলোচনার পর দৃশ্যত সিডিইউ ও সিএসইউ দল অভিবাসন ও উদ্বাস্তু নীতির ব্যাপারে নীতিগতভাবে একমত হতে পেরেছে৷ এখন থেকে প্রতিবছর দুই লক্ষ অভিবাসী নেয়া হবে বলে ঐকমত্যে পৌঁছেছে দল দুটি৷

ডয়চে ভেলের রুপ্যার্ট ভিডারভাল্ড-এর মতে এই আপোশের কারণে এমন একটি নতুন অভিবাসন আইনের সূচনা হতে পারে, যা সবুজ ও মুক্ত গণতন্ত্রীদেরও সমর্থন পাবে৷

সিডিইউ-সিএসইউ দল ইউরোপীয় ইউনিয়নের বহির্সীমান্ত সুরক্ষিত করা, রাজনৈতিক আশ্রয়প্রাপ্তির অযোগ্য অভিবাসীদের স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করানো ও অভিবাসীদের যাতায়াতের পথে অবস্থিত দেশগুলির সঙ্গে সহযোগিতার ব্যাপারে একাধিক প্রস্তাব দেবে, বলে মনে করা হচ্ছে৷ বিশেষ দক্ষতা বা প্রশিক্ষণ সম্পন্ন অভিবাসীদের জন্য একটি নতুন আইনও প্রত্যাশা করা হচ্ছে৷

সবুজ দলের যুগ্ম নেতা চেম ওয়েজদেমির সোমবার বলেন, সিডিইউ ও সিএসইউ অভিবাসন প্রসঙ্গে যে আপোশে এসেছে, তার ফলে জোট সরকার গঠন সংক্রান্ত আলাপ-আলোচনা আরো জটিল হতে পারে৷ ‘‘এটা এখন সিডিইউ-সিএসইউ (দলের) অবস্থান, কিন্তু তা ভবিষ্যৎ সরকারের অবস্থান নয়,'' সরকারি জেডডিএফ টেলিভিশন সংস্থাকে বলেন ওয়েজদেমির৷ রক্ষণশীলরা যে ঠিক কি চায়, তা তাঁর কাছে এখনও স্পষ্ট নয়, বলে তিনি মন্তব্য করেন৷

তাড়া ও তাড়না

রবিবারের আলাপ-আলোচনার আগেই সিএসইউ দল ম্যার্কেলের কাছে যে দশ দফা দাবি পেশ করবে, তার ফিরিস্তি প্রকাশ করেছিল৷ দক্ষিণপন্থি পপুলিস্ট দল এএফডি-কে রোখার জন্য সিএসইউ-এর কৌশলের দু'টি উপাদান হল দেশপ্রেম ও ‘‘জার্মান মূল্যবোধ''-কে জাতীয় সংস্কৃতির মূল নির্দেশক করা৷ সেপ্টেম্বরের নির্বাচনে এএফডি ১২ শতাংশ ভোট পায়, যার ফলে ৫০ বছর পরে এই প্রথম আবার একটি উগ্র দক্ষিণপন্থি দল জার্মান সংসদে আসন গ্রহণ করতে চলেছে৷

নির্বাচনের পর পরিস্থিতি এই যে, তথাকথিত ‘জামাইকা জোট' গঠন করা সম্ভব না হলে, মধ্যকালীন নির্বাচন ছাড়া দৃশ্যত আর কোনো পন্থা থাকবে না৷ কিন্তু জামাইকা জোট গঠন সম্পর্কে আলাপ-আলোচনা শুরু করার আগে সিডিইউ-সিএসইউ দলের অন্তর্দ্বন্দ্ব ও অভ্যন্তরীণ কোঁদলের অবসান ঘটানো প্রয়োজন ছিল৷ এর পরেও থাকছে মুক্ত গণতন্ত্রী ও সবুজদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা, যা দৃশ্যত ১৮ই অক্টোবর শুরু হতে চলেছে৷ এ সবে মাসের পর মাস কেটে যেতে পারে, অথচ ইউরোপীয় অর্থনীতির ইঞ্জিন হল জার্মানি; কাজেই এদেশে সরকার গঠনে অনিশ্চয়তা গোটা ইউরোপে তার প্রভাব ফেলতে বাধ্য৷

যে কারণে ম্যার্কেলের সিডিইউ দলের রাজনীতিক ও চলতি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টোমাস ডেমেজিয়ের-কে শনিবার বলতে শোনা যায়, ‘‘আমাদের শীঘ্র একটি সরকার গঠন করতে হবে৷ এটা শুধু আমাদের নিজেদের ব্যাপার নয়৷''

এসি/জেডএইচ (এএফপি, রয়টার্স, ডিপিএ)

 

স্কিপ নেক্সট সেকশন এই বিষয়ে আরো তথ্য

এই বিষয়ে আরো তথ্য